সারাদেশ

জরুরি সেবা কল পেয়ে লঞ্চে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা দিল কোস্ট গার্ড

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল পেয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক শিশুকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে এক নারী তার ১৪ মাস বয়সী কন্যা শিশুকে নিয়ে বরিশাল থেকে ‘কর্ণফুলী-১০’ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুর দেড়টার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

 

এ সময় শিশুটির মা কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ ফোন করে সহায়তা চান।

 

খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড স্টেশন চাঁদপুর থেকে একটি মেডিক্যাল টিম দ্রুত চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছে অসুস্থ শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। পরে কোস্ট গার্ডের গাড়িতে করে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের উপকূলীয় ও নদীবন্দর এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা প্রদানে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ছবি : সংগৃহীত
সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু, রোববার প্রথম ফ্লাইট

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। রোববার (০৫ জুলাই) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG-208 ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইটটির যাত্রীদের স্বাগত জানাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের দাবির পর এ রুট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রুটটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি সরকার দায়িত্বে এলে রুটটি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।   সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় করেন হুমায়ুন কবির। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে রুটটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।   এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির কালবেলাকে বলেন, ‘ম্যানচেস্টার-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা উত্তর ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ছিল। হঠাৎ করে ফ্লাইটটি বন্ধ করে দেওয়ায় হাজারো প্রবাসী, বিশেষ করে সিলেটি কমিউনিটি চরম ভোগান্তিতে পড়ে। সরাসরি সিলেটে আসার পরিবর্তে তাদের লন্ডন হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। এতে সময়, খরচ ও দুর্ভোগ—সবই বেড়ে যায়। শুরু থেকেই আমি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম।’   তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. খলিলুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। তখনই ঘোষণা দিয়েছিলাম, বিএনপি সরকার গঠন করলে ম্যানচেস্টার-সিলেট রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’   হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাত-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠকেই আমি ম্যানচেস্টার রুট পুনর্বহালের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে যুক্তি তুলে ধরি, এটি শুধু একটি বিমানসেবা নয়; প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তাই কোনোভাবেই এ রুট বন্ধ রাখা উচিত নয়। আমার প্রস্তাবকে বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও সমর্থন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করায় আজ বহুল প্রত্যাশিত সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে।’   প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা থাকায় আমি তাদের কষ্ট, ত্যাগ ও বাস্তবতা খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করি। তাই প্রবাসীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি আদায়ে অতীতেও পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি আনন্দিত। জনগণকে দেওয়া কথা রক্ষা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।’   সংশ্লিষ্টদের মতে, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালু হওয়ায় যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে পারিবারিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

ছবি - সংগৃহীত

মুকসুদপুরে হ্যান্ডকাফ ও খেলনা পিস্তলসহ ভুয়া পুলিশ আটক

ছবি - সংগৃহীত

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার: মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত
মিরপুর ডিবির ডিসি হিসেবে যোগ দিলেন রাকিব খান

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাঁকিব খানকে বদলি করে ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়।   রাঁকিব খান বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

চকবাজারে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৬ ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাতকড়াসহ পালালেন আসামি

