বিশ্ব

‘ইরানের পক্ষে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের যুদ্ধ ঠেকাতে পেরেছি’: ট্রাম্পের দাবি

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও আমি তা থামিয়েছি বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

তিনি পরাশক্তি রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলেও জানান। এই শক্তিশালী তিন দেশের যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার বিষয়টিকে তিনি অবিশ্বাস্য ও চমকপ্রদ এক কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় বিশ্বের প্রভাবশালী তিন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সফল কূটনীতির কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। 

 

তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে ইরান সংকটের সময় এই শক্তিশালী তিন দেশের নিরপেক্ষ অবস্থান মূলত বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। এই দেশগুলোর অসামরিক ও দূরদর্শী মনোভাবের কারণে তিনি তাদের নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ মূল্যায়ন জ্ঞাপন করেন।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই যুদ্ধ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রেখেছিলেন। তিনি এই যুদ্ধে ইরানের পক্ষে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বা প্রধান দাবিদার ছিলেন, কারণ আপনারা সবাই জানেন যে তিনি ইসরায়েলকে খুব একটা পছন্দ করেন না। আমি তাকে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম এবং তিনি আমার সেই অনুরোধ রেখেছেন।’ তিনি এরদোয়ানকে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ও চমৎকার সামরিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন বিশ্ব নেতা হিসেবেও অভিহিত করেন।
 

 


এর পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতিও নিজের সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চিনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প সরাসরি বলেন যে, ‘আপনারা কি জানেন এই সময়ে আর কে সবচেয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি চাইলে খুব সহজেই এই যুদ্ধে অংশ নিতে পারতেন কারণ তার দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় অর্ধেক অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চল থেকে। আমি তার অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে তাকে এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং তিনিও সেই অনুরোধ রক্ষা করেছেন।’
 

 

রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই বড় সংঘাত থেকে নিজের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি সরিয়ে রেখেছিলেন বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মস্কোর রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আসলে পুতিনও এই যুদ্ধ থেকে দূরে ছিলেন। তবে যদি আপনারা বাস্তবিকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন, তাহলে বলতেই হবে যে ভ্লাদিমির পুতিনের এই মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার মতো আরও কিছু নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা অন্য কাজ রয়েছে। তবে মূল কথা হলো তারা সবাই এই যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি বাইরে ছিলেন যা সত্যিই বেশ দারুণ এবং একটি বেশ আশ্চর্যজনক বিষয়।’

 

সূত্র: তাস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে গত ৫ জুন থেকে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। ছবি: আল জাজিরা
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ১০০ দিন: চরম ভোগান্তিতে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর

নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে জোরালো বিক্ষোভের জেরে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ইন্টারনেট ব্যবহারে চলছে দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর বিধিনিষেধ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত জুনের শুরু থেকে অঞ্চলটিতে মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা প্রায় বন্ধ রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি এরই মধ্যে ১০০ দিন পার করেছে।       চলমান অচলাবস্থা ও জনজীবন বিক্ষোভের পর অঞ্চলটিতে তিন ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার শেষ ধাপটি সম্পন্ন হয়েছিল গত ১০ আগস্ট। নতুন সরকার গঠিত হলেও আংশিক ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সেখানকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রবেশ করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলের ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও। এছাড়া ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে গেছে এবং বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষকে ভর্তি পরীক্ষাও পেছাতে হয়েছে।     ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আসছে স্বাধীন সংস্থা 'নেটব্লকস'। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে এই আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থা চলছে।       যেভাবে শুরু হয়েছিল উত্তেজনা গত ২৭ জুলাই নির্ধারিত স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। গত ৫ জুন কর্তৃপক্ষ তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন 'জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি' (জেকেজেএসি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, এই সংগঠনটি আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।     এই নিষেধাজ্ঞার পরপরই কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে এবং গত ২৭ জুলাই তা এক রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়।     বাসিন্দা ও স্থানীয় বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের এই তালিকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন। তবে স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে এই হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।     কাশ্মীরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কাশ্মীর মূলত একটি দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যার পুরোটাই নিজেদের বলে দাবি করে থাকে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ। এর মধ্যে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে। অঞ্চলটির নিজস্ব একজন প্রধানমন্ত্রী এবং ৪৫ সদস্যের একটি আইনসভাও রয়েছে। যার মধ্যে ১২টি আসন ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্য অংশে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।     নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণে বিক্ষোভের তীব্রতা রয়েছে— এমন কয়েকটি ঘাঁটিতে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের বাকি অংশের নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে সরকার গঠিত হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

পুতিনকে লেখা চিঠিতে রাশিয়ার প্রতি ‘অটুট সমর্থন’ কিমের

সংগৃহীত ছবি

তেহরান দ্রুত সমঝোতা চাইছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেন সংঘাত ও হুথি হামলায় হরমুজ সংক্রান্ত বৈঠক স্থগিত

ইরানে ভাঙা পিঠ-কাঁধ নিয়ে ৫০ ঘণ্টা পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন মার্কিন সেনা ব্রাভো। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান, ৫০ ঘণ্টা পর সেনা উদ্ধার

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ৫০ ঘণ্টা শত্রুভূমিতে আত্মগোপনে ছিলেন এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা। পিঠ, হাত ও কাঁধ ভেঙে গেলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টিকে ছিলেন তিনি। পরে ব্যাপক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র।     মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা তার বেঁচে ফেরার ঘটনাকে ‘আধুনিক সময়ের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিরাপত্তার কারণে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাকে ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।     ঘটনাটি ঘটে গত ২ এপ্রিল। ইরানের ছোড়া কাঁধে বহনযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। যুদ্ধবিমানটিতে থাকা পাইলট ও অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা দুজনই নিরাপদে বের হয়ে ইরানের ভূখণ্ডে নামেন। পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হলেও ব্রাভোর অবস্থান শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।     ব্রাভো জানান, ওই রাতে ইসফাহানের দক্ষিণে একটি পার্বত্য এলাকার কাছে কয়েকটি শিল্প স্থাপনা ছিল তাদের লক্ষ্য। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই এলাকার আশপাশে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।     হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্রাভো বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতটি যেন মালবাহী ট্রেনের ধাক্কার মতো ছিল। বিমানটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেও পাইলট বুঝতে পারেন, সেটি আর বাঁচানো সম্ভব নয়। পরে দুজনই বিমান থেকে বেরিয়ে যান।     তবে পাইলটের তুলনায় অনেক দূরে গিয়ে পড়েন ব্রাভো। ক্ষতিগ্রস্ত প্যারাসুটের কারণে তিনি পাইলটের অবস্থান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে গিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েন। এতে তার পিঠ, একটি হাত ও একটি কাঁধে গুরুতর আঘাত লাগে।     পরদিন সকালে তিনি বুঝতে পারেন, ইরানের ভূখণ্ডে পড়েছেন। চারদিকে পাহাড়ঘেরা একটি উপত্যকায় অবস্থান করছিলেন তিনি। সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, পাহাড়ের ওপর উঠে যাওয়াই তুলনামূলক নিরাপদ। গুরুতর আহত অবস্থাতেই তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি রিজলাইনে উঠে যান।     ব্রাভো বলেন, শরীরে গুরুতর আঘাত থাকলেও সামরিক প্রশিক্ষণ তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কাও ছিল তার। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, কোনোভাবেই নিজেকে ইরানের টেলিভিশনে দেখতে চাননি।     এদিকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। শুরু হয় বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শত শত সেনাকে আকাশপথের অভিযানে এবং আরও কয়েক হাজার সদস্যকে সহায়ক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়।       মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দাবি, ইরানের মাটিতে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। গত ৪৬ বছরের মধ্যে দেশটিতে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের এটিই ছিল প্রথম ঘটনা বলেও দাবি করেন তিনি।     পাইলটকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ব্রাভোর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে প্রায় এক দিন তাকে একাই পাহাড়ে কাটাতে হয়। খাবার ও পানির মজুতও ছিল খুবই সীমিত। শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বার্তা পাঠাতে সক্ষম হন তিনি।     এরপর তার আশপাশে অবস্থান করা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমারু বিমান ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।     মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অভিযানে সিআইএও যুক্ত ছিল। ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে একটি প্রতারণামূলক অভিযান চালানোর পাশাপাশি ব্রাভোর অবস্থান শনাক্তে গোপন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।     প্রায় ৫০ ঘণ্টা ধরে বিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তল্লাশি চালানোর পর শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। উদ্ধারের মুহূর্তটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের বলে বর্ণনা করেছেন ব্রাভো।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক লাফে ১০৭ ডলার ছাড়াল তেলের দাম

