পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় জনাকীর্ণ একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো প্রদেশে সন্ধ্যায় নামাজের সময় হওয়া এই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র নাহুম দাসো। এ ঘটনায় আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্নোর রাজধানী মাইদুগুরির গাম্বোরু মার্কেট এলাকার একটি মসজিদে সন্ধ্যায় নামাজের সময় ঘটনাটি ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে— মার্কেট এলাকায় ধুলা উড়ছে, মানুষজন আতঙ্কে ছুটোছুটি করছে। এ হামলার দায় এখনও কোনও পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে এর আগেও এ অঞ্চলে মসজিদ ও জনাকীর্ণ স্থানে আত্মঘাতী হামলা এবং আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
মাইদুগুরি দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম ও তাদের সহযোগী আইএস পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশের তৎপরতার কেন্দ্রে রয়েছে। বর্নোতে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বোকো হারামের সশস্ত্র অভিযান শুরু হয় ২০০৯ সালে। বছরের পর বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় এখনও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সহিংস হামলা ঘটে।
অন্যদিকে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশ মুখপাত্র নাহুম দাসো বলেন, মাইদুগুরির গাম্বোরু মার্কেট এলাকার ওই মসজিদে বিস্ফোরণের পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে শুরুতে সরকারিভাবে হতাহতের কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।
মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুনা ইউসুফ এএফপিকে জানান, অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বাবাকুরা কলো নামে এক মিলিশিয়া নেতা বলেন, নিহতের সংখ্যা সাত। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুসা ইউশাউ জানান, তিনি বহু আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে দেখেছেন।
বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে যে শহরে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি প্রায় দুই দশক ধরে বোকো হারাম ও আইএস–সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার কেন্দ্রে ছিল। জাতিসংঘের হিসেবে, ২০০৯ সাল থেকে চলমান এই সংঘাতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সহিংসতা কমলেও তা ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও।
এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় আবারও সহিংসতা বাড়ার আভাসে সম্প্রতি উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরও এসব গোষ্ঠী প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
একসময় প্রতিদিন রাতেই যেখানে গোলাগুলি ও বোমা হামলার খবর পাওয়া যেত, সেই মাইদুগুরি শহর গত কয়েক বছরে তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০২১ সালের পর থেকে এটাই সেখানে সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে অবস্থান করছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার এবারের সফরে ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজটি শুধু ভিভিআইপি পরিবহন নয়, বরং প্রয়োজনের সময় আকাশ থেকেই যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশেষ বিমান। এয়ার চায়নার পরিচালিত পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ ইন্টারকন্টিনেন্টাল উড়োজাহাজটি শি জিনপিংয়ের প্রধান রাষ্ট্রীয় পরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে তার জন্য একটি ভ্রাম্যমাণ ‘উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি মূলত বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। ২০১৪ সালের শেষ দিকে এটি এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বহরে যুক্ত হয়। ২০১৫ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক সেবা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর কয়েক মাস ধরে এতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। যুক্ত করা হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিভিআইপি অভ্যন্তরীণ কাঠামো। ২০১৬ সালের শরতে বিমানটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এর আগে চীনের শীর্ষ নেতারা বোয়িং ৭৪৭-৪০০ মডেলের বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করতেন। কোনো বিদেশ সফরের প্রায় ২০ দিন আগে এসব বিমানে অস্থায়ীভাবে বিশেষ ভিভিআইপি কেবিন স্থাপন করা হতো। সফর শেষে সেই পরিবর্তন সরিয়ে বিমানগুলোকে আবার বাণিজ্যিক কাজে ফিরিয়ে দেওয়া হতো। এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আলাদা বিমান বহর পরিচালনার খরচ কমানোর পাশাপাশি চীনের বিদ্যমান বিমান পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহার করা সম্ভব হতো। কী আছে শি জিনপিংয়ের বিমানে? শি জিনপিংয়ের বর্তমান রাষ্ট্রীয় বিমানের দৈর্ঘ্য ৭৬ দশমিক ৪ মিটার। এর সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কেজি। চারটি জেনারেল ইলেকট্রিক জিইএনএক্স-২বি৬৭ টার্বোফ্যান ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিমানটি পরিচালিত হয়। বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৯৮২ কিলোমিটার এবং জ্বালানি পুনরায় না নিয়ে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। তবে উড়োজাহাজটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এর যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এতে স্যাটেলাইটনির্ভর সামরিক মানের এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে শি জিনপিং বিদেশে অবস্থান করেও চীনের সরকারি ও সামরিক কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। এতে উন্নত হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে পাল্টা ব্যবস্থা থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ও যোগাযোগ সরঞ্জামকে শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইএমপি শিল্ডিং ব্যবস্থাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ইএমপি বা তড়িৎচুম্বকীয় পালস হলো অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় শক্তির আকস্মিক নির্গমন, যা বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের কার্যক্রম ব্যাহত বা অচল করে দিতে পারে। ইএমপি শিল্ডিংয়ে বিশেষ উপাদান, প্রতিবন্ধকতা ও ফিল্টার ব্যবহার করে এ ধরনের শক্তির প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হয়। কারা ব্যবহার করেন এই বিমান? চীনের এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজটি মূলত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ারের আন্তর্জাতিক সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সাধারণত ভাড়া করা বিমানে বিদেশ সফর করেন। এসব বিমানও সাধারণত এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বহরের অংশ। রাষ্ট্রীয় সফর ছাড়া সেগুলো নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পরিচালিত হয়। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান ব্যবহারের নমনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান বিমানসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ বিমান ঘিরে পুরোনো বিতর্ক চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান নিয়ে অতীতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবর্তিত একটি বিশেষ প্রেসিডেন্ট বিমান চীনের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। ব্যবহারের আগে ওই বিমানে ২৭টি গোপন শ্রবণযন্ত্র বা আড়িপাতার ডিভাইস পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে চীনা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি এখনো একটি বিতর্কিত দাবি হিসেবেই বিবেচিত হয়। সূত্র: এনডিটিভি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। সম্মেলনে শি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেখানে চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে এনেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের পরিপন্থী।” চীনের প্রেসিডেন্ট ব্রিকস দেশগুলোকে “ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর” আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেইজিং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে নেতৃত্ব দিতে হবে। শি ব্রিকস সহযোগিতা কাঠামোকে “উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে উল্লেখ করেন। “শীতল যুদ্ধের মানসিকতা ও ব্লকভিত্তিক সংঘাতের” বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও ব্রিকসকে অবস্থান নিতে হবে। সব ধরনের সংরক্ষণবাদ প্রত্যাখ্যান করে শি জিনপিং ব্রিকসকে সাইবারস্পেস, মহাকাশ ও গভীর সমুদ্রসহ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর জোরদারের কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে, জাতিসংঘের কর্তৃত্ব সমুন্নত রাখতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। পরে এতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জোটটি গড়ে তোলা হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের দখলে। সূত্র: আনাদোলু
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে এসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সাম্প্রতিক সময়ে এক সপ্তাহের দুই নেতার মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ। মূলত দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের অবশিষ্ট বাণিজ্যিক ও আর্থিক পথগুলো রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সর্বোচ্চ চাপের নীতির মাঝে এই সাক্ষাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতি তুলে ধরছে। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে গভীর আলোচনা করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা এবং নাবিকদের সুরক্ষা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপে জোর দিয়ে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ভারত। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পণ্যবাহী জাহাজের জন্য নিরাপদ জলপথ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত না হয়। ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া ভাষণে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য ভাঙার প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি সদস্য দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের আহ্বান জানান। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের মুখে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোনো একক দেশ যাতে আর্থিক হাতিয়ার ও নিষেধাজ্ঞাগুলোকে একচেটিয়াভাবে ব্যবহার করে অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে ব্রিকস জোটের একটি সুরক্ষিত বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকেও নরেন্দ্র মোদি ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে ভারতের বিস্তৃত কূটনৈতিক সম্পর্কের সদ্ব্যবহার করে সংঘাতপূর্ণ পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি