জাতীয়

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৯৪

আক্তারুজ্জামান জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৬ শিশু ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৪ জন শিশু।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত চার শিশুর মধ্যে দুইজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। তারা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, জন্মগত হৃদ্‌রোগ, অপুষ্টি এবং অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত ছিল এসব শিশু।

 

মৃতদের মধ্যে একজন চার মাস বয়সী কন্যাশিশু ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চার মাস বয়সী এক ছেলে শিশু, ফুলপুর উপজেলার তিন মাস বয়সী এক শিশু এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আট মাস বয়সী এক কন্যাশিশুও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ শিশু। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৯৪ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।

 

চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২২৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি বাড়তে শুরু করে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে একাধিক মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের লোগো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের ১১০ কোটি ডলারের সহায়তা

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।   শুক্রবার (২৬ জুন) দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   বিশ্বব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হবে।   অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা করা হবে।   বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর ফলে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা মিলবে।   প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে তা শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   অন্যদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এ অর্থ দ্রুত ছাড় করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।   বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই সহায়তা দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৯৪

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হাজতির মৃত্যু, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে

ছবি: সংগৃহীত

১২ বছর ধরে ভাঙা সেতু, চরম দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ

ছবি : সংগৃহীত
দুর্নীতিতে শীর্ষে ময়মনসিংহ, ঘুষে এগিয়ে খুলনা : টিআইবি

দেশের সেবা খাতে বিভাগভেদে দুর্নীতিতে ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ঘুষের দিক থেকে খুলনা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।   বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ এর তথ্য তুলে ধরা হয়।   সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয়ভাবে দুর্নীতির শিকার ৮১.৬ শতাংশ ও ঘুষের শিকার ৬৩.৬ শতাংশ মানুষ। বিভাগভেদে ময়মনসিংহে দুর্নীতির শিকারে ৮৮.৯ শতাংশ ও ঘুষের শিকার ৬৬ পয়েন্ট ৬ শতাংশ সেবাগ্রহীতা। অন্যদিকে, খুলনা বিভাগে ঘুষের শিকার ৭৩.৬ শতাংশ এবং দুর্নীতির শিকার ৮৮ শতাংশ।   এছাড়া, বরিশালের দুর্নীতি শিকার ৮৭.৬ শতাংশ, ঘুষের শিকার ৬৯.১ শতাংশ; রংপুর বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৮৫.৭ শতাংশ, ঘুষের শিকার ৬২.৮; ঢাকা বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৮০.১ শতাংশ ও ঘুষের শিকার ৬৩.৯ শতাংশ; চট্টগ্রামে দুর্নীতির শিকার ৭৯.৪ শতাংশ ও ঘুষের শিকার ৫৯.৪ শতাংশ; সিলেট বিভাগের দুর্নীতি শিকার ৭৯.৩ শতাংশ  ও ঘুষের শিকার ৫৮.৯ শতাংশ এবং রাজশাহী বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৭২.৯ শতাংশ ও ঘুষের শিকার ৫৮.৮ শতাংশ সেবাগ্রহীতা।   এই প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (আইএসআরটি) প্রাক্তন অধ্যাপক সেকেন্দার হায়াত খান, প্রাক্তন অধ্যাপক পিকে মো. মতিউর রহমান, প্রাক্তন অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়ায়েব, অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক। 

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

শেখ মুজিব-হাসিনা বন্দনায় সরব, আলোচনায় সিলেটের সেই ডিসি

ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের ৫ কিলোমিটার ‘রান এগেনস্ট ড্রাগ’ অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত
১৫ দফা যৌথ ঘোষণায় ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন যুগে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে দুই দেশের যৌথ ঘোষণাপত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।   শুক্রবার প্রকাশিত ১৫ দফার এই যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, দুই দেশ তাদের ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও এগিয়ে নিয়ে ‘নতুন যুগের চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তুলবে, যাতে দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হয়।   বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহায়তা এবং দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ‘টু প্লাস টু’ কৌশলগত সংলাপ চালুর মত বিষয় যৌথ ঘোষণায় এসেছে।   এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি; চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারকে আলোচনায় আনতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।   চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করেন। সফরের শেষ দিন শুক্রবার তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।   এছাড়া বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।   যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে ‘গভীর মতবিনিময়’ হয়েছে এবং ‘বিস্তৃত ঐকমত্যে’ পৌঁছেছেন দুই দেশের নেতারা।   ১৯৭৫ সালের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা জোরদার করেছে, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করেছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।   চীন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ নীতির প্রশংসা করেছে বেইজিং।   অন্যদিকে, বাংলাদেশ মনে করে চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়ন সুযোগ সৃষ্টি করবে।   উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা, সরকারি পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।   একই সঙ্গে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।   কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘টু+টু সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনাও যৌথভাবে খতিয়ে দেখবে ঢাকা ও বেইজিং।   ‘এক চীন’ নীতিতে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত যৌথ ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।   সেখানে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার।   বাংলাদেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণে চীনের উদ্যোগকে সমর্থন জানায়।   অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।   চীন বলেছে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে উন্নয়নপথ বেছে নিয়েছে, তাকে তারা সম্মান করে।   বেল্ট অ্যান্ড রোডে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দুই দেশ।   চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আরও সমন্বয় করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট কিন্তু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও তারা কাজ করবে।   এ ছাড়া বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।   বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে সহযোগিতা যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বাংলাদেশ ও চীন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও একসঙ্গে কাজ করবে দুই দেশ।   বাংলাদেশের সব ধরনের পণ্যের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা বজায় রাখায় চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ।   অন্যদিকে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা।   দুই দেশ যৌথভাবে মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।   নতুন সংযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে দুই দেশ যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।   এ ছাড়া আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের নতুন বিকল্প খুঁজে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।   যৌথ ঘোষণাপত্রে বিশেষভাবে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি সংযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।   তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতা যৌথ ঘোষণাপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি।   এতে বলা হয়েছে, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা, পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে দুই দেশ।   চীন জানিয়েছে, নিজেদের ‘সক্ষমতা অনুযায়ী’ তারা তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা করবে এবং প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা দেবে।   এ ছাড়া সামুদ্রিক বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।   প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হবে যৌথ ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, দুই দেশ প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করবে।   এর আওতায় সামরিক প্রতিনিধি বিনিময়, সফর, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য সহযোগিতা জোরদার করা হবে।   একই সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে চীন ও বাংলাদেশ।   শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা ২০২৫ সালে চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ‘চীন-বাংলাদেশ জনগণের মধ্যে বিনিময় বর্ষ’ সফলভাবে উদযাপনের প্রশংসা করেছে দুই দেশ।   যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।   এ ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।   স্বাস্থ্যসেবা ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।   বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে ইউনান প্রদেশসহ চীনের স্থানীয় সরকারগুলোর প্রশংসা করেছে।   ব্রিকস ও এসসিওতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে চীনের সমর্থন যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, মানবজাতির জন্য ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গঠনের ধারণা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্থাপিত বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছে ঢাকা।   অন্যদিকে, চীন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।   একই সঙ্গে ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদনে সমর্থনের কথা জানিয়েছে বেইজিং।   এ ছাড়া আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং এ প্রক্রিয়ায় আরও দেশকে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই দেশ।   জাতিসংঘভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন যৌথ ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালার প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও চীন।   দুই দেশ সমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং সবার জন্য কল্যাণকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।   একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ফলাফল অক্ষুণ্ন রাখা এবং ফ্যাসিবাদ ও সামরিকবাদের পুনরুত্থানের যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার কথা বলা হয়েছে।   এ বিষয়ে কায়রো ঘোষণা, পটসড্যাম ঘোষণা এবং জাতিসংঘ সনদসহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ।   রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারকে আলোচনায় আনতে সহযোগিতা যৌথ ঘোষণাপত্রে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের ‘গঠনমূলক’ ভূমিকার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।   অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে চীন।   চীন বলেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে।   এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে নিজেদের ‘সক্ষমতা অনুযায়ী’ ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।   সহযোগিতা সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এমওইউ সই হওয়ার কথা যৌথ ঘোষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।   তবে ঘোষণাপত্রে এসব চুক্তির সংখ্যা বা পৃথক বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে বলা হয়নি।   চীনা নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ সফরের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ও তার সফরসঙ্গীদের প্রতি উষ্ণ ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য চীনের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে পুশ-ইন সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেবাখাতে দুর্নীতি বৃদ্ধির তথ্য টিআইবির জরিপে, কারণ কী?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের নাইন এম এম পিস্তল দিতে দ্রুত আইন সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments