খেলাধুলা

মেসির আগমন ঘিরে উন্মাদনায় পুরো কলকাতা শহর

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

ফুটবলপ্রেমী শহর কলকাতা আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ হিসেবে পূজিত লিওনেল মেসির ভারত সফরের প্রথম গন্তব্য হওয়ায় কার্যত উন্মাদনায় ভাসছে ‘সিটি অব জয়’। কলকাতার রাজপথ, মোড় এবং খোলা জায়গা জুড়ে বিশাল কাটআউট, ব্যানার ও পোস্টারে ছয়ে গেছে শহর। মেসির পা রাখার আগেই থমকে যাওয়ার উপক্রম নগরজীবনের।

 

ভারতের এই পূর্বাঞ্চলীয় মহানগরীতে মেসির জনপ্রিয়তা নতুন নয়। ২০১১ সালে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ খেলতে এসে প্রথমবার কলকাতায় পা রাখেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তার দ্বিতীয় আগমনকে ঘিরে এবার প্রত্যাশা আরও তুঙ্গে।

কলকাতা সেই শহর, যেখানে এর আগে এসেছেন ফুটবলের আরও দুই মহাতারকা—পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে এসে কলকাতাকে মুগ্ধ করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। ম্যারাডোনা এসেছিলেন ২০০৮ ও ২০১৭ সালে—দু’বারই অবাক হয়েছিলেন এ শহরের ফুটবল উন্মাদনা দেখে।

২০০৮ সালে জার্মান কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কানও এখানেই বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন। সেই ম্যাচও হয়েছিল সল্টলেক স্টেডিয়ামে—যেখানেই এবার মেসিকে ঘিরে থাকছে মূল আয়োজন। এই ইভেন্টে থাকবে কনসার্ট ও তারকা-সমৃদ্ধ একটি সেলিব্রিটি ম্যাচ, যেখানে অংশ নেবেন সৌরভ গাঙ্গুলি, ভাইচুং ভুটিয়া ও লিয়েন্ডার পেজের মতো ক্রীড়াবিদরা।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কলকাতায় এসে যে উন্মাদনা দেখেছিলেন, সেটিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ঠিক এক মাস আগেই শহর সফর করেছিলেন জার্মান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার মাথাউস। ইউরোপীয় ফুটবল রাজধানীগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ফুটবল উত্তেজনা দেখে তিনিও বিস্মিত হন।

“ফুটবলের ঈশ্বরকে এক ঝলক দেখার স্বপ্ন”

কলকাতার বাসিন্দা ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার দেবজ্যোতি ধর ১১ হাজার ৮০০ রুপির টিকিট কিনেছেন কেবল মেসিকে এক নজর দেখার আশায়। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মেসিকে নিয়ে পাগল। প্রায় দুই দশক ধরে তার খেলা দেখছি। এত কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ।”

কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠানসূচি

মেসি শনিবার ভোর ১টা ৩০ মিনিটে দুবাই হয়ে মিয়ামি থেকে কলকাতায় পৌঁছাবেন। সম্প্রতি টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর লিগ সকারের (MLS) সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সকালে তিনি অংশ নেবেন স্পনসরদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ ‘মিট অ্যান্ড গ্রীট’ অনুষ্ঠানে, যেখানে থাকবে আর্জেন্টাইন ও ভারতীয় খাবারের ফিউশন ফেস্টিভ্যাল।

নিরাপত্তাজনিত কারণে মেসিকে সরাসরি উপস্থিত না রেখে ভার্চুয়ালি তার সবচেয়ে বড়—৭০ ফুট উচ্চতার—মূর্তি উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে পরিকল্পনা ছিল তিনি নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন, তবে পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

সল্টলেক স্টেডিয়ামের মূল আয়োজনে ৭৫ হাজার দর্শকের জন্য গ্যালারি খোলা রাখা হয়েছে। ইভেন্টের প্রমোটার শতদ্রু দত্ত জানান, টিকিটের চাহিদা এতটাই বেশি যে মঙ্গলবার থেকেই কাউন্টার বিক্রিও চালু করা হয়েছে।

মেসির সঙ্গে এই সফরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো দে পল ও লুইস সুয়ারেজের। ভারতের অন্যান্য শহর—হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতেও থাকছে অনুষ্ঠান। পাশাপাশি বলিউড তারকা শাহরুখ খান, জন আব্রাহাম ও টাইগার শ্রফের উপস্থিতি এই ‘GOAT ইন্ডিয়া ট্যুর’-কে পরিণত করছে এক অনন্য উৎসবে।

 

সব মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার আগমন উদ্‌যাপনে প্রস্তুত কলকাতা—আরও একবার প্রমাণ করছে কেন এই শহরকে ভারতের ফুটবল-রাজধানী বলা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রানা-ইংলিসের মাঠের উত্তেজনা, ম্যাচ শেষে যা বললেন দুই দলের ক্রিকেটাররা

