কাতারে রূপালি ট্রফির গায়ে চুমু এঁকে যখন মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়টা লিখে ফেলেছিলেন, তখন মনে হয়েছিল বৃত্ত সম্পূর্ণ। লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনার রেনেসাঁ পৌঁছে গিয়েছিল চূড়ান্ত গন্তব্যে। পিটার ড্রুরির সেই অবিস্মরণীয় কণ্ঠস্বর তখন লুজাইল স্টেডিয়ামের আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল “লিওনেল মেসি হ্যাজ শেকেন হ্যান্ড উইথ প্যারাডাইস”।
ইন্টার মায়ামির চোটের ধাক্কা বা পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের ক্লান্তি, সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেনাপতি। কিন্তু কেন যে মানুষটি ২০২২ সালেই ফুটবল কমপ্লিট করে অমরত্বের সিংহাসনে বসে গেছেন, কোন টানে তিনি আবারও নামছেন এই মহাযজ্ঞে? এতকাল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন পিঠে এক অন্তহীন পাহাড়সম প্রত্যাশার বোঝা নিয়ে। দিয়েগো মারাদোনার ছায়া তার পিছু ছাড়েনি।
বুয়েনস আইরেসের রাস্তা থেকে ভেসে আসা খোঁটা তাকে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করেছে। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল সেই অভিশাপমুক্তির রাত। এখন মেসি খেলছেন কোনো দায় ছাড়া, কোনো কিছু প্রমাণ করার তাগিদ ছাড়া। যখন একজন শিল্পীর ওপর থেকে সব বাধ্যবাধকতা টুটে যায়, যখন তার তুলির আঁচড় হয়ে ওঠে আরও স্বাধীন, আরও বিধ্বংসী, মেসি এখন খেলছেন কেবলই আনন্দের জন্য, ফুটবলকে ভালোবেসে। যে খেলাটি তাকে সবকিছু দিয়েছে, সেই খেলাটার সবুজ ঘাসে আরও কয়েকটা বিকাল কাটানো।
আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটার দিকে তাকালে এক অদ্ভুত রসায়ন চোখে পড়ে। এনজো ফার্নান্দেজ, হুলিয়ান আলভারেস কিংবা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এরা সবাই মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছেন। এদের কাছে মেসি নিছক একজন অধিনায়ক নন, এক অলৌকিক চরিত্র। এটা স্পষ্ট যে আর্জেন্টিনার বর্তমান স্কোয়াডের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে মেসির ছায়া। আর্জেন্টিনার ফ্রি-কিক, লং-ডিস্ট্যান্স শটের নিখুঁত নিশানা কিংবা ট্যাকটিক্যাল পাসিং সবকিছুতেই মেসির জাদুকরী ছোঁয়া দৃশ্যমান।
কাতারের মেসি যদি ১০০-তে ১০০ হন, তবে এবারের মেসি অন্তত ৮০। কিন্তু এই ৮০ আরও বেশি বিপজ্জনক। কারণ, অনেক বেশি স্মার্ট এবং এনার্জি-সেভিং। মেসি এখন শক্তি অপচয় করেন না, বরং সঠিক সময়ে সঠিক ক্ষুরধার ছোবলটি মারেন। স্কালোনি খুব ভালো করেই জানেন, মাঠে মেসির শতভাগ ফিটনেস না থাকলেও ড্রেসিংরুমে তার কেবল উপস্থিতিটুকুই প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরানোর জন্য যথেষ্ট। মেসি দলের জন্য এক রক্ষাকবচ। তরুণরা যখন মাঠে খেই হারিয়ে ফেলে, তখন মায়াবী বাঁ পায়ের একটা আলতো ছোঁয়া কিংবা জাদুকরী পাস পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
মেসি নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এই তরুণদের হাত ধরে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আরেকবার পথ দেখাতে চান। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডা। মেসি বর্তমানে খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে, ইন্টার মায়ামির হয়ে। এবারের বিশ্বকাপ তার জন্য এক অর্থে নিজের সেকেন্ড হোমে খেলার মতো। চেনা মাঠ, চেনা দর্শক, আর নিজের বর্তমান ঠিকানার আঙিনায় বিশ্বকাপ ধরে রাখার এই লড়াই মেসির জন্য এক পরম মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি।
