বিনোদন

নাটকে নাটকে একুশের উচ্চারণ

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ফেব্রুয়ারির হিমেল হাওয়ায় যখন শহীদ মিনারে জমতে শুরু করে মানুষের ঢল, ঠিক তখনই টেলিভিশনের পর্দাতেও জেগে ওঠে ভাষার গল্প। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন চ্যানেল আয়োজন করেছে বিশেষ নাটক, টেলিফিল্ম ও একক নাট্যপ্রযোজনা। একুশ মানেই শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, এ দিনটি বাঙালীর আত্মপরিচয়ের গভীরতম জায়গায় নাড়া দেয়। সেই আবেগ, ইতিহাস ও বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে নির্মিত হয়েছে একাধিক নাটক।

 

বাংলা ভাষার প্রতি বিদেশি মেয়ের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার গল্পে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘সিদ্ধান্ত’। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভিতে) আজ রাত ৯টায় প্রচারিত হবে নাটকটি। কাজী আসাদের রচনায় নাটকটি প্রযোজনা করেছেন মামুন মাহমুদ। এতে অভিনয় করেছেন মাসুম বাশার, কাজী আসাদ, সালমান আরাফাত, তাবেদার ই রসুল চান্নু, এথেনা অধিকারী, জান্নাত-ই ফেরদৌসী তারা, কবির টুটুল, আরাফাত, আয়েশা, মৌসুমী ইকবাল, মাসুদ ও ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আবু রায়হানের ছেলে আব্দুল মান্নান। আব্দুল মান্নানের দুই ছেলে আব্দুল হান্নান ও আব্দুর রহমান এবং মেয়ে রীমা রায়হান। হান্নান উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গিয়ে সেখানেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকে। এদিকে রহমান দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। সুইডিশ নাগরিক এলিনা ব্রিটিশ ভারত বিভক্তি ও বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিষয়ে থিসিসের কাজে রহমানের সাহায্য চায়। এলিনাকে সাহায্য করতে গিয়ে তাদের পরস্পরের ভালো লেগে যায়। হান্নান স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দেশে বেড়াতে আসে। কিন্তু হান্নানের ছেলে-মেয়েরা বিকৃত বাংলায় কথা বলে এবং বাংলা ভাষার প্রতি অনীহা দেখায়। ভাষা আন্দোলকারী একজনের পরবর্তী প্রজন্মের বাংলা ভাষার প্রতি অনাগ্রহ ও অবহেলা তার দাদা আব্দুল মান্নানকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। এ কষ্ট লাঘবের জন্য তিনি নাতি-নাতনিদেরকে বাংলা ভাষার জন্য মানুষের আত্মউৎসর্গ এবং মাতৃভাষার গুরুত বোঝানোর চেষ্টা করেন। বাবার উপদেশে হান্নানের বোধদয় হয়। তখন সে স্ত্রী-সন্তানসহ সুইডেনে ফিরে যাওয়া আপাতত স্থগিত রাখে। এদিকে এলিনা থিসিস শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে রহমানের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় আসে। বিদেশি মেয়ের বাংলা ভাষার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখে রহমানের পরিবারের সবাই মুগ্ধ হয়। এলিনা জানায়, সে বাংলা ভাষার উপর আরো লেখা-পড়া করতে চায় ও বাংলাদেশে থেকে যেতে চায়। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকর কাহিনী।

এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’। এতেও একজন ভাষা সৈনিকের গল্প উঠে এসেছে। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন হারুন রশীদ। এতে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, আহসান হাবিব নাসিম, সুষমা সরকার প্রমুখ। চ্যানেল আইতে আজ রাত ৭.৫০ মিনিটে প্রচার হবে নাটকটি। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, ভাষা সৈনিক বাবার লেখা একটি পুরোনো চিঠি নিয়ে হাশেম চাচা আসেন অনিন্দদের বাড়িতে। যে চিঠিকে কেউ গুরুত্ব দেয় না, সেই চিঠিই ধীরে ধীরে বদলে দেয় অনিকের মন আর ভাষা নিয়ে তার ভাবনা। একটি চিঠিই অনিকের মতো মানুষকে তার শিকড় আর পরিচয়ের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।

