অর্থনীতি

নীতিমালায় আর্থিক স্থায়িত্ব রক্ষা ও সামষ্টিক-আর্থিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করার ওপর জোর আইএমএফের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ৩১, ২০২৬

বাংলাদেশে নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থায়িত্ব রক্ষা এবং সামষ্টিক-আর্থিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে সুশাসন জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য উন্নয়নের লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদে সমন্বিত ও ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও সংস্থাটি জোর দিয়েছে।

আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর এ অভিমত প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার পর ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

আইএমএফ জানায়, দুর্বল কর রাজস্ব সংগ্রহ এবং আর্থিক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতার কারণে অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক-আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সাহসী রাজস্ব ও আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

ওয়াশিংটন ডিসিতে গত ২৬ জানুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড বাংলাদেশের জন্য আর্টিকেল-৪ পরামর্শ সম্পন্ন করে। এ সংক্রান্ত স্টাফ রিপোর্ট প্রকাশে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সম্মতি দিয়েছে। আইএমএফের আর্টিকেল অব এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, সদস্য দেশসংক্রান্ত নথি প্রকাশ স্বেচ্ছাসেবী এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রতি শ্লথ হয়ে পড়েছে, যদিও মুদ্রাস্ফীতি এখনও তুলনামূলকভাবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ অর্থবছরের ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৪ অর্থবছরের ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে কমে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে। ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় উৎপাদন বিলম্ব, কঠোর নীতিমালা এবং বিনিয়োগের মন্থর গতি এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ অর্থবছরের শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি দ্বিঅঙ্কের ঘর থেকে কমলেও অক্টোবরে তা আবারও ৮ দশমিক ২ শতাংশে (বার্ষিক ভিত্তিতে) অবস্থান করে। একই সময়ে কর রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও মূলধন ও সামাজিক খাতে ব্যয় কম হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। 

চলতি হিসাবের উন্নতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন শুরু হয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যমেয়াদে অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে যাবে। কর রাজস্ব সংগ্রহ জোরদার এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা মোকাবেলায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে এবং মধ্যমেয়াদে তা প্রায় ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে ২০২৬ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি ৮ দশমিক ৯ শতাংশে থাকার পর ২০২৭ অর্থবছরে ধীরে ধীরে প্রায় ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

নির্বাহী বোর্ডের মূল্যায়ন: ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী পরিচালকরা। তবে তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

নির্বাহী পরিচালকরা বলেন, দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ, ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা, নতুন বিনিময় হার কাঠামোর অসম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তারা একটি অসম কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এ প্রেক্ষাপটে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সিদ্ধান্তমূলক, টেকসই নীতিগত পদক্ষেপ এবং সাহসী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন পরিচালকরা। তারা বলেন, নতুন প্রশাসনের কর্মসূচির পূর্ণ মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কর্মীদের সঙ্গে প্রাথমিক ও সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং অংশীজনদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাহী পরিচালকরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজস্ব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাহসী কর নীতি সংস্কার, কর কাঠামো সরলীকরণ এবং কর প্রশাসন ও সম্মতি জোরদারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ভর্তুকি যুক্তিসঙ্গতকরণ, প্রবৃদ্ধিবর্ধক বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা জাল সম্প্রসারণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি আর্থিক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল দ্রুত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন পরিচালকরা। এ ধরনের কৌশলে স্বল্প মূলধনীকরণের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ, আর্থিক সহায়তার পরিধি নির্ধারণ এবং আইনি ভিত্তিতে শক্তিশালী পুনর্গঠন ও সমাধান পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলেন তারা। একই সঙ্গে সব পদ্ধতিগত ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার এবং শাসনব্যবস্থা ও ব্যালেন্স শিটের স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

পরিচালকরা একমত হন যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি কঠোর ও সমন্বিত নীতি মিশ্রণ বজায় রাখা জরুরি। তারা বিনিময় হার সংস্কার এবং অধিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থার পূর্ণ ও ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং দুর্বল ব্যাংকে অনিরাপদ তারল্য সরবরাহের বিষয়ে সতর্ক করেন।

