জাতীয়

কেন বিদেশ সফরে যেতে পারেননি, জানালেন রাষ্ট্রপতি

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তাঁর দুইবার বিদেশ সফর ড. ইউনূস আটকে দিয়েছেন। মূলত ওই সরকার চায়নি কোথাও তাঁর নাম প্রকাশিত হোক। তাঁকে একদম অন্ধকারে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে এবং জনগণ যাতে তাঁকে চিনতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছে। এটি রাষ্ট্রপতির ভাষ্যে খুবই কষ্টের বিষয় ছিল।


গত শুক্রবার একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, গত ডিসেম্বরের ঘটনা। কসোভো থেকে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল একটি অ্যাসেম্বলিতে কি-নোট পেপার পড়ার জন্য। কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি। এরপর কাতারের আমির আমাকে দাওয়াত করল একটি সামিটে অংশগ্রহণের জন্য, যেখানে রাষ্ট্রপতি একমাত্র বক্তা হবেন।


তিনি জানান, তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, যা তারা নিজেরাই ড্রাফট করে তাঁকে পাঠায়। চিঠিতে লেখা ছিল, রাষ্ট্রীয় কাজে আমি ভীষণ ব্যস্ত, তাই সামিটে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। আমি দুঃখিত। রাষ্ট্রপতি বলেন, চিঠি দেওয়ার সময় তাঁকে কোনো পরামর্শ বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পরে তিনি জানতে পারেন, এ ধরনের দাওয়াত আসলেও তাকে জানানো হয়নি।


রাষ্ট্রপতি হেসে বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি কি এত বেশি ব্যস্ত থাকে, আমাদের সংবিধানের আলোকে? যাই হোক, পরে আমি ওই চিঠিতে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাল্টা চিঠি পাঠাই। তাতে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চিঠি দিই। ওই চিঠির জবাবে তারা নিরুত্তর ছিল। এরপর আর কোনো দেশ থেকে আমন্ত্রণ এসেছে কি না, সে বিষয়ে আমি জানতে পারিনি।


রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, শুধু বিদেশে নয়, দেশের কোনো অনুষ্ঠানেও আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি রীতি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক হলেও সেটিও আটকে দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, এই বাধা আর আটক শুধু ব্যক্তিগত কষ্ট নয়, এটি সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পেশাগত দায়িত্ব ও সাংবিধানিক মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলার

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধায় ব্যারাকের ওয়াশরুম থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

গাইবান্ধায় পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাকের ওয়াশরুম থেকে হাবিবুর রহমান (৩৩) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।   বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।   নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়া এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি নায়েক পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন। তার একটি ছোট ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।   ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ; পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোয় গার্ডের দায়িত্বে যোগ দেন হাবিবুর। সেখানে অন্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। বুধবার বিকেলে ব্যারাকের ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখতে পান সহকর্মীরা। গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি অন্যদের জানান। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওয়াশরুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে হাবিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। এরপর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেনের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা কাটাকাটি: গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল জানান, দুপুরে মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন হাবিবুর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন এবং ভিডিও কল চলাকালীন আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওসি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। হাবিবুরের আচরণ দেখে তার স্ত্রী বিষয়টি পুলিশকে জানাতে পারতেন বা জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে পারতেন।   ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হচ্ছে: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার আগে বা পরে হাবিবুর ওয়াশরুমে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ড: নওগাঁর ৭ শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরছে বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

সাতকানিয়ায় বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল মেকানিকের

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ৫৫তম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

হামদ, নাত, দরুদ শরিফ, তাকবির ও জিকিরে মুখর হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম নগরী। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম ‘জশনে জুলুস’। এতে নগর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ অংশ নেন।   বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। নির্ধারিত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে এটি জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।   ভোর থেকেই জুলুসে অংশ নিতে নগরের ষোলশহর ও আশপাশের এলাকায় মানুষের সমাগম শুরু হয়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ হেঁটে, ট্রাক ও পিকআপে করে সেখানে আসেন। জুলুসের পুরো পথজুড়ে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত, দরুদ ও জিকিরের আয়োজন ছিল।   ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে এই জশনে জুলুস আয়োজন করা হচ্ছে। আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ জুলুসের প্রবর্তক হিসেবে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর নাম উল্লেখ করেন আয়োজকরা।   এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।   জুলুসকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়। মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসে বিভিন্ন ধরনের ভাসমান দোকান ও মেলা। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পানি, শরবত ও খাবার বিতরণ করা হয়।   জনসমাগমের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী শৌচাগারও স্থাপন করা হয়।   নির্ধারিত রুট অনুযায়ী ষোলশহর থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে নির্ধারিত জুলুস ময়দানে ফিরে আসে।   এদিকে জুলুসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জুলুসের রুটে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।   গত বছর জশনে জুলুস চলাকালে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর এবার জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।   আয়োজক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্যে এবার কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ৫৫তম জশনে জুলুস।   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জশনে জুলুস সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে: আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে মুখোশধারীরা ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী

রাতারাতি ‘বৈপ্লবিক পরিবর্তন’ আশা করতে পারি না: আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমরা কেউ আশা করতে পারি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদেশের গণমানুষের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে, নির্দেশনায় আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে একটা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে পারব…ইনশাআল্লাহ জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে। এই বাহিনী জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করবে।’   বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঢাকায় বিএনপি আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) আলোচনা সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   সাম্প্রতিক মাসগুলো দেশে একের পর একে খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা চলছে। রংপুরে এক শিক্ষক পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের যেমন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তেমনি তাদের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা হবে।   ‘দুষ্টের দমন সৃষ্টের পালননীতি’ অনুসরণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, ‘সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ দায়িত্ব নেয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই, যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারে নাই বা বিচারের উদ্যোগ নেয় নাই। একটি ঘটনাও নাই। এটাই বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৬, ২০২৬

আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি ‘গর্হিত অপরাধ’: চিফ হুইপ

মাজার ধ্বংস করলে আমরা ঘরে বসে থাকব না: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার বসছে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

0 Comments