বরাবরের মতো এবারও দর্শক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে দেশের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মমতাজ মেহেদি নিবেদিত ‘মিস্টার অ্যান্ড মিস গ্ল্যামার লুকস’ সিজন–৫। ধারাবাহিক সাফল্যের ধারায় পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টটি আবারও প্রমাণ করেছে—নতুন মুখ খোঁজার ক্ষেত্রে শোটির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আইসিসিএল ভেন্যুতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘মিস্টার অ্যান্ড মিস গ্ল্যামার লুকস সিজন–৫’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল। আলোঝলমলে মঞ্চ, প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজক এবং স্টার মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার সোহেল আফসান জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চার শতাধিক প্রতিযোগী অডিশনের মাধ্যমে এবারের আসরে অংশ নেন। একাধিক ধাপের প্রতিযোগিতা ও বিচারকদের কঠোর মূল্যায়নের পর চূড়ান্তভাবে ১৪ জন প্রতিযোগী ফাইনালিস্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। সেখান থেকে প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব, উপস্থাপনা ও আত্মবিশ্বাসের বিচারে সেরাদের সেরা হিসেবে সাতজন প্রতিযোগী বিজয়ীর স্বীকৃতি লাভ করেন।
এবারের আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেন ইয়ামিন ও তাজকিয়া। প্রথম রানার্সআপ হিসেবে নির্বাচিত হন পর্যায়ক্রমে ঋতু, দেব ও তানিয়া। আর দ্বিতীয় রানার্সআপ হন সৌরভ ও সুমি।
গ্র্যান্ড ফাইনালে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বুবলি, চলচ্চিত্র অভিনেতা জয় চৌধুরী, দেবাশীষ বিশ্বাসসহ মিডিয়া ও বিনোদন অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ। তাদের উপস্থিতি ও মূল্যায়ন অনুষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে।
উল্লেখ্য, বিগত সিজনগুলোর অনেক বিজয়ী ও প্রতিযোগী বর্তমানে মিডিয়া ও বিনোদন জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে ‘মিস্টার অ্যান্ড মিস গ্ল্যামার লুকস’ আজ আর কেবল একটি রিয়েলিটি শো নয়, বরং নতুন প্রতিভা তৈরির একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ধর্ষণের মতো ঘটনার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতা নয় দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দায়ী। এ ছাড়া মাদকাসক্তির বিস্তার বিকৃত অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা এ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে শোকাহত পুরো দেশ। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই নৃশংস ঘটনার বিচার দাবি করছেন। শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন ‘রামিসার মর্মান্তিক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। একজন মা হিসেবে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। এমন নৃশংসতার বিচার চাই আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়। রামিসা তুই শান্তিতে থাক মা।’
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এরই মধ্যে গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ তারকারাও। যার ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ধর্ষকের বিচার দাবি করছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের মেগাস্টার শাকিব খান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা পোস্টটি শিশু রামিসার আর্তনাদকেই যেন তুলে ধরছে বারবার। একটি শিশুর আর্তনাদ কখনোই শুধু একটি পরিবারের বেদনা হয়ে থাকে না, এই বেদনা আমাদের সবার! শিশু রামিসার সাথে হওয়া এই নৃশংস ঘটনা পুরো সমাজের মানবিকতা, নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়! প্রয়োজন দ্রুত স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; যে শাস্তি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করবে এবং সমাজে স্পষ্ট বার্তা দেবে। এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার বিলম্ব মানে ভুক্তভোগী পরিবারের যন্ত্রণা আরও দীর্ঘ করা। তাই এখন সময় আইনের কঠোর প্রয়োগ, যাতে আর কোনো রামিসাকে এভাবে নির্মমতার শিকার হতে না হয়; যেন আর কোনো সন্তানের পিতাকে বলতে না হয়, “আমরা বিচার চাই না, এদেশে বিচার নাই!”
দীর্ঘ চার বছরের বিরতি কাটিয়ে রুপালি পর্দায় আবারও দর্শক মাতাতে আসছেন জনপ্রিয় তারকা জুটি আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম। তাদের অভিনীত নতুন অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘মালিক’ আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। সম্প্রতি এফডিসিতে সিনেমাটির একটি বিশেষ আইটেম গান ‘গুলগুলি পিঠা’র দৃশ্যধারণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জমকালো এই গানে শুভর সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক দক্ষ নৃত্যশিল্পী। নতুন এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম ও প্রতীক হাসান। আদিত রহমানের সুর ও সংগীত পরিচালনায় গানটির কথা লিখেছেন লুৎফর হাসান। যদিও গানটির বিস্তারিত চমক নিয়ে নির্মাতা সাইফ চন্দন এখন গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাচ্ছেন, তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এটি দর্শকদের জন্য বড় একটি সারপ্রাইজ হবে। মিম এই সিনেমার জন্য নিজেকে বদলে ফেলেছেন; অভিনয়ের পাশাপাশি মার্শাল আর্ট ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর দেড় মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। সিনেমাটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে নির্মাতা সাইফ চন্দন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখনো সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিইনি। পরিকল্পনা ছিল পুরো কাজ শেষ করে তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসার। এখনো আমরা সেই পথেই আছি। শুটিং ও ডাবিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে এরই মধ্যে সিনেমার কিছু ফুটেজ ও শুটিংয়ের ছবি ফাঁস হয়েছে। সেগুলো দেখেই দর্শকের মধ্যে দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ‘সিনেমাটির পোস্টার, গান ও ট্রেলার দেখার পর দর্শক আরও চমকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা সেন্সরে জমা দেওয়ার আগে সব কাজ গুছিয়ে একসঙ্গে প্রচারণায় নামতে চাই। প্রযোজকেরও একই পরিকল্পনা। প্রচারণা শুরু হলেই ধাপে ধাপে সব প্রকাশ করা হবে।’ মূলত আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক সংঘাতকে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে ‘মালিক’ সিনেমার কাহিনি। শুভ ও মিম জুটির এই পুনরাগমন এবং হাইভোল্টেজ অ্যাকশন সিনেমাটিকে ঘিরে চলচ্চিত্র পাড়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আরিফিন শুভ ও মিম জুটিও দীর্ঘ চার বছর পর একসঙ্গে পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। এরই মধ্যে শুভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমায় তার লুকের কিছু ছবি প্রকাশ করে ফেরার আগাম বার্তা দিয়েছেন। এ ছাড়াও এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন ‘মালিক তো একজনই, আমরা সবাই তারই বান্দা’। নায়কের এমন পোস্ট আরও কৌতূহলের বাড়িয়েছে।