খেলাধুলা

বিবিসির বিশ্লেষণ

যে দ্বৈরথ বদলে দিয়েছে ফুটবলকে

মারিয়া রহমান জুন ০৬, ২০২৬
ব্যালন ডি’অর ট্রফি হাতে মেসি-রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত
ব্যালন ডি’অর ট্রফি হাতে মেসি-রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত

ক্যারিয়ারে একবারই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কাকা। ২০০৭ সালে ব্রাজিলের সাবেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি নেওয়ার সময় একটা দ্বৈরথের জন্ম হয়েছিল।


সেই দ্বৈরথ গত দুই দশক ধরে ফুটবলপ্রেমীদের বুঁদ করে রেখেছে। 
সেবার ব্যালন ডি’অরে লিওনেল মেসির দ্বিতীয়র বিপরীতে তৃতীয় হয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে ভুলবশত জুরিখ অপেরা হাউসে দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর ট্রফিটি রোনালদোর হাতে তুলে দেন। পরে সে সময়কার ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার ট্রফিটি অদলবদল করার অনুরোধ করেন মেসি-রোনালদোকে।


দুজনের মুখায়বে তখন অস্বস্তির ছাপ।
এরপর থেকে পুরস্কারটাকে একরকম ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেন মেসি-রোনালদো। পরের ১০ বছর দুজনের কেউ না কেউ পুরস্কারটি নিজের করে নেন। পরিসংখ্যান দিলে আরও স্পষ্ট হবে বিষয়টি।


২০০৭ সালের পর থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়ের যে ২৯টি বড় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তার ২০টিই গেছে এই দুজনের ঝুলিতে। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে হয়ে প্রায় ২,০০০ গোল, ৮৫টি ট্রফিসহ অসংখ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড ও পুরষ্কার দুজনের নামের পাশে।
তাদের দ্বৈরথ গত দুই দশকের ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছে। ক্লাব, দেশ এবং সব ধরণের টুর্নামেন্টের সীমানা পেরিয়ে এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল খেলার ধরণ, মানুষের ফুটবল উপভোগ করা এবং তর্ক-বিতর্কের রূপ বদলে দিয়েছে।

 

দুজনের সঙ্গে মাঠ শেয়ার করা আনহেল দি মারিয়ার কণ্ঠে বিষয়টি আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।


আর্জেন্টিনার সাবেক বিশ্বকাপজয়ী উইঙ্গার বিবিসি স্পোর্টসের নতুন ডকুমেন্টারি ‘রাইভালস: মেসি বনাম রোনালদো’-তে বলেছেন, ‘তাদের মতো দুজন খেলোয়াড়, এত বছর ধরে শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, ব্যালন ডি’অরের জন্য লড়াই করছে এবং এত গোল করছে... আমার মনে হয় না আমরা এমন কিছু আর কখনো দেখতে পাব।’
ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে আসায় এবারের বিশ্বকাপই শেষ হতে পারে মেসি-রোনালদোর। এই দ্বৈরথটি কেবল ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ’ বা ‘গোট’ বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় মনে করেন দি মারিয়া। তিনি বলেছেন, ‘দুজনই ফুটবলকে বদলে দিয়েছেন।’

 

সর্বকালের সেরা কে?

 

সর্বকালের সেরা কে এন বিতর্কের শেষ নেই। ভিন্ন জন ভিন্ন মত দেন। রোনালদোর সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ রিও ফার্ডিনান্ড যেমন জোর দিয়ে বলেছেন, ‘রোনালদোই হবে।’ অন্যদিকে বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ জাভি বলেছেন, ‘মেসিই ইতিহাসের সেরা।’

 

২০১২ সালে রোনালদো নিজেও মতামত দিয়েছেন। ‘সিআর সেভেন’ বলেছিলেন, ‘ফেরারি সঙ্গে পোর্শ গাড়ির তুলনা করতে পারেন না। দুটার ইঞ্জিন আলাদা। কিছু মানুষ বলবে আমি সেরা, আবার কেউ বলবে ও সেরা। দিনশেষে নির্দিষ্ট মুহূর্তে কে ভালো খেলছে তার ওপর ভিত্তি করেই মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে, এবং আমার মনে হয় সেটা আমিই।’

 

