জাতীয়

মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সাগরে ডুবছিল বোট, ৭৬ জনকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০২, ২০২৬

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পানিতে ডুবতে থাকা একটি কাঠের বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রলোভনে প্রতারণার শিকার বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিনের অদূরে নিয়মিত টহলের সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ এ অভিযান পরিচালনা করে।

 

নৌবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেন্টমার্টিন লাইট হাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ একটি ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে নৌবাহিনীকে খবর দেয়া হয়।

 

খবর পেয়ে টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোটটি উদ্ধার করে। এ সময় বোটটিতে পানি প্রবেশ করছিল। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেয়া হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়। অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রলোভনে প্রতারণার শিকার বলে জানা গেছে।

 

নৌবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে তাদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।

 

নৌবাহিনী জানায়, বোটটির ইঞ্জিন ও পানি নিষ্কাশনের পাম্প বিকল হয়ে ভেতরে পানি প্রবেশ করায় যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 

আটক ১১ জন ও জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানব পাচার, চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ি ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা

সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহরটি শহরে পৌঁছায়।   এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন পর্যটকেরা। পথে কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধের মুখে পড়লেও সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাঁরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান।   পর্যটকেরা জানান, সাজেকে চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কারণে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। ফেরার পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে পর্যটকদের কেউ হতাহত হয়েছেন বা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন—এমন খবর পাওয়া যায়নি।   ঢাকা থেকে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, তাঁরা দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার সাজেকে পৌঁছেছিলেন। সন্ধ্যায় সেখানে আন্দোলনের খবর জানতে পারেন। পরে বৃহস্পতিবার তাঁদের সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।   তিনি বলেন, তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসায় গাড়িভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের হওয়ায় বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।   অয়ন নামে আরেক পর্যটক জানান, সেনাবাহিনীর এসকর্টে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে আনা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধা ঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।   তিনি বলেন, পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সড়কে ভাঙা ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তবে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় পর্যটকেরা নিরাপদে এলাকা পার হতে পেরেছেন।   হবিগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক অপু বলেন, আনন্দ ভ্রমণে এসে তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। আন্দোলনের কারণে সাজেক ভালোভাবে ঘুরে দেখার সুযোগও হয়নি। নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন।   তিনি আরও জানান, ফেরার পথে তাঁদের গাড়িবহর দুটি স্থানে আটকে পড়ে। বহরের সামনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পর্যটকবাহী গাড়িগুলোকে ওই এলাকা পার করে দেওয়া হয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে দুই হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।   অবরোধের কারণ সাজেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। প্রতিবেদনে সংগঠন দুটিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সমর্থনপুষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠন দুটির দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া। তাদের অভিযোগ, ওই সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।   স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এতে পরিবহন ভাড়া এবং ফেরার বাসের টিকিট নিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকেরা।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খোলা পোলাও চাল ১০০ টাকা, প্যাকেটজাত চালের দাম কেজিতে ২৩০

কক্সবাজার সৈকতে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

এসএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি

ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ ও ‘গুপ্ত দল’ একসঙ্গে অপপ্রচার চালাচ্ছে: রিজভী

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও একটি ‘গুপ্ত দল’ যৌথভাবে চক্রান্ত এবং অপপ্রচারে লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি ও ওই দলের কথাবার্তা এবং আচরণে মিল রয়েছে। অতীতের মতো এখনও তারা বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন রিজভী।   তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আগে অপপ্রচার চালাত, এখন তাদের সঙ্গে আরেকটি ‘গুপ্ত দল’ যুক্ত হয়েছে। এ দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে বিএনপিকে নিয়ে যেসব অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, এখনও একই ধরনের কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে।   বিএনপির বিরুদ্ধে অতীতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একসময় প্রচার করা হতো, বিএনপি একটি জঙ্গি রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে অন্য ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদ থাকবেন না। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।   রিজভী আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, গত ১৭-১৮ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পূজার পরিবেশের প্রশংসা করেছেন বলে জানান তিনি।   ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খ্যাতনামা চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি লিফলেট সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এসব লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ এবং দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   চলতি বছর দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশ কমার দাবি সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে রিজভী বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে। অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড বিতরণের মাধ্যমে চলতি বছরেই দেশে দারিদ্র্যের হার আরও ৫ শতাংশ কমতে পারে। এটিকে তারেক রহমানের সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শান্তিনগরের এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক বাবুল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছি না আগামী ১০ বছরেও: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবলয় ভেঙে কাছে যাওয়ার চেষ্টা, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।   পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি, যিনি কথিত ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে পরিচালিত চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে ১৩টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি এলাকার প্রেমবাজারে মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের হার্ডওয়্যারের দোকানে অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী হাসান। এ সময় কালো পোশাক, এসআরবি লেখা জ্যাকেট, ক্যাপ ও মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করেন। নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা ব্যবসায়ীর পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং তার দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যান।   পরে বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে তাকে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপকের কাছে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে ফোন আসে। এ সময় অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর ভাই মো. হোছাইমের করা মামলার পর তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বাঁশখালী থানা-পুলিশ।   যেভাবে উদ্ধার হলেন ব্যবসায়ী পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সূত্র বিশ্লেষণ করে অভিযান শুরু করে। কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ অক্টোবর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযানে অপহরণে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, এসআরবি লেখা পাঁচটি কালো জ্যাকেট, দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে।   চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, সুমন মুন্সি আগে উখিয়া এলাকায় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন এবং কারাভোগ করেন। এরপর তিনি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে একটি চক্র তৈরি করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রের কয়েকজন সদস্য সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সরবরাহ করতেন। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ করা হতো। অপহৃত ব্যক্তিদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনাও ছিল চক্রটির।   গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মিজানুর রহমান, উখিয়ার জয়নাল উদ্দিন, বাঁশখালীর মো. আব্বাস উদ্দিন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা ছলিম ওরফে সেলিম এবং কক্সবাজার সদরের দেলোয়ার হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগের মামলাও রয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপদ সড়ক দিবসে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিআরটিএর সচেতনতামূলক রোড শো

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএমইউতে স্থানান্তর

0 Comments