বিশ্ব

পাকিস্তানের বোমা হামলায় ৯ আফগান শিশুসহ নিহত ১০

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ২৫, ২০২৫

পাকিস্তানি বাহিনীর বোমা হামলায় আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে এক পরিবারের বাড়ি ধ্বংস হয়ে ৯ শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মধ্যরাতে খোস্তের গুরবুজ জেলায় এ হামলা চালানো হয়।

তিনি জানান, পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালিয়াত খানের বাড়িতে বোমা ফেললে পাঁচ ছেলে, চার মেয়ে এবং এক নারী নিহত হন। বাড়িটিও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।


মুজাহিদ আরও জানান, উত্তর-পূর্ব কুনার এবং পূর্ব পক্তিকা প্রদেশেও পাকিস্তানের আরও কয়েকটি বিমান হামলা হয়েছে। এতে অন্তত চার বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদিকে তালেবান প্রশাসন এই হামলাকে বিপজ্জনক উসকানি বলে দাবি করেছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানকে এ ধরনের আক্রমণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
কলকাতা বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো নিয়ে বিতর্ক

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে অবস্থিত একটি পুরনো মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি সরানো হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, ওই মসজিদে যাওয়ার রাস্তা খারাপ হওয়ার জন্য সেটি সারানো প্রয়োজন। সেই সারাইয়ের জন্যই বন্ধ করা হয়েছে রাস্তা।   প্রথমে সোমবার ১৩ই জুলাই পর্যন্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এই মসজিদের উপস্থিতি নিয়ে ব্যুরো অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা বিসিএএস-এর আপত্তি রয়েছে বলে সম্প্রতি জানা গিয়েছিল।   সরকারি সংস্থাটির এক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন, "সারাই সম্পূর্ণ হলেও সুরক্ষাজনিত কারণে এই মসজিদটি বন্ধই রাখা হচ্ছে।"   বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদের অবস্থান নিয়ে আগে একাধিক বার সরব হয়েছিলেন বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা।   তাদের দাবি ছিল, এই মসজিদটি এখানে থাকার কারণে বিমান ওঠা নামায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রতিদিন এখানে ৫০ থেকে ৬০ জন নামাজ পড়তে আসেন ফলে বিমান বন্দরের মতো উচ্চ সুরক্ষা বলয়ে থাকা এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।   পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মেচেদায় একটি সভা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা কাউকেই ধর্ম পালনে বাঁধা দিচ্ছি না। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাই এভাবে মসজিদ খুলে রাখা যায়না।"   তবে বিতর্ক দানা বেঁধেছে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কথায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, "সরকারি জমিতে কোনও মসজিদ হবেনা।"   এই মন্তব্যের পরে অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে এই মসজিদটির ইতিহাস সম্প্রসারিত কলকাতা বিমানবন্দরের থেকেও পুরোনো।   বিমানবন্দরের ভিতর মসজিদের ইতিহাস কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে যে মসজিদটি অবস্থিত সেটির নাম বাঁকরা মসজিদ। কেউ কেউ এটিকে গৌরীপুর জামা মসজিদ নামেও ডাকেন। সাধরণত প্রতি দিন পাঁচ বার নামাজ পড়া হয় এখানে। নিরাপত্তারক্ষীদের আধার কার্ড দেখিয়ে ঢোকেন নামাজ পড়তে আসা মানুষরা।   সাধরণত প্রতি নামাজে ৫০ থেকে ৬০ জনের জমায়েত হয় বলে জানা যায়। ১৯৫০ সালে কলকাতা এয়ারপোর্টের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময়ে এই মসজিদের আশেপাশে যে গ্রামাঞ্চল ছিল, সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মসজিদটি সরানো হয় নি। জানা যায়, এই মসজিদটি ১৩৬ বছরের পুরোনো।   এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "আমি জন্ম থেকেই এই মসজিদে আসছি এবং নামাজ পড়ছি। বাপ-দাদাদের থেকে শুনেছি যে এই মসজিদে ১৮৭০ সাল থেকেই নামাজ পড়া হতো। গত শনিবার আমাদের নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"   তিনি জানালেন, মাঝেমধ্যে আবহাওয়া জনিত কারণে মসজিদ বন্ধ থাকলেও সেটা এক ঘণ্টা বা আধ ঘণ্টার মধ্যে খুলে যেত।   