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জশ ইংলিসের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। ম্যাচ চলাকালে ইংলিসকে আউট করার পর দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।   ম্যাচে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে শুরু থেকেই চাপে ছিল অস্ট্রেলিয়া। নাহিদ রানার গতিময় বোলিং সফরকারী ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস ২৫ বলে ১৯ রান করে রানার শিকার হন।   আউট হওয়ার পর ইংলিসের হতাশা এবং রানার উচ্ছ্বসিত উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বাক্য বিনিময় হয়। পরে সতীর্থ খেলোয়াড়রা পরিস্থিতি শান্ত করেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেটে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকেই। মাঠে কিছুটা উত্তেজনা খেলারই অংশ। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি না হওয়াই ভালো।’   নাহিদ রানার বোলিংয়েরও প্রশংসা করেন ক্যারি। তিনি বলেন, ‘তার গতি ও বাউন্স সত্যিই দারুণ। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটেও এমন বোলার কার্যকর হতে পারে। তার মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সুযোগ পেলে সে বিগ ব্যাশেও ভালো করতে পারবে।’   অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ঘটনাটিকে বড় কিছু হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষ্য, ‘এটি মূলত আউট হওয়ার পর ব্যাটারের হতাশার প্রকাশ ছিল। দুজনের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তবে বিষয়টি গুরুতর নয়। মাঠের ঘটনা মাঠেই থাকাই ভালো।’   উল্লেখ্য, এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২১ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিং সেই জয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বদলি নেমেই মেসির গোল, বড় জয় আর্জেন্টিনার

ছবি : সংগৃহীত

ভিসা বিতর্কে বিশ্বকাপ, প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প-ইনফান্তিনো সমীকরণ

ছবি : সংগৃহীত

রিয়ালেই ফিরলেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’

