অন্যান্য

খালেদা জিয়া ছাড়া দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস পরিপূর্ণ হবে না : বাসুদেব ধর

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস পরিপূর্ণ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর। তিনি বলেন, ইতিহাসে খালেদা জিয়া আজ এক মৃত্যুঞ্জয়ীর নাম।

 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন।

 

বাসুদেব ধর বলেন, প্রয়াত এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়কসহ তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই শোক শুধু ব্যক্তির নয়, গোটা জাতির এবং ইতোমধ্যেই আমরা তা লক্ষ্য করেছি। বিশ্বের ইতিহাসে আমরা যদি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস দেখি বা আগামী দিনে দেখব- তাতে বাংলাদেশ অধ্যায় বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া সম্পন্ন হবে না। এটা ইতিহাস প্রমাণ করেছে।

 

তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম জিয়াকে রাজপথে দেখেছি এবং সে রাজপথে আমরাও ছিলাম। সমঅধিকারের দাবি নিয়ে আমরা সোচ্চার ছিলাম, সেখানে তার সহানুভূতি পেয়েছি। বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি বারবার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেখানেই অধিকার খর্ব হয়েছে, সেখানেই আমরা তার সরব উপস্থিতি লক্ষ করেছি।

 

তিনি আরও বলেন, যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক, তবে যে মৃত্যু মানুষকে মৃত্যুঞ্জয়ী এবং আরও প্রতিবাদী হওয়ার প্রেরণা জোগায়, তারা ইতিহাসে স্থান করে নেন। বেগম খালেদা জিয়া এ রকম একটি নাম।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বলেন, এই নাগরিক শোকসভায় হয়তো বিভিন্ন মতের লোক রয়েছেন। আজকে আমরা এক নতুন পরিস্থিতিতে শুধু একটি কথাই আপনাদের কাছে নিবেদন করতে চাই- এবারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামটা যেন আমরা হাতছাড়া না করি এবং এটাই হবে বেগম জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদন। বাংলাদেশের একটি নাগরিকও যাতে ধর্ম বা অন্য কোনো কারণে নিগৃত না হয়, এই নতুন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যদি তা নিশ্চিত হয়- আমি মনে করি, সেটাই হবে মরহুমার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন।

 

বাসুদেব ধর বলেন, আমি মনে করি, আজকের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বার্তা ছড়িয়ে পড়বে যে, আগামী দিনে আমরা এক নতুন ইতিহাস গড়ব। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা হয়তো বিভিন্নভাবে কাজ করছি। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতিটা চাই যে, এই গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা যেন অতীতের সমস্ত কালিমা মুছে সব নাগরিকের অধিকার এবং বৈষম্যের দেয়ালটা ভেঙে ফেলতে পারি, অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি। তবেই হবে এই রাজনীতিবিদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন।

 