ছবি: সংগৃহীত

শিবগঞ্জ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

ছবি: সংগৃহীত
আঙুলের ছাপ চুরি করে সচল করা হচ্ছে হাজারো সিম

ডিজিটাল প্রতারণা ও চাঁদাবাজির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল সিমকার্ড। ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের অসাধু কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের যোগসাজশে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ চুরি করে একসঙ্গে সচল করা হচ্ছে হাজার হাজার সিম। কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি হওয়া এসব সিম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জঙ্গি তৎপরতা ও মাদক চোরাচালান চালাচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র। সম্প্রতি এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়ে ২২ হাজার সচল সিমসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্মকমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, রাজধানীর লালবাগে ২৭ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতারকচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো ফরিদপুর জেলার সালথা থানার সিংহপ্রতাপ (উত্তরপাড়া) গ্রামের মাওলানা জিল্লুর রহমানের ছেলে আবু তালহা এবং একই এলাকার সাদেক মাতব্বরের ছেলে শামীম। তারা প্রায় দুই বছর ধরে লালবাগের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দেদার তোলা হচ্ছে সিম। সাধারণত একটি সিমের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা হলেও এই ধরনের প্রি-অ্যাক্টিভেটেড নিবন্ধিত সিম কালোবাজারে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি সিমের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট বা নগদ) অ্যাকাউন্টও সচল করা থাকে, তবে তার দাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে। গত জানুয়ারিতে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী এবং পাঁচ চীনা নাগরিকসহ প্রতারকচক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।   ডিবি সূত্র জানায়, ২৭ জুন গ্রেফতার হওয়া তালহা ও শামীমের নেতৃত্বাধীন চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিমাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। চক্রের সদস্যরা বেশ কয়েকটি ধাপে কাজ করে। তাদের রয়েছে তিন-চারটি আলাদা গ্রুপ। এক গ্রুপ মেসেজ পাঠায়। অন্য গ্রুপ মেসেজের অর্থের জোগান দেয়। আরেক গ্রুপ প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গ্রহণ করে। এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যাংক লেনদেনের পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হয়। গ্রেফতার হওয়া চক্রের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ১০-১২ জন প্রতারকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। যেহেতু অপরাধীরা মোবাইল অপারেটর কোম্পানি বা কুরিয়ার সার্ভিসের ভেতরের লোকদের সহায়তায় এই কাজ করছে, তাই শতভাগ প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।   যে প্রক্রিয়ায় সিম সংগ্রহ : পুলিশ জানায়, অবৈধ সিম সংগ্রহের সবচেয়ে বড় উৎস হলো সাধারণ ও অসচেতন মানুষ। গ্রাহক যখন একটি সিমের জন্য আঙুলের ছাপ দেন, তখন অসাধু বিক্রেতারা সার্ভার ডাউন বা আঙুলের ছাপ মেলেনি বলে পুনরায় বা একাধিকবার আঙুলের ছাপ নেন। প্রতিটি সফল ছাপের বিপরীতে অপরাধীচক্র গ্রাহকের অজান্তেই একাধিক সিম সক্রিয় করে নেয়। অসাধু সিম রিটেইলার বা ডিস্ট্রিবিউটররা বেশি মুনাফার লোভে গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আঙুলের ছাপের ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করে রাখে। পরবর্তী সময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সেই তথ্য ব্যবহার করে নতুন সিম অপরাধীচক্রের কাছে সরবরাহ করে। অনেক সময় ভুয়া বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে করপোরেট সিম (একসঙ্গে অনেক) তোলা হয়। পরে এসব সিম অপরাধীদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা, প্রবাসীদের নামে থাকা অথবা মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পুনরায় সিম সচল করার ঘটনাও ঘটছে। কিছু বিক্রেতা যখন সাধারণ মানুষের আঙুলের ছাপ নেন, তখন তারা এক বিশেষ ধরনের সিলিকন প্যাড বা ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকের অজান্তেই তার আঙুলের ছাপের অবিকল নকল বা ডিজিটাল ইমেজ তৈরি করে নেয়। গ্রাহক চলে যাওয়ার পর সেই ক্লোন করা আঙুলের ছাপ এবং সংরক্ষিত এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে একের পর এক সিম সচল করে।   যেভাবে ব্যবহৃত হয় সংগৃহীত সিম : প্রতারকদের সংগ্রহ করা সিমগুলো ব্যবহার করে বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এরপর লটারি জয়, সরকারি অনুদান বা ভুয়া পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পেশাদার অপরাধী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে কল করে মুক্তিপণ বা চাঁদা দাবি করতে এই সিমগুলো ব্যবহার করে। মাদক ব্যবসায়ী এবং চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এসব সিম ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা এবং রাষ্ট্রবিরোধী বা ধর্মীয় উসকানিমূলক গুজব ছড়াতেও এসব সিম ব্যবহার করা হয়।   প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল : প্রতারকরা সাধারণ মানুষকে কল করে বলে, ‘ভাই, ভুল করে আপনার নম্বরে ২০ হাজার টাকা চলে গেছে, দয়া করে টাকাটা পাঠান। একই সঙ্গে তারা একটি ভুয়া মেসেজ (যা দেখতে হুবহু ব্যালেন্স মেসেজের মতো) পাঠায়। অসচেতন মানুষ ব্যালেন্স চেক না করেই নিজের টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হন। নিজেদের মোবাইল ব্যাংকিং সেন্টারের হেড অফিসের লোক বা কাস্টমার কেয়ারের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা কল করে বলে, ‘আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে গেছে বা আপডেট করতে হবে।’ এরপর কৌশলে গ্রাহকের ওটিপি বা গোপন পিন নম্বর কৌশলে জেনে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্টের সব টাকা তুলে নেয়। এছাড়া সরকারি অনুদান, লটারি ও উপবৃত্তির লোভ দেখিয়ে এবং ব্ল্যাকমেইলিং ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমেও অহরহ প্রতারণা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তের শূন্য রেখায় নথিহীন মানুষ: ‘পুশ ইন’ নিয়ে আইনগত প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

বেনাপোল বন্দরে বছরে ৪৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা এলেই পানিতে ডুবে যায় সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠ

0 Comments