সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করলে ইসরাইলের ডিমোনা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার (৪ মার্চ) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরানিয়ান স্টুডেন্ট’স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির বরাতে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ষড়যন্ত্র হলে তেহরান কঠোর ও দৃঢ় জবাব দেবে।
তিনি বিশেষ করে ইসরাইলের ডিমোনা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা রক্ষায় ইরান প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।
কর্মকর্তারা বলেন, এমন প্রতিক্রিয়ার উদ্দেশ্য হবে বিদেশি শক্তিগুলোকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা— সরকার পরিবর্তনের যে কোনো চেষ্টা শক্ত ও পরিকল্পিত প্রতিশোধের মুখে পড়বে।
ইরানে হামলা জোরদার
এদিকে রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা আরও জোরদার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে সামরিক অবকাঠামো ও নিরাপত্তা কমান্ড সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া কেরামানশাহ শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাবরিজ ও ইয়াজদ শহরের আবাসিক এলাকায় বোমা পড়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দিনের এই হামলায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ১,০৪৫ জন ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুদ্ধের ৪৩ দিনের মাথায় আলোচনার টেবিলে বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দুই দেশের প্রথম এ সরাসরি আলোচনা শেষমেশ কোথায় ঠেকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, সমঝোতায় পৌঁছানোর পথটা হয়ত বন্ধ নয়, তবে বন্ধুর। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুপক্ষের মতবিরোধ রয়েছে। বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের অনাস্থাও। এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও সেই ঝুঁকি দেখছেন। তার ভাষায়, আলোচনা সফল হতে পারে, ব্যর্থও হতে পারে। ব্যর্থ হলে আরেক দফা সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। আল জাজিরা লিখেছে, ইরান যে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, তাদের সবারই বিস্তর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ‘মিনাব ১৬৮’ নামে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কালিবাফ। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আছেন, যাদের কূটনৈতিক দর কষাকষিতে বেশ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু বেকার ও এশীয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ভ্যান্সও আছেন মার্কিন প্রতিনিধিদলে। শনিবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আলোচনায় বসেন দুই দেশের এসব প্রতিনিধি। প্রথম দফার আলোচনা চলে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় দফার আলোচনায় চুক্তির বিষয়ে লিখিত বার্তা আদান-প্রদান করে দুই পক্ষ। মধ্যরাতের দিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলের বরাতে রয়টার্স জানায়, রাতেই তৃতীয় দফায় আলোচনায় বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এদিকে তেহরানের প্রতিনিধি দলের একজন সদস্যের বরাতে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, আলোচনা রোববারও গড়াতে পারে। এর আগে এক খবরে হরমুজ প্রণালি ও লেবাননের বিষয়ে দুই পক্ষের ‘বড় ধরনের’ মতবিরোধ তৈরি হওয়ার তথ্য দেয় সংবাদ সংস্থাটি। আল জাজিরা লিখেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর তারা গত কয়েক দিন ইরানের নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেছে। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি হলে তা আদৌ টিকবে কিনা, তা নিয়ে ইরানিরা সন্দিহান। তবে কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষমেশ সফল হলে ইরানের ওপর থেকে হয়ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দিহান ইরান সরকারও। ফাতেমেহ মোহাজেরানি নামে ইরান সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, “পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানোটা তেহরানের আলোচনায় আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। তবে তাদের ‘আঙুল ট্রিগারেই থাকবে’। আমরা সংলাপে বিশ্বাস করি এবং যুক্তিসংগত আচরণ করি, কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করি না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাসের কথা এসেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির মুখ থেকেও। তিনি বলেছেন, তারা ‘সম্পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এ আলোচনা কেবল যুদ্ধবিরতির বিষয় নয়, এটি দুই দেশের ৪৭ বছরের শত্রুতা বা বৈরিতা অবসানের প্রশ্নও। ফলে এ আলোচনার মধ্য দিয়ে সবকিছু মিটমাট হয়ে যাবে, অতটা আশাবাদী নন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের’ গবেষক আবাস আসলানি মনে করেন, এ আলোচনাকে ‘চূড়ান্ত ফয়সালা’ হিসেবে দেখা যাবে না, দেখতে হবে একটি প্রক্রিয়ার ‘সূচনা’ হিসেবে। কয়েক দিন আগে আমরা যখন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা শুনলাম, কেউ কেউ ভেবেছিলেন, সব বোধহয় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ বলছে, সমেঝোতায় পথটি হয়ত অবরুদ্ধ নয়, তবে বন্ধুর। দর কষাকষিতে যা যা থাকতে পারে তেহরান শুরু থেকে বলে আসছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতিও আলোচনার সূচিতে থাকতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলেছে, লেবাননে হামলার বিষয়টি যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। দর কষাকষি হবে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও। ইরান চাইছে, তাদের অবরুদ্ধ সব সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া হোক। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে, তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে রাজি আছে, তবে ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। মতবিরোধ আছে হরমুজ প্রণালি নিয়েও। