সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১ জুলাই থেকে। এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের অর্থাৎ বেসিকের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেসিকের শতভাগ বেতন বাড়তে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে প্রশাসনে।
নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমানে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ২য় গ্রেডের ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা। ৩য় গ্রেডের ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা বেড়ে হবে ৮৪ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা।
৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ৫ম গ্রেডের ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ টাকা। ৬ষ্ঠ গ্রেডের ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫৩ হাজার ২৫০ থেকে ১ লাখ ৫১৫ টাকা।
৭ম গ্রেডের ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা বেড়ে হবে ৪৩ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ১১৫ টাকা। ৮ম গ্রেডের ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৮৩ হাজার ২০৫ টাকা। ৯ম গ্রেডের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেড়ে হবে ৩৩ হাজার থেকে ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা। ১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকা।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলে ১১তম গ্রেডের বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ১৮ হাজার ৭৫০ থেকে ৪৫ হাজার ৩৪৫ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৯৫০ থেকে ৪০ হাজার ৯৫০ টাকা।
১৩তম গ্রেডের ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৩৯ হাজার ৮৮৫ টাকা। ১৪তম গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেড়ে হবে ১৫ হাজার ৩০০ থেকে ৩৭ হাজার ২০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৫৫০ থেকে ৩৫ হাজার ২৩৫ টাকা।
১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ থেকে ৩৩ হাজার ৭৩৫ টাকা। ১৭তম গ্রেডের ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩২ হাজার ৭০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডের ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ২০০ থেকে ৩১ হাজার ৯৬৫ টাকা।
এছাড়া ১৯তম গ্রেডের ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১২ হাজার ৭৫০ থেকে ৩০ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ থেকে ৩০ হাজার ১৫ টাকা।
এদিকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে প্রশাসনে জোর আলোচনা চলছে। এই গ্রেডে বেসিক শতভাগ বৃদ্ধি পেলে ১১তম গ্রেডের ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা বেড়ে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৪৬০ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে হবে ২২ হাজার ৬০০ থেকে ৫৪ হাজার ৬০০ টাকা।
১৩তম গ্রেডের ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ১৮০ টাকা। ১৪তম গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার ৪০০ থেকে ৪৯ হাজার ৩৬০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৯ হাজার ৪০০ থেকে ৪৬ হাজার ৯৮০ টাকা।
১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ১৮ হাজার ৬০০ থেকে ৪৪ হাজার ৯৮০ টাকা। ১৭তম গ্রেডের ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৮ হাজার থেকে ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডের ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা বেড়ে হবে ১৭ হাজার ৬০০ থেকে ৪২ হাজার ৬২০ টাকা।
এছাড়া ১৯তম গ্রেডের ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা দ্বিগুণ হয়ে হবে ১৭ হাজার থেকে ৪১ হাজার ১৪০ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৪০ হাজার ২০ টাকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নাটোরের লালপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দুই সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের তিন কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন—মো. জাহিদ হোসেন (৩২), মো. শফিকুল ইসলাম শফিক (৩৫) এবং মো. মামুন আলী (২৫)। লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রায়হান কবির সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু রায়হান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১২ আগস্ট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় ওই তিন কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক স্বার্থ ও ভাবমূর্তির পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্রদল মেনে নেবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। ঘটনায় হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সজিবুল হৃদয় বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ভবিষ্যতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো সাংবাদিক যাতে হয়রানি বা বাধার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্য সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় উপজেলা ছাত্রদলের নেতাদের ধন্যবাদ। তবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রায়হান কবির সুইট বলেন, সাংবাদিক হেনস্তার মতো ঘটনা ছাত্রদলের আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিন কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে লালপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ভরা মৌসুমেও ইলিশের বাজারে স্বস্তি নেই। রাজধানীর বাজারগুলোতে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে জাতীয় এই মাছ। আকারভেদে এক কেজি ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। ছোট আকারের ইলিশের দামও কম নয়। ফলে ইলিশের মৌসুম চললেও সাধ ও সাধ্যের হিসাব মেলাতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান ও রামপুরা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে ইলিশের দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে আকারভেদে ইলিশের দামে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। প্রায় ২৫০ গ্রাম ওজনের চারটি ইলিশে কেজিপ্রতি দাম ধরা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা। ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বারিধারার জোয়ার সাহারা বাজারের ইলিশ বিক্রেতা শিপন বর্মণ বলেন, তার দোকানে ৩৫০ গ্রাম থেকে শুরু করে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ রয়েছে। এর মধ্যে ছোট আকারের ইলিশের কেজি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। বড় আকারের ইলিশের কেজি ২ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বাজারে প্রায় ১৪৫ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ আকারে খুব ছোট ইলিশ কিনতেও ক্রেতাকে তুলনামূলক বেশি দাম দিতে হচ্ছে। শিপন বর্মণ বলেন, আড়তে ইলিশের সরবরাহ কম। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। এর মধ্যে সাগরে দুদিন পরপর নিম্নচাপ হচ্ছে। এতে মাছ ধরতে সমস্যায় পড়েন জেলেরা। ফলে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দামও কমছে না। গুলশান কাঁচাবাজারের ইলিশ বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের বরাবরই আলাদা চাহিদা রয়েছে। তবে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বেশি। এর প্রভাব ইলিশের বাজারেও পড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের মৌসুম চললেও নদী ও সাগর থেকে পর্যাপ্ত মাছ আসছে না। এর সঙ্গে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন খরচও বেড়েছে। জ্বালানি, জাল, বরফ, পরিবহনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশ কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আড়তেও বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে বলে জানান তারা। এদিকে, ভরা মৌসুমেও ইলিশের সরবরাহ না বাড়লে জাতীয় এই মাছ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা। জোয়ার সাহারা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী জাহিদ হাসান বলেন, ইলিশ কেনার ইচ্ছা থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অন্য মাছ কিনেছেন তিনি। তিনি বলেন, সাধারণত ভরা মৌসুমে ইলিশের দাম কিছুটা কম থাকে। কিন্তু এবার দাম অনেক বেশি। হাজার টাকার নিচে তেমন কোনো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা থাকলেও বেশি দামের কারণে আগের মতো ইলিশ কেনা যাচ্ছে না। তাই ইলিশের বদলে রুই মাছ কিনতে হয়েছে। ফারুক হোসেন, মেজবাহ উদ্দিনসহ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ইলিশ উৎপাদনে জেলেদের খরচ তুলনামূলক কম হলেও বাজারে এ মাছ সবসময়ই চড়া দামে বিক্রি হয়। এবারও সরবরাহ কম থাকার কথা বলে বেশি মূল্যে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ রয়েছে। মূলত সরবরাহের ঘাটতি নয়। অন্য কোনো কারণে ইলিশের দাম কমছে না বলে মনে করেন তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের দাম কমাতে হলে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর বিকল্প নেই। নদী ও সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে আড়তে মাছের সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ইলিশের দামও কিছুটা কমে আসতে পারে।
ধুলো উড়ে ওঠা রাজপথে ভাঙা মিছিলের ভেতরেও কখনো নত হয়নি তাঁর চোখের দৃষ্টি। লাঠিচার্জ, গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস আর রাজনীতির কঠিন মুহূর্তগুলোও থামাতে পারেনি যাঁকে। তিনি খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর নেতৃত্বশূন্য হয় বিএনপি। তখন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে কার্যত নতুন। এরশাদ সরকারের অধীনে কোনো সমঝোতা বা নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ধারাবাহিক আন্দোলন, অবরোধ ও গণবিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন তুঙ্গে, তখন ডান-বাম সব রাজনৈতিক শক্তি একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি তোলে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। শেখ হাসিনা নির্বাচনকে স্বৈরশাসনকে বৈধতা দেওয়ার সমতুল্য বললেও শেষ পর্যন্ত অংশ নেন। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়, মাইনাস-টু ফর্মুলা বা বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে জেলও খেটেছেন খালেদা জিয়া। কারাবন্দী অবস্থায় আপসের সুযোগ ছিল, দরজা খোলা ছিল সমঝোতার। তবু তিনি নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। মুক্তির শর্ত নয়, দাঁড়াতে চান জনগণের রায়ে। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর, সেনানিবাসের নিজ বাসভবন থেকে উচ্ছেদ হন খালেদা জিয়া। এক ঘণ্টার ব্যবধানে এক কাপড়ে ছাড়তে হয় চার দশকের মায়ার বন্ধন। প্রতিহিংসা এতটাই ছিল যে বাড়িটি মিশিয়ে দেওয়া হয় মাটির সঙ্গে। মুছে ফেলা হয় সব স্মৃতি। সেদিন খালেদা জিয়ার কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় দেশবাসীকে। তবুও প্রতিহিংসাপরায়ণ হননি খালেদা জিয়া। দীর্ঘ আন্দোলন, অবরোধ, অবিচল প্রতিরোধের সময়েও কঠিন এক সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন বেগম জিয়া। পরিস্থিতির জন্য দায় নিয়ে সেফ এক্সিটের সহজ রাস্তায় হাঁটেননি। সমঝোতার এমন প্রস্তাব যখনই এসেছে, তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন থেকেছেন আন্দোলনের মাঠে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের দাবি না মানায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে সংলাপের বিভিন্ন প্রস্তাব সত্ত্বেও মূল দাবিতে আপস করেননি তিনি। তবে গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে কখনো কখনো আলোচনার টেবিলেও এসেছেন খালেদা জিয়া। কারণ রাজনীতি তাঁর কাছে ছিল সংঘাতের নয়, জনগণের অধিকারের প্রশ্ন। নেত্রী হিসেবে আপসহীন, আবার রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে আলোচনাতেও প্রস্তুত। সমঝোতার সহজ পথ সামনে রেখেও যিনি বারবার বেছে নিয়েছেন প্রতিরোধ। তিনি শুধু বিএনপির ভরসাই নন, হয়ে উঠেছেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীকও। তাই রাজনীতির অভিধানে তাঁর নামের পাশে জুড়ে গেছে এক বিশেষ পরিচয়—আপসহীন নেত্রী।