সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের আহ্বান জানালেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছেন। কোনো কর্মকর্তা গ্রাহক সেবা না দিলে তার বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন।
ইসলামী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করছে না বলেও জানানো হয়। গ্রাহক সেবা দিতে সব কর্মকর্তা প্রস্তুত। কেউ সেবা না দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে সকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আন্দোলন করে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এসময় তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি ও স্লোগান দেয়া হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন এক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ নতুন ঋণ আসছে, তার প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে অতীতে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে। ফলে বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন করে যে অর্থ যোগ হওয়ার কথা, তার পরিমাণ দ্রুত কমে আসছে। একই সময়ে কমেছে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এবং কমেছে অর্থছাড়ও। ফলে বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ের (১১ মাস) বৈদেশিক সহায়তা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। একই সময়ে পূর্বে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ বিদেশি সহায়তা হিসেবে যে অর্থ এসেছে, তার ৮৯ দশমিক ২৮ শতাংশই চলে গেছে ঋণ পরিশোধে। হিসাব করলে দেখা যায়, পুরো অর্থছাড়ের মধ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৪৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণ শোধ করার প্রবণতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। যদিও সরকার সরাসরি নতুন ঋণের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করছে না, তবে সামগ্রিক বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের হিসাবে নতুন যে অর্থ আসছে তার অধিকাংশই ঋণ পরিশোধে চলে যাওয়ায় কার্যত একই ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল বাবদ মোট ৪১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরের ১১ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ৩৭৮ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা প্রায় ৯ শতাংশ। পরিশোধের এই অর্থের মধ্যে সুদ বাবদ গিয়েছে ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৪০ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ঋণের আসল পরিশোধ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৩৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ শুধু সুদ নয়, আসল ঋণ পরিশোধের চাপও দ্রুত বাড়ছে। কেন বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণ গত এক দশকে নেওয়া বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বৈদেশিক ঋণ। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এসব ঋণের অনেকগুলোর গ্রেস পিরিয়ড বা অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিত কিস্তি ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন। কয়েক বছর আগেও এক ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫-৯০ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১২২ টাকার কাছাকাছি। ফলে একই পরিমাণ ডলার পরিশোধ করতে সরকারের অনেক বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে বৈদেশিক ঋণের চাপ শুধু ডলারের হিসাবে নয়, টাকার হিসাবেও দ্রুত বাড়ছে। কমছে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি ঋণ পরিশোধের চাপ যখন বাড়ছে, তখন নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদান প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫৬০ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুতি কমেছে ১২৬ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষভাবে কমেছে অনুদান। চলতি অর্থবছরে অনুদান প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ১৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের পথে এগিয়ে যাওয়ায় এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ায় অনুদানভিত্তিক সহায়তা ক্রমেই কমে আসছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থ বাজারভিত্তিক বা তুলনামূলক উচ্চ সুদের ঋণ থেকে সংগ্রহ করতে হতে পারে। অর্থছাড়েও বড় ধাক্কা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অর্থছাড়েও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে অর্থছাড় হয়েছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ৫৬০ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ অর্থছাড় কমেছে ১০৩ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতা, প্রশাসনিক বিলম্ব এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতির শ্লথগতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ সময়মতো ছাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একদিকে নতুন ঋণ কম আসছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে—যা বৈদেশিক অর্থায়নের ভারসাম্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কারা সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি প্রায় ৯৬ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া, যারা প্রায় ৯৩ কোটি ডলার ছাড় করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি ডলার, চীন ৫৩ কোটি ডলার, জাপান ৪৩ কোটি ডলার এবং ভারত ২৫ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে এখনো বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সামনে কী ঝুঁকি বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, আগামী কয়েক বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। কারণ বড় প্রকল্পগুলোর ঋণ পরিশোধের মূল সময় এখন শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বছরে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তার মতে, রাজস্ব আদায়, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যাপ্ত হারে না বাড়লে ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অপরদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের( সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, এখন থেকে ঋণ গ্রহণে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। শুধু ঋণ নিলেই হবে না, সেই