জাতীয়

নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়েই ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ শুরু

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

দেশের রাজনীতিতে গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এ লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরেই কাজ করছে দলটি। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফেরার পর থেকেই নানান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরছেন একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে, যিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলের নিপীড়ন ভুলে সামনে তাকাতে প্রস্তুত।


সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিশোধের রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে ‘ইতিবাচক রাজনীতির’ সূচনার আভাস দেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে তার অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের দলের কঠোর অবস্থানের কথাই স্পষ্টভাবে জানান দেন তারেক রহমান। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারের সময় তরুণদের সঙ্গে আলাদাভাবে সংলাপে অংশ নেন। তাদের কথা শোনার পাশাপাশি ব্যাখ্যা করেন—শান্তি, ঐক্য, সহনশীলতা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করাই তার ‘প্ল্যান’।


দেশে ফেরার দুই মাসের মধ্যেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার ঘোষণা দেন। গত মঙ্গলবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমানো এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তারেক রহমান। বিএনপির এমন অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ‘নতুন বার্তা’ পৌঁছে দিয়েছে বলে অভিমত তাদের।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে মন্ত্রীদের যে কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শক্ত অবস্থানের’ ওপর জোর দিয়ে রোজায় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিলাসবহুল সরকারি গাড়িতে চলাফেরার সুবিধা না নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটিও পরিবর্তনের রাজনীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।


বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন গতকাল জানান, সরকারি গাড়িতে নয়, নিজের গাড়িতেই চলাফেরা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। আজ (গতকাল) দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার এবং শেরেবাংলা নগর গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়ে, সেখান থেকে সচিবালয়ে এসেছেন সেই গাড়িতেই।


রুমন আরও বলেন, ‘যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এতদিন গাড়িবহরে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকত। আজ (গতকাল) সেটা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে।’


শপথ নেওয়ার পর গতকাল প্রথম দিনের কর্মসূচিতে পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশি মেহমানদের সফরের সময় তার গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করা হবে বলে জানান আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীর সচিবালয় থেকে আসতে একটা জট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বেশিরভাগ সময় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই ধারে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের যে নিয়ম, তা-ও বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।


গতকাল সকালে তারেক রহমান গুলশানের বাসা থেকে নিজের সাদা রঙের টয়োটা গাড়িতে চড়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সাভার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।


তারেক রহমান তার বাবার মতোই ‘ইতিবাচক রাজনীতির’ পথে হাঁটছেন বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেকগুলো কাজ দিয়ে রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারার সূচনা করেছেন। উনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই প্রত্যেকটা স্টেজে (ধাপে) নতুনত্ব দেখাচ্ছেন। তিনি ঢাকায় ঢুকেই যুগপৎ আন্দোলনের শরিক প্রত্যেকটা দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে অভ্যর্থনার কর্মসূচি করেছেন। তারপরে নির্বাচনী প্রচারের সময়ে সাধারণ মানুষকে স্টেজে নিয়ে আসা, তাদের সঙ্গে কানেক্ট করা, তাদের নাম বলার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি নিজেকে কানেক্টেড করেছেন লোকাল পিপলের সঙ্গে। প্রেস কনফারেন্সেও কিন্তু সাংবাদিকদের সঙ্গে ওপেনলি কথা বলেছেন, সবাই সবার কথা বলতে পেরেছেন। শপথ গ্রহণের পর সংসদীয় দলের সভার শুরুতেই উনি বলেছেন যে, বিএনপির সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট নেবেন না।


এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরও বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারি গাড়িতে চলাফেরা না করে নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ঘটনাগুলোর জন্য বা এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য দেশের মানুষ অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছে। মানুষ চাচ্ছে যে, দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির কাছ থেকে এমন কিছু ঘোষণা আসুক, যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তাদের স্বাভাবিক জীবনধারার মতো মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী যে রাজা নন, তিনি যে সাধারণ মানুষের একজন প্রতিনিধি এবং সেবক—মানুষ অনেকদিন ধরে নেতাদের কাছে এরকম একটা প্রতীকী ছবি প্রত্যাশা করছিল। আমি মনে করি, এখন এর একটা ধারা তারেক রহমানের মাধ্যমে শুরু হলো।

 

এমন ধারা এর আগে শুধু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে দেখা গিয়েছিল উল্লেখ করে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে দেখা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ কাজ করতেন; সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতেন, তাদের কথা শুনতেন। এখন আবার দেখা যাচ্ছে যে, তার সন্তান তারেক রহমানও একই পথে হাঁটছেন। তিনি এমন অনেকগুলো কাজ করছেন, যেগুলো আসলে জনগণকে কানেক্ট করা, জনগণের প্রত্যাশাকে সরকারিভাবে রূপদান করা।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ছবি: সংগৃহীত
বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর, বেতন কমল ৫ জনের