তিনি তো সেই জাদুকর, যিনি চাঁদের আলো পকেটে পুরে লুজাইলের রাতকে আলোকিত করেছিলেন। মেসি২০২৬ বিশ্বকাপে এসেছেন ফুটবলকে এক শেষ রূপকথা উপহার দিতে। উত্তর আমেরিকার সবুজ গালিচায় যখনই বল তার পায়ে গিয়ে চুমু খাবে, বিশ্ববাসী আরও একবার বলবে ধন্য আমরা। আমরা মেসির যুগে জন্মেছিলাম।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কাতারে রূপালি ট্রফির গায়ে চুমু এঁকে যখন মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়টা লিখে ফেলেছিলেন, তখন মনে হয়েছিল বৃত্ত সম্পূর্ণ। লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনার রেনেসাঁ পৌঁছে গিয়েছিল চূড়ান্ত গন্তব্যে। পিটার ড্রুরির সেই অবিস্মরণীয় কণ্ঠস্বর তখন লুজাইল স্টেডিয়ামের আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল “লিওনেল মেসি হ্যাজ শেকেন হ্যান্ড উইথ প্যারাডাইস”। ইন্টার মায়ামির চোটের ধাক্কা বা পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের ক্লান্তি, সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেনাপতি। কিন্তু কেন যে মানুষটি ২০২২ সালেই ফুটবল কমপ্লিট করে অমরত্বের সিংহাসনে বসে গেছেন, কোন টানে তিনি আবারও নামছেন এই মহাযজ্ঞে? এতকাল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন পিঠে এক অন্তহীন পাহাড়সম প্রত্যাশার বোঝা নিয়ে। দিয়েগো মারাদোনার ছায়া তার পিছু ছাড়েনি। বুয়েনস আইরেসের রাস্তা থেকে ভেসে আসা খোঁটা তাকে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করেছে। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল সেই অভিশাপমুক্তির রাত। এখন মেসি খেলছেন কোনো দায় ছাড়া, কোনো কিছু প্রমাণ করার তাগিদ ছাড়া। যখন একজন শিল্পীর ওপর থেকে সব বাধ্যবাধকতা টুটে যায়, যখন তার তুলির আঁচড় হয়ে ওঠে আরও স্বাধীন, আরও বিধ্বংসী, মেসি এখন খেলছেন কেবলই আনন্দের জন্য, ফুটবলকে ভালোবেসে। যে খেলাটি তাকে সবকিছু দিয়েছে, সেই খেলাটার সবুজ ঘাসে আরও কয়েকটা বিকাল কাটানো। আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটার দিকে তাকালে এক অদ্ভুত রসায়ন চোখে পড়ে। এনজো ফার্নান্দেজ, হুলিয়ান আলভারেস কিংবা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এরা সবাই মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছেন। এদের কাছে মেসি নিছক একজন অধিনায়ক নন, এক অলৌকিক চরিত্র। এটা স্পষ্ট যে আর্জেন্টিনার বর্তমান স্কোয়াডের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে মেসির ছায়া। আর্জেন্টিনার ফ্রি-কিক, লং-ডিস্ট্যান্স শটের নিখুঁত নিশানা কিংবা ট্যাকটিক্যাল পাসিং সবকিছুতেই মেসির জাদুকরী ছোঁয়া দৃশ্যমান। কাতারের মেসি যদি ১০০-তে ১০০ হন, তবে এবারের মেসি অন্তত ৮০। কিন্তু এই ৮০ আরও বেশি বিপজ্জনক। কারণ, অনেক বেশি স্মার্ট এবং এনার্জি-সেভিং। মেসি এখন শক্তি অপচয় করেন না, বরং সঠিক সময়ে সঠিক ক্ষুরধার ছোবলটি মারেন। স্কালোনি খুব ভালো করেই জানেন, মাঠে মেসির শতভাগ ফিটনেস না থাকলেও ড্রেসিংরুমে তার কেবল উপস্থিতিটুকুই প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরানোর জন্য যথেষ্ট। মেসি দলের জন্য এক রক্ষাকবচ। তরুণরা যখন মাঠে খেই হারিয়ে ফেলে, তখন মায়াবী বাঁ পায়ের একটা আলতো ছোঁয়া কিংবা জাদুকরী পাস পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। মেসি নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এই তরুণদের হাত ধরে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আরেকবার পথ দেখাতে চান। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডা। মেসি বর্তমানে খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে, ইন্টার মায়ামির হয়ে। এবারের বিশ্বকাপ তার জন্য এক অর্থে নিজের সেকেন্ড হোমে খেলার মতো। চেনা মাঠ, চেনা দর্শক, আর নিজের বর্তমান ঠিকানার আঙিনায় বিশ্বকাপ ধরে রাখার এই লড়াই মেসির জন্য এক পরম মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি। তিনি তো সেই জাদুকর, যিনি চাঁদের আলো পকেটে পুরে লুজাইলের রাতকে আলোকিত করেছিলেন। মেসি২০২৬ বিশ্বকাপে এসেছেন ফুটবলকে এক শেষ রূপকথা উপহার দিতে। উত্তর আমেরিকার সবুজ গালিচায় যখনই বল তার পায়ে গিয়ে চুমু খাবে, বিশ্ববাসী আরও একবার বলবে ধন্য আমরা। আমরা মেসির যুগে জন্মেছিলাম।
