সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১ জুলাই থেকে। এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের অর্থাৎ বেসিকের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেসিকের শতভাগ বেতন বাড়তে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে প্রশাসনে।
নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমানে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ২য় গ্রেডের ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা। ৩য় গ্রেডের ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা বেড়ে হবে ৮৪ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা।
৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ৫ম গ্রেডের ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ টাকা। ৬ষ্ঠ গ্রেডের ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫৩ হাজার ২৫০ থেকে ১ লাখ ৫১৫ টাকা।
৭ম গ্রেডের ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা বেড়ে হবে ৪৩ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ১১৫ টাকা। ৮ম গ্রেডের ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৮৩ হাজার ২০৫ টাকা। ৯ম গ্রেডের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেড়ে হবে ৩৩ হাজার থেকে ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা। ১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকা।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলে ১১তম গ্রেডের বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ১৮ হাজার ৭৫০ থেকে ৪৫ হাজার ৩৪৫ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৯৫০ থেকে ৪০ হাজার ৯৫০ টাকা।
১৩তম গ্রেডের ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৩৯ হাজার ৮৮৫ টাকা। ১৪তম গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেড়ে হবে ১৫ হাজার ৩০০ থেকে ৩৭ হাজার ২০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৫৫০ থেকে ৩৫ হাজার ২৩৫ টাকা।
১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ থেকে ৩৩ হাজার ৭৩৫ টাকা। ১৭তম গ্রেডের ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩২ হাজার ৭০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডের ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ২০০ থেকে ৩১ হাজার ৯৬৫ টাকা।
এছাড়া ১৯তম গ্রেডের ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১২ হাজার ৭৫০ থেকে ৩০ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ থেকে ৩০ হাজার ১৫ টাকা।
এদিকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে প্রশাসনে জোর আলোচনা চলছে। এই গ্রেডে বেসিক শতভাগ বৃদ্ধি পেলে ১১তম গ্রেডের ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা বেড়ে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৪৬০ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে হবে ২২ হাজার ৬০০ থেকে ৫৪ হাজার ৬০০ টাকা।
১৩তম গ্রেডের ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ১৮০ টাকা। ১৪তম গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার ৪০০ থেকে ৪৯ হাজার ৩৬০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৯ হাজার ৪০০ থেকে ৪৬ হাজার ৯৮০ টাকা।
১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ১৮ হাজার ৬০০ থেকে ৪৪ হাজার ৯৮০ টাকা। ১৭তম গ্রেডের ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৮ হাজার থেকে ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডের ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা বেড়ে হবে ১৭ হাজার ৬০০ থেকে ৪২ হাজার ৬২০ টাকা।
এছাড়া ১৯তম গ্রেডের ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা দ্বিগুণ হয়ে হবে ১৭ হাজার থেকে ৪১ হাজার ১৪০ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৪০ হাজার ২০ টাকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে এই সময়ে আরও ১ হাজার ২২৪ জনের দেহে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগে ৩ জন ছাড়াও রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ২ জন করে মোট ৬ জনসহ ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার (২৪ মে) পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৫৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১২৭ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ৬৪ হাজার ৯৪০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৮ হাজার ৭১৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৫১ হাজার ৫৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১ জুলাই থেকে। এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের অর্থাৎ বেসিকের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেসিকের শতভাগ বেতন বাড়তে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে প্রশাসনে। নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমানে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ২য় গ্রেডের ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা। ৩য় গ্রেডের ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা বেড়ে হবে ৮৪ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা। ৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ৫ম গ্রেডের ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ টাকা। ৬ষ্ঠ গ্রেডের ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫৩ হাজার ২৫০ থেকে ১ লাখ ৫১৫ টাকা। ৭ম গ্রেডের ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা বেড়ে হবে ৪৩ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ১১৫ টাকা। ৮ম গ্রেডের ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৮৩ হাজার ২০৫ টাকা। ৯ম গ্রেডের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেড়ে হবে ৩৩ হাজার থেকে ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা। ১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকা। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলে ১১তম গ্রেডের বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ১৮ হাজার ৭৫০ থেকে ৪৫ হাজার ৩৪৫ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৯৫০ থেকে ৪০ হাজার ৯৫০ টাকা। ১৩তম গ্রেডের ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৩৯ হাজার ৮৮৫ টাকা। ১৪তম গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেড়ে হবে ১৫ হাজার ৩০০ থেকে ৩৭ হাজার ২০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৫৫০ থেকে ৩৫ হাজার ২৩৫ টাকা। ১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ থেকে ৩৩ হাজার ৭৩৫ টাকা। ১৭তম গ্রেডের ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩২ হাজার ৭০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডের ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ২০০ থেকে ৩১ হাজার ৯৬৫ টাকা। এছাড়া ১৯তম গ্রেডের ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১২ হাজার ৭৫০ থেকে ৩০ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ থেকে ৩০ হাজার ১৫ টাকা। এদিকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে প্রশাসনে জোর আলোচনা চলছে। এই গ্রেডে বেসিক শতভাগ বৃদ্ধি পেলে ১১তম গ্রেডের ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা বেড়ে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৪৬০ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে হবে ২২ হাজার ৬০০ থেকে ৫৪ হাজার ৬০০ টাকা। ১৩তম গ্রেডের ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ১৮০ টাকা। ১৪তম গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার ৪০০ থেকে ৪৯ হাজার ৩৬০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৯ হাজার ৪০০ থেকে ৪৬ হাজার ৯৮০ টাকা। ১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ১৮ হাজার ৬০০ থেকে ৪৪ হাজার ৯৮০ টাকা। ১৭তম গ্রেডের ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৮ হাজার থেকে ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডের ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা বেড়ে হবে ১৭ হাজার ৬০০ থেকে ৪২ হাজার ৬২০ টাকা। এছাড়া ১৯তম গ্রেডের ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা দ্বিগুণ হয়ে হবে ১৭ হাজার থেকে ৪১ হাজার ১৪০ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৪০ হাজার ২০ টাকা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো তদন্ত চলছে কিনা সে বিষয়ে তার প্রত্যক্ষ ধারণা নেই। রোববার (২৪ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনো ধারণা নেই। কোনো তদন্ত চলছে কিনা, তা তদন্ত সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।” আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তে অগ্রগতি নেই কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এমন তথ্য তার কাছে নেই। এ ধরনের কোনো তদন্ত সম্পর্কে জানলে গণমাধ্যমও তা জানতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শাপলা চত্বরের মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তবে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় বাইরের কোনো সংস্থার হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের আওতায় আনা হবে। তবে নির্দোষ কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বিচারপ্রক্রিয়ায় আনা হবে না।”