তিনি বলেন, আগামী দিনে নির্বাচন আছে, রাজনীতি আছে। সব ক্ষেত্রে সব মানুষের অধিকার যেন নিশ্চিত হয়- সেটা রাজনীতি হোক, সংবিধান হোক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে যেন কোনো বৈষম্য না থাকে- সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা আজকে একটা অবস্থানে এসেছি। কিন্তু আমরা সেটা বাস্তবক্ষেত্রে দেখতে চাই, বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই। যে মৃত্যুঞ্জয়ী স্বপ্ন খালেদা জিয়া আমাদের দেখিয়েছেন- সেটা সার্থক হোক, সফল হোক। আমরা যেন প্রত্যেকেই এক একজন খালেদা জিয়া হতে পারি, এই শোকসভায় আমি সে কামনাই করি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
পানির ন্যায্য হিস্যায় একবিন্দু ছাড় দেব না: নাহিদ ইসলাম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি শুধু নবায়ন করলেই হবে না, নতুন করে চুক্তি করতে হবে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজসহ বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সমান অংশীদার করতে হবে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পলাশী চত্বরে শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন অনেকগুলো নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুসারেও এই নদীর ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশে পাওয়ার কথা থাকলেও গত ৫০ বছরেও বাংলাদেশ সেই ন্যায্য হিস্যা পায়নি। ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সেটা শুধু পানি নিয়ন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করার একটি পরিকল্পনা, একটি হাতিয়ার। তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে আমাদের ১৯৭৭ সালে চুক্তি করার কথা ছিল। মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক লংমার্চ করেছিলেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়। সেই পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। সেই মেয়াদ শেষ হওয়াকে ঘিরে আমাদের কাছে নতুন প্রশ্ন এসেছে। আবরার ফাহাদ যেটা চেয়েছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করার সময় এখন এসেছে। তিনি আরও বলেন, সরকার, বিরোধী দল এবং ভারত যে ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তারা সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশকে তারা প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়, সেটা প্রমাণ করতে হবে। ভারত-বাংলাদেশের এই নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি আবার কীভাবে হচ্ছে, সেটা প্রমাণ করতে হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের আজকের সময়ের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, এটা শুধু নবায়ন করলেই হবে না। এই পানি বণ্টন চুক্তি নতুন করে স্বাক্ষরিত করতে হবে। শুধু পানি নয়, বরং নদীর যৌথ হিসাবের প্রশ্নে, নদী ব্যবস্থাপনাতেও বাংলাদেশকে অংশীদারিত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশের নদী এই গঙ্গা, পদ্মা অথচ আমরা জানি না, এই নদীতে কত পরিমাণ, কত কিউসেক পানি আসলে প্রবাহিত হয়। এই তথ্য পর্যন্ত আমাদের সরবরাহ করা হয় না। তিনি বলেন, যে গ্যারান্টি ক্লজের কথা বাংলাদেশ বলছে, ন্যূনতম প্রবাহ সবসময় নাব্যতা বজায় রাখার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। যদি শুষ্ক মৌসুম আসে, যদি কোনো ঘাটতি হয়, সেই ঘাটতি ভারত-বাংলাদেশ সমানভাবে নিতে হবে। এই গ্যারান্টি ক্লজসহ এই চুক্তি নতুন করে করতে হবে। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে আমরা সমুন্নত করতে চাই, তাহলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে, ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থেই চায় প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক, তাহলেই শুধু তিস্তাসহ যেসব অভিন্ন নদী রয়েছে, সেসব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সমভাবে এবং ন্যায্যভাবে সম্পাদন করতে হবে। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের শাহাদাতকালে আমরা ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তথা যে সার্বভৌমত্ব, সেটি আমরা অক্ষুণ্ন রাখব। বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গকে বুঝতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি-সমৃদ্ধি যতটা দিল্লির ওপর নির্ভরশীল, তার চেয়ে বেশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা বাংলাদেশের আশপাশের সব অঞ্চলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে কম্প্রোমাইজ করব না। আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যায় আমরা একবিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। এ বছর যে গঙ্গা চুক্তি হবে, সেখানে ন্যায্য হিস্যা আমাদের আদায় করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব নদীর পানি বণ্টন প্রক্রিয়া, নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যাতে সমান অংশীদারিত্ব পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা গত দুই বছরেও আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করতে পারিনি। আমরা ওসমান হাদির বিচারের রায় কার্যকর করতে পারিনি। আমরা জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের রায় এখনো কার্যকর করতে পারিনি। আমাদের এই তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এই তালিকা দীর্ঘ হওয়ার আগেই আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের রায় অবিলম্বে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন করে কার্যকর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা খুনিদের যেই রায় হয়েছে, ফাঁসির দণ্ড, সেই রায় আমরা অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই। বাংলাদেশ যদি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে, আমরা মনে করি, তাহলে আবরার ফাহাদের আত্মা শান্তি পাবে। বাংলাদেশের জনগণ যে সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লড়াই করেছিল, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা আট স্তম্ভ এই পলাশীর মোড়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, আমাদের গণতন্ত্র, প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব, আমাদের জাতীয় সম্পদ, সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষার জন্য, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব এখন আমাদের, আপনাদের সবার। সরকারের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারকে বলব, আমরা এখানে আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, যা কেবল ভারতবিরোধিতা নয়, বরং যেকোনো আগ্রাসী শক্তির বিরোধিতা করে বাংলাদেশের জনগণের অধিকার, মর্যাদা এবং স্বার্থ সুরক্ষা করা। তিনি বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কিনলেই চলবে না। আমরা দেখতে চাই, সরকার এই পানি, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তি কীভাবে সম্পাদন করে, বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা আদায় করতে পারে। আমরা সেটা দেখতে চাই। নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও আমরা দেখছি, বাংলাদেশের স্বার্থ সরকার কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারছে না। সরকার চীন যাচ্ছে, জাতিসংঘে যাচ্ছে, সব জায়গায় গিয়ে শুধু বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলছে, বৈঠকের কথা শুনছি। কিন্তু বাংলাদেশ গত সাত মাসে কী অর্জন করতে পেরেছে, এটা বাংলাদেশের জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, অবিলম্বে বাংলাদেশের জনগণের সামনে এটা পরিষ্কার করতে হবে। এই গঙ্গা চুক্তিসহ যত আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করতে হবে। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার কথাটি মাথায় রেখেই আমরা সেই চুক্তির পক্ষ বা বিপক্ষ নেব।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এনসিপির দুই নেতাকে বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

