আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত, ফিলিস্তিনে কেন যোগব্যায়াম কূটনীতি?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার এখন যোগব্যায়াম। ২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদির সরকার একে সফট পাওয়ারের মূল মাধ্যম হিসেবে জোরেশোরে প্রচার করছে।

 

২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘যোগব্যায়াম সর্বজনীন। যোগব্যায়াম আমাদের শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে শান্ত ও আবেগগতভাবে স্বস্তি দেয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি কেবল ম্যাটের ওপর কিছু ব্যায়াম করা নয়। যোগব্যায়াম একটি জীবনধারা। স্বাস্থ্য ও কল্যাণের প্রতি এটি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’

ভারতের এই যোগব্যায়াম কূটনীতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। দেশটির ‘আয়ুশ’ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এ প্রচার চলছে। এর মাধ্যমে বিশ্বদরবারে ভারতকে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি।

তবে ভারতের ভেতরের পরিস্থিতির কারণে এ উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। মোদি সরকারের আমলে ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ বেড়েছে।

২০২০ সালে গবেষক অনুশা লক্ষ্মী লিখেছিলেন, ‘নিজের প্রশাসনের সহিংসতা, অনমনীয়তা ও অসহিষ্ণুতা আড়াল করতে মোদি যোগব্যায়ামকে ব্যবহার করছেন।’ আর ফিলিস্তিনে ভারতের এই যোগব্যায়াম কূটনীতি সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে।

 

ঘটনা ১: ৯ মার্চ ২০২৫

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যেই ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ভারতীয় মিশন ‘প্রধানমন্ত্রীর যোগব্যায়াম পুরস্কার’-এর জন্য আবেদন আহ্বান করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক গ্রাফিকে মিশন লেখে, ‘জীবন বদলে দিতে যোগব্যায়ামের শক্তি উদ্‌যাপন করুন।’

অথচ এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ৮ মার্চ ২০২৫ তারিখেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তত দিনে মোট নিহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৪৫৩–তে। আহত হন ১ লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন আরও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।

এর পরদিন, ৯ মার্চ সকালে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে লাখ লাখ মানুষের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস ডি-স্যালাইনেশন প্ল্যান্টগুলোর কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তখন রমজান মাস চলছিল। গাজায় ত্রাণের সংকট তীব্র হচ্ছিল। যুদ্ধবিরতির আলোচনাও তখন সুতায় ঝুলছিল। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন, তুলকারম ও তুবাসে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চলছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যেখানে ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল, ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০০টিতে।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা জানায়, ‘২১ জানুয়ারি অভিযান শুরুর পর জেনিন ও তুলকারমের ক্যাম্প থেকে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা।’

এমন এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ফিলিস্তিনিদের যোগব্যায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছিল ভারত।

 

ঘটনা ২: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় মিশন থেকে আরেকটি পোস্ট করা হয়। বিশ্ব ধ্যান দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের ‘দাজি’র সঙ্গে অনলাইনে ধ্যানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায় মোদি সরকার।

ইসরায়েলি বাহিনী যখন গাজার প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মসজিদগুলো একের পর এক ধ্বংস করছিল, তখন ভারতীয় মিশন ফিলিস্তিনিদের ‘শান্তি, সহানুভূতি ও সংহতির’ জন্য অনলাইন ধ্যানে বসার কথা বলছিল। একে এক চরম নির্মম পরিহাস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

শুধু তা–ই নয়, ২১ ডিসেম্বর আরও বেশ কিছু ঘটনা ঘটে: হেব্রনের বাইরে মোহাম্মদ ওয়ায়েল আল-শারুফ নামের এক ফিলিস্তিনিকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। আল–জাজিরার খবর অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া শহরে অভিযান চালিয়ে ১৬ বছরের এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দেয়।

এমন রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতেও ভারতের পরামর্শ ছিল—ফিলিস্তিনিরা যেন ধ্যানে মগ্ন হন।
এ পোস্টগুলোকে কেবল ‘ভুল সময়ে করা সংবেদনহীন পোস্ট’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্কের দিকে তাকালে এর পেছনে এক গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শান্তির বার্তা ছড়িয়ে আসলে নিজেদের অপরাধের দায় ও সম্পৃক্ততা আড়াল করতে চায় ভারত।

 

ফিলিস্তিনিদের ‘সহনশীলতা’ বাড়াতে ভারতীয় মিশন বারবার যোগব্যায়ামের গুণগান গাইছে। কিন্তু যে শক্তির কারণে ফিলিস্তিনিদের এ কষ্টের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা নিয়ে ভারত পুরোপুরি নীরব।

গবেষকদের মতে, যোগব্যায়াম বা ‘ওয়েলনেস’ ব্র্যান্ডগুলো এখন আর রাজনীতিমুক্ত নয়। ইসরায়েলেও এর ব্যবহার দেখা যায়। সেখানে জায়নবাদীরা ইসরায়েলপন্থী যোগব্যায়াম প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। এমনকি সাবেক ইসরায়েলি সেনারা যুদ্ধের মানসিক ট্রমা কাটাতে যোগব্যায়াম গ্রুপ তৈরি করেছে।