স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই মসজিদে যাওয়ার জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা ছিল। নামাজ পড়তে আসা মানুষরা সেই বাসেই বিমানবন্দরের ট্যাক্সিওয়ে ধরে যেতেন। নামাজ পড়া হয়ে গেলে তারা এই বাসেই ফিরে আসতেন। কারা ঢুকছেন ও বের হচ্ছেন নজর রাখতেন নিরাপত্তারক্ষীরা।   মসজিদ সরানোর দাবি তবে এই মসজিদটি সরানোর দাবি নতুন নয়। বিমানবন্দরের এক প্রাক্তন অধিকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ৯০-এর দশক থেকেই মসজিদটি সরানো নিয়ে কথা চলছে।   তিনি জানান, মসজিদটির জন্য বিমানবন্দরে ইন্স্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম বসাতে সমস্যা হচ্ছিল।   ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে ভারতের সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্যসভায় সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিমান চলাচল মন্ত্রীকে তিনি প্রশ্ন করেন যে এই মসজিদটি সরানোর বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে কিনা। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে মসজিদটি থাকার কারণে রানওয়েটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।   সেই প্রশ্নের উত্তরে বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী বলেন, কলকাতা বিমানবন্দরে একটি প্রাইমারি ও একটি সেকেন্ডারি রানওয়ে আছে। প্রাইমারি রানওয়েটিই মূলত ব্যবহৃত হয়, কিন্তু কোনও কারণে সেটি বন্ধ থাকলে সেকেন্ডারি রানওয়েটি ব্যবহার করা হয়। এই মুহূর্তে মসজিদটি রানওয়ে থেকে ৮৮ মিটার দূরে আছে।   এই উত্তরে অবশ্য শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন তিনি সন্তুষ্ট নন এবং সরানোর উদ্যোগ নিয়ে কোনও জবাব দেননি মন্ত্রী।   তবে সম্প্রতি ভারতের ব্যুরো অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়াকে এই মসজিদটির উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে।   এর পরেই মসজিদটি সরাতে উদ্যোগী হয়েছে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।   মসজিদ সরানো নিয়ে বিরোধিতা এই মসজিদটি অন্যত্র সরানোর বিরোধিতা করেছিলেন সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।   সম্প্রতি তিনি মিডিয়াকে জানিয়েছেন, "এমন কোনও উদাহরণ নেই যেখানে শৃঙ্খলা ভেঙে এয়ারপোর্টের ভিতর কোনও কাজ করেছেন নামাজ পড়তে আসা মানুষ। এয়ারপোর্টের ডিরেক্টরকে ও এয়ারপোর্ট থানার ওসিকে আমি তিন বার ফোন করলেও তারা আমার ফোন ধরেননি।" "এটা গায়ের জোরে হচ্ছে, এটা ঠিক নয়," বলেন তিনি।   তিনি বলেন, "আপনি ইসলামিক সংগঠনগুলিকে জানান যে কী সমস্যা হচ্ছে। নিদেনপক্ষে আমাকে জানান। কিন্তু সেসব কিছুই বলা হয়নি।"   এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সিনিয়র বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, "বিরোধীদের কাজই বিরোধ করা। মসজিদটি সরানো হবে এবং স্থানীয় মুসলমানদেরও এটা বুঝতে হবে যে এই কাজ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।"   বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্য, "কোনও ধর্মের বিরোধ আমরা করছি না। যাত্রী সুরক্ষা হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান সব যাত্রীরই। মসজিদের জায়গায় অন্য কোনও ধর্মস্থান হলেও সরানো হতো।"   অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী এমপি ও রাজ্যসভার সদস্য বাবুল সুপ্রিয় বলেন, "এয়ারপোর্টের ভিতরে মন্দির, মসজিদ, চার্চ যাই অসুবিধা সৃষ্টি করুক না কেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে একমাত্র এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।"

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলে সরাসরি তেল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি। ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধকে ‘বিপর্যয়’ বললেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

ইরানি বিমান ঠেকাতে রানওয়ে ধ্বংস করল ইয়েমেন

সংগৃহীত ছবি
পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্তে, আটক সাবেক মার্কিন নৌসেনা

