ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান ফারুক হাদি হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ নিয়ে সরকারের হাইকমান্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। দেশ-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেবে। কোন কোন নেতা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে আছেন, তাদের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সেই আলোকে পুলিশের সবকটি ইউনিট বিশদ অনুসন্ধান চালিয়ে একটি প্রতিবেদন (তালিকা) তৈরি করেছে।
ওই সূত্রটি জানায়, তালিকায় আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি বাদে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ প্রায় সবকটি দলের ১২৭ জন নেতার নাম রয়েছে। তালিকাটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নামে গঠিত। সূত্রটি বলছে, ইতিমধ্যে তালিকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে। নেতাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পর আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য আবেদন করেছেন অনেক নেতা। গতকাল পর্যন্ত ৭৩ জন আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে বিশেষ বিবেচনায় ২০ জনকে গানম্যানসহ অস্ত্র দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে নেতাদের কী কারণে নিরাপত্তা দিতে হবে, সেই তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশের কথাও বলা হয়েছে। নেতাদের বাসাবাড়িতে নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি গানম্যানও দিতে বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের পরই রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আমরা বেশ কিছু বৈঠক করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতাদের নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে কোন নেতা নিরাপত্তা পেতে পারেন, সেই জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে তালিকা তৈরি করতে বলেন আইজিপি। পুলিশের প্রায় সবকটি ইউনিট দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম উঠে আসে। ঢাকার পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের নেতাদের নাম আছে প্রতিবেদনে।
তিনি আরও বলেন, তালিকায় জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির শীর্ষ পর্যায় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে বেশি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের নামও আছে। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ তাদের শরিক দলের নেতাদের নাম নেই। পুলিশ সূত্র জানায়, যাদের গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খানসহ একাধিক নেতার নাম তালিকায় রয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অতি ঝুঁকিতে থাকা রাজনীতিবিদ, ছাত্রনেতা, সাংবাদিক, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং জুলাই যোদ্ধাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। এরই মধ্যে ২০ নেতাকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গানম্যান দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কারও কারও বাসভবনের নিরাপত্তায় ইউনিফর্মধারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা যেসব ব্যক্তির ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, তাদের নিরাপত্তা কীভাবে দেওয়া হবে তা নিয়ে ভাবনায় পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের নিরাপত্তায় বিকল্প ভাবনা মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীসহ অন্য নেতাদের নিরাপত্তা দেবে। চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকাতে আনাচে-কানাচে পুলিশি সোর্স বাড়ানো হয়েছে। এলাকার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ভাড়াটে কিলারদের দিয়ে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা দিতে আমরা কাজ করছি। অনেক নেতা আগ্নেয়াস্ত্র চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে অস্ত্রের লাইসেন্সের অনুমতি দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। অপরাধীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা যারা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুলিশের একটি সংস্থা গোপন প্রতিবেদন পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে একটি বিশেষ মহল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ওই মহলটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। প্রার্থীসহ অন্য নেতারাও ঝুঁকির মধ্যে আছেন। গত ২৭ নভেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১০ জন নিহত হয়েছেন। প্রার্থীদের জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগে যাওয়ার সময় নির্দিষ্ট রুটে মোবাইল প্যাট্রোলিং জোরদার করতে বলা হয়েছে। প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে প্রবেশের আগে মেটাল ডিটেক্টর ও ব্যক্তিগত তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পুলিশ। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে কাজে লাগানো হবে।
পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ঝুঁকিতে থাকা নেতাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক নেতার নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু যেসব নেতার ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, তারা রিকশা বা অন্য কোনো ভাড়া করা বাহনে চলাফেরা করে থাকেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের ভাবিয়েছে। তাদের কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তাছাড়া পুলিশের জনবল ও গাড়ি সংকট থাকা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশায় জড়িত ৭৩ জনের মতো অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের মধ্যে মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মাসুদ অরুণ, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এস এম জিলানী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন (হিরু), ঢাকা-৪ আসনের (যাত্রাবাড়ী) বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী তানভীর আহমেদ (রবিন) ও পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিনসহ একাধিক নেতা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র রক্ষী নিয়োগে এই নীতিমালা করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া তার বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। যারা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন, তাদের প্রত্যেকের আবেদন প্রথমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে দেখছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাদের অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এরপর সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করবে।
