আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চূড়ান্ত, এখন ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা একটি ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) একমত হয়েছেন।তবে এতে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন এমন তথ্য উঠে এসেছে। 

 

 

মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ইরানও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি।

এই সমঝোতা স্মারক সই হলে তা হবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। তবে ট্রাম্পের পরমাণু শর্ত মেনে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনার দরকার হবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি সবাইকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি চুক্তি মাত্র। চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো আমরা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করব।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত চুক্তির প্রায় সব শর্তেই দু’পক্ষ একমত হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষেরই নিজ নিজ শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানিরা পরে ফিরে এসে জানায় যে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে এবং তারা চুক্তি সই করতে প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

অন্যদিকে মার্কিন আলোচকেরা চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত ট্রাম্পকে জানালেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই করেননি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন যে, তিনি এটি নিয়ে ভাবতে আরও কয়েক দিন সময় চান।

এর আগে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা বেশ কয়েকবার ভেবেছিলেন যে তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন, কিন্তু বারবারই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল।

কী আছে এই সমঝোতা স্মারকে?

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের এই এমওইউতে স্পষ্ট বলা থাকবে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে 'কোনো বাধা থাকবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এর মানে হলো প্রণালি পার হতে কোনো টোল বা ফি লাগবে না এবং কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। এ ছাড়া ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণ করতে হবে।

একই সঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধও তুলে নেওয়া হবে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার হারের ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে এই অবরোধ উঠবে বলে জানান এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ ছাড়া ইরানকে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করবে।

কর্মকর্তারা জানান, এই এমওইউতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। ৬০ দিনের এই সময়সীমার মধ্যে সবার আগে আলোচনা হবে—কীভাবে ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা স্থানান্তর করা যায় এবং তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হবে।

এমওইউতে ইরানে পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর একটি মেকানিজম বা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা থাকবে।

এ ছাড়া লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টিও এই স্মারকে থাকবে। এই ইস্যুটি নিয়ে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এর আগে অন্তত একবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল।

তবে এসব আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার মুহূর্তেও গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুবার ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামনে এখন তাদের অর্থনীতিকে শৃঙ্খলমুক্ত করার সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, 'তাদের (ইরান) ব্যবস্থার ভেতরেও এমন মানুষ আছেন, যারা বোঝেন যে এটি ভিন্ন পথে হাঁটার একটি দারুণ সুযোগ। ৬০ দিনের এই আলোচনাতেই আমরা বুঝতে পারব যে আসলেই তারা এমনটা চায় কি না।'

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা ইরানকে তহবিল দেওয়ার বিষয়ে কোনো 'গোপন চুক্তি' থাকবে না। এক কর্মকর্তা বলেন, 'ইরানিরা যত বেশি ছাড় দিতে রাজি হবে, তারা তত বেশি সুবিধা পাবে।'

দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, আলোচনা চলাকালে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ইরানিরা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা বলেন, 'আমরা যতক্ষণ না এক ঘরে বসে আলোচনা করছি, ততক্ষণ কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আর এ জন্যই আমরা এই এমওইউ করতে চাই। এর মাধ্যমে দুই পক্ষই সরাসরি এক ঘরে বসে আলোচনা করার সুযোগ পাবে।

এমওইউতে আঞ্চলিক শান্তির বিষয়েও কথাও বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই সুযোগে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়।

তারা বলেন, আলোচনার সময় যদি এটা স্পষ্ট হয় যে ইরান পারমাণবিক বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে না, তবে ট্রাম্পের হাতে অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব ধরনের বিকল্পই খোলা থাকবে। 