ভারতের বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়া নেপালে প্রবেশের চেষ্টাকালে জর্ডান ব্রাউন নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী আর্মড বর্ডার ফোর্স (এসএসবি) ।   আটক ব্যক্তি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন।   কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় সোনৌলি থানা এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের কাছে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এসএসবির একটি ব্যাটালিয়ন তাকে থামার সংকেত দেয়। এ সময় তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে। মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র ছিল না।   জিজ্ঞাসাবাদে ব্রাউন (৩৬) পুলিশকে জানান, তিনি পর্যটক ভিসায় প্রথমে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন আর সেখানে তার পাসপোর্টটি হারিয়ে ফেলেন। এরপর তিনি সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কা যান এবং সেখান থেকে গত বছরের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথেই ভারতে পৌঁছান।   ভারত ভ্রমণের বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকলেও তখন থেকে তিনি গোয়ায় বসবাস করছিলেন। এর অর্থ হলো, পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি প্রায় সাত মাস ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন।   পুলিশ জানায়, গোয়া থেকে তিনি প্রথমে বেঙ্গালুরু যান এবং সেখান থেকে নেপালে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান।   এসএসবির সহকারী কমান্ড্যান্ট প্রিয়া যাদব জানান, ব্রাউনের কাছ থেকে ৩১ হাজার ৪৬০ রুপি এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা দেখাতে পারেননি।   এসএসবি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য সোনৌলি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।   পুলিশ তার দাবিগুলো যাচাই করছে এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইনের ২১/২৩ ধারায় মামলা হয়েছে।   এদিকে ভিন্ন আরেকটি ঘটনায়, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী ও যুদ্ধবিদ্যার প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে গ্রেপ্তার পাঁচ ইউক্রেইনীয় এবং এক মার্কিন নাগরিককে গত ৩ জুলাই দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করা হয়েছে।   অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা প্রথমে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন এবং পরে মিজোরাম রাজ্য হয়ে মিয়ানমারে যান। সেখানে তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংস্পর্শে আসেন।   এনআইএ-র দাবি, আসামিরা ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়েছেন, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বর্তমানে তারা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন আর এই ঘটনার তদন্ত চলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের ওপর যেভাবে নজর রেখেছে ইরান

আহমেদ আল শারা ও এরদোয়ান।

সিরিয়া সফরে তুর্কি নৌপ্রধান, লাতাকিয়া বন্দরে নোঙর করল যুদ্ধজাহাজ

ছবি : সংগৃহীত

জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা, প্রাণহানি বেড়ে সাড়ে চার হাজার

ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো। ছবি: সংগৃহীত
এক বছর পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, ক্যাবিনেটে বড় রদবদল

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। দেশটির পার্লামেন্ট মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে।    তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমন আকস্মিক ও বড় পরিবর্তনের পেছনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি খুব স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি কেবল উল্লেখ করেছেন যে দেশের রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আসছে এবং এর জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা অবশ্য উষ্মা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   ৪০ বছর বয়সি অর্থনীতিবিদ স্ভিরিডেনকো বিদায়ী ভাষণে বলেন, এই বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত এবং নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি রেখেছিল। তিনি তার ওপর আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে তিনি সবসময় ফলাফলের ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ করেছেন।   স্ভিরিডেনকো যখন এক বছর আগে ক্যাবিনেটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার মাত্র কয়েক মাস আগেই ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে একটি বড় ধরনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছিল, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।    তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে সমালোচকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। অবশ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে জেলেনস্কির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের টানাপোড়েনের পর ওয়াশিংটনের সাথে একটি খনিজ বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন করতে স্ভিরিডেনকো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।   বিরোধী দল হোলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের কর্মকাণ্ডকে কটাক্ষ করে বলেছেন, সরকার প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে—প্রতিদিন নতুন নতুন উপস্থাপনা, সংবাদ সম্মেলন এবং প্রতিদিন দুর্নীতির মামলায় একজন করে নতুন সন্দেহভাজনকে সামনে আনা হয়েছে।   স্ভিরিডেনকোর এই বিদায়ের ফলে নিয়ম অনুযায়ী পুরো সরকারেরই পতন ঘটল। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কিকে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন।    এছাড়াও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান জ্বালানি মন্ত্রী ও স্ভিরিডেনকোর পূর্বসূরি ডেনিস শমিহাল কিংবা প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভের নামও আলোচনায় রয়েছে।   চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেন যখন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিকস লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়ে অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক পরিবর্তন এলো।    ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর মূল দায়িত্বই থাকে দেশের যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা এবং রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামো মেরামত করা।    পদত্যাগের আগে স্ভিরিডেনকো সতর্ক করে গেছেন যে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীত মৌসুমের প্রস্তুতি নেওয়া, কারণ রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ও গ্যাস সংযোগের ওপর হামলা আরও জোরদার করতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৪, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে পাহারা দিচ্ছে আইআরজিসির নৌ-বাহিনী। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণ, উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালি

ছবি : সংগৃহীত

শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে ভারতের জবাব: ‘প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়’

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ও অবরোধ দুটোই প্রয়োগ করছেন ট্রাম্প

0 Comments