নতুন বছরের শুরুতেই প্রবাসী আয় প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। চলতি জানুয়ারির প্রথম সাত দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে এ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহকে অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫০০ কোটির বেশি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বছরের শুরুতে পারিবারিক প্রয়োজন, ঋণ পরিশোধ ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যেও বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠান অনেক প্রবাসী।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো, ডলারের বাজারে চাপ কমানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরও উৎসাহ দিতে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় প্রবাহ টেকসই রাখতে ব্যাংকিং খাতে সেবা সহজীকরণ এবং প্রণোদনা কাঠামো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহ পুরো মাসে ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন বছরের শুরুতেই আশাব্যঞ্জক বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পবিত্র রমজান মাস, গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গ্রাহকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিদ্যুতের পরিমিত ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে এক বার্তায় গ্রাহকদের জন্য সাতটি জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের ওই বার্তায় সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে যে নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে– ১. সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পাম্প চালু রাখা। ২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই’ পদ্ধতিতে সেচ কাজ সম্পাদন করা। ৩. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা। ৪. বিদ্যুতের অপচয় রোধে দোকান, শপিংমল, পেট্রল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহার করা। ৫. দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে হুকিং বা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিরত থাকা। ৬. ইজিবাইক, অটোরিকশা ইত্যাদিতে অবৈধভাবে চার্জিং করা থেকে বিরত থাকা। ৭. পিক আওয়ারে (বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা) এসি, ওয়েল্ডিং মেশিন, লন্ড্রি, ওভেন বা মাইক্রো ওভেন, হিটার, পানির পাম্প, ইস্ত্রি এবং বৈদ্যুতিক বিলবোর্ডসহ অধিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সরঞ্জামাদির ব্যবহার বন্ধ রাখা। বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, গ্রাহকরা এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে সেচ মৌসুম ও রমজানে সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব প্রকৌশল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রকৌশল দক্ষতা ও সক্ষমতা তুলে ধরেছে দেশের প্রকৌশল পেশার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। বিশ্বের প্রকৌশলীদের শীর্ষ সংগঠন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অরগানাইজেশন (ডব্লিউএফইও) এবং ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্দোনেশিয়া (পিআইআই)-এর যৌথ উদ্যোগে ৩-৫ মার্চ জাকার্তায় স্থায়ী উন্নয়নের জন্য বিশ্ব প্রকৌশল দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে এ বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আইইবির আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ টি এম তানবীর-উল হাসান (তমাল), সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (একাডেমিক অ্যান্ড আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুব আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এইচআরডি) প্রকৌশলী মো. নূর আমিন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী এবং কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সালমা আখতার। ইউনেস্কোর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ বছরের বিশ্ব প্রকৌশলী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘উদ্ভাবন এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যতের জন্য স্মার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং’। সম্মেলনে টেকসই উন্নয়নে প্রকৌশলের অপরিহার্য ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মধ্যে এসডিজি-৯: শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদের অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রধান, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ, শিল্প ও আর্থিক খাতের নির্বাহী কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং বৈশ্বিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে উদ্ভাবন, ডিজিটালাইজেশন এবং টেকসই ও সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ৩ মার্চ ডব্লিউএফইও’র এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল, এক্সিকিউটিভ বোর্ডসহ বিভিন্ন গভর্ন্যান্স সংস্থার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফেডারেশনের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা বিশ্ব প্রকৌশলী দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। ৪ মার্চ শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কৌশল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। ৫ মার্চ ডব্লিউএফইও’র কার্যক্রম, কারিগরি গভীরতা এবং বাস্তব প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আইইবি প্রতিনিধি দলের পক্ষে সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল বলেন, সম্মেলনে ৩২টি দেশের প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রকৌশল পেশা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ইশতেহার, ভিশন ও মিশনও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে বাংলাদেশকে আরও সংযুক্ত করে দেশের কারিগরি দক্ষতা বাড়ানো এবং বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, ইরানের হামলায় একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, বুধবার ভোরে ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এঘটনা ভিত্তিহীন। এটির সত্যতার কোনো ভিত্তি নেই। এর আগে গত সোমবার (০২ মার্চ) কুয়েতে বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমান নিয়ে নতুন তথ্য দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রোববার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এক্সে এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, বিমানের ছয় পাইলট নিরাপদে বের হয়ে এসেছে। তাদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কুয়েত এই ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। চলমান অভিযানে কুয়েতি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ঘটনার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে।