নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার শালনগর ও নলদী ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শালনগর গ্রামের মৃত মতি খানের ছেলে মো. টিটুল খাঁন (৫০) এবং মতিনগর গ্রামের বিল্লাল বিশ্বাসের ছেলে মো. বাবুল বিশ্বাস (৪০)। আহত হয়েছেন একই গ্রামের মো. শহীদ শেখ (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে টিটুল খাঁন গবাদিপশুকে পানি পান করানোর জন্য মধুমতী নদীর চরে যান। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়ো আবহাওয়া শুরু হলে বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয়রা তাকে জমিতে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করতে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
অন্যদিকে, বাবুল বিশ্বাস ও শহীদ শেখ সকালে ইছামতী বিলে মাছ ধরতে যান। বিকেলে বৃষ্টি শুরু হলে তারা আশ্রয়ের খোঁজে পাশের একটি মাছের ঘেরের দিকে রওনা দেন। এ সময় বজ্রপাত হলে দুজনই আহত হন। পরে জ্ঞান ফিরে শহীদ শেখ দেখতে পান, কিছু দূরে বাবুল বিশ্বাস নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, টিটুল খাঁন ছিলেন পরিশ্রমী কৃষক ও গবাদিপশু পালনকারী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতেও মতিনগর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, উপজেলার দুটি ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী আলাদাভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। শনিবার সরকারি দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে এমন আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, আইন ও স্বরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেট অধিবেশন সামনে রেখে সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা হয়। পরে এলডি হলে ব্রিফিংয়ে আসেন চিফ হুইপ। বৈঠকে দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলেছেন স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, “দলের লোক হলেও কোনো মাফ হবে না। দেশে চাঁদাবাজদের কোনো জায়গা হবে না, মাদকেরও কোনো জায়গা হবে না। রোববার সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আগামী ১১ জুন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ১৬ জুন থেকে মূল বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে। নূরুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রীদের নিয়ে আলাদাভাবে বসেছেন। সকল মন্ত্রণালয়ে ছোটখাটো ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে ত্রুটি বিচ্যুতি না থাকে। কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজে সরকারপ্রধান অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ের নাম বলেননি। ‘শিক্ষাক্রমের ক্রুটি সংশোধন হবে’ চিফ হুইপ বলেন, শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ডেঙ্গু ও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি হাসপাতাল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, কয়েকটি বড় হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি হাসপাতাল শুধু নারীদের জন্য করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর যদি দুটি করা যায়, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। মেয়ে ও শিশুদের জন্য সেভাবেই কার্যক্রম চলছে। তবে হাসপাতালগুলো কোথায় হবে, কত শয্যার হবে বা বাস্তবায়নের সময়সীমা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি তিনি। সড়ক, সেতু এবং ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অনেক কর্মসূচির কাজ দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই শুরু হয়েছে। ‘খরা সংকট কাটাবে দুই ব্যারেজ’ পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খরা ও পানির সংকট মোকাবিলায় বড় পরিবর্তন আসবে। দুটো জিনিস হবে। একটা হল হাইড্রো পাওয়ার হবে। আর দুই হল এই পানি দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশে চাষাবাদের কার্যক্রম হবে। তিনি বলেন, এটা বিশাল পরিবর্তন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে। এটা অন্যতম বড় প্রজেক্ট। বৈঠকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৬৬ শতাংশ মানুষের বিদ্যুতের কোনো দামই বাড়েনি। ডলার, কয়লা, এলএনজি, তেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বৃদ্ধির কারণে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন। আমরা দাম বাড়ালাম, মানুষ অখুশি হলো, আমাদের কী লাভ হবে? তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। তবে এ হিসাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি। ‘৩০ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি’ সরকার ৩০ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেন চিফ হুইপ। এক সাংবাদিকের এ বিষয়ক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ঘাটতি মানে কী এটা তো আপনার সহজেই বোঝার কথা। এই যে ৩০ লাখ কোটি চুরি নিয়ে আমরা বসছি।” ব্যাংক খাতের সংকটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে নিজের টাকাও তুলতে পারছেন না। পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেন, সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও সেখানে একটি ইটও বসানো হয়নি। ‘দ্রুত বিচার নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে’ আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ আলোচিত কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। রাজধানীর পল্লবীর আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে যে বিচার হবে, সেটা হল রামিসা হত্যার বিচার। তনু হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। ফেইসবুক-ইউটিউব নিয়ে উদ্বেগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন এবং ‘সামাজিক বিচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ তিনি বলেন, বাক স্বাধীনতার অর্থ হল যে স্বাধীনতাকে অপব্যবহার করা এবং মানুষের চরিত্র ধ্বংস করা নয়। