বহুল আলোচিত সিনেমা ‘কান্তারা: এ লেজেন্ড চ্যাপ্টার ১’ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। তবে এই ছবিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বলিউডের ‘এনার্জিটিক’ তারকা রণবীর সিং। গোয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ইফি ২০২৫’ (IFFI 2025)-এর মঞ্চে কান্তারা ছবির অভিনেতা ও পরিচালক ঋষভ শেঠির অভিনয় নকল করতে গিয়ে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।
তবে এই কঠিন সময়ে রণবীরের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছবিটিতে রাজা কুলশেখরের ভূমিকায় অভিনয় করা অভিনেতা গুলশান দেবাইয়া। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইফি ২০২৫-এর মঞ্চে ঋষভ শেঠির উপস্থিতিতেই কান্তারা ছবির সেই আইকনিক ‘দৈব’ অবতারের অভিনয় নকল করেন রণবীর।
কথা প্রসঙ্গে পবিত্র ‘দৈব’ সত্তাকে ভুলবশত ‘ভূত’ বলে সম্বোধন করেন তিনি। রণবীর বলেন, ‘আমি কান্তারা চ্যাপ্টার ১ দেখেছি। ঋষভ, আপনার অভিনয় অসাধারণ ছিল, বিশেষ করে যখন সেই নারী ভূত (চামুন্ডি দৈব) আপনার শরীরে প্রবেশ করে।’
ঋষভ শেঠি তাকে এমনটি করতে বারণ করলেও রণবীর রসিকতা চালিয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই একে ‘অসংবেদনশীল’ এবং ‘সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান’ বলে অভিহিত করেন। যদিও বিতর্ক বাড়ার পরপরই রণবীর সিং তার এই আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন এবং জানান, তিনি কেবল একজন অভিনেতার প্রতি মুগ্ধতা থেকেই এটি করেছিলেন, কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।
গুলশানের সমর্থন সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন গুলশান দেবাইয়া। তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন খুব বেশি উত্তেজিত হয়ে যায়, তখন অনেক সময় ভুল করে বসে। রণবীরের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে। কিন্তু যেহেতু ও নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছে, তাই আমাদের উচিত সব ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়া।’
তার কথায়, ‘ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়গুলো আমাকে খুব একটা প্রভাবিত করে না। তবে কেউ যদি এতে অপমানিত বোধ করেন, তাদের উদ্দেশে আমি বলব রণবীর ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। একজন মানুষ যখন তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়, তখন অন্য পক্ষের উচিত বিষয়টি সেখানেই মিটিয়ে ফেলা।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বিশ্বখ্যাত কার্টুন সিরিজ ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা আর নেই। গত ৬ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘আজিয়াদো’ (যা আজিয়া-ডু অ্যানিমেশন ওয়ার্কস নামেও পরিচিত) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছে। সুতোমু শিবায়ামাকে জাপানি অ্যানিমেশন শিল্পের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতনামা অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি একে একে বহু জনপ্রিয় কাজ উপহার দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই স্টুডিও গড়ে তোলেন। বিশেষ করে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘ডোরেমন’ সিরিজ ও এর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে তিনি এই সিরিজটিকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলেন। তার নিপুণ পরিচালনায় নবিতা, শিজুকা ও ডোরেমনের মতো চরিত্রগুলো কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। ডোরেমন ছাড়াও ‘নিন্তামা রান্তারো’, ‘চিবি মারুকো-চান’ এবং ‘মাজিমে নি ফুমাজিমে কায়েকেতসু জোরোরি’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তিনি প্রধান পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর বাইরেও ‘ডোকোনজো গায়েরু’ ও ‘গানসো টেনসাই বাকাবন’-এর মতো প্রজেক্টে অ্যানিমেশন ডিরেক্টর হিসেবে তার কাজের স্বাক্ষর রয়েছে। অ্যানিমেশন শিল্পে এমন অসামান্য ও কালজয়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে জাপানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিশ্বজুড়ে অ্যানিমেশন