তারা বলেন, মুদ্রাস্ফীতি দৃঢ়ভাবে নিম্নমুখী ধারায় না আসা পর্যন্ত মুদ্রানীতি যথাযথভাবে কঠোর রাখা প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে মুদ্রানীতি কাঠামোর আধুনিকীকরণ অব্যাহত রাখতে হবে। নির্বাহী পরিচালকরা আরও উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার, দুর্নীতি দমন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তারা। 

কর্মসংস্থান সৃষ্টি—বিশেষ করে তরুণদের জন্য—এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের সক্ষমতা উন্নয়ন ও মানোন্নয়নকে অপরিহার্য বলে মত দেন পরিচালকরা।

আরএসএফ ব্যবস্থার আওতায় সংস্কারের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অর্থায়ন সমন্বয়ে সহায়ক হতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

আইএমএফের চুক্তির ধারা-৪ অনুযায়ী, সংস্থাটি সাধারণত প্রতি বছর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করে থাকে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি দল বাংলাদেশ সফর করে অর্থনৈতিক ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরবর্তীতে সদর দপ্তরে ফিরে কর্মীরা একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা নির্বাহী বোর্ডের আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আলোচনা শেষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ডের সভাপতি হিসেবে নির্বাহী পরিচালকদের মতামতের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ফাইল ছবি
দেশের বাজারে কমল সোনার দাম

​দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। গতকাল একদিনে ভরিতে বাড়িয়েছিল ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা। ​শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। ​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা। ​সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল সচল, গ্যাস সরবরাহে স্বস্তির আভাস

ছবি: সংগৃহীত

৩৩ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলারে

রুপার অলংকার। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বজুড়ে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে। খবর রয়টার্সের।     বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।     এদিকে, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ৫৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।   অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৮০ দশমিক ৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।     বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় রয়েছে।     এদিকে মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৪,০৫২ দশমিক ৮৬ ডলারে লেনদেন হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,১১১ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

১৮ আগস্ট এনবিআরের দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে দিল্লির প্রতি ঢাকার অনুরোধ

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস-কাঁচামালের অভাবে কমছে সার উৎপাদন, আমন মৌসুমে অনিশ্চয়তা

ঋণ প্রবাহ বাড়াতে নীতি সুদহার কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

তারল্য সরবরাহ ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে নীতি সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, নীতি সুদহার কমানোর এ সিদ্ধান্ত ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।   তারল্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিভাগ নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৃহস্পতিবার মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও কমিটির সভাপতি মো: মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-এর সভাপতিত্বে বোর্ডের মিটিং রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডেপুটি গভর্নর ড. মো: হাবিবুর রহমান, আইআরএনএম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌসী নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আক্তার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাইদসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   সভায় উপস্থিত সদস্যরা অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতিধারাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক চলকসমূহের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনার পর নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারল্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এবং সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিভাগ।   নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতি সুদহার বা রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশ‌মিক ৫০ শতাংশে পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে টাকা ধার করবে, তার সুদহার কমবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এবার সম্প্রসারণমূলক মুদ্রা সরবরাহের পথে হাঁটছে।   এছাড়া নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ ‌থে‌কে দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট ক‌মিয়ে ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আভার নাইট রেপো সুদহার নীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।   খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, নীতি সুদহার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তুলনামূলক কম সুদে অর্থ ধার নিতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছেও ব্যাংকগুলো কম সুদে ঋণ দিতে পারে। এতে ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বাড়ে এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়।   তবে অর্থের সরবরাহ ও ভোগ চাহিদা বাড়লে, পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন-অর্থনীতিবিদরা। চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্য বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। ২০২৬ সা‌লের জুন পর্যন্ত ৮ শতাংশ লক্ষ্য ঠিক করেছিল। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।   এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে।   এদিকে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

তিন দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

ছবি: সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতির চাপেই নীতি সুদহার কমানোর বড় সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত

চামড়াশিল্পকে পরিবেশবান্ধব করতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম

0 Comments