২০২৫ সালে জ্বালানি খাত থেকে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ রেকর্ডের কাছাকাছি পর্যায়ে ছিল। সোমবার আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংস্থা (আইইএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নিঃসরণ কমাতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি এখন শীর্ষ অগ্রাধিকার।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গ্লোবাল মিথেন ট্র্যাকার ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জ্বালানি খাতে মিথেন নিঃসরণ রেকর্ডের কাছাকাছি থাকায়, পরীক্ষিত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বছরে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব।’
এতে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতা থাকা কিছু দেশ ও আমদানিকারক দেশগুলো যদি তাদের গ্যাস ব্যবস্থায় সহজলভ্য মিথেন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে, তবে খুব দ্রুত প্রায় ১৫ বিলিয়ন ঘনমিটার (বিসিএম) গ্যাস বাজারে আনা সম্ভব।
দীর্ঘমেয়াদে এ সব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ১০০ বিসিএম গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে।
পাশাপাশি জরুরি নয়Ñ এমন গ্যাস ফ্লেয়ারিং বন্ধ করলে, আরও ১০০ বিসিএম গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।
উপগ্রহ তথ্য ও বিভিন্ন পরিমাপ কার্যক্রমের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের নিঃসরণ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
একই সঙ্গে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্বজুড়ে নতুন করে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। যদিও আপাতত বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল, তবু কৌশলগত তেলের মজুত কমে আসা, শোধন সক্ষমতার সংকট এবং বিকল্প সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই। রোববার সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে। এতে বলা হয়- জুনে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এমন চাপ তৈরি হতে পারে, যা শুধু তেলের বাজার নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিকেও নাড়িয়ে দেবে। তবে সেই সমঝোতা টেকেনি। ভেঙে যায় যুদ্ধবিরতিও। এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করে এবং বিশ্ববাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে পরিস্থিতি এতটা জটিল হওয়ার পরও আন্তর্জাতিক তেলবাজারে এখনো বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। এর অন্যতম কারণ, যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রণালিতে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে যায়। এতে তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট অনেকটাই কমে আসে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে চীন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশটি যুদ্ধ শুরুর আগেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত তেল কেনার চাপ এখনো উলেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। বিশ্লেষকদের মতে, এ স্বস্তি সাময়িক। হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বর্তমানে যে ভারসাম্য দেখা যাচ্ছে, তা দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। তখন শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই নয়, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানির বাজারেও বড় ধরনের চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তেল নয়, পরিশোধিত জ্বালানিরও সংকট বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, পরিশোধিত জ্বালানি নিয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৩০টি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা পুনরায় চালু হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অনেক শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি প্রায় ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ডিজেল রপ্তানির প্রায় ১২ শতাংশই আসত রাশিয়া থেকে। চীনও পরিবেশগত নীতি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের পরিকল্পনার কারণে শোধন কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানির সরবরাহে চাপ বাড়ছে। এই ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সক্ষমতায় শোধনাগার চালালেও তীব্র গরম আবহাওয়া উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কতটা শক্তিশালী উৎপাদনের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক। দেশটি প্রতিদিন নিজেদের চাহিদার চেয়েও বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। কিন্তু এই সক্ষমতা পুরো সমস্যার সমাধান নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তেলের বড় অংশ হালকা ধরনের, মূলত পেট্রোল তৈরির জন্য উপযোগী। অন্যদিকে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি উৎপাদনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ভারী অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজন হয়। ফলে জ্বালানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। পরিস্থিতি আগের চেয়েও বেশি জটিল সিএনএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোল্ডম্যানের মতে, এবার হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো বিপুল পরিমাণ তেল আটকে নেই। ফলে প্রণালি খুলে গেলেও আগের মতো দ্রুত বড় সরবরাহ বাজারে আসবে না। এর সঙ্গে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে লোহিত সাগরেও। এর আগে সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পশ্চিম দিকে নিয়ে গিয়ে লোহিত সাগর ব্যবহার করছিল। কিন্তু সেই বিকল্প পথও এখন ঝুঁকির মুখে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নৌপথ স্বাভাবিক করা যায়, তাহলে বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল স্ব-তথ্য নিবন্ধনভিত্তিক আদমশুমারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করা ভারতের দায়িত্ব নয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অনুপ্রবেশকারী নন, বরং তারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর অধীনে শরণার্থী হিসেবে গণ্য হবেন। শনিবার (০১ আগস্ট) বিধাননগরে দুই সপ্তাহব্যাপী ডিজিটাল স্ব-তথ্য নিবন্ধন (সেলফ-এনুমারেশন) কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদমশুমারিতে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তা শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে। এই তথ্য আইনগতভাবে সুরক্ষিত। কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে অক্ষম বা দুর্গম এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি তাদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। ভারতের আদমশুমারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং এতে সহযোগিতা করা সরকারি কর্মীদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্য বা দেশে থাকতে পারবে না। আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের শনাক্ত করে সতর্কতার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চলবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করা ভারতের দায়িত্ব নয়। তিনি আরও দাবি করেন, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে বাদ পড়া ২৭ লাখ ভোটারের মধ্যে মাত্র সাত লাখ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন, তারা শরণার্থী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধর্মীয় নিপীড়ন বা প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের হয়রানি করতে পারবে না। ডিজিটাল তথ্য নিবন্ধনের পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। এ সময় পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোটরসাইকেল ও চার চাকার যানবাহনের মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। আদমশুমারির দ্বিতীয় ধাপ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। ওই পর্যায়ে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাত, ধর্মসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা বলেছেন, প্রতিপক্ষের যে কোনো হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়। খবর আইআরএনএর। রোববার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের সাম্প্রতিক বক্তব্য মনস্তাত্ত্বিক ও জ্ঞানগত যুদ্ধের অংশ হলেও আমরা সেগুলোকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করি। তিনি বলেন, ইরান কখনো অপ্রস্তুত থাকবে না এবং কোনো হুমকির মুখে নিষ্ক্রিয়ও থাকবে না। তার মতে, প্রতিটি হুমকিকে তেহরান প্রস্তুতি বাড়ানো, প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার এবং সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘোষণা থেকে সরে আসার পর ইবনে রেজার এই মন্তব্য করলেন। ইরানের কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারির পর ওয়াশিংটন অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। শনিবার রাতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান সবসময় প্রস্তুত। আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যে কোনো আগ্রাসন কিংবা এ ধরনের হামলায় আঞ্চলিক কোনো দেশের সহযোগিতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় ও সমানুপাতিক জবাবের মুখে পড়বে। সূত্র : আইআরএনএ