প্রেমীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্টুডিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী অত্যন্ত ব্যক্তিগত পরিসরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পরিবারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে সরাসরি সমবেদনা জানানো বা ভিড় করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। ২২ শতকের রোবট বিড়াল ডোরেমন আর তার বন্ধু নবিতার গল্পের মধ্য দিয়ে সুতোমু শিবায়ামা তার অগণিত ভক্তের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ঢালিউড কিং শাকিব খান মানেই নতুন কোনো চমক, আর ঈদ মানেই শাকিবীয় উন্মাদনা। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতর-এর আবহে এবার যেন নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন এই সুপারস্টার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পেল ‘প্রিন্স’ সিনেমার প্রথম রোমান্টিক গান ‘পরী’। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পর্দায় জুটি বেঁধেছেন শাকিব খান ও কলকাতার গুণী অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। গানটির দৃশ্যায়নে দুই বাংলার দর্শকদের জন্য এক মায়াবী ও জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তারা। ইমরান ও কোনালের দরদী কণ্ঠ আর রবিউল ইসলাম জীবনের কাব্যিক ছোঁয়ায় ‘পরী’ গানটি এখন সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। গ্যাংস্টার লুকে অ্যাকশনের ঝড়ের পর শাকিবের এই রোমান্টিক অবতার সিনেমা হল মালিক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক—সবার মাঝেই তৈরি করেছে এক অন্যরকম উন্মাদনা। ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের দীর্ঘ এই গানটি যেন এক একটি ক্যানভাস। গানে শাকিব খানকে দেখা গেছে লম্বা চুল, কানের দুল আর মাল্টিকালার এমব্রয়ডারি জ্যাকেটে একদমই ভিন্ন এক লুকে। অন্যদিকে জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু নীল ও লাল শাড়িতে মোহময়ী রূপ ধারণ করেছেন। মরুভূমির তপ্ত বালুর বুকে শাকিব-জ্যোতির্ময়ীর আবেদনময়ী রোমান্স দর্শকদের নজর কেড়েছে। কখনও পাহাড়ের চূড়ায় রাজমহলে, আবার কখনও উটের কাফেলার মাঝে রাজস্থানি আমেজে ধরা দিয়েছে। এ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় জুটি ইমরান মাহমুদুল ও সোমনুর মনির কোনাল। রবিউল ইসলাম জীবনের কাব্যিক কথায় গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন খোদ ইমরান। গানটির প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছে ভালোবাসার তীব্র আকুতি। ‘ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস’ প্রযোজিত ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। এই সিনেমার মাধ্যমে শাকিব খান ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু প্রথমবার বড় পর্দায় জুটি বাঁধছেন।
ঈদুল ফিতরের রঙিন উৎসবকে ঘিরে যখন বড় পর্দায় নতুন গল্পের উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই হঠাৎ করে ছন্দপতন। প্রতীক্ষার তালিকা থেকে ছিটকে গেল বহুল আলোচিত সিনেমা ‘পিনিক’। জাহিদ জুয়েলের পরিচালনায় আদর আজাদ ও শবনম বুবলীর জুটিকে ঘিরে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল দর্শকদের মনে, তা যেন মুহূর্তেই রূপ নিল হতাশায়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছবিটির মুক্তি ও পরিবেশনার দায়িত্বে থাকা পরিচালক সায়মন তারিক। পরিচালক সায়মন তারিক গণমাধ্যমকে জানান, সময়মতো সেন্সর ছাড়পত্র না পাওয়ায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঈদে ছবিটি মুক্তি দিতে পারছি না। সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেছেন। অথচ আমরা ২১ দিন আগেই ছবিটি জমা দিয়েছিলাম।’ ছাড়পত্র পেতে দেরি হওয়ায় বিপণন ও হল বুকিংয়ের সময় হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘১৬ মার্চ এসে হাতে ছাড়পত্র পেলাম। ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি। এই অল্প সময়ে প্রচারণা কীভাবে করব।‘ শেষে বলেন, ‘আর হলই বা চূড়ান্ত করব কী করে। অথচ ঈদের অন্য সিনেমাগুলো জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা হলো, কিন্তু আমাদেরটা আটকে রাখা হলো। এতে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলাম।’