ঋণের অর্থ এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হবে যেখান থেকে অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যায় এবং যা ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে। সতর্কবার্তা অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ এখনো ঋণ সংকটে পড়েনি। বৈদেশিক ঋণের অনুপাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—নতুন ঋণের প্রবাহ কমছে, অনুদান কমছে, অথচ ঋণ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে। ফলে উন্নয়ন অর্থায়নের যে সুবিধা বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়ার কথা, তার বড় অংশই এখন পুরোনো দায় পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, উন্নয়ন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এখন সময় এসেছে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ নয়, বরং ঋণের গুণগত ব্যবহার, প্রকল্পের অর্থনৈতিক ফলন এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার। কারণ ঋণ তখনই টেকসই হয়, যখন সেই ঋণ ভবিষ্যতে নিজেই নিজের পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি করে। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রায় এক দশক পরও বিদেশি অর্থ লেনদেনের বৈশ্বিক মাধ্যম সুইফট পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু দুর্বলতা ও অসঙ্গতি রয়ে গেছে; যেগুলো সংশোধনে ধাপে ধাপে কাজ করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা রিজার্ভ চুরির এ ঘটনার প্রায় সাড়ে ১০ বছর পর গত সপ্তাহে মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করার প্রস্তুতির খবরের মধ্যে সুইফটের সার্ভার রুমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকার বিষয়গুলো সামনে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সার্ভার রুম পরিদর্শন শেষে এ নিয়ে যে প্রতিবেদন দেন তাতে এসব দুর্বলতা ও অসঙ্গতির তথ্য উঠে আসে। তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো আধুনিকায়ন, লগ বিশ্লেষণ ব্যবস্থা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বিকল্প দুর্যোগ পুনরুদ্ধার কেন্দ্রের সক্ষমতা, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে ফায়ারওয়াল ব্যবহার না করার মত দুর্বলতা দেখতে পাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের ১ জুলাই পরিদর্শনকালে তারা ‘ডিফল্ট প্যারামিটারে’ ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করা, আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহার হয় না এমন ভিপিএন ব্যবহার করার মত বিষয়ও দেখতে পান বলে তুলে ধরেন তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে। সুফইট সার্ভার রুম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কমিটির এক সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তারা সুইফট পরিচালনা ব্যবস্থায় অ্যান্টি মানি লন্ডারিং সফটওয়্যার দেখতে পান নাই। এতে কারা তথ্য পাঠাচ্ছে তাদের পরিচয় (কেওয়াইসি) জানা যায় না। একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যগুলো সঠিক কিনা সেটিও বোঝা যায় না। পরিদর্শনকালে সুইফটের ট্রানজেকশনের যে প্রোফাইল সেটির ‘ভ্যালিডেশনের’ ব্যবস্থাও দেখতে পান নাই তারা। কমিটির এ সদস্য বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় আসলে হ্যাকিং যেকোনো সময় করতে পারত, আগে-পরে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব একটা সুবিধার না। রিজার্ভ চুরির ১০ বছর পর অবস্থা কতখানি বদলেছে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যে অবস্থায় পেয়েছি কিছু সামান্য কিছু ইমপ্রুভমেন্ট পেয়েছি; কিন্তু সেই ইমপ্রুভমেন্ট এনাফ ছিল না আর কি। তারপরে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি (ক্রুটি) ধরার পরে মানে ওখানকার প্রকৌশলীরাও বুঝতে পারছে যে আসলে তাদের সিকিউরিটি এনাফ ছিল না। এক দশকের বেশি সময় আগে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা সুইফড কোড ব্যবহার করে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেয়। আলোচিত এ রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে থাকা প্রধান উপদেষ্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ২০২৫ সালের ১ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরীকে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা সুইফটের সার্ভার রুম পর্যবেক্ষণ করেন। সুইফট পরিচালনায় ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেসময় তাদের দেওয়া পর্যবেক্ষণের মধ্যে আরও রয়েছে- >> এক্সডিআর/এনডিআর ডিভাইস সংযোগবিহীন অবস্থায় পাওয়া যাওয়া; >> সার্ভার রুম যে তলায় অবস্থিত সেখানকার সভাকক্ষে অবস্থিত নেটওয়ার্ক র্যাকে যথাযথ ফায়ার সেফটি ও এনভায়রনমেন্ট মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা; >> সুইফট সার্ভার রুমের কেবল ম্যানেজমেন্ট না থাকা; >> সার্ভার রুমের সৎরক্ষিত কেবলগুলোর কয়েকটিতে সোর্স ও ডেস্টিনেশনের ট্যাগ না থাকা; >> অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুল ব্যবহার না করা; >> নতুন জেনারেশনাল সুইফট সফটওয়্যার মাইগ্রেশন না থাকা এই দুই সদস্যের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সুইফট ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- রিজার্ভ চুরির পর নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এসব খুঁজে পাওয়া এসব দুর্বলতা ও অসঙ্গতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকার গঠিত কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। যেহেতু একটা কমিটি সাজেশন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্যই সেই সাজেশনগুলো মেনে চলছে এবং সবগুলোতো আর তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব না। সবগুলো এক্সেপ্ট করে নিয়েছে এবং সবগুলো একটার পরে একটা বাস্তবায়ন করছে। তবে এখনও কোনটি কোনটি অসম্পূর্ণ তা বলেননি তিনি। রিজার্ভ চুরি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এমন তদন্তের পাশাপাশি প্রায় এক দশক ধরে অর্থ চুরির মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পুলিশের বিশেষ এ ইউনিট তদন্ত কাজ শেষে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে বলে খবরে এসেছে। খসড়া অভিযোগপত্র চলতি বছরের মার্চে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও ৯ বাংলাদেশিসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। মামলার তদন্ত শুরু থেকেই করছে সিআইডি। সর্বশেষ গত ১৮ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ৯৫তম বারের মতো পিছিয়ে যায়। আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে ২ জুলাই। অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটির পরিদর্শন রিজার্ভ চুরির তদন্তের অগ্রগতি, দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সুপারিশ দিতে ২০২৫ সালের মার্চে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ছয় সদস্যের এই পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন - জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইনসের পরিচালক আলী আশফাক ও রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল হুদা। পরিদর্শনের পর তাদের দেওয়া এ বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিজার্ভ চুরির সময়কার কিছু দুর্বলতা ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। তারা আরও যেসব দুর্বলতা ও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছিলেন সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের সুপারিশ করেন। পরে তাদের পরির্দশন প্রতিবেদন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার সপ্তাহ দুয়েক আগেও চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তদন্ত দলের বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশের কোনগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনগুলো বাস্তবায়ন হয়নি তা তুলে ধরা হয়। এ বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করে। যাতে বলা হয়, বর্তমানে সুইফট সার্ভার সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয় না। শুধু লেনদেন নিষ্পত্তির সময় হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি মডিউল ব্যবহার করা হয়। পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং প্রতিবার লগইনের সময় ‘মাল্টি ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ ও এককালীন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। আগের ভিপিএনের পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভিপিএন ব্যবস্থা চালুর কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সার্ভার রুমের অবকাঠামোতেও উন্নয়ন আনার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন নিরাপত্তা টুল সংগ্রহ ও বাস্তবায়ন, অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুল চালু, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, লগ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা নকশা প্রস্তুত এবং বিকল্প সাইটের জনবল নিয়োগসহ বেশ কিছু কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন বলে তুলে ধরা হয়। সব কাজ শেষ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেওয়া হয়। ‘সর্বনিম্ন দরদাতা’ নির্ভর নিরাপত্তা প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ছিল সাইবার নিরাপত্তা সফটওয়্যার কেনায় সর্বনিম্ন দরদাতার ওপর নির্ভরতা। তদন্ত দলকে জানানো হয়, উন্মুক্ত দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে কিছু নিরাপত্তা সফটওয়্যার সংগ্রহ করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধু কম দাম নয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং উচ্চমানের নিরাপত্তা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেদনে মাইক্রোসফট, আইবিএমসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়। পরিদর্শক দলের সুপারিশ নতুন করে এ ঘটনার তদন্তে কমিটির উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেটার উপায় বের করা। এজন্য তারা বেশ কিছু সুপারিশ করে। সেগুলোর মধ্যে ছিল- >> জাস্ট ইন টাইম অ্যাকসেস নিশ্চিত করা >> উচ্চমানের হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি মডিউল ব্যবহার >> সুইফট জোনে ইউএসবি ও মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা >> ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালু করা >> ফাইল অখণ্ডতা পর্যবেক্ষণ >> নিরাপদ ওয়েব গেটওয়ে >> কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্তকরণ ব্যবস্থা >> সাইবার ঝুঁকি নিবন্ধন চালুর সুপারিশ >> সিসিটিভি ভিডিওর একাধিক ব্যাকআপ সংরক্ষণ ‘সব বাস্তবায়ন একদিনে সম্ভব নয়’ পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সুইফট সার্ভার রুমের দুর্বলতা ও অসঙ্গতির যেসব বিষয় অন্তর্বর্তী সরকারের পর্যালোচনা কমিটি তুলে ধরেছে সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সর্বনিম্ন দরদাতার পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার কেনার সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়বিধির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। আমি তিনটা প্রতিষ্ঠান বিড করল, আমি সব লোয়েস্ট বিডারেরটা না নিয়ে সেকেন্ড বা থার্ড বিডারেরটা নিলাম, তখন প্রশ্ন উঠবে কেন নিলাম। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি আছে। তার মতে, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আজকে যে সফটওয়্যারকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে হচ্ছে, কয়েক বছর পর সেটিও কোনো না কোনোভাবে আক্রমণের মুখে পড়তে পারে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। চলতি জুন মাসের শেষ দিকে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ তিনটি পৃথক ঋণ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ অনুমোদন করতে পারে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জ্বালানি আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই সহায়তাকে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সহায়তার খাতভিত্তিক বরাদ্দ: ৮০ কোটি ডলার : র্যাপিড রেসপন্স অপশন (RRO) উইন্ডোর আওতায় বিদ্যমান প্রকল্প সহায়তা। ৪০ কোটি ডলার : আর্থিক খাত ও ব্যাংকিং খাত সংস্কার কার্যক্রমে। ৩০ কোটি ডলার : জরুরি সার আমদানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও ঢাকায় কয়েক দফা আলোচনা শেষে এ সহায়তার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি ও সারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রায় ২৬১ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের নতুন ঋণ সহায়তা সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ কমাতে সহায়ক হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থায়ন স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণের দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।