পরিসংখ্যান কী বলে? যদি গোল বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফির হিসাব করা হয়, তবে রোনালদো এগিয়ে। আর যদি ব্যালন ডি’অর বা মোট ট্রফির সংখ্যা বিবেচনা করা হয়, তবে মেসি এগিয়ে থাকবেন।

 

অনেকের মত, ২০১৬ সালে পর্তুগাল ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার রোনালদো কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু মেসি আর্জেন্টিনাকে দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি বিশ্বকাপ এনে দিয়ে উল্টোটা করেছেন।

 

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগ বলেন, ‘আমার কাছে মেসি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় এবং ক্রিস্টিয়ানো ইতিহাসের সেরা গোলদাতা।’

অন্যদিকে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর সঙ্গে আর বার্সেলোনার হয়ে মেসির সঙ্গে খেলা ডেকো বলেছেন, ‘তারা অনন্য। বাকিদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এতগুলো বছর ধরে পারফর্ম করা মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতি বছরই অনেক খেলোয়াড় আসে যারা কয়েক বছর দুর্দান্ত খেলে, কিন্তু প্রায় ২০ বছর ধরে এই পারফরম্যান্স ধরে রাখা স্বাভাবিক নয়।’

 

হয়তো এই ‘গোট’ বিতর্কের আসল সৌন্দর্য এটাই যে, এর কোনো চূড়ান্ত সমাধান কখনো আসবে না, আর তার কোনো প্রয়োজনও নেই। মেসি ও রোনালদোকে নিয়ে লেখা বইয়ের সহ-লেখক জোনাথন ক্লেগ বলেছেন, ‘গত ২০ বছর ধরে ফুটবলের যে নাটকীয় মঞ্চ তৈরি হয়েছে, সেখানে তারা একে অপরকে সহ-তারকা হিসেবে মেনে নিয়েছেন এবং সম্মান করতে শিখেছেন।’

 

দুই বিপরীত মেরুর আকর্ষণ

 

অনেকের চোখেই তারা একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত। একজন নিখুঁত ড্রিবলার তো অন্যজন শারীরিক দক্ষতার এক অবিশ্বাস্য প্রতিমূর্তি। একজন লাজুক জিনিয়াস হলে অন্যজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। যেন পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা বনাম হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা অ্যাডিডাস বনাম নাইকি।

 

দ্বৈরথে অমিল থাকলেও শৈশব থেকেই তাদের মধ্যকার মিলগুলো ছিল বেশ চমকপ্রদ। উভয়ই খুব সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছেন। দুজনই খুব কম বয়সে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য ঘর ছেড়েছিলেন। মেসি ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা থেকে বার্সেলোনায় আর রোনালদো ১২ বছর বয়সে মাদিরা থেকে লিসবনে পাড়ি জমান। পরিবার ছেড়ে আসার পর দুজনেই তীব্র হোমসিকনেস বা ঘরকুনো সমস্যায় ভুগেছিলেন।

 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক এবং মেসি-রোনালদোর ওপর লেখা বইয়ের সহ-লেখক জোশুয়া রবিনসন বলেছেন, “মেসি এবং রোনালদোকে সব সময় ভিন্ন হিসেবে দেখানো হয়, কিন্তু তাদের শৈশবকে গড়ে তোলা পরিস্থিতিগুলো ছিল একরকম। তারা দুজনেই এমন এক জায়গায় গিয়েছিলেন যারা বলেছিল—‘আমরা তোমার প্রতিভা নেব এবং তোমাকে আরও মহান করে তুলব।’ এই প্রতিশ্রুতি আকর্ষণীয় মনে হলেও এটি ছিল এক বিশাল জুয়া। যখন তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেন, বুঝতে পারলেন এটা আর বাচ্চাদের খেলা নয়। যদি সর্বকালের সেরা হতে চাই, তাহলে এখান থেকেই শুরু করতে হবে।”

 

তবে যে জিনিসটি তাদের সবচেয়ে বেশি কাছাকাছি এনেছিল, তা হলো সফল হওয়ার অদম্য ইচ্ছা। খুব দ্রুতই তারা নিজেদের এক অনন্য তরুণ প্রতিভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। জাভি বলেন, ‘মেসির মধ্যে তখনই আলাদা কিছু দেখা যেত। কেবল তার গুণই নয়, বরং তার কাজের তীব্রতা ছিল অন্যরকম। আক্রমণে এমন এক আগ্রাসন ছিল যা আমি আগে কখনো দেখিনি। ক্রিস্টিয়ানোর উপস্থিতি তাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।’

 

স্পোর্টিং লিসবন থেকে রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিলে তাঁকে নিয়ে সে সময়কার ম্যানইউর ব্যাকরুম কোচ রেনে মিউলেনস্টিন বলেন, ‘নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে এতটা আত্মবিশ্বাসী কোনো তরুণ খেলোয়াড় আমি এর আগে দেখিনি। ম্যান ইউনাইটেডে আসার মুহূর্তটি ছিল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য তার যথার্থ পদক্ষেপ। ক্রিস্টিয়ানো খুব দ্রুত শিখতে পারত। তাকে সাধারণ গোলকারি থেকে একজন পুরোদস্তুর গোলশিকারি করতে চেয়েছিলাম। আমি ৩ মিনিটের একটি ভিডিও করেছিলাম যেখানে শুধু তার গোল এবং গোল করতে না পারা সুযোগগুলো দেখানো হয়েছিল। সে সবকিছু খুব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিল।’

 

২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-বার্সেলোনা মুখোমুখি হলে তাদের দ্বৈরথ শুরু হয়। সেই ম্যাচ নিয়ে গিলেম বালাগ বলেন, ‘তখনই দেখা যাচ্ছিল মেসি লা লিগার এবং ক্রিস্টিয়ানো প্রিমিয়ার লিগের সেরা। তাদের একসঙ্গে দেখা ছিল আগামী দিনের এক মহাকাব্যের ইঙ্গিত।’ সেবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ট্রফি জিতেছিল। আর রোনালদো প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন।

 

স্পেনের সোনালি দিনগুলো

 

২০০৯ সালে রোনালদো রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। তাতে ‘এল ক্লাসিকোয়’ ভিন্ন এক মাত্রা যোগ হয়। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার ফুটবল ডিরেক্টর থাকা চিকি বেগিরিস্তাইন বলেছেন, ‘দুজনই একই লিগে আসার পর সবকিছু পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল।’ 

২০১৮ সালে রোনালদো যখন জুভেন্টাসে চলে যান ততদিনে দুজনই ৫টি করে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। স্পেনে কাটানো ৯ মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫০ গোল করেছেন রোনালদো। বিপরীতে বার্সার হয়ে ৪৭৬ ম্যাচে ৪৭১ গোল করেছেন মেসি।
 

তবে দ্বৈরথ শুধুই সংখ্যার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যক্তিগত লড়াইয়েও রূপ নিয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে পুরো বিশ্ব তা সরাসরি দেখছিল। বেগিরিস্তাইন বলেন, “ক্রিস্টিয়ানোর লক্ষ্য ছিল লিওনেল মেসি এবং মেসির লক্ষ্য ক্রিস্টিয়ানো। ভাবনাটা ছিল—‘আমাকে এই লোকটাকে হারাতেই হবে।”

 

স্পেনীয় ফুটবল লেখক সিড লো বলেন, ‘মরিনহো-গার্দিওলার কোচের লড়াইটি ছিল মেসি-রোনালদোর মাঠের লড়াইয়ের এক প্রতিচ্ছবি। খেলোয়াড় হিসেবে তারা জানতেন ম্যাচ জেতানো গোলই হচ্ছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায়। সবকিছু আমরা ফোনেই দেখতে পারতাম। ফলে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথের বৈশ্বিক প্রচার আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিল। তাদের প্রতিটি কাজই ছিল দেখার মতো।’

 

২০১২ সালে রোনালদো রিয়ালকে ৪ বছরের মধ্যে তাদের প্রথম লা লিগা শিরোপা জেতান, কিন্তু মেসি সে বছর তার টানা চতুর্থ ব্যালন ডি’অর জিতে নেন। তাতে একটু হতাশই হয়েছিলেন রোনালদো। সেই ঝাল মেটান পরের ৫ ব্যালন ডি’অরের ৪টি জিতে।

 

