২০২৩ সালের ১৭ অগাস্ট ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি সব বাংলাদেশি নাগরিকের (বিশেষ বিবেচনায় ৫০ ঊর্ধ্ব) জন্য ‘সার্বজনীন পেনশন স্কিম’-এর যাত্রা শুরু হয়।
শেষ বয়সে সব শ্রেণির মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘটা করে শুরু করা ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে’ ৩২ মাসে যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৭ হাজার গ্রাহক, যাদের মাধ্যমে জমা হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান স্কিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, প্রথম একবছরে এই স্কিমে যেখানে যুক্ত হয়েছিল প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ, সেখানে পরের ২০ মাসে এ সংখ্যা বেড়েছে কেবল পাঁচ হাজারের মত।
সভায় দেখানো হয়, যাত্রার শুরু থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন। পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
কর্তৃপক্ষের পুরনো তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত এক বছরে ‘জাতীয় পেনশন স্কিমে’ যুক্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন। মোট জমার পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই স্কিমের ভবিষ্যত নিয়ে সাধারণের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে অংশগ্রহণে ভাটা পড়ে।
মঙ্গলবার বিকালে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের ওই সভা হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামানসহ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে। ভবিষ্যতের এই জনমিতি পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অর্থমন্ত্রী ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজনকে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দেন।
একই সঙ্গে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে মন্ত্রী ‘শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম’ চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলেছে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সহজ শর্তে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ নিয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এক ধরনের ‘অনিশ্চিয়তার’ মধ্যে ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এখন নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ‘পেনশন স্কিমে’ জনগণের সাড়া তলানিতে নেমেছে।
শুরুতে ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ স্কিম চালু করা হয়েছিল। গত জুলাইয়ে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রত্যয়’স্কিম চালু করতে গিয়ে ধাক্কা খায় কর্তৃপক্ষ। অংশীজনদের বিরোধিতার মুখে ওই প্যাকেজ চালু করা যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত পরিমাণের বাইরে আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল থাকবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য জিটুজি পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল আমদানির যে পরিমাণ আগে অনুমোদিত হয়েছিল, তার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আরেকটি বড় প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। জিটুজি চুক্তির আওতায় চীনের ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি ও চীনের পেট্রোচায়না থেকে তেল আমদানি করা হবে। এ জন্য মোট চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। বুধবারের বৈঠকে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১০ নভেম্বর একটি অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো কেনার দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত আজ বলেছেন, আগামী বছর ঢাকা ও নিউইয়র্কের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ। আজ রাজধানীর সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ পরিকল্পনার কথা জানান। মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ‘ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট’ (আইএএসএ) কর্মসূচির আওতায় ‘ক্যাটাগরি-১’ মর্যাদা অর্জন করা অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দেন যে, ঢাকা-নিউ ইয়র্ক (জেএফকে) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার প্রক্রিয়া সহজতর করতে ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। বৈঠককালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশেষ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ‘এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়নের কাজ করছে। তিনি জানান, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক ‘এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত একটি ‘লেগাসি ক্যারিয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন বিমান সংগ্রহের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তবে, মন্ত্রী বোয়িং বিমানগুলোর সরবরাহ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেন। পর্যটন খাতের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য; সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব বা বিমান চলাচলের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার পাশে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে আগ্রহী। