ডিএনএ অণুর গঠন উন্মোচনের অন্যতম আবিষ্কারক ও নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন মারা গেছেন। ৯৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিবিসি এক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বিশ শতকের অন্যতম যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক সাফল্য হিসেবে ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে মিলে ডিএনএ’র ডাবল হেলিক্স (দ্বি-হেলিক্স) গঠন আবিষ্কার করেন ওয়াটসন। এই আবিষ্কার আধুনিক আণবিক জীববিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে।
ওয়াটসনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি, যেখানে তিনি বহু বছর গবেষণা করেছেন। ১৯৬২ সালে ওয়াটসন, ক্রিক এবং মরিস উইলকিনস যৌথভাবে ডিএনএ’র গঠন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
তবে জীবনের শেষভাগে বর্ণ ও লিঙ্গ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য তার সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে অস্বীকৃত মন্তব্যের জেরে ২০০৭ সালে তিনি কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির চ্যান্সেলর পদ হারান। পরে ২০১৯ সালে একই ধরনের মন্তব্য করায় প্রতিষ্ঠানটি তার সব সম্মানসূচক উপাধি বাতিল করে দেয়।
ওয়াটসন ১৯২৮ সালের এপ্রিলে শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে। পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সময় ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার, সেখানেই তারা তৈরি করেন ডিএনএ’র ত্রি-মাত্রিক মডেল।
তিনি পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৬৮ সালে কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির পরিচালক হন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হয়।
২০১৪ সালে ওয়াটসন তার নোবেল পদক নিলামে বিক্রি করেন ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারে। পরে পদকটি ক্রেতা এক রুশ ধনকুবের তাকে ফিরিয়ে দেন।
জেমস ওয়াটসনের অবদান আধুনিক জেনেটিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পাখির ঝাঁককে ভুল করে ড্রোন ভেবে রাশিয়ার নিকটতম প্রতিবেশী দেশ লিথুয়ানিয়ার আকাশে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি ঘটে ১৩ সেপ্টেম্বর। সেদিন সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর ভিলনিয়াস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, সেটি ছিল পাখির ঝাঁক। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোন দেখা গেছে এমন খবরের পর ভিলনিয়াস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানবন্দরটি আবার খুলে দেওয়া হয়। লিথুয়ানিয়ার ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের (এনসিএমসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়, খবর পেয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চলের শিয়াউলিয়াই বিমানঘাঁটি থেকে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে। আকাশে গিয়ে সেটি নিশ্চিত করে, সতর্কতা সৃষ্টিকারী বস্তুটি কোনো ড্রোন নয়; বরং একঝাঁক পাখি। এনসিএমসি বলেছে, প্রাথমিক রাডার শনাক্তকরণে পাখি ও ড্রোনের উপস্থিতির চিহ্ন একই রকম দেখা যেতে পারে। ফলে এমন ভুল শনাক্তকরণের ঘটনা ঘটতে পারে। লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি স্থলসীমান্ত নেই মূল রাশিয়ার সঙ্গে, কিন্তু রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ ওব্লাস্টের সঙ্গে লিথুয়ানিয়ার সরাসরি স্থলসীমান্ত রয়েছে। কিন্তু, দেশটিতে প্রভাব বজায় রাখতে চায় রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিয়াউলিয়াই বিমানঘাঁটিতে বর্তমানে ইতালির বিমানবাহিনীর ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান রয়েছে। ন্যাটোর বাল্টিক এয়ার পুলিশিং মিশনের অংশ হিসেবে এসব যুদ্ধবিমান লিথুয়ানিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে। একটি ইউরোফাইটার টাইফুন এক ঘণ্টা উড়াতে প্রায় ৬৫ হাজার ডলার খরচ হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রবেশ বা এসব দেশে ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করার পর থেকেই এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর আগে গত মাসে লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ন্যাটোর যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার কথা জানায় জোটটি। ন্যাটোর দাবি ছিল, রাশিয়ার ইলেকট্রনিক যুদ্ধ তৎপরতার কারণে ড্রোনটি লাটভিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। তবে রাশিয়া বরাবরই লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে আসছে। মস্কোর কর্মকর্তাদের দাবি, বাল্টিক দেশগুলো যদি জেনে-শুনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে এসব দেশ হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে রাশিয়া। লিথুয়ানিয়ার সর্বশেষ এই ভুল সতর্কতার ঘটনা ইউরোপজুড়ে কথিত রুশ ড্রোন নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই ঘটল। জুলাইয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) জানায়, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির কাছে নজরদারি ড্রোন ১৪৪ বার শনাক্ত হয়েছে। তবে এসবের কোনোটি আটক করা