জোশুয়া রবিনসন বলেন, ‘তাদের মধ্যে একটি সত্যিকারের রেষারেষি তৈরি হতে শুরু করেছিল। তারা একে অপরকে খুব একটা স্বীকৃতি দিতেন না এবং নিজেদের মধ্যে তুলনা অপছন্দ করতেন। তারা এটা সহ্যই করতে পারতেন না যে একই যুগে একই ফুটবল লিগে সর্বকালের সেরা হওয়ার মতো অন্য কেউ থাকবে।’

 

ডেকো বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই মুহূর্তে মেসি এবং রোনালদোর মতো এমন কিছু ঘটা সম্ভব। কারণ সেই সময়ে বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদ—উভয় ক্লাবই একই স্তরে ছিল এবং বড় ট্রফিগুলোর জন্য লড়াই করছিল।’

 

২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের ৯২ মিনিটে জয়সূচক গোল করার পর মেসি নিজের জার্সি খুলে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দর্শকদের সামনে মেলে ধরেছিলেন।

রবিনসন বলেন, “সাধারণ মানুষের চোখে ক্রিশ্চিয়ানো ছিলেন অহংকারী ডিভা এবং মেসি ছিলেন বার্সেলোনার নম্র সেবক। কিন্তু এই উদযাপনের মাধ্যমে মেসি যেন নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বুক চিতিয়ে বলে উঠলেন—‘আমার দিকে তাকাও।”

 

এর মাত্র কয়েক মাস পর, ন্যু ক্যাম্পে স্প্যানিশ সুপার কাপে গোল করার পর রোনালদো হুবহু একই ভঙ্গিতে জার্সি খুলে সেই উদযাপনের জবাব দিয়েছিলেন। বালাগ বলেন, ‘একে অপরকে হারানোর আনন্দ তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা বোঝার জন্য এই ছবিগুলোই যথেষ্ট।’


মাঠ পেরিয়ে ‘একক অর্থনীতি’

 

২০১৮ সালে রোনালদো জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার পর স্পেনে মেসি-রোনালদোর সরাসরি দ্বৈরথ শেষ হতে পারে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী চলা এই বিতর্ক শেষ হয়নি।

 

রোনালদো জুভেন্টাস ঘুরে আবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরেন এবং বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে খেলছেন। অন্যদিকে মেসি প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) হয়ে বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন।

 

স্পেনে তাদের বাণিজ্যিক প্রভাব দেখার পর, ফুটবলীয় কারণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্বার্থও তাদের এই দলবদলগুলোতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

 

মেটার (ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চল) স্পোর্টস প্রধান রব পিলগ্রিম বলেন, ‘ব্র্যান্ড ডেভিড বেকহ্যাম যা সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন, এই দুজন মিলে সেই সম্ভাবনার দুয়ার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’

 

ইতালীয় ফুটবল বিশেষজ্ঞ মিনা রজুকি যোগ করেন, ‘আপনি যখন তাঁদের দলে নিচ্ছেন, তখন শুধু খেলার দক্ষতা কিনছেন না, বরং আপনি একজন মানুষের আস্ত একটি অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য কিনে নিচ্ছেন।’

 

২০১৮ সালে রোনালদো যখন জুভেন্টাসে যোগ দেন, প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ৫,২০,০০০ জার্সি বিক্রি হয়। ২০২১ সালে মেসি যখন প্যারিসে যান, মাত্র ৭ মিনিটে বিক্রি হয় ১,৫০,০০০ জার্সি। ২০২১ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যখন রোনালদোকে ফিরিয়ে আনে, তখন তাঁর জার্সি বিক্রির মোট পরিমাণ ছিল ১৮৭ মিলিয়ন পাউন্ড—যা পিএসজিতে মেসির জার্সি বিক্রির প্রায় দ্বিগুণ।

 

ইনস্টাগ্রামে রোনালদোর অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৭০০ মিলিয়নের কাছাকাছি, মেসির প্রায় ৫০০ মিলিয়ন। এই প্ল্যাটফর্মের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া ছবিটি হলো মেসির বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের ছবি, যা ৭৫ মিলিয়নেরও বেশি লাইক পেয়েছে।

 

