কাতারের বৃহত্তম গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রাস লাফান শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৬ জন।
রোববার রাতে রাস লাফান শিল্পাঞ্চলের বারাজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনো হামলা বা নাশকতার ঘটনা নয় বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের শব্দ রাজধানী দোহা পর্যন্ত শোনা গেছে। তবে এ ঘটনায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রাস লাফান শিল্পাঞ্চল দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি। এখান থেকে কাতারের বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি শোধনাগার এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
উল্লেখ্য, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বন্ধ থাকা এই গ্যাস স্থাপনাটি মাত্র দুই দিন আগে আবার চালু করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই দুর্ঘটনাকে কাতারের জ্বালানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এবিসি নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বজুড়ে ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার এখন যোগব্যায়াম। ২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদির সরকার একে সফট পাওয়ারের মূল মাধ্যম হিসেবে জোরেশোরে প্রচার করছে। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘যোগব্যায়াম সর্বজনীন। যোগব্যায়াম আমাদের শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে শান্ত ও আবেগগতভাবে স্বস্তি দেয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি কেবল ম্যাটের ওপর কিছু ব্যায়াম করা নয়। যোগব্যায়াম একটি জীবনধারা। স্বাস্থ্য ও কল্যাণের প্রতি এটি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’ ভারতের এই যোগব্যায়াম কূটনীতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। দেশটির ‘আয়ুশ’ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এ প্রচার চলছে। এর মাধ্যমে বিশ্বদরবারে ভারতকে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। তবে ভারতের ভেতরের পরিস্থিতির কারণে এ উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। মোদি সরকারের আমলে ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ বেড়েছে। ২০২০ সালে গবেষক অনুশা লক্ষ্মী লিখেছিলেন, ‘নিজের প্রশাসনের সহিংসতা, অনমনীয়তা ও অসহিষ্ণুতা আড়াল করতে মোদি যোগব্যায়ামকে ব্যবহার করছেন।’ আর ফিলিস্তিনে ভারতের এই যোগব্যায়াম কূটনীতি সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে। ঘটনা ১: ৯ মার্চ ২০২৫ গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যেই ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ভারতীয় মিশন ‘প্রধানমন্ত্রীর যোগব্যায়াম পুরস্কার’-এর জন্য আবেদন আহ্বান করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক গ্রাফিকে মিশন লেখে, ‘জীবন বদলে দিতে যোগব্যায়ামের শক্তি উদ্যাপন করুন।’ অথচ এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ৮ মার্চ ২০২৫ তারিখেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তত দিনে মোট নিহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৪৫৩–তে। আহত হন ১ লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন আরও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। এর পরদিন, ৯ মার্চ সকালে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে লাখ লাখ মানুষের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস ডি-স্যালাইনেশন প্ল্যান্টগুলোর কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে। তখন রমজান মাস চলছিল। গাজায় ত্রাণের সংকট তীব্র হচ্ছিল। যুদ্ধবিরতির আলোচনাও তখন সুতায় ঝুলছিল। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন, তুলকারম ও তুবাসে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চলছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যেখানে ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল, ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০০টিতে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা জানায়, ‘২১ জানুয়ারি অভিযান শুরুর পর জেনিন ও তুলকারমের ক্যাম্প থেকে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা।’ এমন এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ফিলিস্তিনিদের যোগব্যায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছিল ভারত। ঘটনা ২: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় মিশন থেকে আরেকটি পোস্ট করা হয়। বিশ্ব ধ্যান দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের ‘দাজি’র সঙ্গে অনলাইনে ধ্যানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায় মোদি সরকার। ইসরায়েলি বাহিনী যখন গাজার প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মসজিদগুলো একের পর এক ধ্বংস করছিল, তখন ভারতীয় মিশন ফিলিস্তিনিদের ‘শান্তি, সহানুভূতি ও সংহতির’ জন্য অনলাইন ধ্যানে বসার কথা বলছিল। একে এক চরম নির্মম পরিহাস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। শুধু তা–ই নয়, ২১ ডিসেম্বর আরও বেশ কিছু ঘটনা ঘটে: হেব্রনের বাইরে মোহাম্মদ ওয়ায়েল আল-শারুফ নামের এক ফিলিস্তিনিকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। আল–জাজিরার খবর অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া শহরে অভিযান চালিয়ে ১৬ বছরের এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দেয়। এমন রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতেও ভারতের পরামর্শ ছিল—ফিলিস্তিনিরা যেন ধ্যানে মগ্ন হন। এ পোস্টগুলোকে কেবল ‘ভুল সময়ে করা সংবেদনহীন পোস্ট’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্কের দিকে তাকালে এর পেছনে এক গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শান্তির বার্তা ছড়িয়ে আসলে নিজেদের অপরাধের দায় ও সম্পৃক্ততা আড়াল করতে চায় ভারত। ফিলিস্তিনিদের ‘সহনশীলতা’ বাড়াতে ভারতীয় মিশন বারবার যোগব্যায়ামের গুণগান গাইছে। কিন্তু যে শক্তির কারণে ফিলিস্তিনিদের এ কষ্টের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা নিয়ে ভারত পুরোপুরি নীরব। গবেষকদের মতে, যোগব্যায়াম বা ‘ওয়েলনেস’ ব্র্যান্ডগুলো এখন আর রাজনীতিমুক্ত নয়। ইসরায়েলেও এর ব্যবহার দেখা যায়। সেখানে জায়নবাদীরা ইসরায়েলপন্থী