অর্থনীতি

নীতিমালায় আর্থিক স্থায়িত্ব রক্ষা ও সামষ্টিক-আর্থিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করার ওপর জোর আইএমএফের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থায়িত্ব রক্ষা এবং সামষ্টিক-আর্থিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে সুশাসন জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য উন্নয়নের লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদে সমন্বিত ও ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও সংস্থাটি জোর দিয়েছে।

আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর এ অভিমত প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার পর ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

আইএমএফ জানায়, দুর্বল কর রাজস্ব সংগ্রহ এবং আর্থিক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতার কারণে অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক-আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সাহসী রাজস্ব ও আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

ওয়াশিংটন ডিসিতে গত ২৬ জানুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড বাংলাদেশের জন্য আর্টিকেল-৪ পরামর্শ সম্পন্ন করে। এ সংক্রান্ত স্টাফ রিপোর্ট প্রকাশে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সম্মতি দিয়েছে। আইএমএফের আর্টিকেল অব এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, সদস্য দেশসংক্রান্ত নথি প্রকাশ স্বেচ্ছাসেবী এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রতি শ্লথ হয়ে পড়েছে, যদিও মুদ্রাস্ফীতি এখনও তুলনামূলকভাবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ অর্থবছরের ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৪ অর্থবছরের ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে কমে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে। ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় উৎপাদন বিলম্ব, কঠোর নীতিমালা এবং বিনিয়োগের মন্থর গতি এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ অর্থবছরের শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি দ্বিঅঙ্কের ঘর থেকে কমলেও অক্টোবরে তা আবারও ৮ দশমিক ২ শতাংশে (বার্ষিক ভিত্তিতে) অবস্থান করে। একই সময়ে কর রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও মূলধন ও সামাজিক খাতে ব্যয় কম হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। 

চলতি হিসাবের উন্নতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন শুরু হয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যমেয়াদে অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে যাবে। কর রাজস্ব সংগ্রহ জোরদার এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা মোকাবেলায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে এবং মধ্যমেয়াদে তা প্রায় ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে ২০২৬ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি ৮ দশমিক ৯ শতাংশে থাকার পর ২০২৭ অর্থবছরে ধীরে ধীরে প্রায় ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

নির্বাহী বোর্ডের মূল্যায়ন: ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী পরিচালকরা। তবে তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

নির্বাহী পরিচালকরা বলেন, দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ, ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা, নতুন বিনিময় হার কাঠামোর অসম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তারা একটি অসম কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এ প্রেক্ষাপটে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সিদ্ধান্তমূলক, টেকসই নীতিগত পদক্ষেপ এবং সাহসী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন পরিচালকরা। তারা বলেন, নতুন প্রশাসনের কর্মসূচির পূর্ণ মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কর্মীদের সঙ্গে প্রাথমিক ও সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং অংশীজনদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাহী পরিচালকরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজস্ব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাহসী কর নীতি সংস্কার, কর কাঠামো সরলীকরণ এবং কর প্রশাসন ও সম্মতি জোরদারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ভর্তুকি যুক্তিসঙ্গতকরণ, প্রবৃদ্ধিবর্ধক বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা জাল সম্প্রসারণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি আর্থিক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল দ্রুত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন পরিচালকরা। এ ধরনের কৌশলে স্বল্প মূলধনীকরণের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ, আর্থিক সহায়তার পরিধি নির্ধারণ এবং আইনি ভিত্তিতে শক্তিশালী পুনর্গঠন ও সমাধান পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলেন তারা। একই সঙ্গে সব পদ্ধতিগত ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার এবং শাসনব্যবস্থা ও ব্যালেন্স শিটের স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

পরিচালকরা একমত হন যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি কঠোর ও সমন্বিত নীতি মিশ্রণ বজায় রাখা জরুরি। তারা বিনিময় হার সংস্কার এবং অধিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থার পূর্ণ ও ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং দুর্বল ব্যাংকে অনিরাপদ তারল্য সরবরাহের বিষয়ে সতর্ক করেন।

তারা বলেন, মুদ্রাস্ফীতি দৃঢ়ভাবে নিম্নমুখী ধারায় না আসা পর্যন্ত মুদ্রানীতি যথাযথভাবে কঠোর রাখা প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে মুদ্রানীতি কাঠামোর আধুনিকীকরণ অব্যাহত রাখতে হবে। নির্বাহী পরিচালকরা আরও উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার, দুর্নীতি দমন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তারা। 