আর্থিক দিক থেকে রোনালদো কিছুটা এগিয়ে আছেন। ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে রোনালদো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন, যার মোট আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলার (২২৩ মিলিয়ন পাউন্ড)। মেসি ১৪০ মিলিয়ন ডলার (১০৪ মিলিয়ন পাউন্ড) নিয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

 

এই দুই তারকার দ্বৈরথ ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ডগুলোর লড়াইকেও জমিয়ে তুলেছে। মেসি যেখানে অ্যাডিডাসের মুখ, রোনালদো সেখানে নাইকির প্রধান বিজ্ঞাপন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের আগে লুই ভিটনের একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় সুটকেসের ওপর এই দুই মহাতারকার দাবা খেলার ছবিটি ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছিল। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কোম্পানি ‘দ্য গোট এজেন্সি’-র মেলানি রপ বলেন, ‘এটিকে ইন্টারনেট কাঁপানো ছবি হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এই ছবিটির টাইমিং একে চিরস্মরণীয় করে তুলেছে।’

 

শেষ অঙ্ক

 

যেখান থেকে শুরু হয়েছিল সেখানেই ফিরে আসা যাক। রবিনসন বলেন, ‘মেসির আর নতুন কিছু জয় করার বাকি নেই। তার কাছে এমন একটি জিনিস আছে যা রোনালদোর নেই—বিশ্বকাপ ট্রফি। এখন প্রশ্ন হলো, মেসি কি তবে ফুটবলের এই পুরো যুগটাকেই নিজের নামে লিখে নিলেন?’

 

তবে মনে রাখতে হবে, এই গল্প এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি নকআউট পর্বের শেষ দিকে মুখোমুখি হয়, তবে এই মহাকাব্যের শেষ দৃশ্যটি হয়তো আমাদের এখনো দেখতে বাকি রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইমনের পর এবার লাহোর কালান্দার্সে ডাক পেলেন শামীম

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার শামীম হোসেন পাটোয়ারী গ্লোবাল সুপার লিগে (জিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন। তিনি টুর্নামেন্টের দল লাহোর কালান্দার্সে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন শামীম।   লাহোর কালান্দার্সে আগে থেকেই খেলছেন আরেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ইমন। সর্বশেষ ম্যাচে অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। এবার শামীমকে দলে নেওয়ায় একই দলে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার খেলবেন।   এবারের জিএসএলে দুই ম্যাচ খেলেই দুই জয় পেয়েছে লাহোর কালান্দার্স। নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে তারা বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দলের নিয়মিত অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েল।   লাহোর কালান্দার্সের পরবর্তী ম্যাচ ২৭ জুলাই, গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে ভোর ৫টায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

‘তিনি মিথ্যা বলছেন’, আয়ালাকে একহাত নিলেন ওলমো

ছবি : সংগৃহীত

জেলা কোচ নিয়োগে যোগ্যতা কমাল বিসিবি, কারণ জানাল বোর্ড

ছবি : সংগৃহীত

তদন্তের মাঝেই আর্জেন্টিনার প্রশংসায় ফিফা সভাপতি, নতুন বিতর্কের জন্ম

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত
রোনালদোর ক্লাব আল-নাসরে বিশাল ঋণ, থামল খেলোয়াড় কেনা

