ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পশ্চিম তীরে বসতি দখল সংক্রান্ত নতুন আইন অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। এর ফলে অধিকৃত এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ইহুদিদের জন্য সম্পত্তি কেনা সহজ হবে। এতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত আইনের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে এখন থেকে ইহুদিরা আরও সহজে জমি কিনতে পারবেন। পাশাপাশি ভূমি নিবন্ধন নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের এ আইনের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে জমির মালিকদের পরিচয় সহজে জানা যাবে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা চাপ ও হয়রানির মাধ্যমে জমি দখলের পথ সুগম করবে। এছাড়া হেবরনের অবৈধ ইহুদি বসতিতে নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষমতা এবং ইব্রাহিমি মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনি হেবরন পৌরসভার কাছ থেকে নিয়ে ইসরায়েলের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মোয়াতাজ আবু স্নেইনা বলেন, এই সিদ্ধান্ত ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে গুরুতর পদক্ষেপ। ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এটি ইহুদিদের কাছে ‘টম্ব অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস’ নামে পরিচিত।
১৯৯৪ সালে এক ইসরায়েলি উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারী মসজিদে গুলি চালিয়ে ২৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। পরে স্থানটি মুসলিম ও ইহুদি প্রার্থনার জন্য ভাগ করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কয়েকশ’ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় হেবরনের কেন্দ্রস্থলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
আবু স্নেইনা বলেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হেবরন ও মসজিদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। উপাসনায় বাধা, প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ, আজানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সবই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ।
হেবরন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির পরিচালক মোহান্নাদ আল-জাবারি বলেন, পুরোনো শহরে পৌরসভার দোকান জব্দ, নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণ এবং পানি সরবরাহ ইসরায়েলি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি বিশাল বর্ণবাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি পাড়াগুলো খালি করে বসতিগুলোকে ইব্রাহিমি মসজিদের সঙ্গে যুক্ত করে একটি ইহুদি কোয়ার্টার প্রতিষ্ঠা করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাবিল ফারাজ বলেন, ইসরায়েল ভৌগোলিক বাস্তবতা পুনর্গঠন করছে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ খর্ব করার চেষ্টা করছে। এটি শান্তি প্রক্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটি জোরহাট থেকে উড্ডয়ন করেছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি শেষবার রাডারে দেখা গেছে রাত ৭টা ৪২ মিনিটে। বিমানটি খুঁজে বের করতে একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এসইউ-৩০ এমকেআই হলো ১৯৮০-এর দশকে রাশিয়ার উন্নত বিশেষ সংস্করণের যুদ্ধবিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর মূল শক্তি হিসেবে কাজ করে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একাধিক স্কোয়াড্রন এই বিমান ব্যবহার করছে। রাশিয়ায় তৈরি এই বিমান প্রথম ১৯৯৭ সালে ভারতে পৌঁছায়। হিন্দুস্থান এয়ারক্রাফটস লিমিটেড এই বিমানের উৎপাদন করছে। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ২৫০টিরও বেশি এসইউ-৩০ বিমান রয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ওমান উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, রণতরীটি হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ইরানের দাবি, ওই রণতরী হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব বিস্তার করতে এগিয়ে এসেছিল। মুখপাত্র বলেন, ড্রোন হামলার পর রণতরীটি দ্রুত সরে যায় এবং সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ারসহ ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে চলে গেছে। এর আগে ১ মার্চও একই রণতরীকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা হামলা ওই রণতরীকে আঘাত করেনি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রাধান্য বিস্তার করেছে এবং বি-২ ও বি-১ বোমারু বিমান সেখানে অভিযান চালাচ্ছে।