সূত্র বলছে, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় একজন করে বেসরকারি সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়োগ দিতে পারবেন। পাশাপাশি তারা সীমিত সময়ের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিতে পারবেন। আবেদন করতে হবে নির্ধারিত ফরমে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা ও ব্যক্তিগত তথ্য অনুসন্ধান করে আবেদন অনুমোদন করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ এক দিনে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের; একজন করে মারা গেছে সিলেট ও রংপুর বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সংক্রামক এ ব্যাধির লক্ষণ নিয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৩০ জনে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর ৯৯২ জনের শরীরে এই রোগের উপসর্গ দেখা গেছে। গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪১৫ জন। সরকার ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তখন থেকে হিসাব ধরলে, গেল প্রায় সাড়ে চার মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে সবচেয়ে বেশি ৩২০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরে আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৭ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯০, চট্টগ্রামে ৫৭, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১১ জন মারা গেছে। দেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গের রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ জন। এর মধ্যে এক লাখ তিন হাজার ৪৬৭ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। দেশে হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫। আর হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৫৫।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী কুমিল্লা ফেরি থেকে মাঝ পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চার ঘণ্টা পর রাজবাড়ীর পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের কবিরপুর চরের কিনারা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ওই নারীর নাম লাইজু আক্তার (৩৯)। তিনি ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছেড়ে আসা দৌলতদিয়াগামী ফেরি কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটে। দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আমাদের জানালে আমরা নিশ্চিত হই। বর্তমানে তিনি স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে সুস্থ অবস্থায় আছেন এবং তার কাছে ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা যাচ্ছেন। ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, পদ্মা নদীতে থাকা কচুরিপানার সঙ্গে ভাসতে ভাসতে কবিরপুর চরে আটকে পড়েন ওই নারী। এ সময় স্থানীয়রা দেখে আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে হেফাজতে রাখি। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। আমরা তার বিষয়টি দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ, ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি পুলিশকে জানিয়েছি। ফেরি কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার বলেন, পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে তাদের ফেরিটি দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝ নদীতে দৌলতদিয়ার লাল বয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারি যে, এক নারী ফেরির পেছন দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফেরিটি থামিয়ে ও ঘুরিয়ে ওই এলাকায় আলো ফেলে খোঁজাখুঁজি শুরু করি এবং সংশ্লিষ্টদের সংবাদটি জানাই। ওই নারী ফেরিতে একাই ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন।
চট্টগ্রামে নগরীতে একটি নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক হাজার ৩৫০টি বুলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন নালা থেকে এসব বুলেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং এক হাজার ২৩০টি ছোট আকারের বুলেট রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া বুলেটগুলো সামনের অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুলেটগুলো পরীক্ষার জন্য রোববার বিশেষজ্ঞ টিমের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নালা পরিষ্কারের সময় একটি বস্তা দেখতে পান। বস্তাটি ভারি হওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে বস্তাটি খুলে বিপুল পরিমাণ বুলেট দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি বুলেটগুলো জব্দ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া বড় বুলেটগুলো একে-৪৭সহ ভারি অস্ত্রে ব্যবহৃত হয় এবং ছোট বুলেটগুলো রাইফেল এবং এসএমজি জাতীয় অস্ত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি বুলেটের দুইটি অংশ থাকে। যেটি অস্ত্র থেকে বের হয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে, সেটি সামনের অংশ এবং অপরটি খোশা। উদ্ধার হওয়া বুলেটগুলো মূলত সামনের অংশ। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। বুলেটগুলোর ধরন এবং ব্যবহৃত কিনা এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোববার বিশেষজ্ঞ টিম আসার কথা রয়েছে।’