ইরানে হামলা চালাতে গিয়ে বিমান থেকে পড়ে মেরুদণ্ড ভাঙে মার্কিন কর্মকর্তার

প্রশান্ত মহাসাগরে স্বর্ণ-রুপার বিশাল মজুতের সন্ধান পেলো চীন

মাত্র ৩০০ রুপির ওভেন দিয়ে শুরু, আজ ৭ হাজার ৪০০ কোটির সাম্রাজ্য

  মাত্র ৩০০ রুপির একটি ছোট ওভেন দিয়ে শুরু। সেখান থেকে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ৭ হাজার ৪০০ কোটি রুপির খাদ্যপণ্য কোম্পানি। এই গল্প ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানার রাজনি বেক্টরের।   ১৯৭০-এর দশকে বাড়িতে আইসক্রিম, কেক, বিস্কুট ও বান তৈরি শুরু করেন রাজনি। শখের কাজ অল্প সময়েই পরিচিতজনদের নজর কাড়ে। তার তৈরি খাবার বন্ধু ও পরিচিতদের পছন্দ হওয়ায় রান্না ও বেকিংয়ের এই আগ্রহকে ব্যবসায় পরিণত করার আত্মবিশ্বাস পান তিনি।   দ্য বেটার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, রাজনি পাঞ্জাব অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটিতে বেকিংয়ের একটি কোর্সও করেন। তবে শুরুর ব্যবসায় খুব একটা সাফল্য আসেনি। উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে।   পরে স্বামী ধরমবীর বেক্টরের সহযোগিতায় ব্যবসা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন রাজনি। ১৯৭৮ সালে আইসক্রিম তৈরির একটি ইউনিট স্থাপনে স্বামী ২০ হাজার রুপি বিনিয়োগ করেন। এটিই বড় পরিসরে ব্যবসা গড়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে ওঠে।   ১৯৮৫ সালে পাঞ্জাবে একটি রুটি তৈরির কারখানা স্থাপন করেন রাজনি। ইয়োরস্টোরির তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার পাউরুটি তৈরি হতো। পরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫০ হাজারে।   পরবর্তীতে ব্যবসাটি ‘ক্রেমিকা’ ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, যা বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের জন্য পরিচিতি পায়। পাশাপাশি ‘ইংলিশ ওভেন’ নামে বেকারি ব্র্যান্ডও গড়ে ওঠে।    ১৯৯০-এর দশকে ভারতে প্রবেশের পর ম্যাকডোনাল্ডসকে বার্গারের বান সরবরাহের জন্য ক্রেমিকাকে বেছে নেওয়া হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ম্যাকডোনাল্ডসকে বান সরবরাহ শুরু করে। পরে কেএফসি ও বার্গার কিংসহ আরও বড় ফাস্টফুড চেইনেও বেকারি পণ্য ও বান সরবরাহ করতে শুরু করে তারা।   সময় গড়ানোর সঙ্গে ভোক্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক, দুই ধরনের ব্যবসাই সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ৬০টির বেশি দেশে বিক্রি হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘মিসেস বেক্টরস ফুড স্পেশালিটিজ’।   ৩০০ রুপির একটি ওভেন থেকে শুরু করে আইসক্রিম ইউনিট, রুটি তৈরির কারখানা এবং শেষ পর্যন্ত বড় খাদ্যপণ্য কোম্পানি। রাজনি বেক্টরের এই যাত্রা কয়েক দশকে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ক্রেমিকা ও ইংলিশ ওভেনের পাশাপাশি বিশ্বের বড় কয়েকটি খাদ্য চেইনেও পণ্য সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।   সূত্র: এনডিটিভি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভর করছে ইরান সংকটের ভবিষ্যৎ সমাধান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে ন্যায়সংগত বিশ্ব গড়ার আহ্বান পুতিনের

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেন সংঘাতের জেরে সৌদির সীমান্ত শহরে জরুরি সতর্কতা জারি

0 Comments