ছবি : সংগৃহীত
হতাশা থাকলেও হাল ছাড়েননি মোসাদ্দেক

আক্ষেপ, হতাশা, লড়াই, এই শব্দগুলিই গত কয়েক বছরে ছিল মোসাদ্দেক হোসেনের নিত্য সঙ্গী। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের পর মৌসুম অসাধারণ পারফর্ম করেও জাতীয় দলের দুয়ার খোলা পাননি। কখনও কখনও মুষড়ে পড়েছেন। তবে নুইয়ে পড়েননি। নতুন করে লড়াইয়ে নেমেছেন। মনের কোণে আশার প্রদীপ যে জ্বলছিল! জাতীয় দলের ফেরার দিনটিতে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলকে জিতিয়ে এই অলরাউন্ডার শোনালেন সেই সময়ের গল্প।   প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭০ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন মোসাদ্দেক। পরে দুটি উইকেট ও দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নিয়ে তিনিই জেতেন ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার।   এই ম্যাচের আগে সবশেষ ওয়ানডে খেলেন তিনি ২০২২ সালের অগাস্টে। ওই বছরের নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়েন, সেই দূরত্ব আর ঘোচাতে পারছিলেন না। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও বিপিএলে তার পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। কিন্তু একদিনের ম্যাচের সংস্করণে ঘরোয়া ক্রিকেটে দেশের মূল প্রতিযোগিতা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের পর মৌসুম তার পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য।   সংখ্যাগুলোর দিকে তাকালে চোখ কপালে উঠতে পারে অনেকের।   ২০২২-২৩ মৌসুমে ৪৭ গড় ও ৯৬.৬২ স্ট্রাইক রেটে ৬৫৮ রান। ওভারপ্রতি ৪.৫৩ রান দিয়ে ১৬ উইকেট।   ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৭৯.২০ গড় ও ১২৩.৭৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৬ রান। ওভারপ্রতি ৩.৮৪ রান দিয়ে ২০ উইকেট।   ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৪৮৭ রান। ওভারপ্রতি ৪.০৪ রান দিয়ে ৩০ উইকেট।   এবার দলে ডাক পাওয়ার আগ পর্যন্ত ৭৭.৫০ গড়ে ও ১২৯.১৬ স্ট্রাইক রেটে ৩১০ রান। ওভারপ্রতি ৩.৭৪ রান দিয়ে ১২ উইকেট।   সঙ্গে ছিল দুর্দান্ত নেতৃত্বও। বিশেষ করে, গত মৌসুমে কঠিন বাস্তবতার মধ্যে যেভাবে তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী লিমিটেড, সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে।   এমন অতিমানবীয় অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলের ডাক না এলে তাড়না মরে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।   মোসাদ্দেকও নিজের সঙ্গে লড়েছেন। যখনই হতাশা গ্রাস করেছে, তখনই আবার নিজেকে জাগিয়ে তুলেছেন সুদিন ফেরার আশায়।   “হতাশা ছিল। খুব সহজ সময় ছিল না আমার জন্য। আমার লড়াইয়ের সময়টা হয়তো অনেকেই আপনারা দেখেছেন, হয়তো অনেকে দেখেননি। ওই জায়গা থেকে আমি সবসময় ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি এবং নিজের কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। এটা মাথার মধ্যে ছিল যে, একটা সুযোগ যখন আসবে, সেই সুযোগ যেন ভালোভাবে নিতে পারি।   গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলছিলাম, এই বিশ্বাসটা ছিল যে এটা চালিয়ে যেতে পারলে একটা না একটা সময়ে আমার সুযোগ আসবে। যতটুকু না চেয়েছি, আল্লাহ তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছেন।   একসময় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত মুখই ছিলেন বাংলাদেশ দলে। সেই সময়টা অতীত হয়ে গেছে অনেক আগেই। অনেক লড়াই আর অপেক্ষার পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সময়ের দেখা পেয়েছেন।   জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার দীর্ঘ এই প্রহরে অনুভূতিগুলোয় মরচে পড়ে গিয়েছিল। তবে ফেরার পর সতীর্থদের ভালোবাসায় দূর সরে গেছে সব অস্বস্তি।   আমি কৃতজ্ঞ টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি। উনারা যেভাবে আমার পাশে থেকেছেন, খেলার শুরুর আগে যেভাবে স্বাধীনতা আমাকে দিয়েছেন, আমাকে স্রেফ বলা হয়েছে আমার খেলাটাকে উপভোগ করতে। ওই জিনিসটা খেলার সময় মাথার মধ্যে ছিল না যে অনেকদিন পরে এসেছি বা কিছু। পরিস্থিতি যা দাবি করছিল, আমার কাছে মনে হয়েছে যে, ওভাবে করেই যাওয়া উচিত। আমি স্রেফ আমার কাজটা করার চেষ্টা করেছি।   অধিনায়ক থেকে শুরু করে সবাই সাপোর্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যেহেতু আমি এতদিন পরে এসেছি, ওরা সবাই মিলে চাইছে যেন আমি ওই অনুভূতি না পাই যে এতদিন পরে এসেছি। আবারও পুরো দলের প্রতি কৃতজ্ঞ।   দলে সুযোগ পাওয়া কেবল ছিল মোসাদ্দেকের একটি জয়। তবে মূল পরীক্ষা তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। পারফর্ম করার চ্যালেঞ্জ তো আছেই, সঙ্গে আছে পাহাড় সমান চাপও। জাতীয় দলে ফিরে যদি পারফর্ম করতে না পারেন, তাহলে স্রেফ ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের বাঘ’ তকমা নিয়েই হয়তো শেষ করতে হতো ক্যারিয়ার।   সেই ম্যাচে যখন তিনি ক্রিজে গেলেন, ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল তখন বেশ বিপদে। সেখান থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আর উদ্ভাবনী নানা শটে দলকে নিয়ে গেছেন এমন স্কোরে, যেখান থেকে দল পেয়েছে ৮৬ রানের জয়।   পেছনের প্রেক্ষাপট আর ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পারফরম্যান্সকে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বললেন ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।   বলা যায়… এরকম চাপের মুহূর্তে সেরা ম্যাচ। যদি আপনারা উইকেট সকাল থেকেই দেখেন, আমরা ড্রেসিং রুমেও কথা বলছিলাম, ৩০০-৩২০ রানের উইকেট ছিল। খুবই ভালো উইকেট। যখন আমাদের (পরপর) দুইটা উইকেট পড়ে যায়, আমাদের জন্য একটু কঠিন হয়ে যায়। লিটনের আউটটা যদি ওই সময়টাতে না হতো, হয়তোবা আমরা ৩০০-৩২০ করতে পারতাম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে ‘অবৈধ’, হতাশ আর্তান

ছবি : সংগৃহীত

ম্যাচের আগের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবে ইরান দল

ছবি : সংগৃহীত

আলভারেসের জন্য রেয়ালের ১৫ কোটি ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল আতলেতিকো

নেইমার। ফাইল ছবি
নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির বার্তা

চোট কাটিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা নেইমারকে ঘিরে আশাব্যঞ্জক খবর দিয়েছেন জনপ্রিয় ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো।   মঙ্গলবার (৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। যদিও আগে ধারণা করা হয়েছিল, হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটিই হবে তার প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য। পোস্টে রোমানো লেখেন, ‘ব্রেকিং: গ্লোবোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া যেতে পারে। আগে লক্ষ্য ছিল হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে খেলানো, তবে এখন প্রথম ম্যাচের জন্যই তিনি শতভাগ ফিট হয়ে উঠতে পারেন।’ এর আগে ব্রাজিল দলের মেডিকেল স্টাফ ও কোচিং বিভাগ নেইমারকে ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেসে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিল। সে কারণে হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচকে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে ধরা হয়েছিল। যদিও সর্বশেষ অগ্রগতিতে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সেরে উঠছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ফলে মরক্কোর বিপক্ষেই ব্রাজিলের জার্সিতে তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের খবরে স্বস্তি ফিরেছে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা এই তারকার ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে

ছবি: সংগৃহীত

ক্যাচ মিস আর বড় জুটির অভাবেই হার, বললেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক

ছবি: সংগৃহীত

নাহিদ রানার গতিতে মুগ্ধ ক্যারি, ডাক দিলেন বিগ ব্যাশে

0 Comments