ইসরাইল বৃহস্পতিবার ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান কাতার ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। তেহরান থকে এএফপি জানায়, সংস্থার সাংবাদিকরা তেহরান ও দোহায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। কাতারের রাজধানীর আকাশে দূরে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে পুরো অঞ্চল জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক শক্তিগুলোকেও টেনে আনছে এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব শ্রীলঙ্কা উপকূল পর্যন্ত পৌঁছেছে, যেখানে একটি মার্কিন সাবমেরিন একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে টর্পেডো হামলা চালিয়েছে। এছাড়া একটি ড্রোন হামলায় বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আজারবাইজান প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আজারবাইজান জানিয়েছে, এ হামলার ‘জবাব দেওয়া হবে’ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে আরও একটি দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইরানসমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলার পর রাজধানী বৈরুতে বহু ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে বলে এএফপিটিভির ছবিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, তারা ইরাকভিত্তিক কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করে ইরানে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়া দুটি সামরিক বিমান ওই অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, প্রয়োজন হলে কানাডার সশস্ত্র বাহিনীও যুদ্ধে অংশ নিতে পারে। যুদ্ধের প্রভাব ন্যাটো সদস্য তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। জোটটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের আকাশসীমার দিকে আসা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। পরে তুরস্ক এ ঘটনায় ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। ‘আমি ভয় পাই না’ বৃহস্পতিবার তেহরানে হামলার পর এএফপিটিভির ছবিতে পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা গেছে। কিছু স্থান থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছিল। তেহরানের ৩০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের খুব গুরুত্বপূর্ণ এক সময় পার করছি এবং আমি ভয় পাই না। এখন আমাদের কাছে একমাত্র জিনিস হলো আশা।’ ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১,০৪৫ জন সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ফুটবল স্টেডিয়াম, পৌর ভবন এবং বহু দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেটব্লকস পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইন্টারনেট কার্যত প্রায় এক শতাংশ ক্ষমতায় নেমে এসেছে, ফলে দেশটি প্রায় বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার গুরুতর ক্ষতি করা, যতক্ষণ না তারা অস্তিত্বগত হুমকি দূর করে।’ ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাদের যৌথ সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনের দৃঢ় সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। ‘আমরা আত্মসমর্পণ করব না’ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার পর জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যদিও পরে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। লেবাননে ইসরাইল জানিয়েছে, দক্ষিণ বৈরুতে হিজবুল্লাহর কয়েকটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ভোরের দিকে একটি ড্রোন হামলায় ত্রিপোলির কাছে বেদ্দাভি শরণার্থী শিবিরে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াসিম আতাল্লাহ আল-আলি এবং তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার থেকে দেশটিতে অন্তত ৭২ জন নিহত, ৪৩৭ জন আহত এবং প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। উপসাগরীয় দেশেও হামলা যুদ্ধের প্রভাব উপসাগরীয় ধনী রাজতন্ত্রগুলোতেও পড়েছে, যেগুলো সাধারণত অস্থির অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কুয়েতে এক ১১ বছর বয়সী মেয়েও রয়েছে। কাতার জানিয়েছে, দোহায় তীব্র বিস্ফোরণের মধ্যেই তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। এর আগে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলাও প্রতিহত করা হয়েছিল। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সময় তৈরি করতে পারে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। কুয়েত উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, যার ফলে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কায় দক্ষিণ কোরিয়া ৬৮ বিলিয়ন ডলারের বাজার স্থিতিশীলতা তহবিল সক্রিয় করার ঘোষণা দিয়েছে। আর চীন তেল শোধনাগারগুলোকে ডিজেল ও পেট্রোল রপ্তানি বন্ধ রাখতে বলেছে বলে জানা গেছে। বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া ও পর্যটকদের আটকে পড়ার কারণে পর্যটন খাতও বড় আঘাত পাচ্ছে। জর্ডানের উত্তরাঞ্চলের ইরবিদ শহরের ট্যুর গাইড নাজিহ রাওয়াশদেহ বলেন, ‘তিন দিন আগে আমার শেষ পর্যটক দল চলে গেছে। মার্চে আসার কথা ছিল এমন সব দল তাদের সফর বাতিল করেছে। এখানকার পর্যটন মৌসুম এখনই শুরু হওয়ার কথা ছিল। এটি সত্যিই বিপর্যয়কর।’