সর্বশেষ

নবীজিকে (সা.) যে গুণে রঙিন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৬, ২০২৫

মানুষের চরিত্রের সৌন্দর্য অনেক রঙে রঙিন কারও বিনয়ী আচরণ, কারও কোমল হৃদয়, কারও দয়ার স্পর্শ। কিন্তু এসবের চূড়ায় যে গুণটি সবচেয়ে উজ্জ্বল, সবচেয়ে মূল্যবান এবং সর্বাধিক সম্মানজনক তা হলো ক্ষমাশীলতা। ক্ষমাশীল ব্যক্তি পৃথিবীতে সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় এবং আল্লাহর বিশেষ রহমতের ছায়া লাভ করে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তার সবচেয়ে প্রিয় বান্দা, আমাদের নবীজিকে (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন—

 

خُذِ الۡعَفۡوَ وَ اۡمُرۡ بِالۡعُرۡفِ وَ اَعۡرِضۡ عَنِ الۡجٰهِلِیۡنَ
(হে নবি!) আপনি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন করুন। সৎ কাজের নির্দেশ দিন এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চলুন।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ১১৯)

ক্ষমা শুধু এক মানবিক গুণ নয়; বরং আল্লাহ তাআলার নিজস্ব মহানাত্মক গুণ, যা তিনি পছন্দ করেন এবং তাঁর নিকটবর্তী বান্দাদের মাঝে দেখতে চান। কারণ এই তিন গুণ মানুষকে আল্লাহর নিকট সম্মানিত করে, সমাজে মর্যাদা বাড়ায় এবং অন্তরকে প্রশান্তির স্বাদ দেয়। এ কারণেই কুরআন-হাদিসে মানুষকে বার বার তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা নির্দেশ ও উপদেশ দিয়েছেন। এ একটি গুণেই মানুষ ইজ্জত ও সম্মানের অধিকারী হন।

নবীজিও (সা.) আল্লাহর এ বিশেষ গুণে নিজেকে রঙিন করেছেন, তার উম্মতকে রঙিন হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। যদি কেউ বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করে এবং কেউ অন্যায় করলে তাকে ক্ষমা করে তবে মহান আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির মর্যাদা ও ইজ্জত বাড়িয়ে দেন। হাদিসে এসেছে

 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلاَّ عِزًّا وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ
‘সাদাকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা উঁচুতে তুলে দেন।’ (মুসলিম ৬৩৫৬ ইফা)

ক্ষমা এমন একটি মহান গুণ যা মানুষের সম্মান বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহর কাছে তারা সৎকর্মশীল বান্দা হিসেবে পরিচিত। আল্লাহ নিজেই ক্ষমাশীল। তিনিও ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। ক্ষমা করার মতো সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের কথা কুরআনে তুলে ধরে মহান আল্লাহ বলেন—

الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ فِی السَّرَّآءِ وَ الضَّرَّآءِ وَ الۡکٰظِمِیۡنَ الۡغَیۡظَ وَ الۡعَافِیۡنَ عَنِ النَّاسِ ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
‘যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, রাগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে। আর আল্লাহ (বিশুদ্ধচিত্ত) সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন। (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৩৪)

উচ্চ মর্যাদার একটি আমল ক্ষমা
ক্ষমা এমন একটি গুণ, যা শুধু মানুষের ভুলকে ঢেকে দেয় না; বরং ক্ষমাকারী ব্যক্তির মর্যাদাকে আকাশের মতো উচ্চ করে তোলে। ক্ষমা মানুষকে ছোট করে না উল্টো সম্মানকে বাড়িয়ে দেয়। কারণ এটি আল্লাহর প্রিয় গুণ এবং তার কাছাকাছি বান্দাদের অন্যতম পরিচয়।

 

ক্ষমার এত উচ্চ মর্যাদা কেন?

এটি হৃদয়কে বিশুদ্ধ করে

সম্পর্ককে মজবুত করে

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মানুষকে রক্ষা করে

অহংকার ভেঙে বিনয় সৃষ্টি করে

আল্লাহর রহমত ও বরকতকে আমন্ত্রণ জানায়


ভুল-ভ্রান্তি আর ভালোমন্দ নিয়েই মানুষের জীবন। এ ভুলের কারণে মানুষের মাঝে ক্ষোভ, রাগ ও বিদ্বেষ জন্মায়, যা এক সময় মারাত্মক অপরাধে পরিণত হতে পারে। যদি কেউ মানুষের পারস্পরিক ভুল-ভ্রান্তি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে এবং ভুলকারীকে ক্ষমা করে, তবে ক্ষমাকারীর ইজ্জত ও সম্মান বেড়ে যায়। ক্ষমাশীলতাই মানুষের অন্তরের আঁধার ঘুচিয়ে দেয়। এ জন্য কুরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ক্ষমার কথা তুলে ধরেছেন—


اِنۡ تُبۡدُوۡا خَیۡرًا اَوۡ تُخۡفُوۡهُ اَوۡ تَعۡفُوۡا عَنۡ سُوۡٓءٍ فَاِنَّ اللّٰهَ کَانَ عَفُوًّا قَدِیۡرًا
‘যদি তোমরা ভালো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো অথবা মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, ক্ষমতাবান। (সুরা নিসা : আয়াত ১৪৯)


وَ جَزٰٓؤُا سَیِّئَۃٍ سَیِّئَۃٌ مِّثۡلُهَا ۚ فَمَنۡ عَفَا وَ اَصۡلَحَ فَاَجۡرُهٗ عَلَی اللّٰهِ ە اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیۡنَ
‘আর মন্দের প্রতিফল মন্দ। এরপর যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপস-নিষ্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা শুরা : আয়াত ৪০)

মানুষের এই ক্ষমায় বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ পায়। ক্ষমায় ব্যক্তি পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষমাকারী আল্লাহর প্রিয় বান্দা হন। ক্ষমার এ গুণ অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনার বিকল্প নেই। যিনি মহান ক্ষমাকারী। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন

‘অপরাধ মার্জনা (ক্ষমা) করার কারণে, আল্লাহ (মার্জনাকারীর) সম্মান ও ইজ্জত বাড়িয়ে দেন।’ (মুসলিম)

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, রাজধানীতে তীব্র যানজট

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এলে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, উত্তরা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে সাধারণ যাত্রীদের।    উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামেনে অবরোধের ফলে রাস্তার দু’পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ জ্যামের।  ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, অবরোধের ঘটনায় সড়কে জ্যামের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব অন্যান্য সড়কেও পড়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।    তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, সায়েন্সল্যাব ও মিরপুরের প্রভাব রাস্তায় পড়েছে। আমরা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।    উত্তরায় কর্মরত সার্জেন্ট আশিকুর রহমান বলেন, “বিএনএস সেন্টারের সামেনে অবরোধের কারণে সড়কে জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”    এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান তীব্র বন্যা পরিস্থিতি, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। এর ওপর পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে।    বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছেন। দাবিগুলো হলো— ১. দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে; ২. বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে; ৩. পরীক্ষার্থীদের অবমাননা করার দায়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে।    আজ বেলা ১১টার দিকে একযোগে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্সল্যাব মোড়ে পরীক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে মিরপুর এলাকাতেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। ঢাকার বাইরে রাজশাহী, বরিশাল, ‍কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনেও পরীক্ষার্থীরা অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন।    এদিকে শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক কর্মসূচি ঘিরে যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন বিক্ষোভ স্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসনে আসতে পারে নতুন মুখ

ছবি: সংগৃহীত

ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১ ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং, বিনিয়োগ প্রায় ১৪ হাজার কোটি

ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীতে সড়ক দুর্ঘটনা: ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানচালকসহ ৪ জনের মৃত্যু

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় একটি মিথিলা ভ্যানের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।   রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মটকপুর নদীরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।   তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত মা হাতি, ভেঙেছে পা

ছবি: সংগৃহীত

আরেক পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, কারণ কী?

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনবিষয়ক তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ৪ শীর্ষ আলেম

জুলাই কোনো বজ্রপাত নয়, এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পরিণতি: জাহেদ উর রহমান

  তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, দমন-পীড়ন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের বিতর্ক, বিভাজন বা হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক এবং এগুলো আগেই অনুমান করা হয়েছিল। তাই অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রেখে বাস্তবতা বিবেচনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   বুধবার (৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজিত ‘মননে জুলাই’ এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।   ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত-পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলেও বাংলাদেশে তা ঘটেনি। তার মতে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনও আকস্মিকভাবে ঘটেনি বরং দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের ধারাবাহিক প্রতিরোধের ফলেই তা সম্ভব হয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর মামলা, কারাবাস, গুম, নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও জীবিকা হারানোর মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েও অসংখ্য মানুষ আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। এসব ত্যাগ ও প্রতিরোধই স্বৈরশাসনকে ধীরে ধীরে দুর্বল করেছে।’   ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের দুর্ভোগের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘হাজারো মানুষের এই আত্মত্যাগই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। পরবর্তীকালে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা সামনে এলেও গণঅভ্যুত্থানের অভিন্ন দাবি ছিল স্বৈরশাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’   ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ নিসতার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার এমপি সংসদ সদস্য, মাদারীপুর-৩, সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী) ও সমন্বয়ক, মায়ের ডাক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৮, ২০২৬

ইআইইউ’র বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার পরে কেবল ত্রিপোলি ও দামেস্ক

ঢাকা দায়রা জজ আদালত, ঢাকা। ছবি : সংগৃহীত

বিদেশযাত্রার অনুমতি মিলল বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের স্ত্রী-ছেলের

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালালে মানবপাচার-চোরাচালানে ‘ভেতরের লোক’, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

0 Comments