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় রাষ্ট্রদূত মিল্লাতকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার প্রসারে সহায়তা করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কানে ক্রমাগত শব্দ শুনতে হতো দিনমজুর রবিউল ইসলামকে। কখনো ‘শোঁ শোঁ’, আবার কখনো ‘ধুপধাপ’ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কোনো কিছুতেই ভালো লাগত না, কাজেও মন বসত না। গাইবান্ধা ও রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকদের কাছে সাধ্যমতো খরচ করেও পাননি সমাধান। রবিউল জানতেনও না, তার এই সমস্যার নাম ‘পালসেটাইল টিনিটাস’। পরে রোগটি শনাক্ত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই জটিল এই সমস্যা থেকে মুক্তি পান তিনি। পালসেটাইল টিনিটাস কী? ‘পালসেটাইল টিনিটাস’ সাধারণ টিনিটাসের মতো নয়। এ সমস্যায় রোগী নিজের হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘শোঁ শোঁ’, ‘ধুপধাপ’ বা স্পন্দনশীল শব্দ শুনতে পান। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে কানের সাধারণ কোনো সমস্যা নয়, বরং মস্তিষ্ক ও মাথার রক্তনালীর অস্বাভাবিকতা দায়ী হতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের শব্দে ভুগলেও অনেক রোগী সঠিক কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারেন না। রবিউলের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দিনমজুর রবিউল ইসলাম জানান, কানে ‘শোঁ শোঁ’ শব্দের কারণে তিনি রাতে ঘুমাতে পারতেন না। কোনো কাজও করতে পারতেন না। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ না হওয়ায় একপর্যায়ে এই যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকবার আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি গাইবান্ধার বেসরকারি এসকেএস হাসপাতালে নিউরোইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমুর শরণাপন্ন হন রবিউল। পরে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে গত ১ সেপ্টেম্বর ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কের রক্তনালীতে স্টেন্টিং করা হয়। রবিউল বলেন, এরপর থেকে তার কানে আর ‘শোঁ শোঁ’ শব্দ হচ্ছে না। এখন তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। পালসেটাইল টিনিটাস রোগে প্রথম সফলতা নিউরোইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু দাবি করেন, পালসেটাইল টিনিটাসের আধুনিক চিকিৎসায় দেশে প্রথমবারের মতো সফলভাবে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গাইবান্ধা সদরের গিদারীর রেজিয়া মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে ভুগছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার পেছনে তিনি অনেক টাকা খরচ করেছেন। পরে রবিউল ডা. হুমায়ুন কবীর হিমুর শরণাপন্ন হলে পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কের রক্তনালীর (ভেনাস সাইনাস) ব্লক ধরা পড়ে। পরে নিউরোইন্টারভেনশনিস্ট ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু রবিউলের মস্তিষ্কের রক্তনালীর ভেনাস সাইনাসে স্টেন্টিং করেন। বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই চিকিৎসা নেওয়ার পর রবিউল এখন পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন বলে জানান তিনি। ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, পালসেটাইল টিনিটাসের অনেকগুলো কারণ আছে। বেশিরভাগ কারণ কানের সাথে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া মস্তিষ্কের রক্তনালীর সমস্যা থেকেও এ রোগ হতে পারে। তবে মস্তিষ্কের রক্তনালীর কারণগুলো এতোটা আলোচনায় আসে না। এজন্য রোগীরা বছরের পর বছর ঘুরতে থাকেন। এ রোগ নির্ণয় সম্বন্ধে তিনি বলেন, “কানের মধ্যে ‘শোঁ শোঁ’, ‘ভোঁ ভোঁ’ বা অস্বস্তিকর শব্দ যদি হৃদসম্পন্দনের সঙ্গে পরিবর্তন হয় বা গলার কাছে রক্তনালীতে চাপ প্রয়োগ করলে কানের শব্দ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমরা মনে করি আক্রান্ত ব্যক্তি পালসেটাইল টিনিটাসে আক্রান্ত। মস্তিষ্কের রক্তনালীর জন্য পালসেটাইল টিনিটাস হলে মস্তিষ্কের রক্তনালীর এনজিওগ্রাম বা ডিএসএ করে রোগ নির্ণয় করা যায়। রোগ নির্ণয় করার পর চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক করা হয়।” ভেনাস সাইনাস স্ট্যান্টিং সম্বন্ধে ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, ‘পালসেটাইল টিনিটাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ ভেনাস সাইনাস স্ট্যানোসিস বা ব্লক। এ ব্লকে স্ট্যান্ট বসিয়ে সংকুচিত ভেনাস সাইনাস খুলে দেয়া হলে প্রেশার কমে যাওয়ায় কানের শব্দ ভালো হয়ে যায়।’ রবিউলের চিকিৎসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘রবিউল অনেক বছর ধরে পালসেটাইল টিনিটাসে ভুগছিলেন। আমরা ডিএসএ করে তার ভেনাস সাইনাসে ব্লক দেখতে পাই। পরে তার রক্তনালীতে স্ট্যান্ট বসিয়ে ব্লক খুলে দেয়া হয়। স্ট্যান্ট বসানোর পর পরই তার কানের শো শো শব্দ পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে নিউরোইন্টারভেনশনের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় এ ধরনের অনেক চিকিৎসা দেখেছি। তখন থেকেই এই রোগ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাচ্ছিলাম না। প্রায় দেড় বছর আগে রবিউল আমার কাছে আসেন। তখন থেকেই তার চিকিৎসার পরিকল্পনা করছিলাম। ‘ইতোমধ্যে অন্য রোগের চিকিৎসায় ভেনাস সাইনাসে স্টেন্টিং করে অভিজ্ঞতা অর্জন করি। এরপর রবিউলেরও স্টেন্টিং করার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ, পালসেটাইল টিনিটাসের চিকিৎসায় বাংলাদেশে এর আগে ভেনাস সাইনাসে স্টেন্টিং করা হয়নি। প্রথমে আমার মেন্টর ডা. শিরাজী শাফিকুল ইসলামের সঙ্গে এ চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করি। তিনি আমাকে অভয় দেন এবং সব ধরনের সহযোগিতা করেন। তার অনুপ্রেরণায় আমি এই চিকিৎসা করার সাহস পাই। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। কোনো জটিলতা ছাড়াই চিকিৎসা সম্পন্ন করার তাওফিক দিয়েছেন।’ ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, ‘যারা পালসেটাইল টিনিটাসে ভুগছেন, তাদের জন্য সুখবর হলো—এখন আর এই রোগের যন্ত্রণায় দীর্ঘদিন ভুগতে হবে না। কেউ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চাইলে প্রায় ১ লাখ টাকা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা খরচ করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।’