আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে প্রশ্রয় দেবে না ইরাক : প্রধানমন্ত্রী সুদানি

আক্তারুজ্জামান মার্চ ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নিজেদের ভূখণ্ডে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার হুমকিকে প্রশ্রয় দেবে না ইরাক। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল সুদানির বরাত দিয়ে বুধবার এক লিখিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বুধবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সেই বৈঠকের পর বিবৃতি সামাজিক যোগযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফোনালাপে ইরানের শাহাদাৎবরণকারী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন যে তার নেতৃত্বাধীন সরকার ইরাকের ভূখণ্ডে কিংবা সীমান্তে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না।”

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল সুদানি। তিনি বলেছেন, ইরানে যে আগ্রাসী অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল— তা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং নীতি বহির্ভূত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা এবং ইরানের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানানোর জন্য ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

 

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মিনিটম্যান ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আমেরিকার। ছবি: সংগৃহীত
হিরোশিমায় ফেলা ‘লিট্‌ল বয়ের’ ২০ গুণ শক্তিশালী বোমা বইতে সক্ষম! ‘ডুম্‌সডে’ পরীক্ষা করিয়ে ট্রাম্প-বার্তা কি ইরান-সহ বিশ্বকে?

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের আবহে মিনিটম্যান ৩ (এলএমজি ৩০ মিনিটম্যান) ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল আমেরিকা। যাকে অনেক সময় ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র এমন পরমাণু বোমা (ওয়ারহেড) বহন করতে পারে, যার শক্তি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি।ইরানের সঙ্গে যখন আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের এই সামরিক সংঘাত তুঙ্গে, সেই আবহে পরমাণু বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে কি ইরান-সহ বিশ্বকে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়। এক বিবৃতি জারি করে আমেরিকার স্পেস ফোর্স এই পরীক্ষার কথা জানিয়েছে। বায়ুসেনার গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কাজ করেছে। ক্যালিফর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার থেকে মিনিটম্যান-৩ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে এটাও দাবি করা হয়েছে, এই পরীক্ষণের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের কোনও যোগসূত্র নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি আটকে ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সেই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হল বলে দাবি করেছে স্পেস ফোর্স। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় যখন সামরিক সংঘাত তুঙ্গে, বিশেষ করে যেখানে আমেরিকা জড়িয়ে রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, সেই মুহূর্তে এই ধরনের পরমাণু বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে কি শক্তি আস্ফালনের একটা নিদর্শন দেওয়ার চেষ্টা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?সামরিক উত্তেজনার আবহের মধ্যেই কেন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার করা হল, তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বার বারই সুর চড়িয়েছে আমেরিকা। ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য নানা ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।বার কয়েক বৈঠকও হয় দু’দেশের মধ্যে, কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। আমেরিকা বার বারই অভিযোগ তুলেছে, গোপনে পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে ইরান। তাদের এটা বন্ধ করতে হবে। যদিও তা অস্বীকার করেছে তেহরান। দাবি করেছে, তারা সামরিক ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তি কাজে লাগাতে চায় না। সেই সঙ্গে আমেরিকার কাছে নতিস্বীকার করতে চায়নি ইরানের প্রশাসন। যার জেরেই পশ্চিম এশিয়ায় এই সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত। আমেরিকার এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য কী? নাম মিনিটম্যান-৩। এটিকে ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হচ্ছে। আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম শক্তিশালী এই ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো আইসিবিএমের মধ্যে একটি হল মিটিনম্যান ৩। ১৯৭০-এর দশক থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থলভাগ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৪,১৪০ কিলোমিটার। এটি পরমাণু বোমা বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। তবে আমেরিকার দাবি, মঙ্গলবার যে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রে কোনও বোমা ব্যবহার করা হয়নি। আমেরিকার কাছে এ রকম ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র আছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম মিনিটম্যান এই কারণেই যে, এক মিনিটের মধ্যে নিশানাকে ধ্বংস করতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে প্রশ্রয় দেবে না ইরাক : প্রধানমন্ত্রী সুদানি

ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে মোকাবিলায় জেলেনস্কির বিশেষ পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত

নেভাডায় শতাধিক ভূমিকম্প, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে?