এছাড়াও দীপ্ত টিভিতে আজ রাত ১১টা ৩৫মিনিটে প্রচার হবে বিশেষ প্রামান্য চিত্র ‘আমি কি ভুলিতে পারি’। ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক এবং সুফিয়া আহমেদের ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে অনুপ্রানিত হয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরীর কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ রচনা এবং বিশিষ্ট শিফাবিদ ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ২১ শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বিশ্লেষনাত্নক বক্তব্য নিয়ে এই আয়োজন। দুরন্ত টিভি দিবসটি ঘিরে নানা আয়োজন রেখেছে। এরমধ্যে দুপুর ২টায় প্রচার হবে নাটক ‘ঝুটুম পাখির কথা’। ছোট্ট পিউর পাখি পোষার খুব শখ। বাসায় তার অনেক পাখি আছে। একটাই দুঃখ, পাখিদের ভাষা সে বোঝে না। তাই তার আবদারে মা-বাবা তাকে একটা টিয়া পাখি কিনে দেয়। বাড়ি ফিরে শুরু হয় টিয়াকে কথা শেখানোর প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। কিন্তু বিপদ হলো, মানুষের মতো করে কথা বলতে পারে না টিয়া। কিন্তু পিউ চেষ্টা চালিয়ে যায়। এমনই এক মধুর গল্পে সাজানো হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশেষ এ নাটক । নাটকটি রচনা করেছেন নূর সিদ্দিকী ও পরিচালনা করেছেন মনিরুল হোসেন শিপন। এতে অভিনয় করেছেন সাবিহা জামান, জিতু আহসান, সুষমা সরকার ও ঋদ্ধি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মাছরাঙায় আর রাত ৮টায় প্রচার হবে বিশেষ নাটক ‘আমার বর্ণমালা’। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খান। সীমান্ত সজলের রচনা ও পরিচালনায় নাটকটি বিশেষভাবে টেলিভিশনে প্রচার হবে আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি)। নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ওহাব মাস্টারকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা ওহাব মাস্টারের বাড়িতে আগুন দেয়। সেই বিভীষিকাময় রাতে শিশু ওহাবের হাতে একটি বর্ণমালার বই তুলে দিয়ে তার বাবা বলেছিলেন, ‘তুই আমার বর্ণমালা বাঁচা’। তখন বর্ণমালার বই হাতে ওহাব দৌড়ে বের হতে পারলেও তার বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা যায়। তারপর থেকে ওহাব তার বাবার দেওয়া ‘আমার বর্ণমালা’ বইকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব নেয়।গল্পের বাঁক বদল হয় যখন ওহাব মাস্টারের স্কুলে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি মাধ্যম চালুর পরিকল্পনা করা হয়। মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তিনি। তবে এর পরিণতি হয় অত্যন্ত করুণ। একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে দেখতে পায় সেখানে পড়ে আছে ওহাব মাস্টারের নিথর দেহ।তারিক আনাম খানের পাশাপাশি এই নাটকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। ভাষা দিবসের বিশেষ আবহে নির্মিত এই নাটকটি দর্শকদের মনে দাগ কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্মাতারা বলছেন, কেবল অতীতের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা নয়, নাটকগুলোতে উঠে এসেছে ভাষার চর্চা, বিকৃতি, এবং ডিজিটাল যুগে বাংলার অবস্থানের প্রশ্ন। কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনের পুনর্নির্মাণ, কোথাও প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ভাষা-সংকট, আবার কোথাও ব্যক্তিগত প্রেম ও সংগ্রামের ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে একুশের চেতনা। বিনোদনের মোড়কে ইতিহাস ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে এবারের নাটকগুলো কতটা সফল হবে, তা দেখার অপেক্ষায় দর্শক। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ভাষার প্রতি ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে এই আয়োজনগুলোর প্রধান প্রেরণা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
চীনা অভিনেত্রী তাং ওয়েই। ছবি - সংগৃহীত
দ্বিতীয়বার মা হলেন ৪৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী

আবারও মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন চীনা অভিনেত্রী তাং ওয়েই। ৪৭ বছর বয়সে তিনি দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাং ওয়েই একটি পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা কিম তে-ইয়ংয়ের সঙ্গে বিবাহিত জীবনের এটি তাদের দ্বিতীয় সন্তান। এর আগে ২০১৬ সালে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান সামার।   বুধবার চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাট মোমেন্টসে সুখবরটি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তাং ওয়েই। তিনি একটি আবেগঘন ছবি পোস্ট করেন, যেখানে পরিবারের চার সদস্যকে হাত ধরে থাকতে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে ছিল নবজাতককে স্বাগত জানিয়ে কিম তে-ইয়ংয়ের আঁকা একটি ঘোড়াশাবকের ছবিও। ছবির ক্যাপশনে তাং ওয়েই লিখেছেন, ‘এখন আমাদের চার সদস্যের পরিবারের নতুন যাত্রা শুরু হলো।’   এর আগে কয়েক মাস ধরেই তাং ওয়েইয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর নিয়ে আলোচনা চলছিল। চলতি বছরের এপ্রিলে সাংহাইয়ে একটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের অনুষ্ঠানে তাকে বেবি বাম্পসহ দেখা গেলে সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। পরে স্বামী কিম তে-ইয়ং ও মেয়ে সামারের সঙ্গে একটি পারিবারিক ছবি প্রকাশ করে তিনি নিজেই গর্ভধারণের খবর নিশ্চিত করেন। সে সময় তাদের হাতে থাকা ঘোড়ার খেলনা নতুন অতিথিকে ঘিরে বিশেষ ইঙ্গিত বহন করেছিল।   গর্ভধারণের ঘোষণা দিয়ে তাং লিখেছিলেন, ‘আমরা ভীষণ আনন্দিত। আমাদের পরিবারে নতুন একজন সদস্য আসছে। সবাই অধীর আগ্রহে শিশুটির অপেক্ষায় আছে।’   গত মাসে হংকংয়ে একসঙ্গে ঘুরতে দেখা যায় তাং ওয়েই ও কিম তে-ইয়ংকে। এরপর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, খুব শিগগিরই তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হতে পারে।   ১৯৭৯ সালে জন্ম নেওয়া তাং ওয়েই ২০০৪ সালে অভিনয়জীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে ‘লেট অটাম’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় পরিচালক কিম তে-ইয়ংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর ২০১৪ সালে বিয়ে। বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের পরিবার পূর্ণতা পেল।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আতিফ আসলামের সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক, আয়োজকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

