বিশ্ব

নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র

Unknown নভেম্বর ০৫, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্কে ইতিহাস রচনা করেছেন জোহরান মামদানি। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এই মুসলিম রাজনীতিক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে নিউইয়র্কের প্রথম আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে এই পদে আসীন হলেন।

 

৩৪ বছর বয়সী মামদানি আগে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন। নির্বাচনের পর তিনি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, আপনাদের কারণে আজ এই শহরে ইতিহাস রচিত হলো।

নিউইয়র্কের বহুজাতি ও বহুধর্মীয় ভোটাররা তার জয়কে অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন। সমর্থকরা বলছেন, এটি কেবল ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের বিজয় নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাস্তব সমস্যায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য তার প্রচারণার সাফল্য।

 

মামদানি নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখাচ্ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর ছিলেন ধনী দাতাদের প্রভাবিত ‘পুরোনো ধারার’ প্রতিনিধি। এই নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতেও নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

 

ভোটাররা উল্লেখ করেছেন, নতুন ও তরুণ কণ্ঠের উত্থান এখন সময়ের দাবি। ব্রঙ্কসের সমাজকর্মী জোশুয়া উইলসন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সময়ে দেশের রাজনৈতিক বিভাজন লক্ষ্য করলে, নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট।

 

ভিন্ন মতাদর্শের ভোটাররাও মামদানির নেতৃত্বের সম্ভাবনায় আশাবাদী। ব্রুকলিনের ফ্রিল্যান্সার মেগান মার্কস বলেন, মামদানি আমার চেয়েও বামপন্থী, তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার মতো দৃষ্টিভঙ্গির নেতা দরকার।

 

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড্রাইভার ইফতেখার খান বলেন, মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের ঐক্যই মামদানির বড় শক্তি। ৯/১১ হামলার পর মুসলিমরা যেভাবে বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটে তার জয় আমাদের জন্য নতুন সূচনা।

 

৫৫ লাখেরও বেশি জনসংখ্যার এই মহানগরীর নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে দায়িত্বে বসানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নজর কেড়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সংগৃহীত ছবি
“ককরোচ পার্টির আন্দোলন: মোদি সরকারের জন্য কি সত্যিই বিপদের সংকেত?”