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের দুঃসাহস দেখে হতাশ ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে 'অপ্রত্যাশিত' হিসেবে জাহির করতে পছন্দ করেন। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে, যুদ্ধের সময়সীমা এবং লক্ষ্য নিয়ে তার পরিবর্তনশীল বার্তাগুলো একটি স্পষ্ট ব্যর্থতাকে আড়াল করছে: আর তা হলো একটি দ্রুত সমাপ্তি, যাকে তিনি বিজয় হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা সত্ত্বেও—যা ট্রাম্পের ট্রেডমার্ক হয়ে ওঠা একটি দুঃসাহসিক কাজ—এবং ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতারা অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফেরার সম্ভাবনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরিবর্তে, ইরান কেবল মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং বেসামরিক এলাকাগুলোতেও বারবার হামলা চালিয়ে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে আঘাত হানার হুমকি দিয়ে তাদের উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে।   ইরানিদের বার্তাটি স্পষ্ট: তাদের পাল্টা লড়াই করার ক্ষমতা আছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে, যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো আলোচনার আগে—তা যখনই হোক না কেন—তাদের এক ধরণের 'প্রতিরোধ' গড়ে তুলতে হবে। আর তাই, একটি দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ইরানের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এখন এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন, যা তিনি তার দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্সিতে সাধারণত এড়িয়ে চলেছেন। সম্ভবত একারণেই তার দেওয়া বার্তাগুলোতে এত অসংলগ্নতা দেখা যাচ্ছে।   ট্রাম্প কখনও বলেছেন যে যুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে, আবার কখনও পাঁচ সপ্তাহ বা তার বেশি সময়সীমার কথা বলেছেন। তিনি এই লড়াইকে ইরানি জনগণের স্বাধীনতা এবং বিরোধী দলের সমর্থনের যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরেছেন; আবার একইসঙ্গে স্পষ্ট করেছেন যে বর্তমান শাসনের উপাদানগুলো যদি তার শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়, তবে তিনি তাদের সঙ্গে চুক্তি করতেও খুশি।       এই বৈপরীত্যগুলো সেই বাস্তবতাকে আড়াল করে দিচ্ছে যে—একটি দীর্ঘস্থায়ী লড়াই চালানোর মতো মানসিক ধৈর্য ট্রাম্পের নেই। ক্ষমতায় থাকাকালে ট্রাম্প প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে এবং এমনকি মিত্রদের হুমকি দিতে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পছন্দ করেছেন। কিন্তু তিনি মূলত তা তখনই করেছেন যখন তিনি একটি দ্রুত ও সহজ জয় নিশ্চিত করতে পেরেছেন, নতুবা পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখলে পিছিয়ে এসেছেন।   গত বছর ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এর প্রমাণ। যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে হুথিদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে কয়েক মাস সময় লাগবে, তখন ট্রাম্প একটি চুক্তিতে রাজি হন। সেই চুক্তিতে হুথিরা মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়, যদিও ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি ইসরাইলি স্বার্থে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল।   ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত সংঘাত দ্রুত জয়ের ঠিক উল্টো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে—আরও বেশি মার্কিন হতাহত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়া। এই যুদ্ধের পেছনে মার্কিন জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য ট্রাম্প খুব একটা সময় ব্যয় করেননি এবং এটি ইতিমধ্যেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।   ইরান দুর্বল হলেও ফুরিয়ে যায়নি: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও জানুয়ারির বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণে বছরের পর বছর অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত ইরান সরকার বর্তমানে বেশ দুর্বল। কিন্তু কয়েক দশক ধরে ইরানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেঁথে যাওয়া একটি ব্যবস্থাকে কেবল আকাশপথের শক্তি দিয়ে হটিয়ে দেওয়া সবসময়ই অসম্ভব ছিল।   পরিবর্তে, ট্রাম্প বলছেন যে তিনি একটি 'ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি' পছন্দ করেন। যেখানে খামেনিকে হত্যা করাকে গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন অপহরণের সমতুল্য মনে করা হচ্ছে এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে অন্য কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ অনুযায়ী ক্ষমতায় আসবে।   আপাতত, ইরান সরকার আলোচনায় আগ্রহী নয়। তারা বিশ্বাস করে যে, যদি তারা এখনই আলোচনা শুরু করে এবং কোনো প্রতিরোধ গড়ে না তুলে চুক্তি করে, তবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র নিকট ভবিষ্যতে হামলার নতুন কোনো অজুহাত খুঁজে বের করবে। এটি মূলত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ‘ঘাস কাটা’ কৌশলের মতো হবে, যেখানে শত্রুকে শক্তিশালী হওয়া থেকে আটকাতে নির্দিষ্ট সময় পরপর আক্রমণ করা হয়।   ইরানের এই ভয়ের যথেষ্ট কারণ আছে—স্বয়ং ট্রাম্প নিজেই এটি নিয়ে কথা বলেছেন।  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউজ ওয়েবসাইট এক্সিওসকে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে পুরোটা দখল করে নিতে পারি, অথবা দুই-তিন দিনের মধ্যে এটি শেষ করে ইরানিদের বলতে পারি; যদি তোমরা আবারও (পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি) পুনর্গঠন শুরু করো, তবে কয়েক বছর পর আবার দেখা হবে'।   এই সমস্ত অস্পষ্টতা ট্রাম্পকে সুযোগ দিচ্ছে যে তিনি চাইলে যুদ্ধের মোড় যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ট্রাম্প যদি দেখেন যে যুদ্ধের খরচ অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, তবে তিনি খামেনির হত্যা এবং তেহরানের ধ্বংসলীলার ছবিগুলোকেই 'বিজয়' হিসেবে চালিয়ে দিতে দ্বিধা করবেন না।   অবশ্য এর ফলাফল অন্যদের জন্য হবে ভয়াবহ। এই অঞ্চলে আরও বেশি বিশৃঙ্খলা, বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রে থাকা মিত্রদের সম্পদ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া এবং ইরানি বিরোধী দল যাদের অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তারা হয়তো শেষ পর্যন্ত খুব সামান্যই পাবে।   সূত্র: আলজাজিরা।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ০৫, ২০২৬ 0

