ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানির অষ্টম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের অডিটরিয়ামে এ শুনানি চলছে।
এদিন ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) ইসিতে আপিল শুনানির শেষদিন।
এর আগে নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া ৪৩টি আপিল আবেদনের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে করা ১৮টি আপিল মঞ্জুর এবং ১৭টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। পাশাপাশি মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে করা চারটি আপিলও খারিজ করেছে কমিশন। শুনানি শেষে আরও চারটি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
সংশোধিত তপশিল অনুযায়ী, নির্বাচনসংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি।
আগামী ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন।
এ ছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ডিএমপি কমিশনার বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। রাজধানীতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভালো রয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পুলিশ সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি, কেন্দ্রের অবস্থান ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন বলে জানান তিনি। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে। সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, নানা কারণে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই কালিমামুক্ত হয়ে একটি অর্থবহ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ধারপ্রান্তে এসেছে, তা এগিয়ে নিতে ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবাই সম্মিলিতভাবে অবদান রাখুন। ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ আসন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আসনভিত্তিক কোনো বিশ্লেষণ করা হয়নি। ডিএমপি ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছে। মহানগরে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই দুই ধরনের কেন্দ্র থাকবে। পাশাপাশি ৩৭টি কেন্দ্রকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সোয়াট প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের থ্রেট নেই। পরিবেশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও ভালো। অপরাধ নেই, আইনশৃঙ্খলার কোনো সমস্যা নেই, রাস্তাঘাটে অবরোধ নেই। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরাজিত পক্ষ কারচুপির অভিযোগ তুলতে পারে—এটি আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিএমপির সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় সাংবাদিকসহ নগরবাসীর সবাই রয়েছে। কারও নিরাপত্তাহানি ঘটবে না এ বিষয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিত করেন। অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেনি। নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লাঠি হাতে থাকা ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই ঘটনাস্থলে যান। সরকারপ্রধানের বাসভবনের সামনে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে বসে থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক চার দেশীয় ফোরাম করার আগ্রহ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ এক নতুন বার্তা বহন করছে। বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি চার দেশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ। এই প্রস্তাবটি পাকিস্তান এমন এক সময়ে দিয়েছে, যখন নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। গত বছর চীনও পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় জোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন ঢাকার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বাচনের আর কয়েকদিন বাকি। এ অবস্থায় চার দেশীয় জোট নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। যেহেতু আলোচনায় এসেছে; তাই নির্বাচিত সরকার চাইলে বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের একদম কাছাকাছি সময়ে এমন জোট হওয়ার সম্ভাবনা যে নেই, তা পাকিস্তানও বোঝে। তার পরও তাদের পক্ষে এটা একটা স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটা আসলে ভারতকেই দিতে চাইছে পাকিস্তান। এখন সরকার যদি পাকিস্তানের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়, সেটা চলমান বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে। সূত্র জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোন করেন। ফোনে তিনি বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তান নির্বাচনের আগেই এ নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করতে চায়। জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত রাখতে বলেন। চীনের ত্রিদেশীয় উদ্যোগ থেকে চার দেশীয় প্রস্তাব: এই চার দেশীয় ফোরামের ধারণাটি নতুন নয়। গত বছরের জুন থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে চীন একটি ত্রিদেশীয় ফোরাম গঠনে সক্রিয় ছিল। চীনের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে এমন প্রস্তাব উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরে একাধিক আলোচনাও হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সম্মতি না দেওয়ায় উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। বাংলাদেশের যুক্তি ছিল, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো দেশকে যুক্ত করা না হলে দক্ষিণ এশিয়ায় এমন একটি জোট ফলপ্রসূ হবে না। পাকিস্তানের সঙ্গে নেপাল বা শ্রীলঙ্কার একই জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তখন সে জোটের আলোচনা আর এগোয়নি। এখন মিয়ানমারকে যুক্ত করে চার দেশীয় ফোরামের প্রস্তাব সামনে আনল পাকিস্তান। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় বৈরিতা এড়িয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর ভিত্তি করে চলে। ফলে যেই জোট আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে, তাতে যুক্ত হবে না বাংলাদেশ।’ চীন-পাকিস্তানের জোটে বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তারপর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নতির দিকে যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনাও চলছে। এটিও ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। এখন এলো চার দেশীয় ফোরাম গঠনের প্রস্তাব। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে চার দেশীয় ফোরাম গঠনের প্রস্তাবের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে সার্কের শীর্ষ সম্মেলনগুলো বাতিল হয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে পাকিস্তান ছাড়া ভারতের সঙ্গে বিমসটেকে যুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান চায় একটি নতুন জোট করতে, যেখানে ভারত থাকবে না এবং পাকিস্তানের সহযোগী বন্ধু চীনের উপস্থিতি থাকবে। চীনের উদ্দেশ্য হলো বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব বিস্তার করা। বাংলাদেশে চীনের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে। যেমন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কক্সবাজারে সাবমেরিন বেস। মিয়ানমারে চীনের কিয়াউকপিউ বন্দর প্রকল্প রয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে চীনের কৌশলগত উপস্থিতি বাড়াবে। পাকিস্তান চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশের তিন দিক থেকে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে, তাই বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ভাবছে চীন ও পাকিস্তান। এই ফোরামের মাধ্যমে চীন ও পাকিস্তান ভারতকে মূলত চাপে ফেলতে চাইছে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন আঞ্চলিক জোটে কখনোই যাবে না। উদ্ভট একটা জোটের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এখানে দেখছি মিয়ানমারও রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুসহ মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের নানা সমস্যা চলমান। এমন অবস্থায় তাদের নিয়ে জোট কীভাবে সম্ভব।’ নির্বাচনের আগে ভারতকে বার্তা!: ২৪-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বারবার স্বীকার করেছেন, ভারতের সঙ্গে এ সরকারের সম্পর্ক ভালো অবস্থানে নেই। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের বিদায়ী আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। এ সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক থমকে রয়েছে, যা নির্বাচিত সরকার এলে সমাধান হতে পারে।’ সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘হাসিনা বা আওয়ামী লীগ মুখ্য নয়। অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মধুর করতে আগ্রহী ছিল, বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে এমনও নয়। যেহেতু এ সরকারের ভারতবিরোধী একটা অবস্থান রয়েছে, ফলে সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় চাইলেও ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে চেষ্টা করেনি ইউনূস সরকার।’ এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কে আগ্রহী বারবার বলা হলেও এমনটি হয়নি। এ সরকার চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে এতই ব্যস্ত ছিল যে, ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কও রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতে বাংলাদেশের আমদানি কমলেও রপ্তানি বেড়েছে। এগুলো মুনাফার বিষয়। চাইলেও পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা অনেক বাণিজ্যিক সম্পর্ক করতে পারব না। পাকিস্তান অনেক দূরের দেশ। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবেই। এ সরকারের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতেই পারে, এসব গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।’
আর তিন দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট চার দিন এসব সেবা সীমিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস সেবায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনে প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে। দৈনিক লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ বার, যার মোট পরিমাণ ১০ হাজার টাকার বেশি হবে না। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের অপব্যবহার রোধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা এক হাজার টাকা এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও বিভিন্ন সেবা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে। লেনদেন ছাড়া এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে কোনো আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব জরুরি রেসপন্স সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ সময় সব ধরনের লেনদেন এমএফএস প্রোভাইডারদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করতে হবে। এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।