সোমবার, মধ্য দিল্লিতে ভারতের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সারাদিন ধরে অস্থিরতা ছেয়ে ছিল। সব জায়গাতেই হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর ভিড় ও জমায়েত চোখে পড়ছিল।   এমনকি অনেক জায়গায় মেট্রোস্টেশন ও রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার পরেও, তারা সোমবার সকাল থেকে সব ধরনের বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।   লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রযোগেও তাদের সরানো যায়নি। পুলিশের তরফ থেকে প্রবল প্রতিরোধের মধ্যেই এই তরুণ-তরুণীরা সকাল থেকে গভীর সন্ধ্যা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে অবস্থান করেন।   প্রায় এক মাস ধরে, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির নেতৃত্বে দিল্লির জন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ চলছে।   তবে যে প্রশ্নটা বার বার উঠে আসছে, সেটা হলো, যে দলের ফলোয়ার্স সংখ্যা দুই দিনে ভারতের শাসকদল বিজেপিকে টেক্কা দিয়েছিল, সেই দল বাস্তবের মাটিতে কতটা সফল হবে?   তবে যখন দল হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টিকে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তখন মনে রাখা প্রয়োজন যে এটি কোনো রকম রাজনৈতিক দল নয়। বরং নাগরিক সংগঠন বলা যেতে পারে। কিন্তু এই দলের কার্যক্ষমতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল, সোমবার (২০ জুলাই) সেই উত্তরটি পাওয়া গেল।   কলেজ ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা শিক্ষার্থীরা দলে দলে রাস্তায় নেমে এসে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সরকারের নীরবতা বজায় রাখা বেশিদিন সম্ভব নয়।   স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মা, যিনি গত এক মাস ধরে এই যুব আন্দোলনটির খবর সংগ্রহ করছেন, তিনি মনে করেন যে এই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বার্তা দিয়েছে যে, সমস্যাটি শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের মতো অন্যান্য বিষয়গুলোকেও সরকার উপেক্ষা করতে পারে না।   ‘শুধু নিজের স্বার্থের লড়াই লড়ছে না যুবসমাজ’ ককরোচ জনতা পার্টির তরফ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে সোমবার সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল আগেই। এই ডাকে সাড়া দিয়ে বহু তরুণ-তরুণী দিল্লির রাস্তায় নেমেছেন।   সংসদ অভিযানের শুরুর দিকে, যখন প্রথম প্রথম হাঙ্গামা বাঁধতে শুরু করে, তখন ককরোচ জনতা পার্টি দাবি করে যে সরকার তাদের আলোচনার জন্য ডেকেছিল। এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন যে বিক্ষোভকারীরাই আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ইনস্টাগ্রামে বৈঠকটির একটি ছবি পোস্ট তিনি লিখেন, আজ সকালে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভকারীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং সকাল ১১টা ৫০মিনিট থেকে আমাদের আলোচনা চলছে। বৈঠকটি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে আমরা তাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিস্তারিত মৌখিক আলোচনা করি এবং তারপর তারা বিকাল ৪টার দিকে আমার কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন। আমি সমস্ত বিক্ষোভকারীকে তাদের অবস্থান ধর্মঘট শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেছি।   এত বড় যুব বিক্ষোভ সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকার এখনও সিজেপির মূল দাবি মেনে নেয়নি। সিজেপিও আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেছে। ফলে প্রশ্ন থেকে যায়, যুবকদের রাস্তায় নামার ফল কী হলো? এই আন্দোলনের সমর্থক সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব বলেন, আজ যন্তর মন্তরে আমি যে নতুন প্রজন্মকে দেখছি, তা আমার বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। এই তরুণেরা শুধু নিজেদের জন্য লড়ছে না।   যোগেন্দ্র যাদব মনে করেন, যুবসমাজ একটি সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী অর্থনীতি এবং এমন রাজনীতির জন্য লড়ছে যা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে দায়বদ্ধ। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক স্মিতা শর্মা বলেন যে, সোমবারের বিক্ষোভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যে, এত বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী রাস্তায় নেমে আসবে, তা কেউই আশা করেনি।   বিজেপি সরকারের জন্য বিপদঘণ্টা? স্মিতা শর্মা সোমবারের বিক্ষোভকে একটি নেতৃত্বহীন আন্দোলন হিসেবেও দেখছেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। সিজেপি নেতারা তাদের মতামত জানাতে পারছিলেন না। মেট্রোস্টেশনগুলো বন্ধ ছিল। যে কোনও বার্তাই পৌঁছে দেওয়া কঠিন ছিল।   তিনি আরও বলেন, আন্দোলনটি ছিল শিক্ষা নিয়ে, কিন্তু বিষয়টি প্রসারিত হয়ে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ভোট চুরির মতো বিষয়গুলোকেও ছুঁয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পর্যন্ত এই বিষয়ে আলোচনা করেছে, যা সত্যিই ইউনিক।   এই আন্দোলনের কারণে ভবিষ্যতে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ কতটা বাড়বে, এই প্রশ্নের উত্তরে স্মিতা শর্মা বলেন, সরকার যদি এই বিক্ষোভ থেকে কোনো শিক্ষা না নেয়, তবে তা সরকারের জন্য একটি বড় ভুল হবে। কারণ তরুণরা এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা সংসদ পর্যন্ত মিছিল করার জন্য মুখিয়ে ছিল। সিজেপি যদি মাঝপথে তাদের সংসদ পর্যন্ত মিছিল করতে বাধাও দিত, তবুও হাজার হাজার মানুষ যন্তর মন্তর থেকে সংসদ পর্যন্ত মিছিল করত।   তিনি বলেন, ওদের লাঠি দিয়ে পেটানো সত্ত্বেও, ওরা ফিরে আসছিল, প্রশাসনের মোকাবিলা করছিল। এটি সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, মানুষের মধ্যে এমন ক্ষোভ জমা হয়েছে যে, কথা না শুনলে তা আজ যেমন বেলুনের মতো ফেটেছে, ভবিষ্যতেও তেমনই ফেটে পড়তে পারে। প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত অত্রি, স্মিতা শর্মার কথারই প্রতিধ্বনি করে বলেছেন যে, এই যুব-বিক্ষোভ আগামী দিনে মোদি সরকারের জন্য সমস্যা তৈরি করতে চলেছে।   তিনি বলেন, এই বিক্ষোভের সাফল্য এটাই যে, এতদিন দেশের মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা মোদি সরকারের ভ্রম তারা ভেঙে দিয়েছে। এমন নয় যে মানুষ চুপচাপ এসে চলে গেছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে এই দেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী, এর শিকড় মজবুত। সরকার একে দুর্বল করতে পারে না।   যেকোনো দেশের জন্য, শুধু বর্তমানেই নয়, ভবিষ্যতেও যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটা সরকার নির্বাচন হোক বা পরিবর্তন।   প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত অত্রি মনে করেন, এটি সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তারা বেশিদিন জনগণকে উপেক্ষা করতে পারবে না। সরকারকে মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, নইলে জনগণ রাস্তায় নামতে ভুলবে না। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অনুভূত হবে। আমাদের গণতন্ত্র দান হিসেবে দেওয়া হয়নি, আমরা তা অর্জন করেছি। আর দিল্লির রাস্তায় যা দেখা গেছে, তা আমাদের গণতন্ত্রের শক্তি।   হেমন্ত আত্রি বলেন, সরকার মনে করে তারা হিন্দু-মুসলিম নামে রাজনীতি চালাতে পারবে। কিন্তু তা হবে না। জনগণ প্রধান বিষয়গুলোর দিকে ফিরে আসছে, এবং যুবকদের এভাবে এগিয়ে আসা সরকারের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সরকারকে নিজের কাজে মনোযোগী হতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আটকের পর রাহুল গান্ধীকে কোথায় নেওয়া হলো?

ছবি: সংগৃহীত

মোদির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

অগ্নি নির্বাপণে নিয়োজিত হেলিকপ্টার। ছবি: সংগৃহীত

দাবানলের আশঙ্কায় দক্ষিণ ফ্রান্সে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

নেদারল্যান্ডস ও ইসরায়েলের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে নেদারল্যান্ডস। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন পার্লামেন্টে এ ঘোষণা দেন।   ডাচ সংবাদমাধ্যম আরটিএল নিওউস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পণ্য আমদানির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওই দিন থেকেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   নেদারল্যান্ডস সরকার বলছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তাই এসব বসতি থেকে আমদানি করা পণ্য বাণিজ্যের মাধ্যমে তাদের টিকিয়ে রাখতে কোনো ধরনের অবদান রাখতে চায় না দেশটি।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় মূলত কৃষিপণ্য থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাভোকাডো, খেজুর, কমলা, আঙুর ও বিভিন্ন ধরনের তাজা ভেষজ পণ্য । এছাড়া অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে উৎপাদিত পণ্য, বিশেষ করে সেখানে উৎপাদিত ওয়াইন এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে।   সরকারি হিসাবে, এসব অধিকৃত এলাকা থেকে নেদারল্যান্ডসে বছরে কয়েক কোটি ইউরো মূল্যের বাণিজ্য হয়। তবে এর সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২১, ২০২৬
রাহুল গান্দীকে আটক করে গাড়িতে তুলছে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত

মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, সরানো হলো রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে

রাশিয়ার মস্কোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনের হামলায় এক সপ্তাহে ৭০ জন নিহতের দাবি রাশিয়ার

ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের প্রতীকী ছবি

ভূমিকম্পে কাঁপল স্পেন

বন্ধ হতে পারে আরেকটি প্রণালি। সংগৃহীত ছবি
সৌদির তেল রপ্তানি বন্ধের শঙ্কা, বাড়তে পারে বিশ্ববাজারে তেলের দাম

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এতে শঙ্কায় পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার।     বিশ্লেষকদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে সৌদির তেল রপ্তানি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।     ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল স্টিফেন্স বলেছেন, সামরিক হামলা চালিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে পুরোপুরি নিরাপদ করা সহজ হবে না।     স্টিফেন্স বলেছেন, যদি বোমা হামলা চালিয়ে প্রণালিটি সহজে খুলে দেওয়া যেত, তাহলে হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থাও থাকত না। বাব আল-মান্দেব এখন আরও বেশি অনিরাপদ।     বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের ঘোষিত অবরোধ কার্যকর হলে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন থেকে ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।     এ অবস্থায় সৌদি তেলের ওপর নির্ভরশীল পশ্চিমা ও এশীয় দেশগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সক্রিয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।     স্টিফেন্স সতর্ক করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারে দেখতে চান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়।     ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের পর অনেক দেশ তাদের কৌশলগত তেল মজুদের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে নতুন করে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিশ্বজুড়ে কড়াকড়ি

সিকিমে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

সিকিমে তিস্তার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে ধস, ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার

লেবাননের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন চুক্তির প্রভাব: জাওতার আল-গারবিয়েহ ছেড়ে সরছে ইসরায়েলি সেনাদল

0 Comments