ইতালির পুলিয়া অঞ্চলের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে মঙ্গলবার অত্যন্ত সুপরিকল্পিত সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে একটি সাঁজোয়া নগদ অর্থ পরিবহনের গাড়ির দখল নেওয়ার চেষ্টা করে।
ইতালীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই হামলায় অন্তত আটজন ডাকাত জড়িত ছিল। যাদের মধ্যে কিছু লোক পুলিশের মতো ঝলমলে লাইট ব্যবহার করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে পথচারী ও গাড়িচালকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
হামলাকারীরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে গাড়িটির দরজা ভেঙে ফেলে। ইতালির সামরিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা ও কালো ড্রেসে পুরো আবৃত একাধিক ডাকাত এবং তাদের হাতে ভারী অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে অর্থ পরিবহনের গাড়িটির পেছনে দৌড়ে যাচ্ছে।
এরপর তারা বিস্ফোরক ব্যবহার করে দরজা উড়িয়ে দেয়, ফলে আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ডাকাত দলটি মহাসড়কটি অবরুদ্ধ করতে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। যার ফলে সেখানে একটি ‘আগুনের দেয়াল’ তৈরি হয়। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা একটি গাঢ় নীল রঙের আলফা রোমিও গাড়ি ব্যবহার করেছিল, যার ছাদে নীল রঙের ঝলমলে বাতি লাগানো ছিলো।
ফলে সেটিকে পুলিশের গাড়ি বলে মনে হয়।
নাটকীয় এ হামলার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ‘ডাকাতিটি ব্যর্থ হয়েছে। তবে কোনো অর্থ লুট হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।’
তদন্তকারীরা জানান, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর জন্য আশপাশের পথচারীদের গাড়ি ছিনতাই করে। এরপর তারা পুলিশের একাধিক গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
একটি গাড়িতে তিনটি গুলি লাগে। এ ছাড়া গাড়িকে ধাক্কা দেওয়া হয়।
পুলিশ সদস্যদের একটি সংগঠনের মহাসচিব নিকোলা মানিও বলেন, ‘অপরাধী চক্রগুলো দিন দিন আরো বেশি উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করছে। পুলিশের জন্য আরো আধুনিক যানবাহন, উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামের প্রয়োজন রয়েছে।’
এই হামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ লেচ্চে শহর থেকে দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিদের আটক করতে অভিযান এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো হয়তো আর সম্ভব নয়—এমনটিই ধারণা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ক্রমাগত অন্তর্বর্তী সামুদ্রিক চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। তাদের এই ব্যর্থতার কারণে একটি বৃহত্তর চুক্তি সম্পাদনের আর কোনো আশা দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমি জানি না আমাদের মধ্যে কোনো চুক্তি হতে যাচ্ছে কি-না।’ কর্মকর্তারা আরো সতর্ক করে দিয়েছেন, একটি পারমাণবিক চুক্তি হতে হলে ইরানকে অবশ্যই মাটির নিচে থাকা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। ইরান যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে কোনো চুক্তি হবে না। এর পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সেই পারমাণবিক উপকরণের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে কম খরচের সামরিক বিকল্পও প্রস্তুত রয়েছে।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয় সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়ফাইল ছবি: রয়টার্স ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে মূলত দুটি বিষয় ফুটে উঠেছে। একদিকে ইরান নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে; অন্যদিকে বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। আরব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি এমনটাই মনে করছেন। আল-জাজিরাকে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পরিস্থিতি। সামরিক হামলার মুখে কোনো চুক্তি বা রূপরেখাই যে টিকতে পারে না, তা সবারই জানা।’ আলকিনানি আরও বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে একধরনের শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে আমরা এটাও জানি যে এসব সামরিক তৎপরতা মূলত একটি বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। ভবিষ্যতে নতুন করে দর-কষাকষির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই এমনটা করা হয়।’ এই বিশ্লেষক বলেন, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে বিশ্বের প্রধান সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজস্ব বৈশ্বিক মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। আলকিনানি বলেন, মনে হচ্ছে, ইরান এখন নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তিও তুলে ধরার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি এবং কল্পিত ভবিষ্যৎ থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কৌশলগত আঞ্চলিক সম্পর্কের খোঁজ আরব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা চায়, কূটনীতির মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এ সংঘাতের যত দ্রুত অবসান হোক। আলকিনানি বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদে আমরা ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ দেখতে পেতে পারি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে ভাবছে দেশগুলো। আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন কোনো বহুজাতিক জোট গঠনের চিন্তাও তাদের মাথায় থাকতে পারে।’ এই বিশ্লেষক আরও বলেন, এসব ভাবনার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদ কীভাবে ঠেকানো যায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর উপায় নিয়েও তারা ভাববে। আলকিনানি বলেন, তবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে অন্য দেশগুলো হয়তো আগের পরিস্থিতিই বজায় রাখতে চাইবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে—এমন আশায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে সপ্তাহের হিসাবে তেলের দাম এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫২ সেন্ট বা প্রায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৭৫ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৩ সেন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ২৫ ডলারে। তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত না বাড়া এবং আগামী সপ্তাহে আবার আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার আশা জোরালো হয়েছে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানে গিয়ে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা করছেন। এই খবর প্রকাশের পর তেলের দাম আরও কিছুটা কমে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় ধীর রয়েছে। যদিও কিছু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)বাহী জাহাজ ইতোমধ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আগামী বছরের বৈশ্বিক তেলের বাজার নিয়ে তাদের পূর্বাভাস বদলে যেতে পারে।