জাতীয়

নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়েই ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ শুরু

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের রাজনীতিতে গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এ লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরেই কাজ করছে দলটি। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফেরার পর থেকেই নানান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরছেন একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে, যিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলের নিপীড়ন ভুলে সামনে তাকাতে প্রস্তুত।


সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিশোধের রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে ‘ইতিবাচক রাজনীতির’ সূচনার আভাস দেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে তার অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের দলের কঠোর অবস্থানের কথাই স্পষ্টভাবে জানান দেন তারেক রহমান। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারের সময় তরুণদের সঙ্গে আলাদাভাবে সংলাপে অংশ নেন। তাদের কথা শোনার পাশাপাশি ব্যাখ্যা করেন—শান্তি, ঐক্য, সহনশীলতা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করাই তার ‘প্ল্যান’।


দেশে ফেরার দুই মাসের মধ্যেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার ঘোষণা দেন। গত মঙ্গলবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমানো এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তারেক রহমান। বিএনপির এমন অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ‘নতুন বার্তা’ পৌঁছে দিয়েছে বলে অভিমত তাদের।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে মন্ত্রীদের যে কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শক্ত অবস্থানের’ ওপর জোর দিয়ে রোজায় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিলাসবহুল সরকারি গাড়িতে চলাফেরার সুবিধা না নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটিও পরিবর্তনের রাজনীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।


বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন গতকাল জানান, সরকারি গাড়িতে নয়, নিজের গাড়িতেই চলাফেরা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। আজ (গতকাল) দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার এবং শেরেবাংলা নগর গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়ে, সেখান থেকে সচিবালয়ে এসেছেন সেই গাড়িতেই।


রুমন আরও বলেন, ‘যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এতদিন গাড়িবহরে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকত। আজ (গতকাল) সেটা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে।’


শপথ নেওয়ার পর গতকাল প্রথম দিনের কর্মসূচিতে পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশি মেহমানদের সফরের সময় তার গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করা হবে বলে জানান আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীর সচিবালয় থেকে আসতে একটা জট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বেশিরভাগ সময় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই ধারে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের যে নিয়ম, তা-ও বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।


গতকাল সকালে তারেক রহমান গুলশানের বাসা থেকে নিজের সাদা রঙের টয়োটা গাড়িতে চড়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সাভার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।


তারেক রহমান তার বাবার মতোই ‘ইতিবাচক রাজনীতির’ পথে হাঁটছেন বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেকগুলো কাজ দিয়ে রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারার সূচনা করেছেন। উনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই প্রত্যেকটা স্টেজে (ধাপে) নতুনত্ব দেখাচ্ছেন। তিনি ঢাকায় ঢুকেই যুগপৎ আন্দোলনের শরিক প্রত্যেকটা দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে অভ্যর্থনার কর্মসূচি করেছেন। তারপরে নির্বাচনী প্রচারের সময়ে সাধারণ মানুষকে স্টেজে নিয়ে আসা, তাদের সঙ্গে কানেক্ট করা, তাদের নাম বলার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি নিজেকে কানেক্টেড করেছেন লোকাল পিপলের সঙ্গে। প্রেস কনফারেন্সেও কিন্তু সাংবাদিকদের সঙ্গে ওপেনলি কথা বলেছেন, সবাই সবার কথা বলতে পেরেছেন। শপথ গ্রহণের পর সংসদীয় দলের সভার শুরুতেই উনি বলেছেন যে, বিএনপির সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট নেবেন না।


এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরও বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারি গাড়িতে চলাফেরা না করে নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ঘটনাগুলোর জন্য বা এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য দেশের মানুষ অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছে। মানুষ চাচ্ছে যে, দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির কাছ থেকে এমন কিছু ঘোষণা আসুক, যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তাদের স্বাভাবিক জীবনধারার মতো মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী যে রাজা নন, তিনি যে সাধারণ মানুষের একজন প্রতিনিধি এবং সেবক—মানুষ অনেকদিন ধরে নেতাদের কাছে এরকম একটা প্রতীকী ছবি প্রত্যাশা করছিল। আমি মনে করি, এখন এর একটা ধারা তারেক রহমানের মাধ্যমে শুরু হলো।

 

এমন ধারা এর আগে শুধু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে দেখা গিয়েছিল উল্লেখ করে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে দেখা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ কাজ করতেন; সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতেন, তাদের কথা শুনতেন। এখন আবার দেখা যাচ্ছে যে, তার সন্তান তারেক রহমানও একই পথে হাঁটছেন। তিনি এমন অনেকগুলো কাজ করছেন, যেগুলো আসলে জনগণকে কানেক্ট করা, জনগণের প্রত্যাশাকে সরকারিভাবে রূপদান করা।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সঙ্গে টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, “গত ১৫-১৬ বছরে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল সীমিত। মূলত ভারতের সরকার কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর সঙ্গে সম্পর্ক রাখত। আমরা এখন ভারতের সঙ্গে টেকসই এবং জনগণভিত্তিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছি।”   শুক্রবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।   হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে হলে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক থাকতে হবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, “ভারতে আশ্রয় নেওয়া সন্ত্রাসীরা যদি বাংলাদেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক টেকসই হবে না।”   জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে ডিজেল আমদানি বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “দেশের চাহিদা অনুযায়ী যেখানে ন্যায্য মূল্যে জ্বালানি পাওয়া যাবে, সেখান থেকে সরকার কিনবে; কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়।”   তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি কাজ করছে। প্রবাসীদের ভিসা জটিলতা, ফ্লাইট ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়গুলো সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে।   সূত্র : বাসস।  

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বাবার সামনে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি রাজিব হাওলাদার গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে হাতিরঝিলে পথচারী নারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস দিতে হবে: শ্রমমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ঈদ ফিরতি যাত্রা: আজ মিলবে ২৪ মার্চের ট্রেন টিকিট

পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ঘরমুখো মানুষের ফিরতি যাত্রার জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন শনিবার (১৪ মার্চ)। আজ বিক্রি করা হচ্ছে আগামী ২৪ মার্চের ট্রেনযাত্রার টিকিট।   বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, বরাবরের মতো এবারও আন্তঃনগর ট্রেনের সাত দিনের অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।   শনিবার সকাল ৮টা থেকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়। অন্যদিকে দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে।   সম্প্রতি রাজধানীর রেল ভবনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনযাত্রার প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ মার্চের টিকিট বিক্রি হয়েছে ১৩ মার্চ। এছাড়া ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চ বিক্রি করা হবে।   এছাড়া চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।   যাত্রীদের সুবিধার জন্য নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।   ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসন কিনতে পারবেন। তবে কোনো টিকিট রিফান্ড করা হবে না।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

১৬ মার্চ দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

ভোগান্তি এড়াতে আগেই বাড়ির পথে, স্টেশনে যাত্রীদের ভিড়

ছবি: সংগৃহীত

সিম কিনেই মামলার আসামি: ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতারণার শিকার শতাধিক পরিবার

ছবি: সংগৃহীত
২৩ থেকে ২৫ মার্চ স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগামী ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।   শুক্রবার প্রকাশিত এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবরণীতে আরও বলা হয়, ২৬ মার্চ প্রত্যুষে আমন্ত্রিত অতিথিরা স্মৃতিসৌধ ত্যাগ না করা পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।   জাতীয় স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা ও সার্বিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

তেলের সংকটে পাম্পে ভিড়: ঈদযাত্রা নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

ছবি : সংগৃহীত

নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি ও সংসদ উপনেতা পদ ঘিরে আলোচনা

0 Comments