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর ৮ দিন। ৪৮ দেশের অংশগ্রহণে রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ ব্যয়ের এই বিশ্বকাপ ঘিরে ইতোমধ্যেই বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক আসর নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে বিশেষ উচ্ছ্বাস। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন ফারজিন গনি। জানা গেছে, তিনি এই আসরে বাংলাদেশের একমাত্র ভলান্টিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্বকাপে অংশ নিতে তিনি ২ জুন টরন্টোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৫ হাজার ভলান্টিয়ার নিয়োগ করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ফারজিন গনিই একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এই সুযোগ পেয়েছেন। এসব ভলান্টিয়ার স্টেডিয়াম অপারেশন, দর্শক সেবা, টিকিট ব্যবস্থাপনা, মিডিয়া সাপোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। ফিফা ভলান্টিয়ারদের জন্য প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই আসরে ভলান্টিয়াররা বিশ্বের শীর্ষ ফুটবলারদের কাছ থেকে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ভলান্টিয়ারদের বিষয়ে বলেছেন, স্বেচ্ছাসেবীরা ফিফা টুর্নামেন্টের হৃদয়, প্রাণ ও হাসি। তারা নিজেদের পরিচয় গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে পারে, টুর্নামেন্টের অন্তরালের দৃশ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায় এবং এমন স্মৃতি ও বন্ধুত্ব গড়ে তোলে, যা আজীবন থেকে যায়। একই সঙ্গে তারা ঐতিহাসিক আয়োজনকে সফল করতে সহায়তা করে।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় সব বড় শিরোপা জিতলেও একটি ট্রফি এখনও অধরাই রয়ে গেছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর, আর সেটি হলো ফিফা বিশ্বকাপ। তাই আসন্ন আসরটিকেই এই মহাতারকার জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে। সতীর্থ দিয়োগো দালোতের মতে, রোনালদোর ক্যারিয়ারের এই অপূর্ণতা ঘোচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে পুরো দল। ৪১ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রোনালদো খেলতে যাচ্ছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। বয়সকে যেন উপেক্ষা করেই তিনি এখনো গোল করে যাচ্ছেন নিয়মিত। পাঁচবারের বর্ষসেরা এই তারকার উপস্থিতি পর্তুগালকে এবারের আসরের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে তুলে ধরেছে। এক সাক্ষাৎকারে দালোত বলেন, পুরো ফুটবল বিশ্বই চায় রোনালদো বিশ্বকাপ জিতুক। পর্তুগালের জন্য যেমন, তেমনি বিশ্ব ফুটবলের জন্যও তার অবদান অসাধারণ। বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ার শেষ করা তার জন্য এক অনন্য অর্জন হবে। তবে তিনি এটাও মনে করেন, সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে বিবেচিত হতে রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের প্রয়োজন নেই, তবুও এই ট্রফি তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করবে। দেশের জার্সিতে ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বেই বড় স্বপ্ন দেখছে পর্তুগাল। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী সোমবার থেকে অনুশীলন শুরু করবে দলটি। মায়ামিতে মূল ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। ১৭ জুন ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান। ‘কে’ গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। সব মিলিয়ে, রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপকে ঘিরে বাড়তি আবেগ আর প্রত্যাশা কাজ করছে। এখন দেখার বিষয়- স্বপ্নের ট্রফি জিতে কি না তিনি তার অনন্য ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে পারেন।