বিশ্ব

ইরান সংকট ঝুলছে ‘ইউরেনিয়ামে’, অনাক্রমণ চুক্তি চায় সৌদি আরব

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৬, ২০২৬
সৌদি আরব ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরব ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

আলোচনা হচ্ছে, প্রস্তাব চালাচালি চলছে। তবুও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হচ্ছে না। কখনো হরমুজ প্রণালি, কখনোবা তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিরোধে ভেস্তে যাচ্ছে উদ্যোগ। সবশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক থেকে একটা আশার বাণী প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাও আলোর মুখ দেখেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে— ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান অচলাবস্থা মূলত তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে চলছে। উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করলেও কেউ ছাড় দিচ্ছে না। এর মধ্যে ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আলোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে তিনি সন্দিহান। এদিন তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিতের ব্যাপারে আগ্রহী। যদি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তব হয়।

আরাগচি বলেছেন, সংকট নিরসনে যে কোনো ধরনের সমর্থন নিতে ইরান প্রস্তুত, যদি সেগুলোর মধ্যে চীন থাকে। সাহায্য করার সামর্থ্য আছে, এমন যে কোনো দেশকে আমরা সাধুবাদ জানাই, বিশেষ করে চীনকে। চীনের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একে অন্যের কৌশলগত অংশীদার। আমরা জানি চীনের ভালো উদ্দেশ্য আছে।

আরাগচি নিশ্চিত করেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের জন্য মস্কোর প্রস্তাব নিয়ে তিনি রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা এবং ইরানি বাহিনীর আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে একটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারাচ্ছেন। হোয়াইট হাউস বলেছে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্প ও শি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন ব্যাঘাত ঘটছে। চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও দেশটির জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও তখন থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চললেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শির সঙ্গে বৈঠক শেষে ফক্স নিউজের হ্যানিটি শোতে একটি সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার হয়। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।’ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুত হস্তান্তরের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে জনসংযোগ ছাড়া এটি খুব প্রয়োজনীয় বলে মনে করি না। তবে এটি আমাদের হাতে থাকলে স্বস্তি বোধ করব।’

এদিকে ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধের সময় উত্তেজনা কমাতে করা সত্তরের দশকের একটি চুক্তির আদলে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিয়ে একটি অনাক্রমণ চুক্তি করার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এই উদ্যোগ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই উদ্যোগকে সমর্থন করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সৌদি আরব মূলত ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক হেলসিংকি অ্যাকর্ডসকে মডেল হিসেবে ধরে এই নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের সীমানাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে সব পক্ষ মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছিল।

আরব এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এমন একটি চুক্তিকে ‘বেশিরভাগ আরব ও মুসলিম দেশের পাশাপাশি ইরানও’ স্বাগত জানাবে। তবে ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমাতে পারে, এমন যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করবে ইসরায়েল। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এই চুক্তিতে কীভাবে সমাধান করা হবে, তাও পরিষ্কার নয়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ইসরায়েল-লেবানন চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর শনিবার সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম এটিকে ‘ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণের দলিল’ বলে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   এক বিবৃতিতে নাইম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার একতরফা ছাড় দিয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করেছে।   ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে কার্যত লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি বৈধতা পেয়েছে এবং ‘সব লাল রেখা’ অতিক্রম করা হয়েছে।   হিজবুল্লাহর সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে কাসেম বলেন, সবচেয়ে কঠিন সময়েও আমরা যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িনি, এখনও ছাড়বো না।   ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকাগুলোতে ফিরতে না পারা লাখো বাস্তুচ্যুত লেবানিজের মধ্যে, বিশেষ করে শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে, এই চুক্তি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরির নেতৃত্বাধীন আমাল আন্দোলনও চুক্তিটিকে ভারসাম্যহীন বলে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এটি ইসরায়েলের অনুকূলে পরিস্থিতিকে আরও স্থায়ী করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৮, ২০২৬

আফগানিস্তানে ৪০০ একর পপি ক্ষেত ধ্বংস, জব্দ সাড়ে ৩ কেজি হাশিশ

নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আগামী বছর ভারত সফরে আসছেন ট্রাম্প, জানালেন মোদি

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্রের কোনো সুযোগ নেই: নেতানিয়াহু

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলা

মার্কিন বাহিনীর নতুন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের উপকূলীয় এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের সিরিক, বান্দার-এ-লেঙ্গেহ ও কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিল ওয়াশিংটন।   এর প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি’ প্রতিহত করতে কাজ করছে।   এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। লেবানন সরকারের সঙ্গে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরই এ হামলা চালানো হলো।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘন ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা চেয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ চুক্তিটিকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্বের কাছে আত্মসমর্পণ’ বলে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের সঙ্গে আরও চুক্তি আসছে: নেতানিয়াহু

ছবি : সংগৃহীত

আগাম নির্বাচনের দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ

ছবি : সংগৃহীত

লেবানন-ইসরায়েল চুক্তিকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প

চীনের এআই উত্থানে কেন চাপে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে একই সময়ে কম খরচে উন্নত সক্ষমতার চীনা এআই মডেলগুলোর বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চীনের এআই মডেলগুলোর ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিককে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সেগুলো কার্যকর, সহজলভ্য এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেই বিশ্ব এআই বাজারে প্রভাব বিস্তার সম্ভব।   বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এআই রফতানির দুটি কৌশল বড় সমস্যার মুখে পড়েছে। প্রথমত, উন্নত এআই মডেল রফতানিতে অনিয়মিত ও পরিবর্তনশীল নিয়ন্ত্রণনীতি। দ্বিতীয়ত, চীনের ওপেন-সোর্স এআই মডেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং নিজ দেশে উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক এআই ব্যবহারের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া।   এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর চলতি সপ্তাহে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগ সম্প্রসারণ করেছে। এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এআই ও চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক একটি জোট গড়ে তোলা এবং চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো। তবে একই সময়ে অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তে প্রযুক্তি খাত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সক্ষমতার ব্যবধান কমিয়ে আনার পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে চীনা এআই মডেল বাজারে আসছে।   যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের কর্মকর্তা এবং সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মী এমিলি ওয়েইনস্টেইন জানান, ওপেন-সোর্স এআইয়ের ক্ষেত্রে চীন অনেকটা হুয়াওয়ের কৌশল অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, চীন শুধু এআই মডেল নয়, অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও বিনা মূল্যে বা অনেক কম দামে সরবরাহ করতে সক্ষম।   তার মতে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে চীনা এআই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে দেশগুলো চীনা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।   সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (সিএনএএস) ড্যানিয়েল রেমলার বলেন, অ্যানথ্রপিককে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্তের পর পুরো শিল্পখাত আরও সুসংগত নীতির অপেক্ষায় প্রায় স্থবির হয়ে আছে। তার মতে, যখন চীন সর্বোচ্চ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।   এ প্রবণতা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। চলতি সপ্তাহে অর্থনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ জানান, প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৩৫টি দেশ ডিক্লারেশন অন এআই অপরচুনিটিতে সই করেছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশীদার দেশ একদিকে ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অন্যদিকে নিজেদের প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসনও জোরদার করছে। অ্যানথ্রপিককে ঘিরে সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ শুধু এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখা নয়, বরং বিশ্বের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে রাজি করানো।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ইরানের

ফাইল ছবি

ইউএস-ইরান চুক্তি ভাঙার উত্তেজনা: হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকারে হামলা

ছবি : সংগৃহীত

বেইজিংয়ের বহুতল ভবনে বিমান দুর্ঘটনা, নিহত ১, আহত ১৩

0 Comments