তেহরান এখনো এই এমওইউ মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে ট্রাম্পও বুধবার জানিয়েছেন, চুক্তি সই করার ক্ষেত্রে তার কোনো তাড়া নেই।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চূড়ান্ত, এখন ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা একটি ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) একমত হয়েছেন।তবে এতে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন এমন তথ্য উঠে এসেছে।      মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ইরানও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। এই সমঝোতা স্মারক সই হলে তা হবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। তবে ট্রাম্পের পরমাণু শর্ত মেনে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনার দরকার হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি সবাইকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি চুক্তি মাত্র। চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো আমরা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করব। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত চুক্তির প্রায় সব শর্তেই দু’পক্ষ একমত হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষেরই নিজ নিজ শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানিরা পরে ফিরে এসে জানায় যে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে এবং তারা চুক্তি সই করতে প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে মার্কিন আলোচকেরা চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত ট্রাম্পকে জানালেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই করেননি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন যে, তিনি এটি নিয়ে ভাবতে আরও কয়েক দিন সময় চান। এর আগে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা বেশ কয়েকবার ভেবেছিলেন যে তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন, কিন্তু বারবারই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। কী আছে এই সমঝোতা স্মারকে? মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের এই এমওইউতে স্পষ্ট বলা থাকবে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে 'কোনো বাধা থাকবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এর মানে হলো প্রণালি পার হতে কোনো টোল বা ফি লাগবে না এবং কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। এ ছাড়া ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধও তুলে নেওয়া হবে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার হারের ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে এই অবরোধ উঠবে বলে জানান এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ ছাড়া ইরানকে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করবে। কর্মকর্তারা জানান, এই এমওইউতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। ৬০ দিনের এই সময়সীমার মধ্যে সবার আগে আলোচনা হবে—কীভাবে ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা স্থানান্তর করা যায় এবং তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হবে। এমওইউতে ইরানে পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর একটি মেকানিজম বা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা থাকবে। এ ছাড়া লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টিও এই স্মারকে থাকবে। এই ইস্যুটি নিয়ে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এর আগে অন্তত একবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। তবে এসব আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার মুহূর্তেও গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুবার ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামনে এখন তাদের অর্থনীতিকে শৃঙ্খলমুক্ত করার সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, 'তাদের (ইরান) ব্যবস্থার ভেতরেও এমন মানুষ আছেন, যারা বোঝেন যে এটি ভিন্ন পথে হাঁটার একটি দারুণ সুযোগ। ৬০ দিনের এই আলোচনাতেই আমরা বুঝতে পারব যে আসলেই তারা এমনটা চায় কি না।' মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা ইরানকে তহবিল দেওয়ার বিষয়ে কোনো 'গোপন চুক্তি' থাকবে না। এক কর্মকর্তা বলেন, 'ইরানিরা যত বেশি ছাড় দিতে রাজি হবে, তারা তত বেশি সুবিধা পাবে।' দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, আলোচনা চলাকালে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ইরানিরা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা বলেন, 'আমরা যতক্ষণ না এক ঘরে বসে আলোচনা করছি, ততক্ষণ কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আর এ জন্যই আমরা এই এমওইউ করতে চাই। এর মাধ্যমে দুই পক্ষই সরাসরি এক ঘরে বসে আলোচনা করার সুযোগ পাবে। এমওইউতে আঞ্চলিক শান্তির বিষয়েও কথাও বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই সুযোগে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়। তারা বলেন, আলোচনার সময় যদি এটা স্পষ্ট হয় যে ইরান পারমাণবিক বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে না, তবে ট্রাম্পের হাতে অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব ধরনের বিকল্পই খোলা থাকবে।  তেহরান এখনো এই এমওইউ মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে ট্রাম্পও বুধবার জানিয়েছেন, চুক্তি সই করার ক্ষেত্রে তার কোনো তাড়া নেই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিচ্ছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল জাপান

ছবি: সংগৃহীত

পদত্যাগ করলেন সিদ্দারামাইয়া, কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে?

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি খুব কাছাকাছি, তবু চূড়ান্ত হয়নি: ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অচলাবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হবে কি না, কিংবা কবে হবে; তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, আলোচকরা এখনো কয়েকটি বিষয় নিয়ে এদিক-সেদিক করছেন। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুটি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।   তিনি বলেন, আমরা এখনো সেখানে পৌঁছাইনি, তবে খুব কাছাকাছি আছি। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।   এর আগে বৃহস্পতিবারই মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।   তবে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।   দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং তাদের মজুত সরিয়ে ফেলতে হবে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এসব ইউরেনিয়াম থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। যদিও তেহরান বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।   ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সামনে আশাবাদী সুরে কথা বলেন জেডি ভ্যান্স। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে ইরান সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচনা করছে।   গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি দেখা যায়নি।   যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের কিছু নেতাও যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।   সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে আলোচনার অনিশ্চয়তাই আরও স্পষ্ট হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের দাবি খণ্ডন করেছে এবং আলোচনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।   ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিকল্প পরিকল্পনা বা সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার পথ এখনো খোলা রয়েছে।   সূত্র : বিবিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব ও পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ছবিসহ ২৫০ ডলারের নোট চালুর চাপ, মত না দেওয়ায় চাকরি হারালেন কর্মকর্তা

ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন উত্তেজনা, মুখ খুললেন মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, সামরিক ব্যর্থতা পুষিয়ে নিতে এই দুই দেশ ইরানকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ ( আত্মসমর্পণে) বাধ্য করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি দেশের নাগরিকদের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।   জাতীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ওই বার্তায় খামেনি বলেন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অবরোধ ও প্রচারণার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা হলো অভ্যন্তরীণ বিভাজন সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে দুর্বল করা।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ২৭ মে রাতে ইরান কুয়েতের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যা কুয়েতি বাহিনী প্রতিহত করে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির আশপাশে পাঁচটি আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলার অভিযোগও আনে ওয়াশিংটন। পরে বন্দর আব্বাস থেকে আরেকটি ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।   অন্যদিকে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। মূলত দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।   মোজতবা খামেনি মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে খুব কমই এসেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির এক বিমান হামলায় তিনি আহত হন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এখন গোপন স্থানে অবস্থান করছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত, যা চলমান শান্তি আলোচনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬

ইরানে ঈদুল আজহা: ভর্তুকির মাংসও সাধারণের নাগালের বাইরে

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা ৪ জাহাজে ইরানের হামলা

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: ড্রোন হামলার জেরে ইরানের বন্দর এলাকায় মার্কিন অভিযান

0 Comments