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে একচ্ছত্র কর্তৃত চায় তেহরান; জাহাজ থেকে টোল আদায়ের দাবিও আছে তাদের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তেলবাহী জাহাজসহ অন্যান্য নৌযানকে কোনো বাধা বা টোল ছাড়াই চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা এগুলোর ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি চায়। কিন্তু ওয়াশিংটন এতে রাজি নয়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে ‘কোনো আলোচনা হবে না’। আবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা হোক। কিন্তু এ বিষয়ে তেহরানের বক্তব্য ট্রাম্পের মতোই— ‘ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আলোচনার বিষয় নয়’। আলোচনায় দর কষাকষি হতে পারে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি নিয়েও। তেহরান বলছে, তাদের আশপাশের দেশ থেকে মার্কিন বাহিনীকে চলে যেতে হবে। এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য হলো, শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বহাল থাকবে। না থেকেও ছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদের আলোচনায় সশরীরে ছিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট দিয়ে আলোচনায় থেকেছেন তিনি। তবে ইসলামাবাদে অবস্থানরত মার্কিন প্রতিনিধি দলের তরফে যে ধরনের বার্তা এসেছে, ট্রাম্পের কথাবার্তা ছিল তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। সবশেষ পোস্টে তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেন। ‘ভুয়া সংবাদ মাধ্যম’ মন্তব্য করে তিনি লেখেন, ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের নেতৃত্ব এখন মৃত! হরমুজ প্রণালি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে এবং খালি জাহাজগুলো এখন 'মালামাল বোঝাই' করতে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ‘ছুটে আসছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প যখনই মনে করেন, অন্য কেউ তার চেয়ে বেশি মনোযোগ পাচ্ছে, তখনই তিনি নিজেকে নানাভাবে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করেন।
এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা ‘হেট ক্রাইম’ ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত দশ বছরে শিখদের ওপর হামলার হার বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ শতাংশ। দ্য সিএসআর জার্নালের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ তথ্য উঠে আসে। এফবিআই বলছে, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিখদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬টি। কিন্তু ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৮টিতে। যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক অপরাধের হার ১১ শতাংশ কমেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে গত ১০ বছরে মোট অপরাধ বেড়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ। গবেষকদের মতে, ভুল তথ্য এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে হেট ক্রাইমের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। গত এক দশকে ট্রান্সজেন্ডারবিদ্বেষী মনোভাব বেড়েছে ৩৯৫ শতাংশ। এই সময়ে দেশটিতে ল্যাটিনো বিদ্বেষ বেড়েছে ২৩৯ শতাংশ, এশিয়ান বিদ্বেষ বেড়েছে ১৯৫ শতাংশ, ইহুদি বিদ্বেষ বেড়েছে ১২৩ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্বেষ বেড়েছে ৬৬ শতাংশ, শ্বেতাঙ্গ বিদ্বেষ বেড়েছে ৫১ শতাংশ এবং সমকামী পুরুষদের প্রতি বিদ্বেষ বেড়েছে ২৭ শতাংশ। অপরাধ গবেষক ব্রায়ান লেভিন জানান, যখন কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ঘিরে সমাজে ভয় বা নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখনই সেই গোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা দ্রুত বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সামগ্রিক অপরাধের সংখ্যা এক বছরের হিসাবে কিছুটা কমলেও নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্বেষমূলক অপরাধ শনাক্ত করার ব্যবস্থা আরও উন্নত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার দাবি তুলেছেন অধিকার কর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় খুলে দেওয়ার একদিন পর পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজে এক লাখের বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। ইসলামি কর্তৃপক্ষের বরাতে জেরুজালেম থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবারের নামাজে ১ লাখের বেশি মুসল্লি অংশ নেন। জেরুজালেমের পুরোনো শহর তিনটি আব্রাহামিক ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থানের আবাসস্থল, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে বন্ধ ছিল। এই পুরোনো শহরের ভেতরেই রয়েছে মুসলমানদের জন্য আল-আকসা মসজিদ, ইহুদিদের জন্য ওয়েস্টার্ন ওয়াল এবং খ্রিস্টানদের জন্য চার্চ অব দ্য হোলি সেপালখার, যেগুলো সবই পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত, যা ইসরাইল দখল ও একীভূত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার এসব ধর্মীয় স্থান আবার মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। চলতি বছর পবিত্র রমজান মাসেও মুসল্লিরা আল-আকসায় প্রবেশ করতে পারেননি। জর্ডানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলামিক ওয়াক্ফ জানায়, শুক্রবারের জুমার নামাজে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। এএফপিটিভির সরাসরি সম্প্রচারে পুরো প্রাঙ্গণকে মুসল্লিতে পরিপূর্ণ দেখা গেছে। ৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাঈদেহ বলেন, ‘আশা করি আবার আল-আকসা বন্ধ করা হবে না এবং জেরুজালেম কিংবা পশ্চিম তীর—সব জায়গা থেকে মানুষ এই পবিত্র স্থানে আসতে পারবে।’ ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এখনও বয়স ও অনুমতির কোটাভিত্তিক কঠোর বিধিনিষেধের মুখে রয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী শরিফ মোহাম্মদ বলেন, ‘জুমার নামাজ আমাদের জন্য ফরজ, কিন্তু আল-আকসায় তা আদায় করা একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি।’ তিনি এটিকে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। ৫৫ বছর বয়সী আহমাদ আম্মার বলেন, ‘এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়।’ জেরুজালেমের ধর্মীয় স্থানগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থাজনিত অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। তবে লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলে এসব বিধিনিষেধ এখনো বহাল রয়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।