কর্মসংস্থান সৃষ্টি—বিশেষ করে তরুণদের জন্য—এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের সক্ষমতা উন্নয়ন ও মানোন্নয়নকে অপরিহার্য বলে মত দেন পরিচালকরা।

আরএসএফ ব্যবস্থার আওতায় সংস্কারের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অর্থায়ন সমন্বয়ে সহায়ক হতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

আইএমএফের চুক্তির ধারা-৪ অনুযায়ী, সংস্থাটি সাধারণত প্রতি বছর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করে থাকে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি দল বাংলাদেশ সফর করে অর্থনৈতিক ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরবর্তীতে সদর দপ্তরে ফিরে কর্মীরা একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা নির্বাহী বোর্ডের আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আলোচনা শেষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ডের সভাপতি হিসেবে নির্বাহী পরিচালকদের মতামতের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি :ইন্টারনেট
হরমুজ প্রণালি বন্ধ, বড় ৫ চাপের মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতি

  ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইরানের পাল্টা হামলার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে বড় পাঁচ ধরনের চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়, বিশেষ করে গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একযোগে কয়েকটি বড় চাপ তৈরি হতে পারে গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া, কৃষিতে সেচ ব্যাহত হওয়া, শিপিং ব্যয় বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে অনিশ্চয়তা। এসব মিলেই তৈরি হতে পারে এক ধরনের ‘পারফেক্ট ইকোনমিক স্টর্ম’। বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে গ্যাস সরবরাহ ঘিরে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বেড়েছে। এই এলএনজির বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও ওমান থেকে। এসব জাহাজের প্রধান নৌপথই হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন এলএনজি কার্গো আসা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এলএনজি কার্গো না এলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে প্রথম ধাক্কা লাগবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসনির্ভর হওয়ায় গ্যাস সংকট দেখা দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিং বেড়ে যেতে পারে। গ্যাস সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়তে পারে শিল্পখাতে। গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হলে রপ্তানিনির্ভর শিল্পে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। গ্যাসের পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল সরবরাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এই তেলও পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি হয়ে। সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল টার্মিনাল রাস তানুরা এলাকায় ড্রোন হামলার পর লোডিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, পরিকল্পিত আমদানি সূচি ঠিক থাকলে তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিপিসির হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ডিজেল ২ লাখ ১৪ হাজার ৬২ টন (প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা), অকটেন ৩৬ হাজার ৬৪০ টন (২৮ দিন), পেট্রোল ২১ হাজার ৯২ টন (১৫ দিন), জেট ফুয়েল ৬০ হাজার ২০ টন (৩০ দিন), ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের ও কেরোসিন প্রায় ২৪১ দিনের মজুত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মজুত স্বল্পমেয়াদি সংকট সামাল দিতে সক্ষম হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। কৃষি খাত : বোরো মৌসুমে সেচ সংকটের আশঙ্কা জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে কৃষি খাতে। বর্তমানে দেশে বোরো ধান চাষের মৌসুম চলছে, যেখানে সেচের জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ডিজেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পও সমস্যায় পড়বে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের ইউরিয়া সার পরিবাহিত হয় হরমুজ রুট দিয়ে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সারের দাম বাড়তে পারে। ডিজেল ও সারের ওপর একযোগে চাপ তৈরি হলে বোরো উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি চালের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বাণিজ্য ও রপ্তানি খাত : বাড়ছে শিপিং ব্যয় মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে। অনেক জাহাজ এখন আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে চলাচল করছে। এতে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের সময় ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধঝুঁকির কারণে ‘ওয়ার রিস্ক সারচার্জ’ নামে অতিরিক্ত বিমা খরচ আরোপ করা হয়েছে। এতে কন্টেইনারপ্রতি কয়েক হাজার ডলার অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেটররা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অপারেশনাল খরচও দ্রুত বাড়ে। কিন্তু চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত রেট থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এই বাড়তি খরচ সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই মাত্রা ছড়াতে পারে ভোগ্যপণ্যের বাজারেও খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান মিন্টু কালবেলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। তবে এই সংঘাত যদি আরও কিছুদিন স্থায়ী হয় তবে সয়াবিন তেলের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। এছাড়া বাকি অন্য কোনো পণ্যে তেমন একটা আশঙ্কা নেই। তবে যুদ্ধস্থগিত না হলে অন্যান্য পণ্যের ও দাম বাড়বে। এলসি জটিলতা এর মূল কারণ থাকবে। রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক খাতও বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে চাপে পড়তে পারে। বিদেশি ক্রেতাদের ওপর এই বাড়তি খরচ চাপানো কঠিন হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবারও সূচকের বড় পতন, লেনদেন ৪৫৯ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