বড় আর্থিক সংকটে সৌদি প্রো লিগের অন্যতম হেভিওয়েট ক্লাব আল-নাসর। প্রায় ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি) ঋণের বোঝায় জর্জরিত ক্লাব, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। যার ফলে গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে কোনো নতুন খেলোয়াড়কে সই করাতে পারেনি তারা। আর দলের এই পরিস্থিতির জন্য অনেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিপুল বেতনের দিকে আঙুল তুলেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাবটির মালিক পক্ষ ‘সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ দল বিক্রির পরিকল্পনা শুরু করেছে। গোল.কমের প্রতিবেদন।     বিশাল ঋণের কারণে আল-নাসরের বর্তমান দলবদল পুরোপুরি থেমে গেছে। রিয়াল মায়োর্কার মিডফিল্ডার সামু কোস্টার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া উইঙ্গার আব্দুলরহমান ঘরিবের চুক্তি নবায়নও আটকে গেছে।   পিআইএফ ক্লাবটির বর্তমানে ক্লাবের আর্থিক ক্ষমতায় কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব আয় ছাড়া নতুন খেলোয়াড় কেনা যাবে না। দ্বিতীয়ত, আয় বাড়ানো ও খরচ কমাতে অতিরিক্ত আর্থিক, বাণিজ্যিক ও আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ক্লাবের আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ মালিকানা বিক্রির পথ খোলা রাখা হয়েছে।   সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আরিয়াদিয়া’র রিপোর্ট অনুযায়ী, আল-নাসর কেনার জন্য এরই মধ্যে পিআইএফ দুটি বড় প্রস্তাব পেয়েছে। তবে পুরো ক্লাব বিক্রি না করে তারা মূলত আংশিক অংশীদারত্বের দিকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।     কেন হঠাৎ এত বড় আর্থিক দেনার মুখে পড়ল আল-নাসর? গত মৌসুমে বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি, খেলোয়াড়দের আকাশছোঁয়া বেতন এবং দুর্বল আর্থিক সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত আল-নাসরের ঘাড়ে এই ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের পাহাড়সমান দেনা চেপেছে। তবে আর্থিক সংকটের প্রভাব রিয়াদ ডার্বির প্রতিপক্ষ আল হিলালের ওপর পড়েনি। কেননা, আল-হিলাল কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করেছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাতাহাতি থামাতে গিয়ে মাঠেই অজ্ঞান নারী রেফারি

৫৯ বছর বয়সে গোল, ফুটবল বিশ্বকে আবারও চমকে দিলেন কিং কাজু

হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর অবশেষে দেখা দিলেন লিওনেল মেসি

ছবি: সংগৃহীত
মাঠে ফিরেই জোড়া গোলে ঝলক দেখালেন নেইমার

বিশ্বকাপ শেষে দেশের মাটিতে ফিরে বিশ্রামের বদলে পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নেইমার। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁর পেশাদারিত্ব নিয়ে। তবে সমালোচকদের জবাব দিতে খুব বেশি সময় নিলেন না এই তারকা।   ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে গত রাতে শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে মাঠে নামে সান্তোস। অবনমন অঞ্চলের শঙ্কায় থাকা দলটির জন্য ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই সামনে এসে দাঁড়ালেন নেইমার।   ম্যাচের শুরুতেই সতীর্থের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। গোলের পর উদযাপনে দেখা যায় পোকার খেলার পরিচিত হাতের ইশারা। সমালোচকদের উদ্দেশে এ যেন ছিল এক নীরব বার্তা।   তবে ম্যাচ সহজ ছিল না। প্রথমার্ধের ধাক্কা সামলে শাপকোয়েন্স ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তখন মনে হচ্ছিল, নেইমারের প্রত্যাবর্তনের গল্পটা হয়তো হতাশাতেই শেষ হতে চলেছে।   কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগে আবারও জ্বলে ওঠেন ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে করা তাঁর দ্বিতীয় গোল সান্তোসকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট। আর সেই সঙ্গে সমালোচনার উত্তরে আরও একবার কথা বলে তাঁর পা।   বিশ্বকাপ চলাকালে চোট ও ফিটনেসজনিত কারণে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি নেইমার। পরবর্তীতে কোপা সুদামেরিকানার একটি ম্যাচে অনুপস্থিত থেকে পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় তাঁকে ঘিরে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।   সমালোচনার মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় নেইমার বলেছিলেন, “আমি সকালে অনুশীলন করেছি। ম্যাচে খেলিনি কারণ আমি মাত্র অনুশীলন শুরু করেছি। পরদিন আমার ছুটি ছিল।”   সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ ছিল আরও স্পষ্ট, “আমি কি অনুশীলন করতে পারি, নাকি তোমরা শুধু সমালোচনাই করবে? নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকো।”   শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর আলাদা করে আর কিছু বলতে হয়নি তাঁকে। পোকার ভঙ্গিতে উদযাপন করে যেন বুঝিয়ে দিলেন বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে না, আর তিনিও বিতর্ককে নিজের মতো করেই জবাব দিতে জানেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়াতে বড় বাজি আর্সেনালের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগের অল-স্টার ম্যাচে খেলবেন না মেসি

ছবি: সংগৃহীত

এলপিএলে ওপেনিংয়ে নেমেও ব্যর্থ মিরাজ

0 Comments