ফুটবলপ্রেমী শহর কলকাতা আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ হিসেবে পূজিত লিওনেল মেসির ভারত সফরের প্রথম গন্তব্য হওয়ায় কার্যত উন্মাদনায় ভাসছে ‘সিটি অব জয়’। কলকাতার রাজপথ, মোড় এবং খোলা জায়গা জুড়ে বিশাল কাটআউট, ব্যানার ও পোস্টারে ছয়ে গেছে শহর। মেসির পা রাখার আগেই থমকে যাওয়ার উপক্রম নগরজীবনের।
ভারতের এই পূর্বাঞ্চলীয় মহানগরীতে মেসির জনপ্রিয়তা নতুন নয়। ২০১১ সালে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ খেলতে এসে প্রথমবার কলকাতায় পা রাখেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তার দ্বিতীয় আগমনকে ঘিরে এবার প্রত্যাশা আরও তুঙ্গে।
কলকাতা সেই শহর, যেখানে এর আগে এসেছেন ফুটবলের আরও দুই মহাতারকা—পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে এসে কলকাতাকে মুগ্ধ করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। ম্যারাডোনা এসেছিলেন ২০০৮ ও ২০১৭ সালে—দু’বারই অবাক হয়েছিলেন এ শহরের ফুটবল উন্মাদনা দেখে।
২০০৮ সালে জার্মান কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কানও এখানেই বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন। সেই ম্যাচও হয়েছিল সল্টলেক স্টেডিয়ামে—যেখানেই এবার মেসিকে ঘিরে থাকছে মূল আয়োজন। এই ইভেন্টে থাকবে কনসার্ট ও তারকা-সমৃদ্ধ একটি সেলিব্রিটি ম্যাচ, যেখানে অংশ নেবেন সৌরভ গাঙ্গুলি, ভাইচুং ভুটিয়া ও লিয়েন্ডার পেজের মতো ক্রীড়াবিদরা।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কলকাতায় এসে যে উন্মাদনা দেখেছিলেন, সেটিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ঠিক এক মাস আগেই শহর সফর করেছিলেন জার্মান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার মাথাউস। ইউরোপীয় ফুটবল রাজধানীগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ফুটবল উত্তেজনা দেখে তিনিও বিস্মিত হন।
“ফুটবলের ঈশ্বরকে এক ঝলক দেখার স্বপ্ন”
কলকাতার বাসিন্দা ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার দেবজ্যোতি ধর ১১ হাজার ৮০০ রুপির টিকিট কিনেছেন কেবল মেসিকে এক নজর দেখার আশায়। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মেসিকে নিয়ে পাগল। প্রায় দুই দশক ধরে তার খেলা দেখছি। এত কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ।”
কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠানসূচি
মেসি শনিবার ভোর ১টা ৩০ মিনিটে দুবাই হয়ে মিয়ামি থেকে কলকাতায় পৌঁছাবেন। সম্প্রতি টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর লিগ সকারের (MLS) সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সকালে তিনি অংশ নেবেন স্পনসরদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ ‘মিট অ্যান্ড গ্রীট’ অনুষ্ঠানে, যেখানে থাকবে আর্জেন্টাইন ও ভারতীয় খাবারের ফিউশন ফেস্টিভ্যাল।
নিরাপত্তাজনিত কারণে মেসিকে সরাসরি উপস্থিত না রেখে ভার্চুয়ালি তার সবচেয়ে বড়—৭০ ফুট উচ্চতার—মূর্তি উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে পরিকল্পনা ছিল তিনি নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন, তবে পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
সল্টলেক স্টেডিয়ামের মূল আয়োজনে ৭৫ হাজার দর্শকের জন্য গ্যালারি খোলা রাখা হয়েছে। ইভেন্টের প্রমোটার শতদ্রু দত্ত জানান, টিকিটের চাহিদা এতটাই বেশি যে মঙ্গলবার থেকেই কাউন্টার বিক্রিও চালু করা হয়েছে।
মেসির সঙ্গে এই সফরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো দে পল ও লুইস সুয়ারেজের। ভারতের অন্যান্য শহর—হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতেও থাকছে অনুষ্ঠান। পাশাপাশি বলিউড তারকা শাহরুখ খান, জন আব্রাহাম ও টাইগার শ্রফের উপস্থিতি এই ‘GOAT ইন্ডিয়া ট্যুর’-কে পরিণত করছে এক অনন্য উৎসবে।