পোশাক খাতকে ‘ফ্যাক্টরি নেশন’ থেকে ‘ইনোভেশন নেশন’এ রূপান্তরে বিজিএমইএ-বিবিএফ সমঝোতা

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা

ছবি : সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার দাম বাড়ার গতি সীমিত রেখেছে।   স্পট স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৫,১৫৩.১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে (০৬৩৮ জিএমটি)। এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্স ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৫,১৬১.৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্বর্ণের দিকে ঝোঁকেন। ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, বর্তমান সংকট দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দামের পক্ষে কাজ করতে পারে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদূর গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ডলারের গতিপ্রকৃতির দিকে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে। তবে ডলার শক্তিশালী থাকলে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি সীমিত হতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের : তিতুমীর

ছবি : সংগৃহীত

ডিএসইতে সূচকের সামান্য পতন, লেনদেন ৫৮২ কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

চলতি কর বছরে ৪০ লক্ষাধিক করদাতার ই-রিটার্ন দাখিল

ছবি : সংগৃহীত
সংকটেও বড় ঘাটতি বাজেটের পথে সরকার

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া জনবান্ধব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগোচ্ছে Tarique Rahman-এর নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন পে স্কেল কার্যকর, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড চালুসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, রাজস্ব আয়ের শ্লথগতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর শর্ত—সব মিলিয়ে বাজেট প্রণয়নে তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রত্যাশা ও বাস্তবতার এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি বাজেট পেশের পথে হাঁটছে সরকার। বাজেটের আকার ও সম্ভাব্য ঘাটতি অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে ৮ লাখ ৪৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার মধ্যে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হতে পারে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগের বছরের তুলনায় বাজেটের আকার কমানোর নজির তৈরি হয়। চলতি অর্থবছরে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬ শতাংশ)। তবে নতুন অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে—যা হবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রাজস্ব আদায়ে গতি না এলে ঘাটতি জিডিপির ৪–৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই–জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। রাজস্বভিত্তি দুর্বল থাকায় বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ সরকার ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কার্ডধারীরা মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। একই সদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury বলেছেন, এবারের বাজেট হবে অংশগ্রহণমূলক, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকারী এবং পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতিমুক্ত। তিনি অর্থনীতিকে ‘কঠিন ও স্থবির’ উল্লেখ করে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আইএমএফের শর্ত ও সংস্কারের চাপ ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় International Monetary Fund বাংলাদেশকে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, ভর্তুকি হ্রাস, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং বিদ্যুৎ খাতে মূল্য সমন্বয়সহ একাধিক কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের শর্ত দিয়েছে। ভর্তুকি কমানোর চাপের কারণে কৃষক কার্ড বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ঋণের পরবর্তী কিস্তি বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করবে। বেসরকারি খাতে স্থবিরতা উচ্চ সুদহার ও বিনিয়োগ অনিশ্চয়তায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি জানুয়ারিতে নেমে এসেছে ৬.০৩ শতাংশে—যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগ ও শিল্পোৎপাদন শ্লথ হওয়ায় কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ছাড়া অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরানো সম্ভব নয়। সামনে কঠিন সময় অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যয়-নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং পরিকল্পিত ঋণ ব্যবস্থাপনাই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের প্রধান পথ। শুধু বড় বাজেট ঘোষণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন ও রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে আগামী বাজেট হতে যাচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়—যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।  

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ববাণিজ্য, অস্থির বৈশ্বিক অর্থনীতি

পুরোনো ছবি

ফের স্বর্ণের দরপতন, ভরিতে কত কমলো?

ছবি: সংগৃহীত

রপ্তানি খাতে ২,৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় দিল সরকার

0 Comments