ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানিদের জন্য “নতুন কিছু মুহূর্ত” ঘনিয়ে আসছে। ইরানে ব্যাপক হামলার পর দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শনিবার দেওয়া ওই বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য ইরানের সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং সেখানে পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করা। তার দাবি, ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করতে চায় না; বরং দেশটিকে “মুক্ত” করতে চায়।
এদিকে Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতেও আঘাত হানার দাবি করেছে তারা।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সাংবাদিকদের বলেন, এই যুদ্ধ আরও কিছুদিন চলতে পারে। তবে তিনি এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপের একটি উদাহরণ।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য ইসরায়েলের কাছে বেশ কিছু “বিস্ময়কর পরিকল্পনা” রয়েছে। ইরানের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের পতন ঘটানো শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের ওপরই নির্ভর করছে। তার মতে, বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হলে ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শান্তির পথ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধের মুখে থাকা ইরানকে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়ে ছয়টি বিকল্প স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্তের ফলে তেহরান এখন রাশিয়ার পাশাপাশি চীন ও অন্যান্য দেশের সাথে খুব সহজেই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারবে। তবে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। বিশেষ করে যখন পাকিস্তান নিজেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, তখন এমন পদক্ষেপে ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেরেক জে গ্রসম্যান এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ দেওয়ার কৌশল কার্যত ব্যর্থ হতে চলেছে। তিনি মনে করেন, সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে ইরানকে কোণঠাসা করার যে পরিকল্পনা ওয়াশিংটন করেছিল, এই ছয়টি স্থলপথ তা ভেস্তে দেবে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তান আবারও আমেরিকার সাথে দ্বিমুখী আচরণ করছে এবং এই পথগুলো ব্যবহার করে ইরান তার তেল বাণিজ্য সচল রাখার সুযোগ পাবে। এদিকে, পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইসরায়েলও। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান মোটেও ‘নির্ভরযোগ্য’ নয়। মজার ব্যাপার হলো, খোদ ইরানও পাকিস্তানের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই জানিয়েছেন, পাকিস্তান ভালো বন্ধু হলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন স্বার্থের দিকে ঝুঁকে থাকে, তাই তারা উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ সৃষ্টি করে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চাচ্ছেন ইরানকে চাপে ফেলে নিজের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে। তবে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তানের বন্দরগুলোতে ইরানের উদ্দেশে আসা তিন হাজারেরও বেশি পণ্যবাহী কন্টেইনার আটকে আছে। নতুন এই ছয়টি রুট চালু হওয়ার ফলে এখন এই বিশাল পরিমাণ পণ্য সড়কপথেই ইরানে পৌঁছে যাবে, যা ট্রাম্পের অবরোধ কৌশলে বড় ধরনের ফাটল ধরাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী মানবিক সহায়তা নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-কে সশস্ত্র তল্লাশি চালিয়ে আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আয়োজক এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ড্রোন এবং যোগাযোগ ব্যাহত করার (জ্যামিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাঝপথেই নৌযানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সহায়তা মিশন এই তথ্য নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সহায়তা মিশন জানিয়েছে, সামরিক স্পিডবোট নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী নৌযানগুলোর কাছে আসে। আয়োজকদের মতে, লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অ্যাসল্ট অস্ত্র তাক করে তারা অংশগ্রহণকারীদের নৌযানের সামনের দিকে গিয়ে হাত ও হাঁটু মাটিতে রেখে বসার নির্দেশ দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফ্লোটিলাটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক নৌযানগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেআইনিভাবে নৌবহরটিকে ঘিরে ফেলেছে। এ সময় তাদের অপহরণ ও সহিংসতার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি ফ্লোটিলার ৫৮টি নৌযানের মধ্যে ৭টিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাদের ১১টি নৌযানের সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই নৌবহরে ৪০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবার কানাডার টরন্টো থেকে আল জাজিরাকে জানান, ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি বেআইনি। এই জলসীমায় ইসরায়েলের কোনো এখতিয়ার নেই। এই নৌযানগুলোতে ওঠা বেআইনি আটকের শামিল—যা মূলত গভীর সমুদ্রে সম্ভাব্য অপহরণ। এই মুহূর্তে নীরব থাকার অর্থ হলো পুরোপুরি এই অপরাধের সহযোগী হওয়া। তিনি নৌবহরে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সব দেশের সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, ফ্লোটিলাটিকে আমাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা বিভ্রান্ত ও মনোযোগ আকর্ষণকারী একদল উস্কানিদাতার সাথে দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করছে। একাধিক দেশের কর্মীদের বহনকারী ৫০টিরও বেশি নৌযান রোববার ইতালি থেকে গাজা উপত্যকার উদ্দেশে যাত্রা করে। আয়োজকরা এটিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে পৌঁছানোর চেষ্টাকারী বৃহত্তম মানবিক সহায়তার নৌবহর বলে উল্লেখ করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫৯৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৪১১ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বুধবার দেড় ঘণ্টার মতো টেলিফোনে আলাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা হয়েছে। ফোনালাপে পুতিন ও ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। ক্রেমলিনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ইউক্রেনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছেন। সূত্র: সিএনএন ও আল-জাজিরা