আতিফ আসলামের ঢাকা কনসার্ট ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সংগীতশিল্পী মুহিন খান

মুক্তি পেলো বিজয় থালাপতির শেষ সিনেমা

ছবি : সংগৃহীত
১৮ বছরেই থেমে গেল ‘গডজিলা’খ্যাত অভিনেত্রীর জীবন

অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আমেরিকান অভিনেত্রী কেলি হটল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে ঘটে যাওয়া একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার জীবনপ্রদীপ নিভে গেল। পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   মেরিল্যান্ডের ফ্রেডরিক কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরের দিকে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গাড়িটিতে চালকসহ তিনজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে কেলি হটল ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।    গাড়িটি যিনি চালাচ্ছিলেন, তিনি ১৯ বছর বয়সি এক তরুণ। দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতিই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।    জানা যায়, কেলি হটল একজন বধির ছিলেন। তার পরিবারে বধিরতার ইতিহাস চার প্রজন্ম ধরে বিস্তৃত। তার বাবা জশুয়া হটলও একজন বধির।    এই অভিনেত্রী মূলত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পান ২০২১ সালের জনপ্রিয় থ্রিলার সিনেমা ‘গডজিলা ভার্সেস কং’-এ ‘জিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় কিস্তি ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’-এও তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন। সিনেমাগুলোতে তার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।    চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সাফল্য নিয়ে কেলি বলেছিলেন, ‘আমার সহপাঠীরা বিষয়টাকে দারুণভাবে উপভোগ করে। তারা তাদের একজন বন্ধুকে বড় পর্দায় কিং কংয়ের পাশে অভিনয় করতে দেখে সত্যি আনন্দিত।’    শোকে স্তব্ধ পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেলি হটলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাবা জশুয়া হটল একটি ভিডিও বার্তায় আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ-এর মাধ্যমে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, তিনি মেরিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমি এমন একটি ফ্লাইটে উঠছি, যা আমি কখনোই জীবনে নিতে চাইনি।’    কেলি অস্টিনের ‘টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফ’-এর দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। তার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তার স্কুল কর্তৃপক্ষ।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্কুলটি লিখেছে, ‘কেলিকে হারানোর এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীর শোকাহত। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহপাঠীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সবাই যেন এই কঠিন শোক সহ্য করতে পারেন।’ 

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সকালে ফোন দেখাসহ যেসব অভ্যাসে ধ্বংস হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য

কেয়া পায়েল। ছবি - সংগৃহীত

‘জীবন তো একটাই’—নতুন ভিডিওতে আবেগঘন বার্তা কেয়া পায়েলের

অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন। ছবি: সংগৃহীত

প্রেম ভাঙার ক্ষোভে অভিনেতার ওপর হামলা অভিনেত্রীর

সংগৃহীত ছবি
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বলিউডের একাংশের সমর্থন

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।   রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।   পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’   ‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’   অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি'সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।   এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’   এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।   এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’   সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।   অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।   চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।    তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।    সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।   অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।   তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’   ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২১, ২০২৬
শাকিব খান । ছবি: সংগৃহীত

শাকিবের নতুন চমক ‘নিঃস্ব’, থাকছে পুরোনো জুটির রসায়ন

তাসনিয়া ফারিণ। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে বিশ্বকাপ উৎসবে মাতলেন ফারিণ

ছবি: সংগৃহীত

পিঠে ব্যথা ও প্রস্রাবে জ্বালা? কিডনিতে পাথরের সতর্কবার্তা নয়তো!

0 Comments