যোগব্যায়াম প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। এমনকি সাবেক ইসরায়েলি সেনারা যুদ্ধের মানসিক ট্রমা কাটাতে যোগব্যায়াম গ্রুপ তৈরি করেছে। ফিলিস্তিনে ভারতের এই যোগব্যায়াম কূটনীতি মূলত একটি নিরপেক্ষ ও কল্যাণকামী ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা। অথচ পর্দার আড়ালে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্ক দিন দিন আরও মজবুত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের কাছে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে ভারত কেবল যোগব্যায়ামই ব্যবহার করছে না। তারা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে এবং পশ্চিম তীরে ভারত-ফিলিস্তিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের প্রচার চালাচ্ছে। অথচ প্রকৃত বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা দেশ হলো ভারত। অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভারত চার গুণ বেশি অস্ত্র কেনে ইসরায়েল থেকে। শুধু তা–ই নয়, ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের ভিসা বাতিল করে, তখন ভারত সেখানে হাজার হাজার নির্মাণশ্রমিক পাঠায়। সম্প্রতি দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বে’ রূপান্তর করেছে।এমনকি ভারতীয় মিশন ফিলিস্তিনে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও পোস্ট করে। এটি নরেন্দ্র মোদির ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান মিশন: এন্ড প্লাস্টিক পলিউশন’ ক্যাম্পেইনের অংশ। বাস্তবতার নিরিখে এই প্রচারণাও চরম প্রাসঙ্গিকতাহীন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটলাররা যেভাবে ফিলিস্তিনিদের জলপাইবাগান ধ্বংস করছে কিংবা ‘জিউশ ন্যাশনাল ফান্ড’ যেভাবে উচ্ছেদ হওয়া ফিলিস্তিনি গ্রামের ওপর পাইনবন তৈরি করছে, তা নিয়ে এই প্রচারণায় কোনো কথা নেই। দখলদারত্ব ও গণহত্যার মুখে দাঁড়িয়ে প্লাস্টিক দূষণ বা যোগব্যায়ামকে সামনে আনা একই সুতায় গাঁথা। এটি মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আড়াল করার একটি সুকৌশলী ঢালমাত্র।
তুরস্কের ইতিহাসে এই প্রথম উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য এমন একটি দেশে যুদ্ধজাহাজ রফতানি করা হয়েছে। রোমানিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানটি মূলত রোমানিয়ান নৌবাহিনীর কাছে অফশোর পেট্রোল ভেসেল ক্যাম রোমান নামক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তর এবং একই সঙ্গে তুর্কি নৌবাহিনীর জন্য নতুন কিছু প্ল্যাটফর্মের কমিশনিং ও পতাকা উত্তোলন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে নৌ-প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, রোমানিয়ার সঙ্গে আমরা যে বিক্রয় চুক্তিটি সই করেছি, তার মাধ্যমে তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও ন্যাটো এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্রে যুদ্ধজাহাজ রফতানি করা হলো। এরদোয়ান জানান, তুরস্ক এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য ১৪০টিরও বেশি নৌ-প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। দেশের সামরিক জাহাজ নির্মাণ খাত বর্তমানে তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ১০৩ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে নিবিড় এবং উৎপাদনশীল দিন পার করছে বলেও বর্ণনা করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের যেসব দেশের একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করার সক্ষমতা রয়েছে, তুরস্ক তাদের অন্যতম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা ভাগ করে নেওয়াকে তুরস্ক নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তুরস্কের লক্ষ্য আমাদের অঞ্চলে কোনও ধরনের উত্তেজনা তৈরি করা নয়, বরং শান্তি, ন্যায়বিচার, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করা। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অশান্ত ও পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে এরদোয়ান সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, যেসব দেশের যুদ্ধক্ষেত্রে বা বাস্তবে নিজস্ব শক্তি নেই, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে তাদের বেশ বেগ পেতে হতে পারে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও স্পেনে বিদ্যুৎ বিল কমেছে। দেশটির নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ এখন এর সুফল দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর থেকে স্পেনের প্রতিটি পরিবার গড়ে মাসে প্রায় ১০ ইউরো করে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করেছে। এর মূল কারণ হলো সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের ব্যাপক ব্যবহার করছে তারা। স্পেনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২১ সালে যেখানে বিদ্যুতের দামে গ্যাসের প্রভাব ছিল ৫২ শতাংশ, ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৯ শতাংশে। এ সময়ে দেশটিতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বিশ্ব অস্থিরতার মধ্যেও স্পেনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুরক্ষা ঢাল হিসেবে কাজ করছে। গ্যাসের দাম বাড়লেও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। গত কয়েক বছরে স্পেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বড় অগ্রগতি করেছে। ২০১৯ সালের পর দেশটি তাদের সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করেছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করেছে। বর্তমানে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় স্পেনে বিদ্যুতের দাম অনেক কম। উদাহরণ হিসেবে, চলতি বছরের মার্চে ইতালিতে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ছিল ১৪৩ ইউরো, যেখানে স্পেনে ছিল মাত্র ৪২ ইউরো। এদিকে জ্বালানি খাতে জনগণকে স্বস্তি দিতে স্পেন সরকার ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বিদ্যুতের ওপর সাময়িক কর কমিয়েছে। এর ফলে প্রতিটি পরিবার মাসে গড়ে আরও ৮ ইউরো সাশ্রয় করেছে। তবে ২০২৫ সালের বড় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরও নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে এগিয়ে চলেছে স্পেন। সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করতে ব্যাটারি সংরক্ষণ সুবিধা ও নতুন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সূত্র: ইউরোনিউজ