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা এগিয়ে আসেন। দেশকে বাঁচাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। এমপিদের মাঠে থাকার নির্দেশ চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। স্কুলে শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, হাসপাতালের সেবার মান এবং সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। সরকার চায় আন্তরিকভাবে। কিন্তু কাজ যদি না হয় তাহলেতো লাভ হবে না। সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন সংবিধান বিষয়ক এক প্রশ্নে নূরুল ইসলাম বলেন, এখন সংস্কারের নয়, সংশোধনের সময়। সংবিধান সংশোধনের বিকল্প আপাতত কিছু নাই। হয় সংবিধান ফেলে দিয়ে লিখতে হবে, একবার নতুন করে আনতে হবে, না হলে সংশোধন করতে হবে। মাঝখানে কিছুই নেই। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করার কথাও বলেন তিনি। আমাদের মেজরিটি আছে, আমরা ইচ্ছে করলে করতে পারি। কিন্তু আমরা করব না। চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিরোধী দলও একই লক্ষ্য নিয়ে কথা বলছে। পার্থক্য শুধু বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে। মন্ত্রীর পদত্যাগে ‘অন্য কারণ’ থাকলে জানবেন বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের বাসা বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, যদি কেউ বাড়ি না পেয়ে থাকে, তাহলে আমরা বাড়ি দেব। তার দাবি, আমি চিফ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছি। সকলকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় যেকোন সময় মন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারেন। তিনি বলছেন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। অন্য কোনো কারণ যদি থাকে, নিশ্চয়ই আমরা আপনাদের জানাব।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে পাঁচটি পরিবহনকে মোট ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও বাস টার্মিনাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামান এবং মো. আশরাফুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদুল আজহার পর যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে ফেরিঘাট ও আশপাশের এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় লঞ্চ ও ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ এবং ফেরিতে ওঠার আগে গণপরিবহন থেকে যাত্রী নামানোসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট না থাকা এবং যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে এসপি গোল্ডেন লাইন, রাবেয়া পরিবহন, ঝিনাইদহ লাইন, মাস্টার পরিবহন এবং গোল্ডেন লাইন পরিবহনকে সর্বমোট ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন) শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার। এটি চলতি সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। অধিবেশনের প্রথম দিন বেলা তিনটায় জাতীয় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট। সাধারণত বাজেট অধিবেশন অন্যান্য অধিবেশনের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে চলে। এবারের অধিবেশন কত দিন চলবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, আগামীকাল অধিবেশনে দিনের কার্যসূচির মধ্যে রয়েছে অধিবেশনের জন্য সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আর্কষণের নোটিশ নিষ্পত্তি। এ ছাড়া সম্প্রতি জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দিতে গঠিত বিশেষ কমিটি আগামীকাল সংসদে তাদের প্রতিবেদন দেবে। শনিবার বিকেলে সংসদের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ১১ জুন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ১৫ জুন চলতি অর্থবছরের সম্পূক বাজেট পাস হবে। এরপর ১৬ জুন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে। চিফ হুইপ বলেন, ৩০ জুন বাজেট পাস করতে হবে। তাই প্রতিদিন সকাল–বিকেল দুইবেলা বৈঠক হতে পারে। এ ছাড়া এ অধিবেশনে কিছু বিল আসবে বলেও জানান তিনি। এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে চলে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ওই অধিবেশনে ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নাম দেওয়া হয়নি। আইনমন্ত্রী সংসদে এ প্রস্তাব দেওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছিলেন, এ বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত পার্থক্য আছে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তখন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, পরবর্তী অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তাঁদের অসুবিধা নেই। বিরোধী দলের সূত্র জানায়, তারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে থাকার পক্ষে নয়। কারণ, তারা চায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হোক। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম দেওয়া না হলে এই অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সরকারি দল আশাবাদী যে বিরোধী দল কমিটিতে নাম দেবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান সংশোধন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশা করছেন যে বিরোধী দল অবশ্যই বিশেষ কমিটিতে নাম দেবে। প্রসঙ্গত, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটি হবে ১৭ সদস্যের। সরকারি দল ইতিমধ্যে ১২ জনের তালিকা তৈরি করেছে। যেখানে বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য আছেন সাতজন। বিরোধী দলের কাছে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে।