ওমানের আদ-দাখিলিয়াহ এলাকায় প্রবাসীদের পরিচালিত একটি আবাসিক বাড়িতে অবৈধভাবে মসলা প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এক হাজার কেজির বেশি ভেজাল/অননুমোদিত খাদ্যপণ্য জব্দ করেছে দেশটির কনজ্যুমার প্রোটেকশন অথরিটি (CPA)। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই আবাসিক স্থাপনায় খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কনজ্যুমার প্রোটেকশন অথরিটির আদ-দাখিলিয়াহ বিভাগ নিঝওয়া মিউনিসিপ্যালিটি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কয়েকজন প্রবাসী কর্মীকে আটক করা হয়, যারা অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন ধরনের মসলা প্যাকেটজাত করছিলেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কার্যক্রম বাণিজ্যিক প্রতারণা দমনসংক্রান্ত ইউনিফাইড আইন (নং ৫৪/২০২১) লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে।
কনজ্যুমার প্রোটেকশন অথরিটি জানায়, একটি আবাসিক সম্পত্তিতে অনুমোদিত মানদণ্ড ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই করা হয়। তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর যৌথ পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন কন্টেইনারে সংরক্ষিত এক হাজার কেজিরও বেশি খাদ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়। পরিদর্শনে পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতে অনুপযুক্ত পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানায় সংস্থাটি।
তল্লাশিতে আরও দেখা যায়, জব্দকৃত পণ্যে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় লেবেলিং তথ্য অনুপস্থিত ছিল। ভোক্তাদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সব খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি প্যাকেটজাতকরণে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। CPA জানিয়েছে, ভোক্তা সুরক্ষা আইন ও এর নির্বাহী বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কনজ্যুমার প্রোটেকশন অথরিটি আরও জানায়, বাজারে অনিরাপদ পণ্য প্রবেশ ঠেকানো এবং বাণিজ্যিক প্রতারণা দমনে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কোনো অনিয়ম নজরে এলে অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য দিতে সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি—যাতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার হয় এবং ‘ওমান ভিশন ২০৪০’-এর লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর করা যায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি মালায়া একটি সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে ৫৮তম স্থান এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ লেকচারার হিসেবে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুরের কৃতী শিক্ষাবিদ ড. শাপলা খানম। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন বাংলাদেশির আমন্ত্রণ পাওয়া যেমন গর্বের, তেমনি দেশের জন্যও মর্যাদার। ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার সন্তান ড. শাপলা খানম। আমন্ত্রণ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এশিয়ার অন্যতম সেরা এমন শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া তার কাছে স্বপ্নের মতো। নিজের যোগ্যতা, মেধা ও পরিশ্রমের ফলেই তিনি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। তার এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার বাবা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মায়ের অকৃত্রিম দোয়া, ত্যাগ এবং পরিবারের সার্বিক সমর্থন—বিশেষ করে ভাইয়ের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা—এই অর্জনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। তবে এই অর্জনের মাঝেও রয়েছে ব্যক্তিগত বেদনা। যার সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, সেই বাবা আজ আর বেঁচে নেই। সম্প্রতি পবিত্র রমজান মাসেই তিনি মাকেও হারিয়েছেন। একদিকে বড় অর্জনের আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক—এই দ্বৈত অনুভূতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাদের ভালোবাসা ও আদর্শই তার প্রধান প্রেরণা। ড. শাপলা খানম ইউনিভার্সিটি অব মালায়া থেকেই মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সাইবার সিকিউরিটি। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও পেশাগত উন্নয়নকে উৎসাহিত করার একটি বিশেষায়িত বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে গবেষণা সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করেন, ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের এই আমন্ত্রণ প্রমাণ করে—ড. শাপলা খানম শুধু একজন সফল গবেষক নন, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন আস্থাভাজন একাডেমিক ব্যক্তিত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল আহমেদ লিমন (২৭) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্লোরিডার হিলসবোরো কাউন্টি পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় তার রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। সংবাদমাধ্যম নিউজউইক জানিয়েছে, হিশাম মার্কিন নাগরিক। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক সহিংস অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল লিমনকে অফ-ক্যাম্পাস বাসভবনে শেষবার দেখা গিয়েছিল। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিল্ডিংয়ে বৃষ্টিকে শেষবারের মতো দেখা যায়। দীর্ঘ সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক বন্ধু পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে তদন্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ওইদিন সকালে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহর বাড়ি থেকে পারিবারিক সহিংসতার একটি ফোন পায় শেরিফ অফিস। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলে তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে সোয়াত টিম ডাকা হলে প্রায় ২০ মিনিট পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেপ্তার ২৬ বছর বয়সী হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, প্রহার, মরদেহ সরানো, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং মৃত্যু সংবাদ জানাতে ব্যর্থ হওয়াসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এভাবে নিখোঁজ হওয়া তাদের দুজনের জন্যই অত্যন্ত অস্বাভাবিক। আদালতের রেকর্ডে দেখা গেছে, হিশামের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে শারীরিক হেনস্তা ও চুরির অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই সময়ে এগুলোকে অপেক্ষাকৃত লঘু গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছি। এছাড়া তার সহিংস আচরণের কারণে পরিবারের এক সদস্যই তার বিরুদ্ধে দুটি পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছিল। এর বাইরে তার বিরুদ্ধে একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি অপর শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে ২৭ বছর বয়সী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবোরো কাউন্টি পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া হিশাম জামিলের রুমমেট ছিলেন, তবে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী নন। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। হিলসবোরো কাউন্টি পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিলের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে একই সময়ে নিখোঁজ হওয়া আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক ইউনিট যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এফবিআই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জামিলের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তার পরিবারের অনুরোধের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিহত জামিল আহমেদ লিমন ইউএসএফে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।