ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে স্বাগত জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তিনি এর আগে কখনো এতটা আবেগাপ্লুত হননি। তিনি মোদিকে ইসরায়েলের মহান বন্ধু, ইসরায়েল-ভারত জোটের দৃঢ় সমর্থক এবং বিশ্বমঞ্চের একজন বড় নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
নেসেটে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, জেরুজালেমে স্বাগতম, আমার প্রিয় বন্ধু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আপনার সম্মানিত প্রতিনিধিদলকে স্বাগতম।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সফরে ইসরায়েলে পৌঁছান। গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। এরই মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে গাজায় অন্তত ৭২ হাজার ৭৩ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ভারতের বিরোধিতা করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতির কড়া সমালোচক ছিল ভারত, বিশেষ করে অ-আরব দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম ছিল। তবে ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক দ্রুত জোরদার হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বেড়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে একটি অসাধারণ জোট রয়েছে এবং আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করব।
গত বছর ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি বিনিয়োগ চুক্তি সই করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের বর্তমান পরিমাণ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারবে না। একই সঙ্গে সংস্থাটি তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) এক বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) এ মন্তব্য করে। এর তিন দিন আগে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ নবগঠিত এই সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও ব্যবস্থাপনা তদারকির দায়িত্ব পালন করছে। খবর প্রেস টিভির। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আপনারা স্থলভাগে কিংবা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ এতে আরও বলা হয়, ‘নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমেও সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না।’ ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ‘আগ্রাসনের’ জবাবে ইরান তাদের শত্রু ও মিত্রদের জন্য এই কৌশলগত নৌপথ বন্ধ করে দেয়। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর হরমুজে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির শর্তের পরিপন্থি ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে পিজিএসএ বলেছে, ‘যে দেশের প্রেসিডেন্ট জলদস্যুতার প্রশংসা করেন, সেই দেশের নিষেধাজ্ঞাকে আমরা আমাদের কার্যক্রমের ইতিবাচক স্বীকৃতি হিসেবে দেখি।’শ বিবৃতির শেষে জানানো হয়, পিজিএসএর কার্যক্রম শুরুর প্রথম মাসের পরিসংখ্যান শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যেখানে ইঙ্গিত মিলেছে যে রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুক্রবার (২৯ মে) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই তথ্য জানান এবং একই সঙ্গে ইউক্রেনের মিত্রদের প্রতি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়ানো ও দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান। জেলেনস্কি বলেন, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আবারও একটি বড় আকারের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি আসন্ন সপ্তাহগুলোর অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা এখন আমাদের প্রধান কাজ। ইউক্রেন সরকার বর্তমানে নতুন একটি ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের জন্য বিস্তারিত প্রস্তাব প্রস্তুত করছে বলে জানান জেলেনস্কি। পাশাপাশি বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ বন্ধ করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি কাগজ উৎপাদন কারখানায় রাসায়নিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন। বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা তথ্য জানান। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের লংভিউ শহরে অবস্থিত ওই কারখানায় মঙ্গলবার বিপুল পরিমাণ ক্ষারীয় ও বিষাক্ত রাসায়নিক ভর্তি ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে ধসে পড়ে। এই ভয়াহ দুর্ঘটনার পরপরই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। লংভিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান ব্র্যাড হ্যানিগ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নয়জনের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে করোনারের দপ্তরের সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’ বুধবার আগে দু’জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। নতুন ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের পর মোট মৃতের সংখ্যা আটে পৌঁছাল। নিখোঁজ থাকা বকী তিনজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাপানের নিপ্পন পেপার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানির কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভোরের শিফট পরিবর্তনের সময় ৯ লাখ গ্যালন (৩৪ লাখ লিটার) ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংক হঠাৎ ফেটে যায়। জানা যায়, সেটিতে ‘হোয়াইট লিকার’ নামক বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ ছিল। হোয়াইট লিকার হল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইড মিশ্রিত একটি তীব্র ক্ষারীয় দ্রবণ। কাঠের গুঁড়ো গলিয়ে কাগজ তৈরির ম- প্রস্তুতে এটি ব্যবহার করা হয়। হ্যানিগ বলেন, উদ্ধারকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার বাতাস ও পানীয় জলে কোনো ধরনের দূষণ পাওয়া যায়নি। লংভিউ সিটির জনকল্যাণ বিভাগের পরিচালক ক্রিস কলিন্স সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লংভিউয়ের পানি নিরাপদ।’ মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্রুকস স্ট্যানফিল্ড জানান, পর্যবেক্ষণে হাইড্রোজেন সালফাইড বা উদ্বেগজনক অন্য কোনো বায়ু দূষণকারী পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়েনি। নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং নিজেদের ওয়েবসাইটে জানায়, তারা প্রতিবছর ৮শ’ কোটি একক-ব্যবহারযোগ্য কন্টেইনার উৎপাদন করে। উত্তর আমেরিকা, এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের পণ্য সরবরাহ করা হয় বরেও উল্লেখ করা হয়।