ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় যেখানে সামনের সারিতে সৈন্যদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছিল যুদ্ধের মূল দৃশ্য, এখন সেখানে ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে ড্রোন ও রোবট এবং দূরনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধাস্ত্র।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো সৈন্য সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করা ছাড়াই ইউক্রেনের অনেক সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিস্ফোরক বহনকারী রোবট রুশ অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আকাশে থাকা নজরদারি ড্রোন পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, আর দূরে নিরাপদ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে অপারেটররা পরিচালনা করছেন পুরো অভিযান।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, জনবলসংকট এবং পশ্চিমা মিত্রদের ভবিষ্যৎ সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ইউক্রেন ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের দিকে ঝুঁকেছে। ড্রোন, রোবটিক যান এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থার ব্যবহার বাড়িয়ে তুলেছে তারা।এমন অভিযানগুলো তুলনামূলক বড় রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা এনে দিচ্ছে।
গত এপ্রিল মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুধু রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি রুশ অবস্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে মানববিহীন ২২ হাজারেরও বেশি মিশন পরিচালনা করেছে ইউক্রেন।
‘নীরব মৃত্যু’ নাম দিয়েছে রুশ সেনারা
ইউক্রেনীয় সেনাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দি হওয়া অনেক রুশ সেনা বিস্ফোরকবাহী রোবটগুলোর নাম দিয়েছে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ বা ‘নীরব মৃত্যু’।কারণ এসব যন্ত্র এতটাই নিঃশব্দে চলতে পারে যে অনেক সময় মাত্র ১০ মিটার দূরত্বে এসে পৌঁছানোর পর রুশ সেনারা এগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে পারেন। ততক্ষণে তাদের আর কিছুই করার থাকে না।
পূর্ব ইউক্রেনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্র দনবাসে একসময় সরাসরি লড়াই করা ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের কাছেও এই পরিবর্তন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
দনবাসের যুদ্ধেও অংশ নেওয়া একজন ডেপুটি-কমান্ডার বলেন, ‘তখন আমি এমন কিছু কল্পনাও করতে পারিনি। যদি এই প্রযুক্তি তখন থাকত, তাহলে হয়তো আমার অনেক সহযোদ্ধা আজও বেঁচে থাকতেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগে যুদ্ধ ছিল অনেক বেশি মানুষের দক্ষতা ও সাহসের ওপর নির্ভরশীল। কে কত ভালো প্রশিক্ষিত, কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধ—এসব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রযুক্তিই সব কিছু নির্ধারণ করছে। আর এ পরিবর্তন থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই।’
প্রতি মাসে ৩৫ হাজার রুশ সেনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্য
ইউক্রেনের নতুন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হলো রাশিয়ার ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করা। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনাকে হতাহত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন এবং চলতি বছরে সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছেন।
তাদের মতে, এতে রাশিয়াকে আরো বেশি করে জনবল সংগ্রহ করতে বাধ্য হতে হবে, যা দেশটির শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার সামরিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখে পৌঁছেছে।
যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা
যুদ্ধের শুরুতে ড্রোন ও রোবট ছিল নতুনত্বের বিষয়। কিন্তু চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে এগুলো এখন ইউক্রেনীয় বাহিনীর দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে আহত সৈন্যদের সরিয়ে নিতে, সামনের সারিতে রসদ পৌঁছে দিতে এবং সরাসরি হামলা চালাতেও। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ তাই শুধু ভূখণ্ডের লড়াই নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, তারও এক বাস্তব পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল স্ব-তথ্য নিবন্ধনভিত্তিক আদমশুমারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করা ভারতের দায়িত্ব নয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অনুপ্রবেশকারী নন, বরং তারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর অধীনে শরণার্থী হিসেবে গণ্য হবেন। শনিবার (০১ আগস্ট) বিধাননগরে দুই সপ্তাহব্যাপী ডিজিটাল স্ব-তথ্য নিবন্ধন (সেলফ-এনুমারেশন) কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদমশুমারিতে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তা শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে। এই তথ্য আইনগতভাবে সুরক্ষিত। কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে অক্ষম বা দুর্গম এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি তাদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। ভারতের আদমশুমারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং এতে সহযোগিতা করা সরকারি কর্মীদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্য বা দেশে থাকতে পারবে না। আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের শনাক্ত করে সতর্কতার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চলবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করা ভারতের দায়িত্ব নয়। তিনি আরও দাবি করেন, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে বাদ পড়া ২৭ লাখ ভোটারের মধ্যে মাত্র সাত লাখ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন, তারা শরণার্থী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধর্মীয় নিপীড়ন বা প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের হয়রানি করতে পারবে না। ডিজিটাল তথ্য নিবন্ধনের পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। এ সময় পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোটরসাইকেল ও চার চাকার যানবাহনের মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। আদমশুমারির দ্বিতীয় ধাপ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। ওই পর্যায়ে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাত, ধর্মসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা বলেছেন, প্রতিপক্ষের যে কোনো হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়। খবর আইআরএনএর। রোববার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের সাম্প্রতিক বক্তব্য মনস্তাত্ত্বিক ও জ্ঞানগত যুদ্ধের অংশ হলেও আমরা সেগুলোকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করি। তিনি বলেন, ইরান কখনো অপ্রস্তুত থাকবে না এবং কোনো হুমকির মুখে নিষ্ক্রিয়ও থাকবে না। তার মতে, প্রতিটি হুমকিকে তেহরান প্রস্তুতি বাড়ানো, প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার এবং সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘোষণা থেকে সরে আসার পর ইবনে রেজার এই মন্তব্য করলেন। ইরানের কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারির পর ওয়াশিংটন অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। শনিবার রাতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান সবসময় প্রস্তুত। আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যে কোনো আগ্রাসন কিংবা এ ধরনের হামলায় আঞ্চলিক কোনো দেশের সহযোগিতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় ও সমানুপাতিক জবাবের মুখে পড়বে। সূত্র : আইআরএনএ
কিউবার পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউএনই জানিয়েছে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে আংশিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় শনিবার রাতে দেশের ১৫টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটি প্রদেশের বেশিরভাগ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তবে রোববার ভোর থেকে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। খবর ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের। কিউবা দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি সংকটে ভুগছে। দেশটির সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত জ্বালানি অবরোধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা এবং জরুরি ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারও কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কিউবায় পাঁচবার দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে জুলাই মাসেই মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনবার জাতীয় গ্রিড বিকল হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০টি বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজধানী হাভানায় টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। দেশের অন্যান্য এলাকায় কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে মানুষকে। ৭২ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি জুলিয়ান গঞ্জালেজ বলেন, ‘আমরা যেন জোনাকির মতো জীবন কাটাচ্ছি। সব সময় অন্ধকারে থাকতে হয়। কখন বিদ্যুৎ আসবে, তা কেউ জানে না।’ বিদ্যুৎ সংকটের জন্য কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করলেও ওয়াশিংটনের দাবি, কিউবা সরকারের দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাই এ সংকটের মূল কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি সাতটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, যেগুলোর বয়স ৪০ বছরেরও বেশি। পুরোনো অবকাঠামো ও জ্বালানির অভাবের কারণে এসব কেন্দ্র প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে। এদিকে সংকট মোকাবিলায় কিউবা সরকার অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গ্যাস স্টেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ফার্মেসিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।