ফিলিস্তিনে ভারতের এই যোগব্যায়াম কূটনীতি মূলত একটি নিরপেক্ষ ও কল্যাণকামী ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা। অথচ পর্দার আড়ালে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্ক দিন দিন আরও মজবুত হচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের কাছে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে ভারত কেবল যোগব্যায়ামই ব্যবহার করছে না। তারা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে এবং পশ্চিম তীরে ভারত-ফিলিস্তিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের প্রচার চালাচ্ছে।

 

 অথচ প্রকৃত বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা দেশ হলো ভারত। অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভারত চার গুণ বেশি অস্ত্র কেনে ইসরায়েল থেকে। শুধু তা–ই নয়, ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের ভিসা বাতিল করে, তখন ভারত সেখানে হাজার হাজার নির্মাণশ্রমিক পাঠায়।

সম্প্রতি দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বে’ রূপান্তর করেছে।এমনকি ভারতীয় মিশন ফিলিস্তিনে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও পোস্ট করে। এটি নরেন্দ্র মোদির ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান মিশন: এন্ড প্লাস্টিক পলিউশন’ ক্যাম্পেইনের অংশ।

বাস্তবতার নিরিখে এই প্রচারণাও চরম প্রাসঙ্গিকতাহীন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটলাররা যেভাবে ফিলিস্তিনিদের জলপাইবাগান ধ্বংস করছে কিংবা ‘জিউশ ন্যাশনাল ফান্ড’ যেভাবে উচ্ছেদ হওয়া ফিলিস্তিনি গ্রামের ওপর পাইনবন তৈরি করছে, তা নিয়ে এই প্রচারণায় কোনো কথা নেই।

দখলদারত্ব ও গণহত্যার মুখে দাঁড়িয়ে প্লাস্টিক দূষণ বা যোগব্যায়ামকে সামনে আনা একই সুতায় গাঁথা। এটি মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আড়াল করার একটি সুকৌশলী ঢালমাত্র।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডে প্রথমবার শনাক্ত হলো এইচ৫ বার্ড ফ্লু

নিউজিল্যান্ডে প্রথমবারের মতো এইচ৫ বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। ওয়েলিংটনের পেটোন সৈকতে পাওয়া একটি পরিযায়ী বাদামি স্কুয়া সামুদ্রিক পাখির শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।   দেশটির জৈব নিরাপত্তা মন্ত্রী অ্যান্ড্রু হগার্ড বলেন, ঘটনাটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   তবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বন্য পাখিদের মধ্যে ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বা অনেক পাখি মারা যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এইচ৫ বার্ড ফ্লু বিশ্বজুড়ে গৃহপালিত ও বন্য পাখির মধ্যে ব্যাপক অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ হয়েছে।   এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ায়ও প্রথমবার এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর সেখানে ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।   নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ দেশটির সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি বিরল পাখি প্রজাতি কাকাপো, তাকাহে, শোর প্লোভার, ব্ল্যাক স্টিল্ট এবং অরেঞ্জ-ফ্রন্টেড প্যারাকিট রক্ষায় প্রজননকারী পাখিদের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জনগণকে অনুরোধ করেছে, কোথাও একসঙ্গে তিনটি বা তার বেশি অসুস্থ পাখি দেখা গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
ট্রাম্প ও ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করল মেক্সিকো

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ থামাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে নেতানিয়াহুকে চাপ ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের তেল রপ্তানিতে সহায়তার অভিযোগে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি শিপিং ও পরিবহন নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ৫০টির বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ইরানের তেল বিদেশে পাঠাতে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করেছে।   মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানির সঙ্গে জড়িত আর্থিক ও পরিবহন নেটওয়ার্ক দুর্বল করে দেওয়া।   মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্ক শুধু তেল পরিবহনই নয়, আন্তর্জাতিক কনটেইনার পরিবহন ও বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত।   ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০০-এর বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ভারত, হংকং, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের কয়েকটি শিপিং কোম্পানি, পরিবহন প্রতিষ্ঠান, জাহাজ পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও আর্থিক মধ্যস্থতাকারীরা রয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে সহযোগিতা করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দাবি: মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা

ছবি : সংগৃহীত

কুয়েত-বাহরাইনে ইরানের হামলা, বাজছে জরুরি সাইরেন

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজের বিকল্পে নতুন বন্দর গড়ার পরিকল্পনা আমিরাতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যে শর্তে হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ ফি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।   বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শুল্ক ইস্যুতে আলোচনার সময়ও বারবার এ বিষয়টি সামনে এসেছে।   ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বড় ধরনের’ বিনিয়োগ আসবে এবং নতুন কারখানা ও সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি ট্রাম্প যেসব উপসাগরীয় দেশকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে ট্রাম্পের পোস্টের শেষ অংশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে তিনি বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার দিন ‘শেষ হয়ে গেছে’। তবে কীভাবে তিনি এ লক্ষ্য অর্জন করবেন, তা পরিষ্কার নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। যদিও দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন, তারপরও ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে কীভাবে এমন পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   শিগগিরই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে এ বিষয়ে ট্রাম্প বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আসন পেতে প্রচারণা শুরু করল ভারত

চীনের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে কড়া বার্তা দিল চীন

ছবি: সংগৃহীত

৬২ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা বহাল রাখল জার্মানি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

0 Comments