ইরানে নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াল : পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত

সংগৃহীত ছবি

ইরানের কৌশল বড় ভুল বলে আখ্যায়িত করছে তুরস্ক

সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সের পরমাণু রনতরী‘চার্লস দ্য গল’ ভূমধ্যসাগরে যাত্রা শুরু

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক বোমা আছে কি না, জানাল আইএইএ

ইরানের পারমাণবিক বোমা আছে কি নেই, সে বিষয়ে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জানান, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে বলে কোনো অকাট্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।   আলজাজিরার খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার না দেওয়াকে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্রোসি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমার প্রতিবেদনে আমি সবসময়ই স্পষ্ট থেকেছি। দেশটিতে পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো প্রমাণ না মিললেও, অস্ত্র তৈরির উপযোগী প্রচুর পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রাখা এবং আমাদের পরিদর্শকদের বাধা দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি সংক্রান্ত দাবিকে অস্বীকার করেছে ইরান। মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার পক্ষে নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের বিরুদ্ধে তার ধর্মীয় অবস্থানকে শেষ পর্যন্ত অটল রাখেন। তিনি আরও বলেন, জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময়ই ইরানের মানুষের হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ছিল। উইটকফের দাবি ভুল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার জন্য ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েক দশক ধরে লেগে ছিল। ছবি: সংগৃহীত

খামেনিকে হত্যা: ইরানে রয়েছে ইসরাইলের গুপ্তচর, সঙ্গে সিআইএর আড়ি পাতার তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫০ সেনা হতাহত, পিছু হটেছে বিমানবাহী রণতরী

ছবি: সংগৃহীত

জানা গেল খামেনির মরদেহ কোথায় দাফন হবে

0 Comments