আলোচনা হচ্ছে, প্রস্তাব চালাচালি চলছে। তবুও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হচ্ছে না। কখনো হরমুজ প্রণালি, কখনোবা তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিরোধে ভেস্তে যাচ্ছে উদ্যোগ। সবশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক থেকে একটা আশার বাণী প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাও আলোর মুখ দেখেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে— ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান অচলাবস্থা মূলত তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে চলছে। উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করলেও কেউ ছাড় দিচ্ছে না। এর মধ্যে ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আলোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে তিনি সন্দিহান। এদিন তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিতের ব্যাপারে আগ্রহী। যদি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তব হয়।
আরাগচি বলেছেন, সংকট নিরসনে যে কোনো ধরনের সমর্থন নিতে ইরান প্রস্তুত, যদি সেগুলোর মধ্যে চীন থাকে। সাহায্য করার সামর্থ্য আছে, এমন যে কোনো দেশকে আমরা সাধুবাদ জানাই, বিশেষ করে চীনকে। চীনের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একে অন্যের কৌশলগত অংশীদার। আমরা জানি চীনের ভালো উদ্দেশ্য আছে।
আরাগচি নিশ্চিত করেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের জন্য মস্কোর প্রস্তাব নিয়ে তিনি রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা এবং ইরানি বাহিনীর আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে একটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারাচ্ছেন। হোয়াইট হাউস বলেছে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্প ও শি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন ব্যাঘাত ঘটছে। চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও দেশটির জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও তখন থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চললেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শির সঙ্গে বৈঠক শেষে ফক্স নিউজের হ্যানিটি শোতে একটি সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার হয়। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।’ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুত হস্তান্তরের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে জনসংযোগ ছাড়া এটি খুব প্রয়োজনীয় বলে মনে করি না। তবে এটি আমাদের হাতে থাকলে স্বস্তি বোধ করব।’
এদিকে ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধের সময় উত্তেজনা কমাতে করা সত্তরের দশকের একটি চুক্তির আদলে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিয়ে একটি অনাক্রমণ চুক্তি করার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এই উদ্যোগ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই উদ্যোগকে সমর্থন করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সৌদি আরব মূলত ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক হেলসিংকি অ্যাকর্ডসকে মডেল হিসেবে ধরে এই নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের সীমানাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে সব পক্ষ মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
আরব এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এমন একটি চুক্তিকে ‘বেশিরভাগ আরব ও মুসলিম দেশের পাশাপাশি ইরানও’ স্বাগত জানাবে। তবে ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমাতে পারে, এমন যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করবে ইসরায়েল। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এই চুক্তিতে কীভাবে সমাধান করা হবে, তাও পরিষ্কার নয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে নিজের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে চীন বলেছে, চলমান সংঘাতের কোনো অর্থ নেই এবং দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। ২০১৭ সালের পর প্রথমবার চীন সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি আর বেশি ধৈর্য ধরবো না। তাদের চুক্তিতে আসা উচিত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ও শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং হরমুজ প্রণালির সামরিকীকরণের বিরোধিতা করেছেন এবং সেখানে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপেরও বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এছাড়া তিনি ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট শি একটি চুক্তি দেখতে চান। তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা দেখতে চান। হোয়াইট হাউস আরও জানায়, দুই নেতা একমত হয়েছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। যদিও তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করুক এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দাবি করছে। এদিকে শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, এই সংঘাত ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে আনছে। তিনি বলেন, এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। শুরু থেকেই এটি হওয়া উচিত ছিল না। তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ
মেক্সিকোর সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক নিরাপত্তা প্রধানকে কার্টেল-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম গেরারদো মেরিডা সানচেজ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত ফেডারেল আদালতের নথি ও প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার। ৬৬ বছর বয়সী সানচেজ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিনালোয়ার জননিরাপত্তা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকে গত ১১ মে অ্যারিজোনায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। শুক্রবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে তার হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে তিনি ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রে রয়েছেন। সানচেজ এবং সিনালোয়ার সাবেক গভর্নর রুবেন রোচার বিরুদ্ধে গত ২৯ এপ্রিল ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে প্রকাশিত এক অভিযোগপত্রে মামলা করা হয়। সেখানে বলা হয়, তারা সিনালোয়া কার্টেলের নেতাদের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ষড়যন্ত্র করেছেন এবং এর বিনিময়ে রাজনৈতিক সমর্থন ও ঘুষ গ্রহণ করেছেন। অভিযোগপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বলেন, সানচেজ কার্টেলের শক্তিশালী গোষ্ঠী ‘লস চাপিতোস’-এর কাছ থেকে প্রতি মাসে এক লাখ ডলারেরও বেশি নগদ ঘুষ নিতেন। এই গোষ্ঠী পরিচালনা করেন কারাবন্দি মাদক সম্রাট জোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজম্যানের অনুসারীরা। এর বিনিময়ে তিনি তাদের কার্যক্রমে সুরক্ষা দিতেন। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি তার পদমর্যাদা ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিতেন, যেন ‘লস চাপিতোস’-এর সদস্যদের গ্রেপ্তার না করা হয়; বরং প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেন, সানচেজ কার্টেলকে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতেন। এর মধ্যে তদন্ত, মাদক ল্যাব এবং নিরাপদ আস্তানায় পরিকল্পিত অভিযানের আগাম তথ্যও ছিল। ২০২৩ সালের এক ঘটনায় তিনি অন্তত ১০টি অভিযানের তথ্য আগেই জানিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কার্টেল সদস্যরা অভিযান শুরুর আগেই লোকজন, মাদক ও সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযোগপত্র যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকান মাদক কার্টেলবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এতে শুধু অপরাধী চক্র নয়, বরং তাদের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউমের দল মোরেনার সদস্য রোচা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এটি মেক্সিকোর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক আক্রমণ।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে পাঁচ দেশ সফরের প্রথম ধাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (১৫ মে) মোদির বহনকারী এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান বিমানটি আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতেই তাকে বিশেষ সম্মান জানায় দেশটি। আবুধাবির আকাশসীমায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমানকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় আমিরাত বিমানবাহিনীর দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। আবুধাবিতে অবতরণের পর নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (এমবিজেড) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। তার বিমানকে যুদ্ধবিমানের পাহারা দেওয়ার বিষয়টিকে দুই দেশের গভীর কৌশলগত অংশীদারত্ব ও ব্যক্তিগত উষ্ণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই বিশেষ সম্মানের জন্য আমিরাতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের বিমানবাহিনীর এই এসকর্ট ভারতের জনগণের জন্য এক বড় সম্মান।’ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবেও অভিহিত করেন। উল্লেখ্য, আমিরাতে প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় বসবাস করেন, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আমিরাত সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইরান থেকে আসা আড়াই হাজারেরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে আবুধাবিকে। এ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, আমিরাতের ওপর এ ধরনের হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং যেকোনও পরিস্থিতিতে ভারত আমিরাতের পাশে থাকবে। ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও এলপিজি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার আঁচ লেগেছে ভারতেও। মাসখানেক ধরে চলা রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সংকট মোকাবিলায় এই সফরে আমিরাতের সঙ্গে বড় ধরনের সরবরাহ চুক্তি সই করেছে ভারত। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো বিনিয়োগ, কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং গুজরাটের ভাদিনারে জাহাজ মেরামত ক্লাস্টার স্থাপনের বিষয়েও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে নরেন্দ্র মোদি নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি ভ্রমণে যাবেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে