অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং লাগামহীন খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংক খাতে তীব্র মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। একের পর এক ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূলধন ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা পুরো খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ২০টি ব্যাংক বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ২৩টি ব্যাংকে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। যদিও সাম্প্রতিক প্রান্তিকে ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কমেছে, অর্থনীতিবিদদের মতে এটি প্রকৃত উন্নতি নয়, বরং নীতিগত সহায়তার কারণে কাগজে-কলমে সাময়িক পরিবর্তন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) ডিসেম্বর শেষে নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ লাগামহীন খেলাপি ঋণ। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০.৬০ শতাংশ।
চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি জনতা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
ইসলামী ধারার সাতটি ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি, ৬৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা।
এছাড়া বেসরকারি সাতটি ব্যাংকের ঘাটতি ৩৩ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত দুই ব্যাংক—বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—এও বড় ধরনের মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদন, দুর্বল পরিচালনা ব্যবস্থা এবং খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুনঃতফসিল নীতির মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছে, ফলে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ কমায় কাগজে-কলমে মূলধন ঘাটতি কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এবং ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা না ফিরলে এই সংকট আরও গভীর হবে, যা বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (২২ জুলাই) জারি করা এক সার্কুলারে ডিজিটাল সেবা খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদেশিক আয় গ্রহণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা দেয়া হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে ফ্রিল্যান্সাররা প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয়ের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে প্রচলিত রপ্তানি-সংক্রান্ত কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ থাকবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অর্থ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। নতুন নির্দেশনায় ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ইস্যুর সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও নমনীয়তা দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে সেবা রপ্তানির আয় আরও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ জোরদার হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে দেশের বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে এই ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় সংস্থাটি। রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কাঠমান্ডু আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্য। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ রুটটি পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ ও নেপালের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এ ছাড়া একই সঙ্গে বহর সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে ইউএস-বাংলা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের বহরে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নেক্সট জেনারেশন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কলম্বো, জহুর বারু, পেনাং ও হংকংসহ নতুন কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন, রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহর এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, টরন্টো ও সিডনিতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর রুটে ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশের বেশি অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা। বর্তমানে দেশের পাঁচটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের পাশাপাশি কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সুশাসন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং প্রবাসীদের মধ্য থেকে অন্তত একজন পরিচালক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা পুনর্বহাল ও ব্যাংক খাতের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও দাবি উঠেছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ‘ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক গোলাম মুর্তজা সিআইপি। কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি মাহমুদুর সুমনের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবু ও জোবায়ের আহমদ। বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দেশের রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠান। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকসেবার মান প্রবাসীদের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিগত দিনে রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবের কারণে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকটির পরিচালনা ও মালিকানা নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— ১. সততা ও ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা। বিজ্ঞাপন ২. ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ৩. অতীতের সকল অনিয়মের তদন্তে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪. ব্যাংক থেকে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। ৫. প্রবাসীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও হয়রানিমুক্ত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা। ৬. ইসলামী ব্যাংককে সব ধরনের রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবমুক্ত রেখে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নীতিমালার আলোকে পরিচালনা করা। ৭. পরিচালনা পর্ষদে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অন্তত একজন যোগ্য প্রবাসী পরিচালক নিয়োগ দেওয়া। সংগঠনের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা ও ব্যাংকের প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই সংকট উত্তরণে তারা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।