জাতীয়

নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬

রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বেড়েছে বেশ ক'বছর ধরেই। এমনকি একটি দেশ বা অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথও তৈরি করে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।মিশরের তাহরির স্কয়ারের আরব বসন্ত কিংবা শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের গণঅভ্যুত্থানে হাতিয়ার ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

 

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা এক্স হ্যান্ডেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ মতামত প্রকাশ আর তথ্য আদান-প্রদান করছে যেমন, তেমনই যেকোনো ইস্যুতে রাজনৈতিক দল-কর্মী অন্যদিকে সরকার-নাগরিক সবাই স্যোশাল মিডিয়াতে প্রথাগত কাঠামোর বাইরে গিয়ে জানাচ্ছেন মতামত।

 

দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটিরও বেশি। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এরমধ্যে ফেসবুক ব্যব্যহারকারী ৬ কোটি। টিকটক ব্যবহারকারী ৪ কোটি ৬০ লাখ, লিংকডইন ও ইন্সটাগ্রাম যথাক্রমে ৯৯ ও ৭৫ লাখ।

 

ব্যবহারকারীদের একটা বড় অংশই তরুণ। তাদের টার্গেট করেই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাজাচ্ছেন তাদের নির্বাচনী কৌশল। 

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈদেশিক কমিটির বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেছেন, অফলাইনে যতটুকু অ্যাক্টিভিটি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারচেয়ে বেশি অ্যাক্টিভিটি আমরা দেখতে পাচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আমরা দেখতে পাচ্ছি। কারণ সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত মাধ্যম। এখানে আমরা দেখি যে নানা রকম ভুয়া ফটোকার্ড, মিসলিডিং নিউজ, গুজব, ডিসইনফরমেশন ইত্যাদি। 

 

এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বলেছেন, আমরা তরুণদেরকে ফোকাস এবং বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা এমন কিছু প্রচারণা লঞ্চ করবো যেখান থেকে তরুণরা অনুপ্রাণিত হবে, যাতে তারা আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসে।

 

উদারপন্থী ও রক্ষণশীল ব্যবহারকারীরা কার্যত আলাদা আলাদা রাজনৈতিক তথ্যজগতে বসবাস করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম প্রভাবিত করছে বিশাল অংশের এই ব্যবহারকারীদের। ফলে, এই প্ল্যাটফর্মেই বাড়ছে গুজব-অপতথ্যের প্রবাহ আর এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাব। 

 

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, প্রফেশনাল সফটওয়্যার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকলেও মনিটর সেলের কাছে আসলে কোনও প্রফেশনাল সফটওয়্যার নেই। যেটাকে আমরা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বলছি। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে জিও লোকেশন এবং কোন শ্রেণির ব্যক্তিরা এ প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে; সমন্বয় করে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্টগুলো নির্ণয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।

 

বিশ্লেষকদের শঙ্কা, এই নির্বাচনে স্যোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব পৌঁছাবে ভিন্ন স্তরে। তাই নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সাধারণের মাঝেও তৈরি করতে হবে সচেতনতা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় ভিসা সেন্টার খোলার অনুরোধ, লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশ

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকায় একটি ভিসা সেন্টার স্থাপনের জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।   সোমবার (১৭ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিসিয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিনিময়ের বিষয় উঠে আসে।   বাংলাদেশের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান।   একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার একটি ভিসা সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানান তিনি।   বৈঠকে লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।   সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পাটপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, ২০ বছর পর স্বামীর ফাঁসির রায়

ছবি: সংগৃহীত

জনআস্থা অর্জনে পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে কাজের নির্দেশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির

ছবি: সংগৃহীত
টাকা নিয়েও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করার অভিযোগ, ডিএসসিসির সুপারভাইজার অব্যাহতি

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের জন্য অর্থ নেওয়ার পরও কাজ না করার অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।   ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব বিভাগের বিবিধ আদায় শাখা, অঞ্চল-৪-এর লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও ডিএসসিসির যৌথ আয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা ও যানজট পরিস্থিতি নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়।   সভায় ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো অভিযোগ করেন, গত ২৩ ও ২৪ জুন অনস্পট ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নসংক্রান্ত রাজস্ব ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকালে মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২২টি ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে নগদ অর্থ নেন।   তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও ওই লাইসেন্সগুলো নবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হয়ে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন।   অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন।   ব্যবসায়ী নেতার অভিযোগ শুনে সভাতেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। পরে প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদকে লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।   এ ছাড়া অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীতে ডেপুটেশনে ৩০ শিক্ষক, বাড়ছে শিক্ষক সংকট

ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ের পর বাংলাদেশের ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট কোনো পথরেখা নেই: সলিমুল্লাহ খান

ছবি: সংগৃহীত

৩১ দফা বাস্তবায়ন হলেই জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর বহরপুর বাজারে আগুন, পুড়ে গেছে প্রায় ১০ দোকান

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তেলের মিলসহ প্রায় ১০টি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাতের এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ৩টার দিকে বাজারের বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় মো. আব্দুল জলিল মোল্লার তেলের মিলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকান, গোডাউন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।   অগ্নিকাণ্ডে জলিল মোল্লার তেলের মিল, তার ছেলের ওষুধের দোকান, হিটু মোল্লার পাটের গোডাউন, মিল্টন মোল্লার পাটের ঘর, কংগ্রেস বিশ্বাসের মুদি দোকান এবং সুমনের ওষুধের দোকানসহ প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তাদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।   বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সালাউদ্দিন লস্কর জানান, রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর সোয়া ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলে তাদের কার্যক্রম চলমান ছিল।   অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আগুনে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল ও স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা আজ

দুই নম্বর নেতার কাছে দেশ কোনোদিন এক নম্বর হতে পারে না: ফয়জুল করীম

প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে ৪ দফা প্রস্তাব জামায়াতের

0 Comments