চাকরি বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন অবনমনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।   গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এর আগে গত ২৩ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছিল। বিএসইসির একটি সূত্র কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   সূত্র জানায়, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম।   এছাড়া উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান; সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ রয়েছেন এ তালিকায়।   অন্যদিকে বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম ও মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী।   এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বিএসইসির পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।   বিএসইসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে দুই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনায় সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে চেয়ারম্যান-কমিশনারদের মধ্যে অবরুদ্ধ হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।   এবার চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ জামুকার

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে সচিবের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কড়াকড়ি

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের দিন সংসদ কক্ষের বৈঠকে (ভোটের সময়) প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে ভোটারদের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি, যেখানে বলা হয়েছে ভোটদানের সময় করণীয়।     মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা নির্দেশিকাটি জারি করা হয়।       এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদ কক্ষে ঢুকে ব্যালট সংগ্রহ করে ভোট দিতে হবে। এ সময়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।         সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক সরবরাহ করা আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।       সংসদ কক্ষে নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজ নাম ও বিভক্তি সংখ্যা মুদ্রিত ব্যালট পেপার পাওয়ার পর ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে ভোটারের স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তাকে ফেরত দিতে হবে।       এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যালটের আউটার ফয়েল বা ব্যালট অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফাঁকা স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে।     ভোট দেওয়ার পর ব্যালটটি সংসদ কক্ষে সংরক্ষিত ব্যালট বাক্সে রাখতে হবে। কোনো কারণে সরবরাহকৃত ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে ব্যালট বাক্সের অভ্যন্তরে রাখার আগে সেটি নিয়ে নির্বাচনী কর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে।     নির্বাচনী কর্তা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।    এ ছাড়া, ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠকে নির্বাচনী প্রচার করা বা এ উদ্দেশে কোনো বক্তব্য কিংবা ভাষণ দেওয়া যাবে না। ভোট দেওয়ার সময় কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যার উদ্ভব হলে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলের চিফ হুইপের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্যালট পেপারে যেখানে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে সেখানে পূর্ণ নাম লিখতে হবে।       গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।     বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ ভোটে রয়েছেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : সিইসির সহায়তায় ইসির ২০ কর্মকর্তা নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি সফরের নিমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী, থমকে আছে ভারত সফর

শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  শেখ হাসিনা সরকার দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা প্রথমে বাজিয়ে দিয়েছিল। যখন বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করেছিল, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করা হয়েছিল। জাতিসংঘ ওই চুক্তির একটি প্রভাবশালী অংশীদার ছিল। তখন ওআইসির প্রত্যেকটি দেশসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সংস্থাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। সেজন্য সেটি কাজে লেগেছিল, যা গত সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছিল।   রোহিঙ্গা সংকটকে কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে কঠিন অবস্থার মধ্যে আমরা আছি। সেটা আমাদের স্বীকার করতে হবে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আসা শুরু হয়েছে। সেই ২০১৭ সাল থেকে এখন ২০২৬। প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যেই যদি সমাধান করা যেত, তখন মিয়ানমারের পরিস্থিতি এতটা জটিল ছিল না। কিন্তু যত দিন গেছে, আমাদের জটিলতা বেড়েছে, সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে।   তিনি বলেন, এই জায়গাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা এবং দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।   মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা মনে করি, মিয়ানমার সরকার বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখবে। শুধু কূটনৈতিক ভাষায় বললে হবে না, সেটিকে বাস্তব কার্যক্রমে পরিণত করতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সব কাজ করবো।   রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন রয়েছে। সেখানে মিয়ানমারের ওপর যতটা সম্ভব আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হবে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আমাদের রাজনীতির একটা ব্যাপার আছে, আঞ্চলিক রাজনীতি আছে—সবকিছু মিলিয়েই আমাদের কূটনৈতিক কাজটা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।   মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৌশলগত পরিবর্তন তো আছেই।   তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। তখনও তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অভ্যন্তরীণভাবে অনেক কৌশলগত কাজ করেছেন। সেই কাজগুলো বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ও চলমান রয়েছে।   শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাই। পাশাপাশি বিএনপি সরকার অতীতে যেভাবে কাজ করেছিল, সেভাবেই আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর আরও বেশি জোর দিচ্ছি, যাতে তারাও মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।   এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কোনও সফর নিয়ে নতুন কোনও আপডেট নেই বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে মাউশির নতুন বিজ্ঞপ্তি

ছবি: সংগৃহীত

গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে প্রশ্ন, স্বাধীন তদন্তের দাবি বক্তাদের

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও ইতিবাচক রাখতে চায় ভারত: জয়সওয়াল

0 Comments