সব মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার আগমন উদ্যাপনে প্রস্তুত কলকাতা—আরও একবার প্রমাণ করছে কেন এই শহরকে ভারতের ফুটবল-রাজধানী বলা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে টরন্টো স্টেডিয়ামের বাইরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল খবরটি। আর খবরটির সূত্র খোদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আপন বোন কাতিয়া আভেইরো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার ভাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ আসর। তবে ম্যাচ শেষে বোনের দেওয়া সেই অবসরের বার্তা এক প্রকার উড়িয়েই দিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন সিআরসেভেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ নয়। জিতি বা হারি, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর আমি আমার পরিবারের সঙ্গে শান্ত হয়ে কথা বলব। তারপর সবার জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো হবে, ঠিক সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে।’ আবেগের বশে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে পর্তুগিজ যুবরাজ আরও যোগ করেন, ‘আমি কখনোই আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। সবকিছুই শান্ত মাথায়, সময় নিয়ে করি। এই বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই এখন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ এর আগে ম্যাচের ঠিক মুখে বোন কাতিয়া আভেইরো সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘যতদিন ও মাঠে আছে, উপভোগ করে নিন। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আমার কাছে যে তথ্য আছে, সমর্থকরা এবার তাকে জাতীয় দল থেকে বিদায় জানাতে পারেন। আজই (ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে) বিদায় বলবে না, তবে আমার মনে হয় এটাই তার শেষ।’
ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ক্রোয়েশিয়া। আর সেই ম্যাচটিই জাতীয় দলের জার্সিতে ৪০ বছর বয়সী এই তারকার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে লড়াই করে হারার পরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান মদ্রিচ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠা এই ফুটবলার দেশের হয়ে খেলেছেন ২০১ ম্যাচ, করেছেন ২৯ গোল। তবে সংখ্যার চেয়েও বড় ছিল তার প্রভাব, নেতৃত্ব আর ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ ক্ষমতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব পেরিয়ে উঠে আসা মদ্রিচ ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম। ২০১৮ বিশ্বকাপে দলকে প্রথমবারের মতো ফাইনালে তুলে তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন বল। একই বছর ব্যালন ডি’অর জিতে ভেঙেছিলেন মেসি-রোনালদোর দীর্ঘদিনের আধিপত্য। ২০২২ বিশ্বকাপেও ক্রোয়েশিয়াকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন এই মিডফিল্ডার। ক্লাব ক্যারিয়ারেও অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন লুকা মদ্রিচ। টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে বারবার সাফল্যের আলোয় আনতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের সামর্থ্যের আরও এক ঝলক দেখাল স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের দখলে। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ধার এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়ার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল তারা। প্রথমার্ধে একাধিকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত। এর আগে কর্নার থেকে আসা বলে মার্ক কুকুরেয়ার জোরালো শট জালে জড়ালেও গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কর্নারের সময় স্পেনের এক খেলোয়াড় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে স্পেনকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে কুকুরেয়ার পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন, কিন্তু শ্লাগারের দুর্দান্ত গোলরক্ষণ এবং একবার পোস্ট তাদের ব্যবধান বাড়াতে দেয়নি। বিরতির পরও আক্রমণের গতি কমায়নি স্পেন। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। বাঁ প্রান্ত থেকে আলেক্স বায়েনার নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠান এই ডিফেন্ডার। দুই গোলের লিড পাওয়ার পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। দলীয় আক্রমণ থেকে আবারও অ্যাসিস্ট করেন কুকুরেয়া। তাঁর বাড়ানো বল বক্সের ভেতরে পেয়ে সহজেই জালে জড়ান ওইয়ারসাবাল। বিশ্বকাপে এটি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের চতুর্থ গোল। বাকি সময়ে আর কোনো নাটক না ঘটলে ৩–০ গোলের স্বচ্ছন্দ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন। দাপুটে এই জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল ইউরোপের পরাশক্তিরা, আর বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থানও আরও জোরালো করল তারা।