রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
এর আগে দুপুরে বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও বিস্তৃত তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সরকার উৎপাদন ও পাইকারি পর্যায়ে থাকলেও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিতে চায়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, এতে জবাবদিহিতা বাড়বে, বিল আদায় নিশ্চিত হবে এবং সেবার মান উন্নত হবে। বুধবার (২২ জুলাই) হোটেল সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা কর্তৃক আয়োজিত এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও বিল আদায় নিশ্চিত করতে এই খাতকে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেছে।’ ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমি সব বিতরণ কোম্পানিকে বেসরকারিকরণ করতে চাই। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পাইকারি বিক্রি করতে পারে, কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণের কাজটি বেসরকারি খাতেরই করা উচিত। মুম্বাই ও দিল্লির মতো শহরগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি কোম্পানিগুলো পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদেরও পারা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার খুচরা ব্যবসা করতে পারে না। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এলে জবাবদিহিতা ও বিল আদায় নিশ্চিত হবে। এছাড়া সবসময় কেন সরকারকেই পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করতে হবে? বেসরকারি খাতকে এটি করতে দেওয়া উচিত। এর একটি বড় বাজার রয়েছে এবং প্রতিযোগিতার ফলে সরকারের ওপর চাপ কমবে।’ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান মেয়াদের শেষে বাংলাদেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে ক্লাস্টার-ভিত্তিক (গুচ্ছ-ভিত্তিক) রুফটপ সোলার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার আওতায় বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই সোলার প্যানেল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন এবং 'নেট-মিটারিং' পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে খরচ তুলে নেবেন।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং আন্তর্জাতিক সেলের সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ্। নাহিদ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান ছিল। পারস্পরিক যেকোনও ইস্যুতে পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে আগামীতেও সামনে এগিয়ে যাবে দুই দেশ।” বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। এনসিপি নেতারা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদল সেসবের ব্যাখ্যা দেন এবং চুক্তিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তারা মত প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। এছাড়া গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এই সময় এনসিপি নেতারা গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন।
মেগা প্রকল্পগুলোতে অস্বাভাবিক বিলম্ব, বারবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জবাবদিহির অভাব নিয়ে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে চারটি প্রধান ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল জবাবদিহি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মেগা প্রকল্পগুলোতে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটেছে। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের এসব জটিলতা নিরসনে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা খুলনার রূপসা এলাকার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি জমা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে। প্রকল্পের হঠাৎ ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদাহরণ টানেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-কর সমন্বয়, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং নতুন উপাদান যুক্ত হওয়ার কারণেই মূলত প্রকল্পটির বাজেট বাড়াতে হয়েছে। একইভাবে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কবরস্থান, শ্মশান ও ধর্মীয় উপাসনালয় সংস্কারে নতুন নতুন চাহিদা যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত প্রস্তাবে অতিরিক্ত ৩৬৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে সরকার আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বড় চারটি সংস্কার কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও খরচের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে তদারকির জন্য একটি 'রিয়েল-টাইম ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড' চালু করা হবে। তৃতীয়ত, যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের লক্ষ্যে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কোর্স মডিউল প্রস্তুতের কাজ শেষ করা হচ্ছে। চতুর্থত, নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়াতে সব চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া পুরো প্রক্রিয়ায় দক্ষতা আনতে পরিকল্পনা বিভাগ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, এনবিআর, আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবাগুলোকে একটি একক সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সমন্বয় বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।