মালয়েশিয়ার চেরাসে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে এবার অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করল দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ সময় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে বৃহস্পতিবার রাতে তামান ইমাস এলাকায় এই বিশাল অভিযানে পরিচালনা করে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ।
শুক্রবার মালয়েশিয়ান গণমাধ্যম বার্নামা নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযানে ভবনের ছাদে বা বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করতে অত্যাধুনিক ‘থার্মাল ড্রোন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ সময় ভবনের ছাদে কিংবা অন্ধকার জায়গায় লুকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।
ইমিগ্রেশন বিভাগের (অপারেশন) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় ১৫ জন বিদেশি নাগরিককে ধরা সম্ভব হয়েছে, যারা গ্রেপ্তার এড়াতে ভবনের ছাদে লুকিয়ে ছিলেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে থাকা ১ হাজার ৮৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জনকে ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ৫২ জন নারী। এদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।
আটককৃতদের দেশটির সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং ভুয়া কার্ড ব্যবহারের মতো অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ২৭৯ জন ইমিগ্রেশন অফিসার এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের ১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জনবহুল এলাকায় প্রবাসীদের ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ এবং জনভোগান্তি কমাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাম্প্রতিক অভিযানে মদিনা অঞ্চলে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানের কয়েকজন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। একইভাবে জাজান অঞ্চলে প্রকাশ্যে ভিক্ষা করার সময় কয়েকজন ইয়েমেনি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কিছু সংঘবদ্ধ চক্র ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক আবেগকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, অতিরিক্ত সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে কোথাও কোথাও শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসব ব্যক্তি শপিং মল, বাণিজ্যিক এলাকা, আবাসিক ভবনের সামনে, গণপরিবহন কেন্দ্র এবং জ্বালানি স্টেশনের আশপাশে অবস্থান নিয়ে পথচারী ও যানবাহনের চালকদের কাছে অর্থ সহায়তা চান, যা জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি জননিরাপত্তা বিভাগ নাগরিক ও বাসিন্দাদের রাস্তা বা জনসমক্ষে ভিক্ষুকদের সরাসরি অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, ভিক্ষাবৃত্তির কোনো ঘটনা চোখে পড়লে মক্কা, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ৯১১ এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে অবস্থিত কালবা ইংলিশ স্কুলের ‘স্টাফ অব দ্য ইয়ার’ (বর্ষসেরা কর্মকর্তা) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মুহাম্মদ ইউনুস। সততা, দায়িত্বশীলতা, কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে এ সম্মাননা ও সনদ প্রদান করে। মুহাম্মদ ইউনুস চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার ২ নম্বর দাঁত ইউনিয়নের তারাখোঁ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মুহাম্মদ আবুল কাশেমের ছেলে। গত ১৩ বছর ধরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। ২০১১ সালে শারজাহর কালবা ইংলিশ স্কুলে প্রশাসনিক (এডমিন) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ইউনুস। বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে সেরা স্টাফ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এ স্বীকৃতি অর্জন করায় নিজের পাশাপাশি দেশের প্রবাসীদের জন্যও এটি গর্বের বলে মনে করেন মুহাম্মদ ইউনুস। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সততা। নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং দায়িত্বের প্রতি আন্তরিকতার ফলেই তিনি এই সম্মাননা অর্জন করেছেন। তার ভাষায়, এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত সব বাংলাদেশি প্রবাসীর জন্যও সম্মানের। তিনি আরও জানান, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি কর্মরত, সেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ব্রিটিশ ও আমেরিকান কারিকুলামে পড়াশোনা করছে।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা পাসপোর্ট বিতরণ ও অ্যাক্টিভেশন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার শেষ ধাপে জটিলতা এবং ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে বিতরণ হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বর্তমানে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট উইং পাসপোর্ট বিতরণের দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে আবেদন গ্রহণ, কাগজপত্র যাচাই, ব্যাংকিং, বায়োমেট্রিক ও স্ক্যানিংসহ অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালনা করছে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ইএসকেএল (ESKL)। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করলেও বিতরণ ও অ্যাক্টিভেশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রবাসীরা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, দালালমুক্ত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে ডাক বিভাগের পোস্ট লাজুর মাধ্যমে পাসপোর্ট বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনো অনেক ক্ষেত্রে হাইকমিশন থেকেই হাতে হাতে পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। ফলে কেউ ডাকযোগে, আবার কেউ সরাসরি সংগ্রহ করছেন, যা পুরো ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এ ছাড়া সরাসরি হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হলে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। পাসপোর্ট পাওয়ার পর অনেককে আবার আলাদাভাবে অ্যাক্টিভেশন সম্পন্ন করতে হচ্ছে। বিপরীতে ডাকযোগে পাঠানো পাসপোর্ট আগে থেকেই সক্রিয় অবস্থায় থাকায় সেই ঝামেলা থাকে না। প্রবাসীদের মতে, যেহেতু ইএসকেএল আবেদন গ্রহণ থেকে বায়োমেট্রিক পর্যন্ত প্রায় সব কাজ সম্পন্ন করছে, তাই একই কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট বিতরণ ও অ্যাক্টিভেশন চালু করা হলে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। দূরবর্তী রাজ্যে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য এ সমস্যা আরও প্রকট। জহুর বাহরুতে কর্মরত নির্মাণশ্রমিক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আবেদন ও পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য তাকে একাধিকবার কুয়ালালামপুরে যেতে হয়েছে। প্রতিবার যাতায়াতে তার কয়েকশ রিঙ্গিত ব্যয় হয়েছে। পরে আবার পাসপোর্ট অ্যাক্টিভ করার জন্য অতিরিক্ত ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। তবে আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক সেবার ক্ষেত্রে ইএসকেএলের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন অনেক প্রবাসী। তাদের মতে, আগের তুলনায় সিরিয়াল, নথি যাচাই এবং বায়োমেট্রিক কার্যক্রম এখন অনেক দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রবাসী সংগঠন ও অভিবাসন গবেষকরাও পাসপোর্ট সেবায় সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, আবেদন, বিতরণ ও অ্যাক্টিভেশন একই স্থানে সম্পন্ন হলে সেবার মান বাড়বে এবং প্রবাসীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি জহুর বাহরু, পেনাং ও মেলাকার মতো দূরবর্তী এলাকায় নিয়মিত মোবাইল সেবা কেন্দ্র চালুরও সুপারিশ করেছেন তারা।