শিক্ষা

‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ স্লোগান দেওয়া ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আয়োজন হতে যাওয়া অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ হিসেবে স্লোগান দেওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পাঁচ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং বিতর্ক ওঠায় তাদের আয়োজক কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক  ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি বলেন, আগের কমিটির বিষয়টি ড্রাফট ছিল। সেখানে বিতর্কিত কয়েকজনের নাম চলে এসেছিল। তবে আয়োজক কমিটির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’

 

জানা গেছে, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) এর আওতাভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এর আওতায় জেলা, উপজেলা/থানা ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য “Startup, Science Project and Innovation ldea Showcasing” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ বলে স্লোগান দেওয়া কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছিল।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ৪ আগস্ট মাউশির গেটে মিছিল করেছিলেন আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তারা। মিছিল শেষে মাউশির গেটে অবস্থান নিয়ে ‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন। প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের ওই অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য গঠিত কমিটি খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ বলা পাঁচ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল।

সূত্রর তথ্য বলছে, মিছিলকারী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা হলেন- মাউশির বাজেট শাখার (অর্থ ও ক্রয় উইং) সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, বিশেষ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক তারিকুল ইসলাম, পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমান এবং এসইডিপি প্রজেক্টের উপ-পরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীন । 

এদের মধ্যে মাউশির বাজেট শাখার (অর্থ ও ক্রয় উইং) সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে খাবার, আতিথিয়তা ও আপ্যায়ন উপকমিটি, প্রতিযোগীদের সাথে যোগাযোগ ও মহড়া আয়োজন উপকমিটি এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা উপকমিটিতে রাখা হয়েছিল। 

 

পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামকে সারা দেশ থেকে আগত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহণ কমিটিতে রাখা হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিজয়ী প্রতিযোগীদের তালিকা তৈরি ও পুরস্কার বিতরণ উপকমিটি ও প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহণ কমিটিতে রাখা হয়েছিল বিশেষ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক তরিকুল ইসলামকে। 

 

এছাড়া পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমানকে মিডিয়া, প্রচার ও ডিজিটাল সাপোর্ট উপকমিটিতে এবং এসইডিপি প্রজেক্টের উপ-পরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহন কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তবে সমালোচনার মুখে আয়োজক কমিটি থেকে বিতর্কিত এই কর্মকর্তাদের বাদ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ঢাকা কলেজের প্রভাষক ও শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যারা খুনি বলেছিল, তাদের কীভাবে প্রথম কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছিল সেটি খুঁজে বের করা দরকার। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা সেটিও খোঁজ নেওয়া দরকার।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ স্লোগান দেওয়া ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আয়োজন হতে যাওয়া অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ হিসেবে স্লোগান দেওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পাঁচ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং বিতর্ক ওঠায় তাদের আয়োজক কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।   বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক  ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি বলেন, আগের কমিটির বিষয়টি ড্রাফট ছিল। সেখানে বিতর্কিত কয়েকজনের নাম চলে এসেছিল। তবে আয়োজক কমিটির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’   জানা গেছে, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) এর আওতাভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এর আওতায় জেলা, উপজেলা/থানা ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য “Startup, Science Project and Innovation ldea Showcasing” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ বলে স্লোগান দেওয়া কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছিল।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ৪ আগস্ট মাউশির গেটে মিছিল করেছিলেন আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তারা। মিছিল শেষে মাউশির গেটে অবস্থান নিয়ে ‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন। প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের ওই অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য গঠিত কমিটি খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ বলা পাঁচ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল। সূত্রর তথ্য বলছে, মিছিলকারী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা হলেন- মাউশির বাজেট শাখার (অর্থ ও ক্রয় উইং) সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, বিশেষ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক তারিকুল ইসলাম, পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমান এবং এসইডিপি প্রজেক্টের উপ-পরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীন ।  এদের মধ্যে মাউশির বাজেট শাখার (অর্থ ও ক্রয় উইং) সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে খাবার, আতিথিয়তা ও আপ্যায়ন উপকমিটি, প্রতিযোগীদের সাথে যোগাযোগ ও মহড়া আয়োজন উপকমিটি এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা উপকমিটিতে রাখা হয়েছিল।    পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামকে সারা দেশ থেকে আগত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহণ কমিটিতে রাখা হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিজয়ী প্রতিযোগীদের তালিকা তৈরি ও পুরস্কার বিতরণ উপকমিটি ও প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহণ কমিটিতে রাখা হয়েছিল বিশেষ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক তরিকুল ইসলামকে।    এছাড়া পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমানকে মিডিয়া, প্রচার ও ডিজিটাল সাপোর্ট উপকমিটিতে এবং এসইডিপি প্রজেক্টের উপ-পরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহন কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তবে সমালোচনার মুখে আয়োজক কমিটি থেকে বিতর্কিত এই কর্মকর্তাদের বাদ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।   নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ঢাকা কলেজের প্রভাষক ও শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যারা খুনি বলেছিল, তাদের কীভাবে প্রথম কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছিল সেটি খুঁজে বের করা দরকার। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা সেটিও খোঁজ নেওয়া দরকার।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাউবির প্রো-ভিসি পদ থেকে অপসারিত ড. দিল রওশন আরা

