জাতীয়

নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল প্ল্যাটফর্ম জয়িতা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গত এক দশকে বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই অগ্রগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সরকারি উদ্যোগ ‘জয়িতা’। আক্ষরিক অর্থে ‘জয়িতা’ মানে সফল নারী বা বিজয়ী নারী। আর বাস্তবেও এটি হয়ে উঠেছে দেশের নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্যের প্রতীক। প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

‘জয়িতা’ মূলত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির একটি অংশ। শুরুতে এটি সীমিত পরিসরে চালু হলেও বর্তমানে তা বিস্তৃত হয়ে একটি শক্তিশালী বিপণন ও ব্র্যান্ড প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় প্রতিষ্ঠিত জয়িতা বিপণন কেন্দ্র দেশের নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে পরিচিত।

জয়িতার মূল শক্তি বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের হাজার হাজার নারী ছোট আকারে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ ছিল না। মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা, বিপণন জ্ঞানের অভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা তাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করত। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ‘জয়িতা’ আত্মপ্রকাশ করে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ১৬ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত মহিলা সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকেই উঠে এসেছে অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা। ‘জয়িতা’ তাদের জন্য একটি সরাসরি বিপণন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে তারা নিজেদের পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে লাভের পূর্ণ অংশ নিজেরাই ভোগ করতে পারেন।

ধানমন্ডির জয়িতা বিপণন কেন্দ্রটি আধুনিক অবকাঠামোর একটি চমৎকার উদাহরণ। এখানে প্রায় ১৩৯টি স্টল রয়েছে, যা বিভিন্ন নারী সমিতির মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্টলগুলোতে হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য এবং দেশীয় খাবারের সমাহার দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে নকশি কাঁথা, জামদানি, গহনা, মাটির তৈরি পণ্য, মধু, আচারসহ নানা ঐতিহ্যবাহী পণ্য। ভবনটির পঞ্চম তলায় রয়েছে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়। এছাড়া শিশুদের জন্য একটি চিলড্রেন কর্ণার, উদ্যোক্তাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অফিসও রয়েছে। এসব সুবিধা জয়িতাকে শুধু একটি বাজার নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জয়িতা পরিচালিত হয় একটি সাধারণ পর্ষদ এবং পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। নিবন্ধিত মহিলা সমিতিগুলোর সদস্যরা সাধারণ পর্ষদের অংশ হয়ে নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ করেন। পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচিত সদস্যদের পাশাপাশি সরকারিভাবে মনোনীত প্রতিনিধিরাও থাকেন, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এছাড়া একটি নির্বাহী পর্ষদ রয়েছে, যারা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো- জয়িতার ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক লাভ বৃদ্ধি করা। আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতি অনুসরণ করে পণ্যের মান, গ্রাহকসেবা এবং মূল্য নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমানে ‘জয়িতা’ শুধু একটি বিপণন কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি এবং প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে দেশের বাইরে থেকেও ক্রেতারা সহজে পণ্য কিনতে পারছেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় ‘জয়িতা কর্ণার’ স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনের সুযোগ বাড়িয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে আরও জেলা ও উপজেলায় এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জয়িতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মেলায় অংশ নিয়েছিলেন যশোরের নারী উদ্যোক্তা মরিয়ম নার্গিস। তিনি তার ‘টুইঙ্কেল ক্রাফটসে’র মাধ্যমে তুলে ধরেন যশোর অঞ্চলের প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ রিসাইকেল নকশি কাঁথা।

এ বিষয়ে মরিয়ম নার্গিস জানান, আবহমান বাংলার আমাদের পূর্বসূরী নারীদের ব্যবহৃত পুরোনো শাড়ির কাপড় পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে রিসাইকেল করে আমরা এসব নকশি কাঁথা তৈরি করেছি। দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য এসব কাঁথা যেমন ঐতিহ্যের ধারক, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষার বার্তাও বহন করে।

আর এসব পণ্যের প্রসারে জয়িতার মেলা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে। ডিজাইন, প্যাকেজিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর এসব প্রশিক্ষণ তাদের ব্যবসাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে। অর্থায়ন ও সহযোগিতা নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জয়িতার সংযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছে। এতে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছেন।

‘জয়িতা’ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, সামাজিক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন, পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ছে এবং সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ নারীরা এখন আর শুধু গৃহিণী হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; তারা উদ্যোক্তা, উপার্জনকারী এবং সমাজের সক্রিয় অংশীদার। এই পরিবর্তন নারী-পুরুষ বৈষম্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী কারার ক্ষেত্রে যদিও জয়িতা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যেমন-পণ্যের মানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং আরও বেশি উদ্যোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিগত সহায়তা থাকলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে জয়িতাকে একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ‘জয়িতা’ বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি আশার আলো। এটি প্রমাণ করেছে যে, সঠিক সুযোগ ও সহায়তা পেলে নারীরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে জয়িতা ইতোমধ্যেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে।

জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাহিদ মঞ্জুরা আফরোজ বলেন,নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা বিকাশে জয়িতা ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। নারীরা উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে এলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। জয়িতা বিজয় মেলা নারীদের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এজন্য নারীদের প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সবশেষে বলা যায়, ‘জয়িতা’ শুধু একটি বিপণন কেন্দ্র নয়- এটি একটি আন্দোলন, যা নারীর আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা এবং সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
একযোগে বিমানের ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

একযোগে বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন ১০ কর্মকর্তাকে বদলি, সংযুক্তি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   সোমবার (৫ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তর, পার্সোনেল শাখা থেকে আদেশ জারি করা হয়।   আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। আদেশে স্বাক্ষর করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) ওম্মে কুলছুম।   বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, বদলি, সংযুক্তি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা বোসরা ইসলামকে পরিচালক প্রশাসন ও মানবসম্পদের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মহাব্যবস্থাপক (স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) হিসেবে কর্মরত ইকবাল আহমেদ আলীকে মহাব্যবস্থাপক (কার্গো) পদে বদলি করা হয়েছে। মহাব্যবস্থাপক (পোল্ট্রি কমপ্লেক্স) হিসেবে কর্মরত এ.এইচ.এম. শফিউল বারীকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) পদে বদলি করা হয়েছে।   এ ছাড়া মহাব্যবস্থাপক (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) হিসেবে কর্মরত শাহনুর আহমেদকে মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহক সেবা) পদে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহক সেবা) হিসেবে মূল দায়িত্ব এবং মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন আহমেদকে মহাব্যবস্থাপক (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) পদে বদলি করা হয়েছে।   ক্যাপ্টেন বি-৭৮৭ হিসেবে কর্মরত এবং উপমহাব্যবস্থাপক (কর্পোরেট প্ল্যানিং) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা শেখ আব্বাস হোসেনকে ক্যাপ্টেন বি-৭৮৭-এর মূল দায়িত্বের পাশাপাশি মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) হিসেবে কর্পোরেট প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং পরিদপ্তরের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপমহাব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) হিসেবে মূল দায়িত্ব এবং মহাব্যবস্থাপক, প্রশাসন হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা খন্দকার বাকী উদ্দিন আহমদকে মহাব্যবস্থাপক (স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   উপমহাব্যবস্থাপক (হিসাব) হিসেবে মূল দায়িত্ব এবং মহাব্যবস্থাপক, অর্থ ও হিসাব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা এম. এম. আরিফুর রহমানকে উপমহাব্যবস্থাপক (কর্পোরেট প্ল্যানিং) পদে বদলি করা হয়েছে। তাকে কর্পোরেট প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশাসন (মানবসম্পদ) হিসেবে কর্মরত মো. ফজরুল আলমকে উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) এবং উপমহাব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, উপমহাব্যবস্থাপক (বিকেএফসিসি) হিসেবে কর্মরত এ জেড এম আরিফকে উপমহাব্যবস্থাপক (পোল্ট্রি কমপ্লেক্স) পদে বদলি করা হয়েছে।   আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী অবিলম্বে কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে নারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ঘুষ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও ছড়াল, হবিগঞ্জের এএসআই ক্লোজড

ছবি: সংগৃহীত

সদরঘাটে জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের বিরোধ, ৪০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধ, চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি সরকারকে ঘুষির অভিযোগ

চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে গাড়ির পাস নিয়ে তর্কের জেরে এক জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে বন্দরের এক চেকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. আতিকুর রহমান (৪৫) নামে ওই জেটি সরকার আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনা তৈরি হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।   আহত আতিকুর রহমান সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মেসার্স টক ট্রেডের জেটি সরকার। ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন জানান, বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে আতিকুর রহমান বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে যান। সেখানে গাড়ির পাস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বন্দরের নিম্নমান বহিঃসহকারী (জেআরওএ) বা চেকার জুয়েল দের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।   মোশারফ হোসেনের অভিযোগ, একপর্যায়ে জুয়েল দে আতিকুর রহমানকে ঘুষি মারেন। এতে তার চোখের নিচে আঘাত লাগে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বন্দরের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।   চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।   বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহাম্মেদও ঘটনাটি ঘটার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   তবে গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত কীভাবে এবং ঘটনার সময় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ই-মেইলে বোমা হামলার হুমকি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার

ছবি: সংগৃহীত

দুই হাত না থাকলেও থামেনি পথচলা, পা দিয়ে ১৪৫ শিশুকে পড়ান দুঃখু মিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিভার্সেল মেডিকেলে শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

ছবি: সংগৃহীত
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলার অনুমতি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময় সাময়িকভাবে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে।   সোমবার (৫ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট ও মার্কেট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা ছিল।   বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত সময়সূচি কার্যকর থাকবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার আগের নিয়ম কার্যকর হবে।   নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও ঢাকা দোকান মালিক সমিতিকেও সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয়েছে।   বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিকেও দেওয়া হয়েছে।   কয়েক দফা পরিবর্তন হয়েছে সময়সূচি বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার কথা উল্লেখ করে গত ১২ আগস্ট দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধের সময় রাত ৯টা থেকে কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। তখন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।   ওই সময় মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড ও বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশনা ছিল। এর আগে জুনে দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আর চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে জ্বালানি সংকটের কারণে শপিংমল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।   কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেও সাময়িকভাবে সময় বাড়ানো হয়েছিল। গত ১২ মে থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে জুনে সময় রাত ৯টা এবং আগস্টে রাত ৮টায় নামিয়ে আনা হয়।   শ্রম আইনে দোকান বন্ধের সময় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১১৪ ধারায় সাধারণভাবে রাত ৮টার পর দোকান খোলা না রাখার বিধান রয়েছে। তবে রাত ৮টার সময় কোনো ক্রেতা দোকানের ভেতরে থাকলে তাকে আরও ৩০ মিনিট কেনাকাটার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২২ সালেও সরকার দোকানপাট বন্ধের এ সময়সূচি কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিল।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এবি পার্টি নেতার বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

ছবি: সংগৃহীত

বেকুটিয়া সেতুর পাইপ কাটার সময় ১০ জন আটক, ছাড়াতে বিএনপি নেতার ‘সুপারিশ’

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর শিক্ষা অফিসের পেছন থেকে ৪ বস্তা নথি উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন

0 Comments