জাতীয়

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ভারতকে আমন্ত্রণ জানাল বাংলাদেশ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি নয়াদিল্লি।


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এ পর্যন্ত ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।


পর্যবেক্ষক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট, এএনএফআরইএল, আইআরআই ও এনডিআই। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ব্যক্তিগত সক্ষমতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় জানায়, এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।


আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা লামিয়া মোরশেদ বলেন, আমন্ত্রিত অনেক দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি। ফলে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


ভারতের পাশাপাশি নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, মিসর, কুয়েত, মরক্কো ও নাইজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


এ নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী সংসদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ বিষয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯

টিকা দেওয়ার পরও ময়মনসিংহে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সাড়ে সাত মাস বয়সী এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯-এ।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে নতুন করে ৫৪ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মোট ১৩৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।   হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৫ হাজার ২২২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫ হাজার ৫ শিশু।   হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু ও নতুন রোগী ভর্তির এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকার ও গণতন্ত্রকে সঠিক পথে রাখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

রিমান্ডের আগে আনিসুল হক, ইনুসহ চারজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

একযোগে ৮ সচিবের বদলি, একজন ওএসডি

ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাই হত্যা, বড় ভাই গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাই আজিজুল মিয়া (৫৪) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি বড় ভাই জসিজল হক ওরফে ডিপটিকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)।   রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোররাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্ব নয়নপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যায় এসআরবি-১৩-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মুহম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।   গ্রেপ্তার জসিজল হক সাদুল্লাপুর উপজেলার পশ্চিম ইসবপুর গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে। নিহত আজিজুল মিয়া তার আপন ছোট ভাই। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে জসিজল ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আজিজুলের বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে একটি পাকা গোয়ালঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ সময় আজিজুল ও তার স্ত্রী শাপলা বেগম নির্মাণকাজে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে জসিজল বাঁশের লাঠি দিয়ে আজিজুলের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আজিজুল গুরুতর আহত হন। হামলায় তার স্ত্রীও আহত হন এবং তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।   পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহত আজিজুলকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ অক্টোবর রাত পৌনে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।   এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী শাপলা বেগম বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার নম্বর ১৯।   হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায় এসআরবি-১৩। এর ধারাবাহিকতায় রোববার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে পলাতক প্রধান আসামি জসিজলকে গ্রেপ্তার করা হয়।   সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামিকে সাদুল্লাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।   এদিকে ঘটনার দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জসিজলের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে হত্যা মামলায় তাকে চার নম্বর আসামি করা হলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ, অধ্যাদেশে মন্ত্রিসভার সায়

ছবি: সংগৃহীত

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: জুবাইদা রহমান

ছবি: সংগৃহীত

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন: প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীতে পিয়ারুল হত্যা: অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে স্ত্রীর মামলা

রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দায় মসজিদের সামনে গুলিতে নিহত ডিশ ব্যবসায়ী পিয়ারুল ইসলাম (৩৫) হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী ফারজানা হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।   রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ। এর আগে শনিবার রাতে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২০। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।   নিহত পিয়ারুল ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারীপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। তিনি কয়েক বছর ধরে রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। ওই এলাকায় ডিশ লাইনের ব্যবসা করতেন তিনি।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিয়ারুলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   মসজিদের সামনে গুলি মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে নামাজ শেষে উত্তর পাশের কলাপসিবল গেটের সামনে পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পিয়ারুল। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে এসে থামেন। তাদের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রাস্তায় পড়ে যান। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুরে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় পৌঁছালে পিয়ারুলের মৃত্যু হয়।   ময়নাতদন্ত শেষে দাফন পরে পিয়ারুলের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। ১৭ অক্টোবর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন আসরের নামাজের পর সজ্জনকান্দা ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।   পূর্ববিরোধের জেরে হত্যার সন্দেহ মামলার এজাহারে নিহতের স্ত্রী উল্লেখ করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে তার স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, পিয়ারুলের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং এর পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযোগ, শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যুতে মামলা

সংগৃহীত ছবি

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে সচিবালয়: মন্ত্রিসভার বৈঠকে নকশা অনুমোদন

সংগৃহীত ছবি

পুলিশের ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি

0 Comments