শিক্ষামন্ত্রীকে শূন্যে ভাসিয়ে এমআইএসটি গ্র্যাজুয়েটদের অভিনব উল্লাস

ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিকে যোগদানে তিন দফা দাবি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের

ছবি: সংগৃহীত
বাংলা-ইংরেজির সঙ্গে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা, আসছে নতুন কারিকুলাম

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়ে আসছে। তবে এ ব্যবস্থায় আসছে নতুন পরিবর্তন। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে এ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আরও একটি বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ পাবে।   তৃতীয় ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে একটি পৃথক অধ্যায় সংযোজন করা হচ্ছে। নতুন এই অধ্যায় আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি বই। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ এবং ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।   অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে আরও দুটি নতুন বই সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   এনসিটিবি’র সদস্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক জানান, চতুর্থ শ্রেণির বইগুলো হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নিয়ে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি বই যুক্ত হচ্ছে একটি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ অন্যটি ‘কারিগরি শিক্ষা’। তবে পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া নতুন চারটি বই যুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদরা।   বই প্রকাশের আগে শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, না বুঝে বা বুঝার ভান ধরে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করতে গেলে শিক্ষা তো বিশৃঙ্খলায় পরবেই সঙ্গে গভর্নমেন্টও চাপের মুখে পরবে। তাই সুচিন্তিত ভাবে দেশের শিক্ষকদের ও স্কুলের সক্ষমতা অনুযায়ী আগাতে হবে।   বইয়ের বোঝা না বাড়িয়ে শেখার পদ্ধতি আরও আকর্ষণীয় করার পরামর্শ শিক্ষাবিদদের। অধ্যাপক আরও মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, পুরো কারিকুলামটা এমন ভাবে সাজাতে হবে যেন তা আনন্দদায়ক হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

নতুন শিক্ষাক্রম ২০২৮: প্রাথমিকে ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয়

ছবি: সংগৃহীত

অনার্সে তিন বিভাগ বাতিলের দাবি ভিত্তিহীন: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি সরকারের প্রথম নারী ভিসি হলেন ঢাবি অধ্যাপক তাহমিনা

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক তাহমিনা আখতারকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আজ সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।     প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৬-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার বছর মেয়াদে বা অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন। তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতনভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। চ্যান্সেলর চাইলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।   অধ্যাপক তাহমিনা আখতার ৩৫ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করছেন। তিনি বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। সেই সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সাধারণও ছিলেন।   জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এখন পর্যন্ত ঢাকাসহ ২০-এর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে সরিয়ে নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে নারী অধ্যাপিকা একজনও ছিলেন না। এবার প্রথমবার নারী ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ধীরগতিতে জাতীয় গ্রন্থাগার নির্মাণ, চার বছরে ১১ কোটি টাকা খরচ

ছবি: সংগৃহীত

২০ জুলাইয়ের মধ্যেই প্রকাশ হচ্ছে এসএসসির ফল: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাই উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার: প্রধানমন্ত্রী

0 Comments