ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে উৎসব মুখোর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধমে জয়ের আশা করছেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী আপন দুই ভাই।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের পৃথক দু’টি ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রয়োগ করেছেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রথমে ধনাচর চরের গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান ভোট প্রয়োগ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থীর কর্মীরা রাতে বিভিন্ন যায়গায় ভোটারদের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমাদের কর্মী ও সাধারণ জনগণ নিয়ে তা প্রতিহত করেছে। আশা করছি আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিরপেক্ষ থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান একই সময় যাদুরচর নতুন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রয়োগ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে তিনি নির্বাচনে জয় লাভ করবেন বলে আশা করেছেন।
তিনি একই অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, এই দুই ভোট কেন্দ্রে উৎসব মুখোর পরিবেশে পুরুষ ও মহিলা ভোটারগণ উপস্থিতি হয়ে ভোট প্রয়োগ করছেন।
প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চররাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৭ জন প্রার্থী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্নের লক্ষ্যে আগামী ২৭ মার্চ বাণিজ্য, ৩ এপ্রিল মানবিক এবং ১০ এপ্রিল বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষার দিনগুলোতে শুধু ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য দুইটি বড় বাস সকাল ৮টায় ময়মনসিংহ টাউন হল এবং সাড়ে ৮টায় ভালুকা থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরীক্ষা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ময়মনসিংহ ও ভালুকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ টাউন হল থেকে সকাল ৮টায় শিক্ষক, কর্মকর্তাদের জন্য একটি মিনিবাস ও কর্মচারীদের জন্য একটি বড় বাস ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং সেটি ক্যাম্পাস থেকে দুপুর ২টায় ফিরে যাবে। ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটি ও উপকমিটির সভাপতি, সদস্য-সচিব, সমন্বয়কদের একটি মাইক্রোবাস সকাল সাড়ে ৭টায় ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ময়মনসিংহ টাউন হল থেকে ছেড়ে যাবে। প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সব প্রান্তের শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে একটি ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। আবার, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে নতুনভাবে এ পদ্ধতিতে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয় এবং এ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে তারা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ৭টার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এদিকে, পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব কটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এসময় তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন। সড়কে নেতাকর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কোনোরকমে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে পারছে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে যখন জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় সরকার থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় এক মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা সাধারণত প্রচলিত ১৫ দিনের রিজার্ভের তুলনায় বেশি। একই সঙ্গে তিনি ‘প্যানিক বাইং’ বা অযৌক্তিকভাবে তেল কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে সক্রিয় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিয়মিত বৈঠক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়ন—এসব উদ্যোগ জ্বালানি খাতকে সুসংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি সংগ্রহের উৎস বহুমুখীকরণ এবং সরবরাহ চেইন আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। জ্বালানি খাতে সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে যাতে দেশের অভ্যন্তরে তার প্রভাব কম পড়ে, সে লক্ষ্যেই রিজার্ভ আরও বড় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে হঠাৎ কোনো বৈশ্বিক সংকট দেখা দিলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনসচেতনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় মজুত বা আতঙ্কজনিত ক্রয় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে। মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেলে বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং তথ্যের সঠিক প্রচারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বাস্তবসম্মত নীতি অনুসরণ করছে। জেট ফুয়েলের মতো খাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান সুদৃঢ় থাকে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। জ্বালানি খাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকেও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় পাঁচটি অর্থনৈতিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার অনুমোদন রাজস্ব কাঠামোকে আরও সুসংহত করবে। কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সহজ হবে। এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে। এ ছাড়া বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এতে করে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে। শিল্পখাতে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সবশেষে বলা যায়, জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মজুত বৃদ্ধি, সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বাজার স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত সংস্কার—এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের ধারাবাহিক তৎপরতা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি খাতকে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়তা করবে। জনগণের আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হবে এবং সম্মিলিত উদ্যোগেই জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। লেখক : এম রায়হানুল ইসলাম, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক