জাতীয়

নানা চ্যালেঞ্জে কৃষি খাত হুমকিতে খাদ্য নিরাপত্তা

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ০২, ২০২৫ 0

জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে কৃষি খাতে উৎপাদন কমছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। অন্য চ্যালেঞ্জগুলো হলো-আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাওয়া, দুর্বল অবকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের অভাব এবং ফসলের সীমিত বৈচিত্র্যায়ন। এরই মধ্যে ধান উৎপাদন স্থবিরতার মধ্যে পড়েছে। কমেছে গম উৎপাদন। যদিও ডাল, শাকসবজি, মসলা ও ক্ষুদ্র শস্যের উৎপাদনে তুলনামূলকভাবে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

 

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্মেলন কক্ষে ‘পাসপেকটিভ অন দ্য অ্যাগ্রিফুড সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আকতার। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনূস। বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুস সাত্তার মন্ডল। সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক।

 

গবেষণা প্রতিবেদনে ড. মোহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ফসলের বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে। যেমন শ্রমে উৎপাদনশীলতা কমাচ্ছে। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে কৃষি শ্রমিক সরবরাহ এবং শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি শ্রমিকের আয় কমছে ২০ শতাংশ। পাশাপাশি শ্রমের উৎপাদনশীলতা কমছে ১১ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। তাপের কারণে শ্রমের উৎপাদনশীলতা কমায় কৃষি ফসলের উৎপাদন কমে যায়, উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং ৩ থেকে ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আউশ ধান উৎপাদন ও চাষের এলাকা বেড়েছে। তবে বোরো ধানের উৎপাদন ও চাষের এলাকা বাড়ছে না। যদিও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোরো ধানের ফলন বৃদ্ধি ছাড়া অন্য বিকল্প নেই।’

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘সেচের আওতাধীন এলাকা সামান্য বাড়লেও মোট ফসলি জমির অনুপাত কমেছে। অন্যদিকে জমিতে সারের ব্যবহার বেড়েছে। এতে মানবদেহের রক্তে ইউরিয়া বাড়ছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া কীটনাশকের ব্যবহারও ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। ২০০০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কীটনাশকের দানা ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। ২০১২ সালের পর কৃষিক্ষেত্রে ছত্রাকনাশক, ভেষজনাশক এবং তরল ও গুঁড়া কীটনাশক ক্রমবর্ধমান হারে ব্যবহার হচ্ছে।’

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা যায় নিয়মিত মৌসুমি বন্যা হচ্ছে না। এছাড়া বর্ষাকাল ছোট হয়ে আসছে। শুষ্ক রবি মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে। এ কারণে জমি আরও নিবিড়ভাবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে একটি জমিতে এক বছরের আরও বেশি ফসল চাষ করা সম্ভব হবে।’

 

এতে বলা হয়ে, ‘বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গত কয়েক দশকে গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় কৃষি অর্থনীতি প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। সত্তরের দশকে জিডিপিতে সর্বাধিক অবদান রাখত কৃষি খাত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ভূমিকা কমছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির অবদান কমে হয়েছে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ। তারপরও এখন পর্যন্ত গ্রামীণ জীবিকার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃষি। শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান হচ্ছে এই খাতে। এছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবারকে টিকিয়ে রাখছে কৃষি খাত।’

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কৃষিব্যবস্থার মধ্যে প্রাথমিক কৃষি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাণিজ্য ও পরিবহণ, খাদ্যসেবা, উপকরণ সরবরাহ-একে অপরের সঙ্গে অভ্যন্তরীণভাবে যুক্ত হয়ে ভ্যালু চেইন তৈরি করে, যা গ্রামীণ উৎপাদকদের নগর ভোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত করে। কৃষির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যচাষ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন বেশি হারে বেড়েছে। এটি হয়েছে মূলত পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য। অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষ ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হলেও সামুদ্রিক মৎস্যচাষ স্থবির রয়েছে। তবে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভবিষ্যতের দিকে তাকালে বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য রূপান্তর জমি সম্প্রসারণের পরিবর্তে নিবিড়তা, বৈচিত্র্যায়ন এবং ভ্যালু চেইন সংহতকরণের ওপর বেশি নির্ভর করবে। এর জন্য এমন নীতি করা দরকার, যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করবে। সেই সঙ্গে সংযোগ উন্নত করবে এবং দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুষ্টি উন্নয়নে উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে।’

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাকিল আকতার বলেন, ‘এই গবেষণা প্রতিবেদনটি দেশের কৃষি খাতের একটি পরিপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। এখান থেকে কৃষির গতিপ্রকৃতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাবেন।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৯৪ জন।   শুক্রবার (০৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।   এ ছাড়া খুলনা ১ জন ও সিলেটে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরো ১ হাজার ২১২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।   এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৬ হাজার ৭১০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ৪৯০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩২ হাজার ৮৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৯ হাজার ১৫২ জন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সপরিবারে লন্ডন সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ময়মনসিংহে জাল নোট চক্রের দুই নারী সদস্য আটক, ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার

বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল পুলিশ, অনেকাংশে গুছিয়ে এনেছি : আইজিপি

সব মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে দেশে কোনো হাসপাতালে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকার দেশের সব মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর মালিবাগে হোসাফ টাওয়ারে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয়ে জাতীয় গাইডলাইন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন।   এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম প্রচারণার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে মানুষের মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতার মাধ্যমে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর রক্তের কিছু পরীক্ষা রাষ্ট্রীয় আইন করে বাধ্যতামূলক করলে অনেকাংশে কমে আসবে এ রোগ।   মন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে মেডিসিন সহজলভ্য করা হবে। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।   পাশাপাশি এ রোগীদের ব্লাড ডোনেটে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাহিদ হোসেন।   এর আগে থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। দেশে এখন পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ হাজার রোগী আছে।   এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—‘আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি।’

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষা ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জুলাইযোদ্ধা মেহনাজ

ছবি: সংগৃহীত

সোনারগাঁও মোড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

এনসিপিতে যোগদানের গুঞ্জনে আড়ালে সাবেক মেয়র মনজুর আলম

ছবি: সংগৃহীত
সিগারেট নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যা, অন্যতম আসামি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার চুরখাই এলাকায় সিগারেট চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সোহেল মিয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।   বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এমসি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার সকালে র‍্যাব-১৪ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চুরখাই বাজার এলাকায় নিহত সোহেল মিয়ার সঙ্গে তার পরিচিত এক তরুণ রাতুল হাসান অমিয়ের সিগারেট চাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।   ঘটনার পর রাতুল তার সহযোগীদের ডেকে আনলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজারে এসে সোহেল মিয়ার ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় তাকে ছুরিকাঘাতসহ এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।   স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল মিয়াকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ময়মনসিংহ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।   র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি এ মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিলেন তিন শতাধিক নেতাকর্মী

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে জাপানিজ এনসেফালাইটিসে সিভাসুর শিক্ষিকার মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

বনানীর সরকারি জমি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ইউনিক গ্রুপের নূর আলীর বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

0 Comments