সম্ভব হয়নি এবং রাশিয়া এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। চলতি মাসের শুরুতে জার্মান সরকার দাবি করে, ৪ আগস্ট লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে ইউক্রেনের আন্তোনভ কার্গো উড়োজাহাজের মধ্যে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন পাওয়ার ঘটনায় রাশিয়ার জড়িত থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে মস্কোর সঙ্গে ড্রোনটির যোগসূত্রের পক্ষে বার্লিন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জার্মানির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মস্কো বারবার বলেছে, ইউরোপের বিরুদ্ধে তাদের কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা নেই। রাশিয়ার দাবি, ন্যাটো প্রথমে রাশিয়ায় হামলা চালালে অথবা জোটের সদস্যরা ইউক্রেনে নিজেদের সেনা মোতায়েন করলে কেবল ন্যাটোর সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সূত্র: আরটি
প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ঝুঁকি সম্পর্কে ব্রিকস নেতাদের সতর্ক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, এ ধরনের প্রবণতা বিশ্বে এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারে। রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কোনো দেশই এড়িয়ে যেতে পারছে না। কোনো সংকটই এখন আর নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মোদি বলেন, মহামারি, জলবায়ু দুর্যোগ ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখিয়েছে যে পরস্পরনির্ভর এই বিশ্বে একটি অঞ্চলের সংকটও দ্রুত অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, সেগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকা এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ব্রিকস দেশগুলো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলেও জানান মোদি। তিনি বলেন, আগাম সতর্কতার জন্য তথ্য একীভূত করার ব্যবস্থার নির্দেশিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে মোদির বক্তব্যের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মোদি বলেন, ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের কার্যক্রমে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন এ চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অংশীদার দেশগুলোর সহযোগিতায় এই অভিন্ন লক্ষ্যকে পারস্পরিকভাবে লাভজনক উদ্যোগে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস নেতারা যৌথ ছবি তোলেন। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, মিসর, বুরুন্ডি, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদির। সম্মেলনের আগের দিন প্রকাশিত নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে; এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ব্রিকসের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের আইনগত দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়। ঘোষণায় একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষাবাদী নীতির বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বিচারে শুল্ক বাড়ানো ও পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যের নামে নতুন বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের পশ্চিমাঞ্চলেও হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। মাস ক্যাম্পের আশপাশেও ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মারিব ইয়েমেন সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। সেখানে তেল ও গ্যাসকেন্দ্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অন্যতম প্রধান সরবরাহকেন্দ্র হওয়ায় শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭৬ হাজার ইয়েমেনে সংঘাত আবার বাড়ায় মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই দুই হাজারের বেশি মানুষ ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল থেকে পালিয়ে আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সৌদি সীমান্তেও হামলা ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতি-সংশ্লিষ্ট সূত্র। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাইজ ও মারিবের আশপাশেও এসব হামলা হয়েছে বলে তাদের দাবি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় একটি হামলার ঘটনায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে অস্ত্রের গুদাম, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে হুতিদের ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দরে কয়েক দিনের চাহিদা পূরণের মতো তেল মজুত রয়েছে। পাইপলাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান এই ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হরমুজ ঘিরেও বাড়ছে উত্তেজনা ইয়েমেনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার হরমুজের কাছাকাছি কাসেম দ্বীপের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইরানের। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবে না। এদিকে আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর নতুন করে সরাসরি সংঘর্ষ, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।