দেশকে অস্থির করতে ‘পতিত দোসরদের’ নানা তৎপরতা: রিজভী

সংগৃহীত ছবি

আ.লীগের সিগারেট কোম্পানি পরিচালনার অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে : রাশেদ খাঁন

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন কণা-পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন

পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন বেলজীয় বংশোদ্ভূত বেলজিয়ান-মার্কিন কণা-পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।   আজ মঙ্গলবার সুইডেনের রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করে।   অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ নির্মাণে অনন্য সাধারণ নেতৃত্ব এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কণা আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।   ১৯৮৮ সালে বিজ্ঞানী হালজেন প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন যে, দক্ষিণ মেরুর গভীর ও স্বচ্ছ আদিম হিমবাহের বরফকে কাজে লাগিয়ে মহাবিশ্বের রহস্যময় আধানহীন ‘নিউট্রিনো’ কণা শনাক্ত করা সম্ভব। তাঁর এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে গড়ে ওঠা আইসকিউব অবজারভেটরি সফলভাবে মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে।   বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রাথমিক কণা পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।   নোবেল ফাউন্ডেশনের ১২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর পুরস্কারের মোট অর্থ বাড়িয়ে ১২ মিলিয়ন (১ কোটি ২০ লাখ) সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) করা হয়েছে। এককভাবে মনোনীত হওয়ায় পুরস্কারের সম্পূর্ণ অর্থ, একটি স্বর্ণপদক এবং সম্মাননা সনদ তিনি একাই পাবেন।    আগামী ১০ই ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের প্রয়াণ দিবসে সুইডেনের স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।   রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ১৯০১ সাল থেকে প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদান করে। সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ডিনামাইটের উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর থেকে তাঁর নামে এবং রেখে যাওয়া অর্থে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালে এতে যুক্ত হয় অর্থনীতি।   প্রতিবছর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর দিবস ডিসেম্বরের ১০ তারিখ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হয়। প্রতি ক্ষেত্রে পুরস্কার বিজয়ীরা একটি স্বর্ণপদক, শংসাপত্রসহ একটি ডিপ্লোমা এবং বর্তমানে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার পান।   নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রতিবছর ৩০০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।   ১৯০১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানে মোট ১২০ বার নোবেল পুরস্কার হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে সর্বমোট ২৩০ জন বিজ্ঞানী পদার্থবিদ্যায় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই মেডেল লাভ করেছেন। একজন পেয়েছেন দু’বার। তিনি হলেন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী জন বারডিন। তিনি ১৯৫৬ (ট্রানজিস্টর আবিষ্কার) এবং ১৯৭২ সালে (অতিপরিবাহিতা বা বিসিএস তত্ত্ব) দুবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান।   এ পর্যন্ত মাত্র ৫ জন নারী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এঁরা হলেন, মেরি ক্যুরি (১৯০৩), মারিয়া গোয়েপার্ট-মেয়ার (১৯ ১৯৬৩), ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড (২০১৮), অ্যান্ড্রেয়া গেজ (২০২০) এবং অ্যান ল'হুইলিয়ার (২০২৩)।   ১৯০১ সালে ইতিহাসের সর্বপ্রথম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন জার্মানির কিংবদন্তি পদার্থবিদ ভিলহেম কনরাড রঞ্জন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈপ্লবিক আবিষ্কারগুলোর অন্যতম 'এক্স-রে' বা রঞ্জনরশ্মি আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এককভাবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।   মানুষের নাগালে থাকা সাধারণ আলোক তরঙ্গের বাইরে অদৃশ্য এক শক্তিশালী বিকিরণ ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের হাড় ও কাঠামোর ছবি তোলার এই পদ্ধতি মানবজাতির চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়াকরণকে চিরতরে বদলে দেয়।   ১১৯তম নোবেল (২০২৫): কোয়ান্টাম টানেলিং ও ভবিষ্যতের কম্পিউটার গতবছর ২০২৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান যৌথভাবে তিন বিজ্ঞানী: ব্রিটেনের জন ক্লার্ক, ফ্রান্সের মিশেল এইচ. ডেভোরেট এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন এম. মার্টিনিস।   রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস 'ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং' এবং বিদ্যুৎ সার্কিটে শক্তির কোয়ান্টায়ন সংক্রান্ত যুগান্তকারী পরীক্ষার জন্য তাঁদের সম্মানিত করে।    তাঁদের এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, সাধারণত অতি-ক্ষুদ্র কণার জগতে দৃশ্যমান অদ্ভুত কোয়ান্টাম আচরণগুলো মানুষের হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় এমন বড় সার্কিটেও তৈরি করা সম্ভব।    এই আবিষ্কারটি বর্তমান বিশ্বের বহুল আলোচিত সুপার-ফাস্ট কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং হ্যাকিং-মুক্ত কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি বা তথ্য সুরক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৬, ২০২৬

মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি উন্মোচনে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন মার্কিন-জার্মান তিন বিজ্ঞানী

বাঁ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সারজিস আলম, ডা. মাহমুদা মিতু। ছবি: সংগৃহীত

নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ, সারজিস ও মিতু

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধের দাবিতে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ সোমবার

ছবি: সংগৃহীত
পাটওয়ারীর ওপর হামলা নিয়ে ফেসবুকে যা বললেন হাসনাত-সারজিস

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির দুই নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা নাইম আবেদিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাজারের মতো একটা পবিত্র জায়গার ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ এসে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।’   হামলার পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সরকারের সময় এটি নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপর পঞ্চমবারের মতো হামলা।’   তিনি আরও বলেন,‘বারবার হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না,’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। হাসনাত লেখেন, ‘হামলা করে পাটওয়ারীদের কেউ থামাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’   হাসনাত বলেন,‘ন্যায়, অধিকার ও আজাদীর যে লড়াই শুরু হয়েছে, কোনো বাধাই তা থামাতে পারবে না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’   ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর এটি পঞ্চমবারের মতো হামলা। একজন নেতাকে কতটা ভয় পেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এতটা উন্মাদ হতে পারে?’   তিনি আরও বলেন, ‘এবার কুষ্টিয়ায় মাজারের ভেতরে প্রবেশ করে পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় জামায়াতের দুই মেয়র প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিলেন আমির

সংগৃহীত ছবি

হাসানুল হক ইনুর সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহে আপিলের সিদ্ধান্ত

প্রতীকী ছবি

দ্বিতীয় বিয়ের আগে অনলাইনেই যাচাই করা যাবে আগের বিয়ের তথ্য

0 Comments