কাঁধের গুরুতর ইনজুরির কারনে ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষনা দিয়েছেন লিস্টার সিটির সাবেক গোলরক্ষক কাসপার শিমিচেল।
৩৯ বছর বয়সী এই ড্যানিশ সাবেক তারকা গোলরক্ষক পিটার শিমিচেলের ছেলে। ফেব্রুয়ারিতে স্টুটগার্টের বিরুদ্ধে ইউরোপা লিগের ম্যাচে সেল্টিকের হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি ইনজুরিতে পড়েন। পরের মাসে তার কাঁধে অস্ত্রোপচার করা হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।
ড্যানিশ টেলিভিশন চ্যানেল টিভি২’তে শিমিচেল বলেন, ‘জুনে সেল্টিকের সাথে আমার চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
তখনই আমি পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করতে যাচ্ছি। বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সার্জনের সাথে পরামর্শ করেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন আমার আর ফুটবলে ফেরা সম্ভব নয়। এভাবে আমি ক্যারিয়ার শেষ করতে চাইনি। কিন্তু দিনের শেষে বলতেই হয়, সবকিছুরই শেষ আছে।’
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে শিমিচেল ডেনমার্কের হয়ে ১২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ড্যানিশ খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। বাবা ছেলের তুলনায় ৯টি ম্যাচ বেশী খেলেছে।
ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমি থেকে উঠে আসা শিমিচেল ক্যারিয়ারের বেশীরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন লিস্টারে।
২০১৬ সালে লিস্টারের প্রিমিয়ার লিগ জয়ী দলে তিনি ছিলেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ বছর পর লিস্টারকে এফএ কাপের শিরোপা উপহার দিয়েছিলেন। ফ্রেঞ্চ ক্লাব নিসে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে তিনি স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেল্টিকের হয়ে পরপর দুই মৌসুম লিগ শিরোপা জয় করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কাঁধের গুরুতর ইনজুরির কারনে ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষনা দিয়েছেন লিস্টার সিটির সাবেক গোলরক্ষক কাসপার শিমিচেল। ৩৯ বছর বয়সী এই ড্যানিশ সাবেক তারকা গোলরক্ষক পিটার শিমিচেলের ছেলে। ফেব্রুয়ারিতে স্টুটগার্টের বিরুদ্ধে ইউরোপা লিগের ম্যাচে সেল্টিকের হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি ইনজুরিতে পড়েন। পরের মাসে তার কাঁধে অস্ত্রোপচার করা হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। ড্যানিশ টেলিভিশন চ্যানেল টিভি২’তে শিমিচেল বলেন, ‘জুনে সেল্টিকের সাথে আমার চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। তখনই আমি পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করতে যাচ্ছি। বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সার্জনের সাথে পরামর্শ করেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন আমার আর ফুটবলে ফেরা সম্ভব নয়। এভাবে আমি ক্যারিয়ার শেষ করতে চাইনি। কিন্তু দিনের শেষে বলতেই হয়, সবকিছুরই শেষ আছে।’ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে শিমিচেল ডেনমার্কের হয়ে ১২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ড্যানিশ খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। বাবা ছেলের তুলনায় ৯টি ম্যাচ বেশী খেলেছে। ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমি থেকে উঠে আসা শিমিচেল ক্যারিয়ারের বেশীরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন লিস্টারে। ২০১৬ সালে লিস্টারের প্রিমিয়ার লিগ জয়ী দলে তিনি ছিলেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ বছর পর লিস্টারকে এফএ কাপের শিরোপা উপহার দিয়েছিলেন। ফ্রেঞ্চ ক্লাব নিসে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে তিনি স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেল্টিকের হয়ে পরপর দুই মৌসুম লিগ শিরোপা জয় করেছেন।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। দুই ফরম্যাটের দলেই অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাশমতউল্লাহ শহিদি। দলে নিয়মিত তারকা ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে রাখা হয়েছে। তবে লেগ স্পিনার রশিদ খানকে শুধু ওয়ানডে সিরিজের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে, টেস্ট স্কোয়াডে তিনি নেই। ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৬ থেকে ১০ জুন নিউ চণ্ডীগড়ে। এরপর ১৪ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হবে ধর্মশালা, লখনৌ ও চেন্নাইয়ে। আফগানিস্তানের টেস্ট দল হাশমতউল্লাহ শহিদি (অধিনায়ক), আবদুল মালিক, সেদিকুল্লাহ আতাল, রহমত শাহ, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, রহমানউল্লাহ জাদরান, আফসার জাজাই, ইকরাম আলিখিল, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, শরাফুদ্দিন আশরাফ, নাঙ্গিয়াল খারোটাই, কাইস আহমেদ, বিলাল সামি, জিয়া শরিফি ও সালিম সাফি। রিজার্ভ খেলোয়াড়: বশির আহমেদ, বাহির শাহ ও ইসমত আলম। আফগানিস্তানের ওয়ানডে দল হাশমতউল্লাহ শহিদি (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, সেদিকুল্লাহ আতাল, দারবিশ রাসুলি, রহমত শাহ, ইকরাম আলিখিল, মোহাম্মদ নবী, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খান, নাঙ্গিয়াল খারোটাই, এএম গাজানফার, জিয়া উর রহমান শরিফি, ফারিদ মালিক ও বিলাল সামি। রিজার্ভ খেলোয়াড়: কাইস আহমেদ, সালিম সাফি ও বশির আহমেদ।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল প্রকাশ করেছে মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে আলোচনায় আসা আফ্রিকান এই প্রতিনিধিরা এবারও বড় মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে প্রস্তুত। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দিয়েছিল মরক্কো। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবারও অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজিয়েছে তারা। ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে খেলা তারকাদের উপস্থিতির কারণে তাদের এবারের আসরের সম্ভাব্য চমক জাগানো দল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বর্তমান আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে মরক্কো। যদিও সেনেগালের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচের পর কিছু বিতর্কের জেরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাদের শিরোপা নিশ্চিত হয়। দলের নেতৃত্বে থাকছেন আশরাফ হাকিমি। পিএসজির এই ডিফেন্ডারের এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ। আগের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো এবারও দলের ভরসার জায়গা হিসেবে থাকছেন। এছাড়া মরক্কান বংশোদ্ভূত ইউরোপিয়ান ফুটবলারদের মধ্য থেকেও নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে দলে। আগামী ১৩ জুন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে মরক্কো। এরপর ২০ জুন স্কটল্যান্ড এবং ২৫ জুন হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। মরক্কোর চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো (আল-হিলাল), মুনির এল কাজৌই (আরএস বারকান), আহমেদ রেদা তাগনাউতি (রাজা কাসাব্লাঙ্কা) ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি (পিএসজি), নায়েফ আগুয়ের্দ (ওয়েস্ট হাম/অলিম্পিক মার্সেই), নুসাইর মাজরাউই (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), আনাস সালাহ-এদ্দিন (টোয়েন্টে), শাদি রিয়াদ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ইউসুফ বেলামারি (আল আহলি), ইসা দিয়প (ফুলহাম), রেদোয়ান হাহলাল (মেখেলেন), জাকারিয়া এল ওয়াহদি (জেঙ্ক) মিডফিল্ডার সফিয়ান আমরাবাত (ফেনারবাচে/রিয়াল বেটিস), ইসমাইল সাইবারি (পিএসভি আইন্দহোভেন), নিল এল আয়নাউই (রোমা), বিলাল এল খান্নুস (স্টুটগার্ট), আজ্জেদিন ওনাহি (জিরোনা), বুয়াদ্দি (লিল), সামির এল মুরাবেত (স্ট্রাসবুর্গ) ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ (রিয়াল মাদ্রিদ), শেমসদ্দিন তালবি (সান্ডারল্যান্ড), আইয়ুব এল কাবি (অলিম্পিয়াকোস), সৌফিয়ান রহিমি (আল-আইন), আব্দে এজ্জালজৌলি (রিয়াল বেটিস), আয়ুবে আমাইমৌনি (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট), ইয়াসিন গেসিমে (স্ট্রাসবুর্গ)