জামালপুরে নতুন গ্যাস পাম্প স্থাপন ও চলমান গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজি চালকরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সিএনজি চালকরা।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তাদের অবরোধ চলছিল।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামালপুরে দীর্ঘদিন ধরে জাবেদ ফিলিং স্টেশন নামে মাত্র একটি গ্যাস পাম্পে সিএনজিতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর বিপরীতে বিআরটিএ নিবন্ধিত প্রায় ৩ হাজার সিএনজি রয়েছে। এছাড়া বাইরে থেকে আসা সিএনজিসহ জেলায় চলাচলকারী মোট সিএনজির সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।
চালকদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক সিএনজির বিপরীতে মাত্র একটি গ্যাস পাম্প থাকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এরপরও অনেক সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাস সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরতে হয় চালকদের। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
সিএনজি চালক হামিদুর রহমান বলেন, জামালপুরে এত সিএনজি, অথচ গ্যাস পাম্প মাত্র একটি। একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে একটি পাম্প হওয়ায় আমাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাই আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তা অবরোধ করেছি। আমরা নতুন গ্যাস পাম্প চাই এবং গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান চাই।
জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘গ্যাস পাম্প ও গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলছি। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। এর মধ্যে ৩৪ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতন ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। রাজনৈতিক কারণে পাঁচবার কারাবরণ করেছেন। এমনকি ঢাকায় একটি বাসায় আড়াই মাস আত্মগোপনেও ছিলেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছি। এর মধ্যে ৩৪ বছর বিএনপি করেছি। রাজনীতিতে আমার আগ্রহ ছিল না। এই ৩৪ বছরে বিএনপির সময়ে অনেক উত্থান-পতন দেখেছি। কঠিন সময় গেছে। জেলে গিয়েছি পাঁচবার। তারপর ঢাকায় একবার একটি বাসায় আড়াই মাস লুকিয়ে ছিলাম। বাসা থেকে বের হইনি। এভাবে গ্রেফতার এড়িয়ে এবং নানা ধরনের পুলিশের অপতৎপরতার শিকার হয়েছি অনেকবার। মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এগুলো খুবই মনে পড়ে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে স্পিকার বলেন, সবসময় বেগম জিয়ার যে স্নেহ ও সহচর্য পেয়েছি, তা ভুলবার নয়। দুঃসময়ে তিনি আমাদের অনেক সাহস দিয়েছেন। সবসময় আমার প্রতি তিনি সদয় ছিলেন। তার কাছ থেকে সবসময় ভালো ব্যবহার পেয়েছি। ঈদের দিন সন্ধ্যার পর তিনি দুজন মাত্র অতিথিকে নিয়ে ডিনার করতেন। আমাদের নিয়ে তিনি খাবার পরিবেশন করতেন এবং টুকটাক গল্প করতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানি বাহিনীর গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী বেগম জিয়াকে অনেক খুঁজে গ্রেফতার করেছিল। ঢাকায় তাদের আত্মীয়ের বাসা থেকে তারা তাকে গ্রেফতার করে। অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কাউকে এভাবে খুঁজতে যায়নি। যারা নিজেদের বিরাট মুক্তিযোদ্ধা কিংবা স্বাধীনতার একচ্ছত্র দাবিদার মনে করতেন, তাদেরও সেনাবাহিনী এভাবে খুঁজতে যায়নি। তিনি বলেন, জিয়ার মধ্যে তারা কী পেয়েছিল? তারা হয়তো বুঝতে পেরেছিল, তিনি ভবিষ্যতের একজন জননেত্রী হতে পারেন। এই সন্দেহ থেকেই হয়তো তাকে গ্রেফতার করেছিল। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি তার স্বামীকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, সে কারণেও হয়তো তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্স গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় জুলাই মাসের একসময় তেলঢালায় যখন ছাত্রদের প্রশিক্ষণ চলছিল এবং জেড ফোর্স সংগঠিত হচ্ছিল, একদিন আমি কমান্ডার জিয়াকে দেখতে গেলাম। গিয়ে দেখি, তিনি একটি চিঠি লিখছেন। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, স্যার, কী লিখছেন? উত্তরে তিনি বললেন, একটি চিঠি লিখছি। কাকে লিখছেন জানতে চাইলে তিনি বললেন, পাকিস্তানের জেনারেল জামশেদকে লিখছি। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি আমাকে চিঠিটি পড়তে দিলেন। আমি দেখলাম, ইংরেজিতে লেখা— মাই ডিয়ার জেনারেল জামশেদ, মাই ওয়াইফ খালেদা, ইজ ইন ইউর কাস্টডি। ইফ ইউ ডু নট রেসপেক্ট হার আই উইল কিল ইউ সামডে অর্থাৎ, আমার স্ত্রী তোমাদের হেফাজতে আছে। যদি তার সঙ্গে ভালো আচরণ না কর এবং সম্মান প্রদর্শন না করো, একদিন আমি তোমাকে হত্যা করব। —মেজর জিয়া। তিনি আরও বলেন, এরপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, এখন কি চিঠিটা ডাকযোগে পাঠাব? তিনি চিঠিটা একজন মেজরের হাতে দিলেন। পরের দিন তারা দেওয়ানগঞ্জে অপারেশনে গেলে সেখানে একটি ডাকবাক্সে চিঠিটি ফেলে দেন। চিঠিটি ঠিকই জেনারেল জামশেদের কাছে পৌঁছেছিল। জেনারেল জামশেদের দেওয়া উত্তরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জেনারেল জামশেদ চিঠির উত্তরে জানিয়েছিলেন, এই চিঠির প্রয়োজন নেই। একজন অফিসারের স্ত্রীকে কীভাবে সম্মান করতে হয়, আমরা সেটা জানি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেন্দ্রটির সঙ্গে জাতীয় লোড পরিচালনা কেন্দ্রের (এনএলডিসি) সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এনএলডিসি দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। কোথায় কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, কোন পথে কত বিদ্যুৎ যাচ্ছে এবং গ্রিডের কোথায় কতটা চাহিদা রয়েছে—এসব তথ্য এখান থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রূপপুরকে এনএলডিসির সঙ্গে যুক্ত করার ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনের তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে এখান থেকে দেখা যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তথ্য এনএলডিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে। দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইনের তথ্য এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের দুটি উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া যাবে এনএলডিসিতে। গতকাল বুধবার ঢাকায় পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রূপপুরের পক্ষে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন এবং জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা। প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য প্রেরণে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। এটি কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখবে। রূপপুরের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগের ফলে রূপপুর ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে, যা কেন্দ্র ও গ্রিডের সমন্বয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজ করবে। এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। গত ২৮ এপ্রিল সেখানে জ্বালানি লোডিং শেষ হয়েছে, এখন চলছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে, পরে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো হবে। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। গ্যাস সংকট ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশে যখন বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ রয়েছে, তখন রূপপুরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। এরপরও একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনে সারের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, গত বছর একই সময়ে সরকারি গুদামগুলোতে প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত ছিল। বর্তমানে সেই মজুত বেড়ে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশে সার নেই—এমন বক্তব্য সঠিক নয়। বরাদ্দে বড় পার্থক্য: কৃষিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত অর্থবছরের আগস্টে সারের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৫৯০ টন। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮৪৭ টন। বরাদ্দের পরিমাণে এত বড় পার্থক্যের কারণ এবং কোথায় কী পরিমাণ সার যাচ্ছে, সে বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সংসদে সারের সংকট নিয়ে বিভিন্ন সদস্যের আলোচনার বিষয়টি পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ দল পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সার বিতরণব্যবস্থা আরও কৃষকবান্ধব করতে সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন নীতিমালায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসি ও বিএডিসির দুজন মাস্টার ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়েও বিভিন্ন সংখ্যক ডিলার রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন মাস্টার ডিলার নিয়োগ করা হবে। মন্ত্রী জানান, অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে—এমন ডিলারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে সার মজুতের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার, জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ডিলারদের ডিলারশিপ বহাল থাকবে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। নজরদারিতে কমিটি ও টাস্কফোর্স: সারের সরবরাহ, উত্তোলন, গুদামজাতকরণ, বিক্রয়মূল্য, ডিলার নির্বাচন ও তাদের কার্যক্রম এবং সার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটি কাজ করছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের চার সদস্যের একটি কমিটি জেলাভিত্তিক দায়িত্ব নিয়ে সার ব্যবস্থাপনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে ১০ সদস্যের, জেলা পর্যায়ে ১৩ সদস্যের এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব। নতুন কমিটিতে কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবীকেও রাখা হয়েছে। নতুন ডিলার নিয়োগে আবেদনের সময় বাড়ল; নতুন নীতিমালার আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ৩ সেপ্টেম্বর থাকলেও তা বাড়িয়ে ১০ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী জানান, আবেদনগুলো উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের যাচাই শেষে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। নীতিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনজনকে বাছাই করে পাঠানো হবে। পরে সেখান থেকে একজনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সার উত্তোলন ও বিতরণ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করার আহ্বান জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিলারদের রসিদের মাধ্যমে সার বিক্রি করতে হয়। জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়ে নজর রাখলে অনিয়মকারীরা দ্রুত এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে যেতে বাধ্য হবে।